করোনা-যুদ্ধের অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
করোনা-যুদ্ধের অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

অনুগল্প || অতিমারি || বিনোদ মন্ডল

 অনুগল্প

অতিমারি

বিনোদ মন্ডল 



কেষ্টপদ'র দোকানে দাঁড়ালেই নানা স্বাদের দুঃখ আমার চারদিকে ভনভন করে যায়। 

তবু দাঁড়াই। কেন না, আমার আপাত-নিরাপদ বাঁচার সঙ্গে 

কেষ্টর কষ্টকর বাঁচার প্রতিতুলনা করে মন ঢেঁকুর  তুলতে পারে। 

আট বাই দশ ফুটের দোকান, বাজারে। সেখানে সকালে গুচ্ছের দুধ, দই, রুটি বিক্রি হয়। সঙ্গে কেক,বিস্কুট, চা-পাতা,চানাচুর। ইপি নুডলসের পাশে শুয়ে থাকে পাস্তা কিংবা

লেজ্। কুড়কুড়ে। কাচের আলো ঝলমল কুলুঙ্গিতে সাবান, সেন্ট, ব্রাশ, পেস্ট। এখানেই শেষ নয়। একটা দুই বাই আড়াই ফুট টেবিলে স্বপ্ন

বিক্রি হয়। কেষ্ট আবার ব্যঙ্গ করে বলে ডি এ নেই তো কী আছে, আমার কাছে ডিয়ার নিন। লটারির কাউন্টার। মাঝে মাঝে গাঁদার মালায় সেজে ওঠে, প্রাপ্তির দাক্ষিণ্যে। 

 কেষ্ট থাকে একটা মন্দিরের লাগোয়া এক চিলতে ভাড়া বাড়িতে। মা-বউ অসুস্থ। ছেলেটা বি এ ফেল। টো টো করে ঘুরে বেড়ায়। খেয়ালখুশি মতো দোকানে বসে। নিজের সুগার। ওষুধ -ডাক্তারে জর্জরিত কেষ্ট। দোকানঘরের

দেদার দেনা। কিস্তি ফেল আছে কয়েকটা। 

 এপ্রিল থেকে অক্টোবর প্রায় গৃহবন্দি ছিলাম। নভেম্বরে সামান্য বের হলাম। ডিসেম্বরের শুরুতে একদিন পথে দেখি ওর ছেলে কুনালকে। উভয়ের মাস্ক থাকায় ও আমায় চিনল না। কুনাল তার পাশেই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুকে বলছে-- আব্বে, দেশের কে কোথায় কতো কামালো, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। করোনা ছিল বলে না ক' মাসে বাপ ব্যাটা প্রায় বিশ লাখ কামালাম। কেউ প্রাইসরেট দ্যাখেনি,  দাম দর করে নি। বেঁচে থাক লকডাউন। বেঁচে থাক্ মন্দা। মহামারি জিন্দাবাদ !

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অণুগল্প || লকডাউনের ডাক্তার || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

অণুগল্প ||  লকডাউনের ডাক্তার 

অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় 




মনে হচ্ছে প্রত্যেকের এক বা একাধিক স্পেশাল ডিগ্রি আছে। কারুর মুখের সামনে  দাঁড়ানো যাচ্ছেনা। একজন দু-তিনটে পদ্ধতি বা ঔষধের কথা  বললে, অন্যজন বাড়তি আরো কয়েকটা গড়গড় করে বলে  দিচ্ছে । প্রত্যেকে তার  জ্ঞান ভাণ্ডার উন্মোচন করতে চায় । এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে অনেকেই  চায় না। যদি  একজন বলেন, ভাই, যদি মাস্ক, স্যানিটাইজার আর সোসাল ডিসট্যান্সিং সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন ; তাহলে আপনি ফোরেনও যেতে পারেন। তখন আরেকজন বলেন -- ওগুলোতে কিস্যু হবেনা। যদি না আপনার ইমিউনিটি  গ্রো না করে। তার জন্য পুষ্টিমূল্যের খাবার চাই পাতে। নইলে পাততাড়ি গুটোতে হবে। সঙ্গে আরেকজন থাকলে তিনিও খুব স্বাভাবিকভাবেই কিছু  বলবেন। হয়ত বলবেন, আরে ঐ বাবার বটিকা কিংবা মায়ের মহামারী কবচ না থাকলে লড়াই করার শক্তি থাকবে !  এটা হল অন্তর্নিহিত শক্তি । আর গ্যাং টা বড় হলে, কেউ না কেউ সাতান্ন ইঞ্চির ছাতি ফুলিয়ে বলবেন-- দেখুন, আসল ব্যাপার হল সাহস । শত্রুর সঙ্গে চোখে  চোখ রেখে  মোকাবিলা । আমি তো নিরস্ত্র হয়েও সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছি। আবার রাজনীতির ভক্তরা থাকলে খামোকা তারা ময়দান খালি রাখবেন কেন !  হাঁটু ভাঁজ  নাকি  কনুই  ভাঁজ,  কোনটা বেশি ফলপ্রসু -- এ তর্কে বাকী সব কিছু কে  পেছনে ফেলে দেবেন। 

           পাবলিকের মত এত ইনফরমেশন বোধহয় ডাক্তারের কাছেও  নেই... । আবার তাঁরা তো খুব বেশী কথা বলেন না। হতে পারে, করে দেখুন, দেখা যাক্, করতে পারেন কিন্তু দেখে শুনে, খেতে পারেন যদি সহ্য হয়-- এ ধরনের ক্রমাগত বদলে যাওয়া প্রেসক্রিপশন । বক্তব্যগুলো বেশীরভাগই বেঁটে খাটো, সরু লিকলিকে কিংবা ভেন্টিলেশনের পথে  ইত্যাদি । সেরকম কোন বেয়াড়া বিশেষজ্ঞ থাকলে হয়ত বলে দেবেন,  আসলে অনেককিছুই  'স্ক্রিপ্ট' দেখে বলেন তো ! 


------------+++-----------+++-------------

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

করোনা যুদ্ধের অনুগল্প ৪ || মহানির্বাণ || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

করোনা যুদ্ধের অনুগল্প~৪
               

                মহানির্বাণ
                অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

   প্যানডেমিক কোভিড-১৯ নিয়ে অমরের সদর্থক চিন্তাভাবনা তাকে চার্জড্ রাখে, আর সেটা তার পরিবেশের মধ্যেও সঞ্চারিত করে। সনাতন ভারতের যোগ এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় ভর করে সে বলে, কোন ভয় নেই। অলটারনেটিভ ট্রিটমেন্ট,  বিশেষ করে আয়ুর্বেদে প্রবল বিশ্বাসী  অমর এই চ্যলেঞ্জিং পিরিয়ডটা মানব জাতি ওভারকাম করবেই বলে আন্তরিকভাবে মনে করে। সেজন্য সে তার যাবতীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতাকে মানব সেবার কাজে উৎসর্গ করতে চায়। রাজনীতির কথা সে শুনতে চায় না। সে বলে, মানুষ ও প্রকৃতির বিপক্ষে যা যায়, তা অনেক কিছুই হতে পারে -- বর্জন করা উচিৎ। গীতার বাণীকে শিরোধার্য করে। যা হচ্ছে ভালর জন্যই...। তাহলে আমরা কোন পথে চলেছি!  অমর বলে, 'মহানির্বাণ' ।
        এখন প্রশ্নটা হল, 'মহানির্বাণ' কার ?  মানুষের নাকি না-মানুষের.. ।


শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

দিবাস্বপ্ন ইন লকডাউন || দেবব্রত রায় || করোনা-যুদ্ধের অণুগল্প

দিবাস্বপ্ন ইন লকডাউন
দেবব্রত রায় 


   
 








  নিশিকান্ত বোধহয়, একটু ঘুমিয়েই পড়েছিল । "বোধহয় "কেন, নিশ্চিত ঘুমিয়েই পড়েছিল নইলে, অমন একটা স্বপ্ন সে দেখলোই বা কী করে! কিন্তু, স্বপ্নটা যে ঠিক কী ছিল সেটাই নিশিকান্ত ঘুম থেকে জেগে উঠে আর মনে করতে পারছেনা !  নিজের মনেই নিশিকান্ত চুকচুক করে একটা শব্দ করে উঠলো । তবে, স্বপ্নটা যে বেশ বিন্দাস  ছিল সেটা কিন্তু  নিশিকান্ত হলপ করে বলতে পারে। কারণ,ঘুম ভাঙার ঠিক আগের মুহূর্তে নিজের জীভের-ই একটা চুকচুকুনি আওয়াজ নিশিকান্ত-র কানে এসে ঠেকেছিল। ঘুমটা একটু আলগা হতেই, নিশিকান্ত ঠোঁটের কোনে হাত বুলিয়ে যেন একটু লালার ছোঁয়াও পেয়েছিল ! 
  ঘুম থেকে উঠে নিশিকান্ত  অনেক্ষন বিছানায় গুম মেরে বসে রইলো। না, কিছুতেই স্বপ্নের বিষয়টা মনে পরছে না ওর। স্বপ্নের ব্যপারটা যাতে না গুল্লিয়ে যায় তাই পেটটা বাথরুমে টম্বুর হয়ে থাকা সত্বেও সে বিছানার থেকে এক ইঞ্চিও নড়লো না। ততক্ষণে ওর গিন্নী মাধবীলতা বন্ধ দরজায় ধপাধপ আওয়াজ করতে শুরু করেছে ! বললো , বলি, এগারোটা বেজে গেল, কখন আর স্নানঘরে যাবে শুনি ! 
  নিশিকান্ত-র মনটা ক্রমেই খারাপ হতে শুরু করলো।নিঘঘাত স্বপ্নটা ভালো ছিল কিন্তু, ঘুমটা ভাঙতেই সব কেমন যেন গোলমাল  হয়ে গেল ! কিছুতেই আর স্বপ্নের কথাটা মনে পড়ছেনা ওর ! বাইরের আওয়াজগুলো ক্রমে যতই বাড়ছিল ততই যেন স্বপ্নটা নিশিকান্তর থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল ! অনেক্ষন বিছানায়  গুম মেরে বসে বসেই নিশিকান্ত ভাবলো, জীবনে সে এই সময়ে কোনোকালেই ঘরে থাকেনা, ঘুম তো দূরস্ত।অর্থাৎ, দিনের বেলায় স্বপ্ন দেখা তার কস্মিনকালের অভ্যাসেও নেই আর   তাছাড়া, দিবাস্বপ্ন কার কবেই বা কী কাজে লেগেছে! কথাটা মনে হতেই নিশিকান্ত উঠে শোবার ঘরের দরজা-জানালাগুলো হাট করে খুলে দিল। কোত্থাও কোনো গাড়ি-ঘোড়া-র বেয়াদব আওয়াজ নেই, মেছোবাজারের অসহ্য চিৎকার-চেচামেচি নেই শুধু ,    বাইরের বাতাস আর, উজ্জ্বল আলো-র সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভিতরে এসে ঢুকে পড়ছে কতশত নাম জানা, না-জানা পাখির আওয়াজ ! নিশিকান্ত টের পেল একটু একটু করে তার ভেতরের সমস্ত ডিপ্রেশন হাওয়া আর, আলো এসে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে ! 

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

করোনা যুদ্ধের অণুগল্প - ২ || স্যানিটাইজ || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

করোনা যুদ্ধের অণুগল্প - ২


   অণুগল্প

        স্যানিটাইজ        ||   জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

   রাকা হাতটা বাড়িয়ে দিলে ছেলেটি খোলা জাগ এগিয়ে দেয়,যার অর্ধেক সাদা তরলে ভরা।
পরিচ্ছন্ন সুন্দরী ভ্রূ কুঁচকে বলে,'' স্যানিটাইজড নোট হাতেই নাও।''
 অচঞ্চল কণ্ঠে বলে ছেলেটি,'' হোক স্যানিটাইজ,ম্যাডাম আমি হাতে নেবো না।আপনি জগেই ফেলুন।''
 এবার বিরক্ত হয় ঋক,"আরে ভাই,ম্যাডাম খুব স্বাস্থ্য-সচেতন।সব নোট স্যানিটাইজার মাখিয়ে
আগে শুকিয়ে নেয়,তারপর আলমারিতে ঢোকায়। তুমি নিশ্চিন্তে নাও।"
  "মাফ করুন স্যার,আমাকে ডাক্তারবাবু মানা করেছেন,চেনা বা অচেনা যেই হোক এই কড়া
স্যানিটাইজারে না ডুবিয়ে আমি টাকা নিতে পারবো না।করোনা কারও চেনা নয়।"
 এবার মুখ বাঁকিয়ে রাকা নীচু গলায় কিছু বিরক্তিকর শব্দ উচ্চারণ করে,ছেলেটি হয়তো শুনতে পায় না।
 ঋক ও বিরক্ত হয় কিন্তু কিছু বলে না,রাকার হাত চেপে জাগের দিকে ইঙ্গিত করে।তারপর ফেরতটা নিয়ে গাড়ির দিকে পা বাড়ায়।আর বলে,"ছেড়ে দাও।ওর শুদ্ধতার বিশ্বাস নিয়ে ওকে ভালো থাকতে দাও।"



বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

অতিমারী || অভিজিৎ চৌধুরী || করোনা-যুদ্ধের অণুগল্প~ ১

অতিমারী
অভিজিৎ চৌধুরী











ব্যাসদেব বললেন,অশ্বত্থামা অসূয়াকে প্রতিরোধ কর।
কার অসূয়া মহাকবি!
 হাসলেন ব্যাসদেব।বললেন,আজও তুমি কি টের পাওনি,আমি কার কথা বলছি।
মহাভারতের বিনির্মাণ প্রয়োজন।অশ্বত্থামা বললেন।
ব্যাসদেব বললেন,সে তো মহাকাল করবেন।
আমি মহাকালের জন্য অপেক্ষা করতে রাজী নই।
 কি চাও তুমি!
পাণ্ডবদের ধ্বংস।নিবীর্য হোক তাঁরা।
তুমি কেশবকে ভুলে গেলে!
কে কেশব!
তিনি শিল্পী, কবি।
ভ্রষ্টাচারী, কপট।বললেন,অশ্বত্থামা।
তুমি সৃজন করেছ কখনও!
 আমি বৃথা সৃজনকে ঘৃণা করি।
ব্রহ্মাস্ত্র তুমি ব্যবহার করতে পার না।
কেন!
কারণ তোমার অধিকার নেই।
মহাকবি এসব বিচারও করেন!
কারণ আমি পঞ্চম বেদের রচয়িতা।জনপদের ভাষ্যকার।
অশ্বত্থামা শোনেননি।আহত হল কাল।সেও ছিল এক অতিমারী।
গণেশ বললেন,মহাত্মন,পৃথিবীতে এসব কি আর হবে!
ব্যাসদেব বললেন,হবে।যখনই সুর শিল্প সাহিত্য বিদায় নেবে আসবে আবার অতিমারী।
 গণেশ বললেন,সৌপ্তিক পর্বের শেষে প্রকৃতি বড় সুন্দর হয়ে উঠেছিল।
সব অতিমারীর পর হবে বিনির্মাণ।আসবেন শ্রেষ্ঠ শিল্পীর দল।তাঁরা নতুন গীত রচনা করেবন । মানুষ থাকবে না সেদিন।থাকবে না - মানুষের দল।
গণেশ বললেন,তারা কি অসূয়া জানে না!
জানে কিন্তু ছল জানেইনা। অশ্বত্থামা ছলকে ঘৃণা করত।
মহাকালও ব্যাসদেবকে প্রণাম করলেন।মনে মনে বললেন,মহাকবি তোমার প্রতীক্ষায় রইলেম।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...