Wednesday, July 15, 2020

অতিমারী || অভিজিৎ চৌধুরী || করোনা-যুদ্ধের অণুগল্প~ ১

অতিমারী
অভিজিৎ চৌধুরী











ব্যাসদেব বললেন,অশ্বত্থামা অসূয়াকে প্রতিরোধ কর।
কার অসূয়া মহাকবি!
 হাসলেন ব্যাসদেব।বললেন,আজও তুমি কি টের পাওনি,আমি কার কথা বলছি।
মহাভারতের বিনির্মাণ প্রয়োজন।অশ্বত্থামা বললেন।
ব্যাসদেব বললেন,সে তো মহাকাল করবেন।
আমি মহাকালের জন্য অপেক্ষা করতে রাজী নই।
 কি চাও তুমি!
পাণ্ডবদের ধ্বংস।নিবীর্য হোক তাঁরা।
তুমি কেশবকে ভুলে গেলে!
কে কেশব!
তিনি শিল্পী, কবি।
ভ্রষ্টাচারী, কপট।বললেন,অশ্বত্থামা।
তুমি সৃজন করেছ কখনও!
 আমি বৃথা সৃজনকে ঘৃণা করি।
ব্রহ্মাস্ত্র তুমি ব্যবহার করতে পার না।
কেন!
কারণ তোমার অধিকার নেই।
মহাকবি এসব বিচারও করেন!
কারণ আমি পঞ্চম বেদের রচয়িতা।জনপদের ভাষ্যকার।
অশ্বত্থামা শোনেননি।আহত হল কাল।সেও ছিল এক অতিমারী।
গণেশ বললেন,মহাত্মন,পৃথিবীতে এসব কি আর হবে!
ব্যাসদেব বললেন,হবে।যখনই সুর শিল্প সাহিত্য বিদায় নেবে আসবে আবার অতিমারী।
 গণেশ বললেন,সৌপ্তিক পর্বের শেষে প্রকৃতি বড় সুন্দর হয়ে উঠেছিল।
সব অতিমারীর পর হবে বিনির্মাণ।আসবেন শ্রেষ্ঠ শিল্পীর দল।তাঁরা নতুন গীত রচনা করেবন । মানুষ থাকবে না সেদিন।থাকবে না - মানুষের দল।
গণেশ বললেন,তারা কি অসূয়া জানে না!
জানে কিন্তু ছল জানেইনা। অশ্বত্থামা ছলকে ঘৃণা করত।
মহাকালও ব্যাসদেবকে প্রণাম করলেন।মনে মনে বললেন,মহাকবি তোমার প্রতীক্ষায় রইলেম।

No comments:

Post a Comment

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১০০ || প্রভাত চৌধুরী

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য প্রভাত চৌধুরী ১০০. আজ ১০০ তম পর্ব। আজ দৈনিক বাংলা-র জন্য বরাদ্দ করলাম। বাংলায় অনুবাদ করলে যা দাঁড়াবে , তা...