বিনোদ মন্ডল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিনোদ মন্ডল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১২ মে, ২০২১

অণুগল্প || ফাঁকে ফাঁকে || বিনোদ মন্ডল

অণুগল্প 

ফাঁকে ফাঁকে 

বিনোদ মন্ডল 



    দশ বছরের ধিঙ্গি মেয়ে বাংলায় পেয়েছে পঞ্চাশে পাঁচ। স্কুল থেকে ফিরে একটু ফ্রেশ হয়ে সবেমাত্র সোফায় সেঁটে বসেছে আনন্দী। বাংলার দিদিমণি। প্রিয় সিরিয়াল হাঁ করে গিলবে টানা ঘন্টা দুই। তার আগেই মেয়ের হাতবোমায় হাঁ হয়ে গেল সে। 

     টিভি'র সাউন্ড মিউট করে দিলো সে। পোস্ট মর্টেম শুরু করলে খাতাটার। মাথায় ঝড়। উঠোনের কাঁঠাল গাছে কাল-

পেঁচার পাখশাট। 

     এই একরত্তি মেয়ে জন্মানোর পর টানা ছ'মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নেয় আনন্দী। মেয়াদ শেষে সবে চালু হওয়া সি সি এল আবার তিন মাস। এইভাবে এপ্রিল থেকে নভেম্বর প্রায় সারা সেশান স্কুল যেতে হয়নি সেবার। তবে বার্ষিক পরীক্ষার খাতা দেখে দিয়েছিলো যেচে। 

     সেদিনের একটা ঘটনা চকিতে ভেসে উঠলো মনে। সোমা নামের একটি মেয়ে নব্বুইয়ের মধ্যে নয় পেয়েছিলো। তার গার্ডিয়ান কল হয়। ক্লাস নাইনে। কেন এত কম নম্বর পেয়েছে জিগ্যেস করায় মেয়েটি বলেছিলো, বাংলার ক্লাশই তো হয়নি! আর তার বাবা বলেছিলো -- হাড় হিম করা কয়েকটি কথা। আমাকে স্কুলে না ডেকে, আপনারই তো আমাদের বাড়িতে ক্ষমা চাইতে যাওয়া উচিত ছিলো!  বুঝবেন, যখন নিজের বাচ্চা একই গাড্ডায় পড়বে। কারণ, তার কপালেও তো আপনার মতো কেউ জুটবে! 

     মা বাংলার দিদিমণি। শহরের নামজাদা সরকারি স্কুলে। তার দশ বছরের মেয়ে মাতৃভাষায় পেয়েছে পঞ্চাশে পাঁচ। বিজ্ঞাপণের ফাঁকে ফাঁকে এক চিলতে রোদের মতো সিরিয়াল শেষ হয়ে যাচ্ছে আনন্দী সেনের।

শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০২১

তিন লিমেরিক || বিনোদ মন্ডল || কবিতা

তিন লিমেরিক 

বিনোদ মন্ডল 



১.

বাপের ছিলো রিকশো

চাপের ছিলো ; রিকসও! 

টোটো কিনে ঋণে

ছোটে নিশিদিনে

ট্যাক্সি না হোক, টেকশো। 


২.

কেউ চাটে চাটনি, কেউ খোঁজে পোস্ত ;

মাংসটা কম দিস্ -- এটা বড়ো দোষ তোর! 

কেউ আরো মালাইকারি

ডাল - রুটি - তরকারি --

রাবড়ি ও রাজভোগে -- কেউ ভারি খোশ তো! 


৩.

বারবার কেন হবে আকছার বানান ভুল? 

সাবধান হও যদি -- আর্থার কোনান ডুল! 

বালিশে নয় অভিধানে 

নালিশে নয় প্রণিধানে --

থাকো বকধ্যানী -- গ্রন্থতে মশগুল।

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

অনুগল্প || অতিমারি || বিনোদ মন্ডল

 অনুগল্প

অতিমারি

বিনোদ মন্ডল 



কেষ্টপদ'র দোকানে দাঁড়ালেই নানা স্বাদের দুঃখ আমার চারদিকে ভনভন করে যায়। 

তবু দাঁড়াই। কেন না, আমার আপাত-নিরাপদ বাঁচার সঙ্গে 

কেষ্টর কষ্টকর বাঁচার প্রতিতুলনা করে মন ঢেঁকুর  তুলতে পারে। 

আট বাই দশ ফুটের দোকান, বাজারে। সেখানে সকালে গুচ্ছের দুধ, দই, রুটি বিক্রি হয়। সঙ্গে কেক,বিস্কুট, চা-পাতা,চানাচুর। ইপি নুডলসের পাশে শুয়ে থাকে পাস্তা কিংবা

লেজ্। কুড়কুড়ে। কাচের আলো ঝলমল কুলুঙ্গিতে সাবান, সেন্ট, ব্রাশ, পেস্ট। এখানেই শেষ নয়। একটা দুই বাই আড়াই ফুট টেবিলে স্বপ্ন

বিক্রি হয়। কেষ্ট আবার ব্যঙ্গ করে বলে ডি এ নেই তো কী আছে, আমার কাছে ডিয়ার নিন। লটারির কাউন্টার। মাঝে মাঝে গাঁদার মালায় সেজে ওঠে, প্রাপ্তির দাক্ষিণ্যে। 

 কেষ্ট থাকে একটা মন্দিরের লাগোয়া এক চিলতে ভাড়া বাড়িতে। মা-বউ অসুস্থ। ছেলেটা বি এ ফেল। টো টো করে ঘুরে বেড়ায়। খেয়ালখুশি মতো দোকানে বসে। নিজের সুগার। ওষুধ -ডাক্তারে জর্জরিত কেষ্ট। দোকানঘরের

দেদার দেনা। কিস্তি ফেল আছে কয়েকটা। 

 এপ্রিল থেকে অক্টোবর প্রায় গৃহবন্দি ছিলাম। নভেম্বরে সামান্য বের হলাম। ডিসেম্বরের শুরুতে একদিন পথে দেখি ওর ছেলে কুনালকে। উভয়ের মাস্ক থাকায় ও আমায় চিনল না। কুনাল তার পাশেই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুকে বলছে-- আব্বে, দেশের কে কোথায় কতো কামালো, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। করোনা ছিল বলে না ক' মাসে বাপ ব্যাটা প্রায় বিশ লাখ কামালাম। কেউ প্রাইসরেট দ্যাখেনি,  দাম দর করে নি। বেঁচে থাক লকডাউন। বেঁচে থাক্ মন্দা। মহামারি জিন্দাবাদ !

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০

হাঁড়ি ভাঙা খেলা || বিনোদ মন্ডল || কবিতা

হাঁড়ি ভাঙা খেলা 

বিনোদ মন্ডল 



ধুতি ছিল এবং ছিল শাড়ি 

শ্লোগানসহ শাবল কাড়াকাড়ি 

ঠুলি পরে চোখে 

দেখেন সব লোকে

কেউ জানেনা কে ভেঙেছে হাঁড়ি

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

প্রয়াতের প্রতি প্রার্থনা || বিনোদ মন্ডল || কবিতা

প্রয়াতের প্রতি প্রার্থনা 
বিনোদ মন্ডল 

বলেছিলে হতে হবে মিশুকে
মুখোশে রয়েছি যে কী সুখে!

শবদের মিছিলে
শ্মশানিত নিখিল হে

দেখা হলে বলে দিও যিশুকে!

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

পরিযায়ী || বিনোদ মন্ডল || কবিতা


পরিযায়ী
বিনোদ মন্ডল










স্তব্ধ যাদের জীবন চাকা
কেমন আছেন তারা
কাজ হারানো মানুষগুলো
নিঃস্ব দিশেহারা।

হরেক সাজে পথের মাঝে
রক্তকমল পায়ে
ঘরের টানে ঘরছাড়াদের
বিরাম বৃক্ষছায়ে।

খিদে মেটে চা বিস্কুটে
গরমভাতের জন্যে
পথের ধারে চক্ষু চারে
রংবাহারি পণ্যে।

তাদের ভোর অন্ধকারে
ভারতমায়ের সলতে
দিশেহারা পরিযায়ী
জানে শুধু চলতে।


Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...