Short Story লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Short Story লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

লক্ষ্মীছাড়া || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || অণুগল্প

লক্ষ্মীছাড়া 
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

পত্রিকা সম্পাদক শীতলদা হাতে পোড়ামাটির ছোট্টো গণেশমূর্তিটা
তুলে দিতেই সন্তু চিৎকার করে ওঠে,আমাকে গণেশ ক্যানে দাদা!
লকখি দিতে পারতে!চিরকালই তো লকখিছাড়া হয়ে রইলম।
গণেশ পেলে তো ব্যাবসা কোরতে হবেক,উটা আমি পারবো নাই,খ্যামা দাও!
তিনটে দকানে কাজে ঢুকাই ছিল বাবা,খোদ্দারদের বুঝাতে
পারি নাই।চাকরি নট।চারবিঘা জমি চাষ আমার অসাধ্যি।
এখন দুটো পাইভেট ব্যাচ করি আর কবিতা লিকি।একটা
লকখি যদিবা জুটেছিল কন্যাশ্রীর পুঁচিশ হাজার পেতেই
তার বাপ তাকে কোন দেশে যে পাচার কর‍্যে  দিলেক জানতেই
লারলম।বুজে গেচি লকখি আমার কপালে নাই।ইটা লিয়ে
আমার কীইবা হবেক?
শীতলের নাছোড় হাসিতে জানলো বদল হবে না।তাই বিরক্তি
মেখেই ফিরছিলো বাড়ির দিকে।জগুর পানগুমটিতে এসে
 বলে,একটা
পান দেত।সে মনেমনে ঠিক করে নিয়েছে গণেশটা জগুর গুমটিতে রেখে যাবে।
চোখ পড়লো তাকটার দিকে।দেখে একটা গণেশ তার পাশে দুটো লক্ষ্মী।
জিজ্ঞাসা করাতে জগু বলে,গণেশের বাহন আগের গণেশ ভেঙে
ফেলায় তার বউ নতুন গণেশ আর লক্ষ্মী কিনে দিয়েছে।কিন্তু
পুরনো লক্ষ্মীটাও রয়ে গেছে।কাল রাত্রে আবার বাহনেরা
গণেশ ভেঙেছে।
 সন্তুর করুণ কাহিনি,যদিও জানা,জগু একটা লক্ষ্মীমূর্তি তাকে দিয়ে দিল।
খুশিমুখে সে বুকপকেটে লক্ষ্মীলাভ করে প্যাডেলে পা দিল।জগুও লকখি
পেয়ে ধন্য।দাসপাড়ার গলির অন্ধকার পার হবার সময় কীযে হলো
সে ঠিক বুঝলো না।তবে সাইকেল উলটে সে মাটিতে আর মূর্তিটা যে
কোথায় গেল তা দেখার জন্য দাসকাকিমা টর্চ আনা পর্যন্ত অপেক্ষা
করতে হলো।মালক্ষ্মী তখন পোড়ামাটির কয়েকটা বিচিত্র খণ্ড হয়ে তাকে ব্যঙ্গ করছেন।



গোপেশ্বরপল্লি,বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া-৭২২১২২
কথা-৭০০১৪৫৬৭২১/৯৭৩২২৩৭৬০৮

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

জামিরলেবুর গাছ || ছোটোদের জন্য গল্প || রুদ্র কিংশুক

জামিরলেবুর গাছ || ছোটোদের জন্য গল্প
রুদ্র কিংশুক

আমার যখন পাঁচ ছয় বছর বয়স। তখন আমাদের গ্রামে কোন ধানকল ছিল না। গ্রামের অন্য মাসিপিসিদের মতো আমার মা বাড়িতে ধান সিদ্ধ করত। সেই সেদ্ধ সেদ্ধ ধান শুকিয়ে ঢেঁকিতে ভেনে চাল করতে হতো। ধানের চাল। মুড়ির চাল। আলাদা আলাদা রকম। গ্রামে ঢেঁকিশাল বেশি ছিল না। দু- তিনটে ঢেঁকিশালেই গ্রামের সবাই প্রয়োজন  মতো ধান ভেনে চাল করতো।

 আমাদের বাড়ির কিছুটা দূরেই কালিপদ বিশ্বাসের বাড়ি। ওই বাড়িতে একটা ঢেঁকিশাল ছিল। আমার মা ওই বাড়ি থেকে ধান ভেনে আনতো। ঢেঁকিতে পার দেয়া এবং মাকে সাহায্য করার জন্য থাকতো আমাদের গ্রামের কোন মাসি পিসি। এই কাজের বিনিময়ে তারা পেত কিছু ভাতের চাল এবং  মুড়ি। এই ধানভানার  কাজে আমি প্রায়ই মায়ের সঙ্গী হতাম । ঢেঁকিতে পার দেয়ার শব্দ আমার খুব ভালো লাগতো। আমি খুব আশ্চর্য্য হয়ে দেখতাম কীভাবে ক্রমে ক্রমে সোনালী ধানের ভেতর থেকে বার হয়ে আসে সাদা আকাশের মতো চাল।

মায়ের সঙ্গী হওয়ার আরও একটা উদ্দেশ্য একটা উদ্দেশ্য আমার ছিল। ওই বাড়িতে ঢেঁকিশালের কাছে ছিল একটা জামিরগাছ। সবুজ পাতায় পাতায় ভরা একটা লেবুগাছ। আমি গাছের কাছে গিয়ে পাতার গন্ধ নিতাম বুক ভরে।  কখনো কখনো দেখতাম গাছের ডালগুলো ফুলে ফুলে ভরে গেছে। এক আশ্চর্য গন্ধে ভরে থাকতো লেবুতলা। বাড়ি ফিরতে আর ইচ্ছে করতো না। মাস দুয়েক পর গিয়ে দেখতাম ডালে ডালে সবুজ ফল। তারপর ধীরে ধীরে সেই ফল পেকে উঠত। কখনও কখনও সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরতাম একটা লেবু হাতে।  বাড়িতে বাবা দেখা মাত্র বকাবকি করত।
বলত: জামির খাসনি। খুব টক ।জ্বর আসবে। আমি লেবু লুকিয়ে রাখতাম। আর গোপন জায়গা থেকে মাঝে মাঝে বার করে গন্ধ নিতাম। মনে হতো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গন্ধ আছে অই লেবুর বুকে।
কতকাল পার হয়ে গেলো।  সে বাড়িটা এখনো আছে।  লেবুগাছটা আর নেই।  কিন্তু মনে মনে আমি এখনো তাকে দেখি।  সন্ধ্যার আবছা অন্ধকারে সে দাঁড়িয়ে আছে । তার ডালে ডালে সেই আশ্চর্য ফুলগুলো হাসছে । বহুদূর থেকে আমি বলি: জামিরলেবুর  গাছ আমি তোমাকে ভুলিনি। আবার একদিন নিশ্চয়ই আমাদের কোথাও দেখা হবে। সেদিন যেন তুমি আমায় চিনতে পেরো।

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

অণুগল্প || ইতি || সোমনাথ বেনিয়া

অণুগল্প

ইতি || সোমনাথ বেনিয়া


ইচ্ছাকৃত না হলেও 'ক'-এর পাশে 'গ' থাকতো। এতে 'ক' লজ্জা পেতো। অবশ‍্য 'গ'-এর মধ‍্যে যে একেবারে কোনো হেলদোল দেখা যেতো না তা এমন নয়। দুপুর হলে 'ক' হাঁপ ছেড়ে বাঁচতো কারণ 'গ' চলে যেতো আবার 'গ'-এর চঞ্চলরূপ দেখা যেতো যখন 'ক' রাত্রিবেলায় চলে যেতো। লজ্জার কারণে 'ক' চাইতো দিন বড়ো হোক আর স্পর্শ পাওয়ার জন‍্য 'গ' চাইতো রাত ছোটো হোক।
       কিন্তু নিয়মের খাতিরে প্রয়োজন বিষয়টি একসময় ফুরিয়ে যায়। তাই এক দুপুরে 'ক' আর 'গ' নিজেদের দেখতে পায় দাঁড়িপাল্লার একদিকে দু-জনে বসে আছে। তারপর কিছু বোঝার আগেই চেনা বাড়ি ছেড়ে তাদের চলে যেতে হয়। এরপর একদিন তারা দেখতে পায় ফুটপাথে পাশাপাশি শুয়ে আছে। দেখে কত লোকের আনাগোনা হচ্ছে। একসময় একটি হাত 'ক'-কে আর অন‍্য একটি হাত 'গ'-কে নিয়ে চলে গেল। বিচ্ছেদ বিষয়টি যেন প্রকৃতির অধিকারের মধ‍্যে পড়ে! তাদের একসাথে থাকার সম্পর্কে ইতি পড়ে। জানে না আবার কোনোদিন তাদের দেখা হবে কিনা। হতেও পারে। হলে কী হবে! মিলনের ভাবনায় হয়ত বিচ্ছেদ মেনে নিতে হয়। '
       'ক' ছিল একটি কবিতার ব‌ই যেখানে 'গ' ছিল একটি গল্পের ব‌ই!

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...