Monday, June 15, 2020

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || সিলভিয়া চোলেভা-র কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
সিলভিয়া চোলেভা-র কবিতা


সিলভিয়া চলেভা (Sylvia Choleva, 1959)- র জন্ম বুলগেরিয়ার সোফিয়াতে ।কবি, লেখক,  প্রকাশক এবং ঔপন্যাসিক সিলভিয়া চোলেভা এ পর্যন্ত লিখেছেন ছয়টি কবিতার বই।এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুটি প্রবন্ধের বই, একটি উপন্যাস, একটি ছোট গল্পের বই,তিনটি নাটক এবং একটি শর্টফিল্মের চিত্রনাট্য।পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে চোলেভার কবিতা। কবিতা কর্মের জন্য তিনি তিনি অনেকবার জাতীয় স্তরে পুরস্কার লাভ করেছেন।বর্তমানে তিনি বুলগেরিয়ার ন্যাশনাল রেডিওতে কর্মরত। এছাড়া বুলগেরিয়া ন্যাশনাল টিভিতেও তিনি তিনি ন্যাশনাল টিভিতেও তিনি নানান রকমের অনুষ্ঠান আয়োজন ও সঞ্চালনা করে সঞ্চালনা করে থাকেন। তিনি বুলগেরিয়ার বিখ্যাত সংবাদপত্র Literaturen Vestnik--এর সম্পাদক।


১.
আদম নির্মাণ
(মাইকেল এঞ্জেলোকে)

 আর এখন কে
শিল্পী ছাড়া
হাত তুলে আমাদের সান্ত্বনা দেবে
যখন ঈশ্বরের অনুশোচনা ছাপিয়ে যায়
 সৃষ্টির আনন্দ

আর সে ছাড়া
 কার আছে শক্তি
আঁকার সাহস
এতগুলো অর্থস্তর সহ
দুটো পুরুষ হাত আর পরমকে
যাদের মাঝখানে
দূরত্ব অতি তুচ্ছ

আর যেমন দৃশ্যটির
 সমস্ত ভাস্কর্যগত মহত্ত্বে
তার শারীরিকতা
নিশ্চয়ই শক্তি পাবে

২.

কবিতা ১

বিকেল বেলায়
 পার্কে ঢুকে পড়ার আগে
আমি একটা ছোট রাস্তা ধরে হাঁটি
আর নৈঃশব্দে
হঠাৎ একটা টেলিফোন বেজে ওঠে
বাতাস দীর্ণ করে
জগতের দিকে খোলা জানালা থেকে
দোতলায়
কিন্তু ভেতরে কেউ নেই
 উত্তর দেবার
একাকী বেজে যাওয়া
তবু উজ্জ্বল
বসন্ত কাছেই
আমি আর কারো জন্য অপেক্ষা করছি না

৩.
কবিতা ২

সেদিন সমুদ্রতটে যেতে আমাদের দেরি হল

ছাতাগুলো পৌঁছেছিল সমুদ্রে
সমুদ্র পৌঁছেছিল বালিতে
 মানুষের বদলছ ছিল পাখিরা
আরো অনেক সূর্যালোক
আরো সমুদ্র
আরো রাত আরো সময়
তোমার কাছে পুনরাবৃত্তির জন্য
 সমুদ্রবেলায় আমাদের পৌঁছাতে দেরি হল
আজ ও আগামীকাল আমরা জেগে উঠবো
 এখানে
সমুদ্রে
আর সূর্যালোকে

৪.
কবিতা ৩

আমি ভেবেছিলাম ভালোবাসা সম্ভব
কিন্তু তা বাতাসে বৃষ্টির গন্ধের মতো মতো
এবং  অনুভব করি  তাকে অন্য কোথাও
 কিন্তু এখানে নয়


৫.
কবিতা ৪

হোটেল রুম

 ঘুমিয়ে পড়া
 জেগে ওঠা

দুইয়ের মাঝে গলে যাচ্ছে সমুদ্র
তীব্র জোয়ারে
 এবং ভাটায়
 ঝিনুক ও কাঁকড়ায়
 জলের দ্বারা পোশাক-খোলা
আবার আবৃত জলের দ্বারা
তাকে ছাড়া তারা শুকিয়ে ওঠে
তারা ডুবে যায়
৬.
কবিতা ৫
আমি দেখতে চাই না
তার প্রস্থান
 এবং কীভাবে বাসের টায়ার
 ছেড়ে যায় বিরাট কাদামাখা পথ
যেখানে আমি হারিয়ে যেতে পারতাম
 যে পথে নৌকো ডোবে
পাইনছালের খেলনা
ভেসে যায় স্রোতে
কোথাও ব্রিজের তলায়

সেখানে জল লুকায়
অথবা খুব বেশি বেগ সঞ্চয় করে


ইচ্ছের বছর

বৃষ্টির বাইরে আমি আড়াআড়ি বসি
আর অসাড় হয়ে উঠি
সিগারেটের ধোঁয়া হারিয়ে যায়
সামনের পাহাড়ের দিকে
যা গলে যায়
বৃষ্টি বাষ্পের কুয়াশায়
 যার থেকে মনে হয়
শূন্যতা থেকে প্রত্যাশা জেগে ওঠে
 চড়াই আর সোয়ালো পাখির বেগে
কালো আর সহজ-কথা বলা
 কমা, ড‍্যাস, বিন্দুগুলো
 নিশ্চল পৃথিবীতে
বাক‍্য আর মেঘ এগিয়ে চলে
 দিনটাকে মনে হয় যেন
আদর্শ
আমি জ্বালাই একটা নতুন সিগারেট
 পাহাড়গুলো কেবল সীমারেখা
কেবল ধোঁয়া

No comments:

Post a Comment

ঈশ্বর || ইয়াসিন খান || কবিতা

  ঈশ্বর  ইয়াসিন খান একটা  বোধ কাজ করে মানুষের কাছে যাই একটা স্বপ্ন দেখি  আমার ঈশ্বর সাধনা  বাংলা মায়ের কোলে  গ্রাম আর নগর জীবন জুড়ে  অক্ষর আ...