বিশ্ব দুনিয়ার নতুন কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিশ্ব দুনিয়ার নতুন কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ডিমা মাহমুদ-এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
ডিমা মাহমুদ-এর কবিতা


ডিমা মাহমুদ(Deema Mahmood, 1972)  মিশরের তরুণ কবি।  তাঁর পড়াশোনার বিষয় কম্পিউটার সায়েন্স এবং স্ট্যাটিস্টিকস।  দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি অ্যারিবিয়ার  কলেজ অফ এডুকেশন এবং কলেজ অব হেলথ সার্ভিসেস এই দুই প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সায়েন্স ম্যাথমেটিক্স এবং স্ট্যাটিসটিকস পড়ান। বিদ্যায়তনিক পেশার বাইরে তিনি একজন ভয়েস ওভার,  অডিও ন্যারেটর এবং ডাবিং অ্যাক্টর এবং ডাবিং অ্যাক্টর। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ  ব্রেইড অব স্পিরিট। ২০১৭ তে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ আই পিক কোয়ারেলস ওভার আ ভায়োলিন। তাঁর অনেক কবিতা ইংরেজি ফরাসি স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ ভাষায় অনূদিত এবং প্রকাশিত হয়েছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে তিনি মিশরের কবিদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১.
ভ্রুণ হয়ে ওঠা

আমি নিজেই পাক খাই আরম্ভের তৃণ খাওয়ার আশায়
আমি হয়ে উঠি একটি ভ্রুন
এবং উঠি ধূসর প্লাসেন্টার ধূসর দুধের উপর দুধের উপর উপর
 আমি সেই অনন্তকে উদ্ধার করি কিছুক্ষণ আবার মায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকি
হয়ে উঠি তার সাথে এক কক্ষপথ ও মহাশূন্যের ভেতর ভেতর ভেতর ।

আমি মানুষের সমস্ত রকমের তলানি থেকে মুক্ত হয়ে উঠি
মুক্ত হই মানুষের সমস্ত  থেকে
সমস্ত জেলমলম ও ডাই থেকে।

আমি হয়ে উঠি আর চলতে থাকি মিথ ও ভবিষ্যৎবাণী ছাড়াই।

২.
ছুঁড়ে ফেলা

আমি ছুঁড়ে ফেলছি,
 হ‍্যাঁ, ছুড়ে ফেলেছি !

আমি অভিশাপ দিই সেই জিনকে যা আমাকে বেঁধেছে মানব জাতির সঙ্গে
আর হস্তান্তর করেছে এই কেওসের কাছে

 আমি যদি হতাম একটা ঘেয়ো অথবা সিরাজী বেড়াল
একটা পাগলাটে অথবা হৃষ্টপুষ্ট কুকুর
 আমি কেয়ার করি না,
আমি যদি হতাম একটা ছোট পাখি
অথবা একটা মাছি জীবাণু সহ ময়লার স্তূপের একটা একজোড়া ডানাসহ
দূরে উড়ে যাবার জন্য এবং আমার আত্মাকে টেনে বার করার জন্য
 এই পচাগন্ধ ছাড়া মানুষের পাগলাটে গর্ত থেকে

 হায়...
 আমি প্রস্থানের পথ খুঁজি ‌
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে এবং বমিতে ভাসছি।
 মোটা ফেনা আমার গলা টিপছে এবং তাকে থামানোর কোন পথ নেই!

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || বেলোস্লাভা দিমিত্রোভা-র কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
বেলোস্লাভা দিমিত্রোভা-র কবিতা


বেলোস্লাভা দিমিত্রোভা (Beloslava Dimitrova , 1986) -র জন্ম বুলগেরিয়ার সোফিয়াতে। সোফিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে থেকে তিনি জার্মান ভাষা এবং সাংবাদিকতা নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। বর্তমানে তিনি বুলগেরিয়ান ন্যাশনাল রেডিওতে রেডিওতে কর্মরত। ২০১২ সালে তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা লিতারাতুরেন ভেস্টনিক-এ প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর লেখা বুলগেরিয়ার বিশিষ্ট পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ Beginnings and Endings প্রকাশিত হয়  ২০১২ তে । ২০১৪- তে তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ Wildlife প্রকাশিত , যেটি জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।  তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থের নাম  Meat and Birds যেটা প্রকাশিত হয়েছে ২০২৯- এ । বেলোস্লাভার কবিতায় বিষন্নতা একাকীত্ব ও যৌনতার প্রকাশ। সাম্প্রতিক বুলগেরিয়ান কবিতার কবিতার একটি বিশেষ রূপ বিধৃত তাঁর কবিতায়।

১.
অরিজিন অফ স্পিসিস

তিনি চিৎকার করছিলেন: কেন তোমরা সংখ্যায় বাড়ছ না
আমি তোমাদের রেখেছি চমৎকার অবস্থায়
 কেন আমার সঙ্গে এরকম আচরণ
যখন আমি তোমাদের দিয়েছি  সব কিছু
প্রায় সম্পূর্ণ স্বাধীনতা
আর সেই দেশ
যেখান থেকে তোমরা এসেছ
তারা:  প্রভু আমরা পোষমানা, আমাদের দরকার‍্
দুর্দশা আপনাকে আরেকটা প্রজন্ম দিতে

২.
শিম্পাঞ্জি

 তুমি আমাকে পাগল করে তুললে
আমরা একসঙ্গে খাবার সারলাম
আমরা শিকার করছিলাম আমরা খুঁজছিলাম
 আমাদের পছন্দের শিকার আমরা খুঁজছিলাম
 আমাদের পছন্দের শিকার
 আমাদের পছন্দের শিকার
অন্য প্রাণীদের
আমরা দেখতে এতটাই একরকম
 আমরা সবকিছু শিখে ছিলাম ছিলাম শিখে ছিলাম ছিলাম
 আমরা সবকিছু শিখে ছিলাম ছিলাম শিখে ছিলাম ছিলাম
কিন্তু তখন আমরা হারালাম মাধ্যম
তুমি হলে বিশ্বাসঘাতক
আর তুমি তাই আমার বন্ধু হতে পারো না
 এখন তুমি আমার খাবার যাতে
তুমি আবার অংশ হতে পারো

৩.
প্রেম ২

আমাদের খেলার
বিভিন্ন পর্যায়
 দুটো দ্রুত বড় ধাক্কা
শূন্যতা
 নীরবতা ভবিষ্যৎ লজ্জা
দয়ামায়া
 আমার মুখ বাঁধা একটা খামে
 অবশ্য একটা চিৎকার
এবং উদাসীন হাসি

৪,
সাশা গ্রে কর্তৃক লিখিত ১

এবং খুব সম্ভবত
 চাদরের দাগের পর
 কিছুই থাকবে না না
 কিছুই থাকবে না না
আমার ভালোবাসা চাকা চাকা হায়না
বাদামী কিছুটা ধূসর
কেউ বাঁচাতে পারে না
আমি বিশ্বাস করি তুমি নেই্

৫.
সাশা গ্রে কর্তৃক লিখিত ২

 আমি প্রেম অলিম্পিয়ান
করি মরি মরি মরি ভালোবাসি
শূন্য নির্গমন গর্ভপাত
বায়োপসি করা হলো সফলভাবে
অনেক মৃত আমার পাশে তার পাশে
আমি ভাবি কেন আমি এখনো এখানে
"এখন কি তুমি উঠতে পারো
এবং জিনিসপত্র নিয়ে কেটে পড়তে"

৬.
বিদায়

খারাপ (খারাপ ) রাত
আমার (আমার আমার) অহং
                         মেশিনকে মারছে

আমি যখন কেবল স্টোনে বসে আছি

আমি এত সুখী (সুখী সুখী)
যে কেউ আমাকে ঘৃণা করে
আমার চেয়েও বেশি

৭.
হালকা ড্রাগ

আমার ইচ্ছে আমার ইচ্ছে আমার ইচ্ছে
আমি ইচ্ছে করেছি
আমি ইচ্ছে করেছি আমি মরে গেলাম

এটা এটা এখনো বিরক্তিকর

৮.
অর্ধ -দামী পাথর

কি সুন্দর এটা
ভালোবাসা
একে
অপরকে
একা
আলাদাভাবে

রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || দিমিত্রিস লিয়ন্টজাকোস- এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
দিমিত্রিস লিয়ন্টজাকোস- এর কবিতা


গ্রিসের শূন্য দশকের কবিতায় দিমিত্রিস লিয়ন্টজাকোস (Dimitris Leontzakos, 1974) বিশিষ্ট নাম। নতুন বিষয় ও নিরীক্ষার মিলনে তাঁর কবিতা যথার্থই নতুনত্বের দিশারী। তাঁর জন্ম গ্রিসের  কাভালায়। বর্তমানে তিনি থেসালোনিকি নগরীর বাসিন্দা। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলি  'কমিক' (Comic, 2001), 'সার্সি' (Circe, 2004) ও   'টাইগার ইন অ্যাকুরিয়াম ' (Tiger in Aquarium, 2008)। দিমিত্রিস-এর কবিতা বহুরৈখিক। একটি নির্দিষ্ট অর্থের দিকে তাঁর ন-র তার না-ঝোঁক। তাঁর  কবিতার শরীরে আছে এক ধরনের অনির্ণেয়তা বা অনির্দিষ্টতা। পোষ্টমডার্ন কবিতার সব রকম বৈশিষ্ট্য  তাঁর  কবিতায়  প্রকাশিত। বাংলা ভাষার তরুণ কবিদের কবিতার পাশে তাঁর কবিতা পাঠ করলে বোঝা যায় সারা দুনিয়ার কবিতায় একটা বিপুল পরিবর্তন ঘটে চলেছ।


 অ.    এটাই সত্য

আমি কেবল সংগীতকে সমর্থন করিনি ।
 গাছ কি কেবল সে, যে-কোন মুহূর্তে
 সহজভাবে
 সহজভাবে বলে:
 আমি ছেড়ে যাচ্ছি।




আ.    গণনা
১.
কবিতার মিশ্রণ:
 এটা মধ্যরাত।
২.
পাঁচ ঘন্টা ধরে
বরফ পড়ছে:
 তথাপি আমার হাতের ভেতর
কবিতা
আঙুলের মতো
গলেনা
৩.
আরো নীরবতা নয়

৪.
যখন বৃষ্টি ঝরছে
তখনই বাখের সুন্দরের আমন্ত্রণ





ই.     বিষাদ ও ভাষার মহাকাব্য সেনেকায়

 এটাই সেই
পাথরের ঢাল
যেখানে কোন শব্দই
গড়িয়ে পড়ে না।





ঈ.   ভেক্টর এক্সটেনশন

 ১.
গ্যালিলিও: মহাবিশ্বের নরওয়ে ।

২.
দেবতার অংশগ্রহণ ও উদাসীনতা।

৩.
/ বাক বৈকল্য /

৪.
আকাশ যদি গ্রিক বলে
 মহাশূন্য কি তা  পড়তে পারবে?

৫.
/গদ্যের কয়েকটা অক্ষর মাত্র/

৬.
যখন ভোরবেলা আমি কথা বলতে পারিনা,

 সেটা কি  নরত্বারোপ
অথবা নিরক্ষতা ?
৭.
অশ্রু,  শব কি অনূদিত
 অথবা নিষ্কাশিত দৃষ্টির থেকে
৮.
 যেকোনো ভাবে
 আমরা আমরা ভেঙে পড়বো।

৯.
 /এটাই একমাত্র অসীম/

 ১০.
কাদার বামন
ঠাস বুনন।

১১
মিথ্যা আকর্ষণ
শব্দের সন্তান।




উ.   পাখিদের মেরুদন্ডে বেদনা

কণ্ঠস্বর ছাড়া ভাষা আলোকে  নিরস্ত্র  করে।



ঊ.  ঘুম

আমার ঘুম স্বরবর্ণ ঘাসের ওপর কম্পমান ,
বিরাট নীরব পতঙ্গ,
 উড্ডীয়মান রথ
শ্বাপদের চাবুকের ঘায়ে
পথগুলো দেখছে সমুদ্র -হাতি
তারপর আরো পৌরাণিক স্তন্য পাখি
 শোভাযাত্রা আরো বড় হয়ে ওঠে
যতক্ষণ না ভোর হয়
 এশিয়া
বকগুলো আমাদের স্বাগত জানায়
আমি কিছু স্মরণ করতে পারিনা
 ভুলে যাওয়াটা খুব দ্রুতি সম্পন্ন
আমি জেগে উঠি ...

ঋ।।      পোল‍্যান্ড

পোল্যান্ডই যন্ত্রনা। কাল্পনিক, মহান ও উচ্চবংশীয়দের দেশ। যদিও উঁচু একেবারেই মহৎ মহৎ মহৎ নয়। পোল্যান্ডইযন্ত্রণা। একটা দেশে যেখানে উঁচু অবতরণ করে শরীরে একটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে, যেটা বিশেষভাবে পাগলামিরও অংশ। আমি জানবো না স্বাভাবিকভাবে সেটা পাগলামির পা কি না । আমি এরকম ধরছি না । নিৎসে, যিনি ---- একটু দেরীতে, সত্যি বলতে, পোলিশদের ঘোষণা  মতো সেই রাতে যখন তিনি পাগলামির মধ্যে ডুবতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, চুম্বন করেছিলেন একটা ঘোড়ার মাথা,  আমি এটাকে পাগলামি মনে করি না একেবারে একেবারে। এটাকেই আমি দেবদূত বলি। জগতের দেবদূত বেদনা নির্মিত । ইতিহাসের দেবদূত পোলিশ। পল ক্লি  এঁকেছেন তাঁকে । বেঞ্জামিন লিখেছেন তাঁকে নিয়ে।

বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || জর্ডান এফটিমভ-এর কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
জর্ডান এফটিমভ-এর কবিতা

জর্ডান এফটিমভ (Jordan Eftimov, 1971)-- এর   জন্ম বুলগেরিয়ার রাজগ্রাজডে। তিনি পড়াশোনা করেছেন  বুলগেরীয় দর্শন  এবং সাহিত্য নিয়ে। এখন পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা  ছয়। কবিতার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত । কবি ও সাহিত্য সমালোচক জর্ডান সোফিয়া ইউনিভার্সিটিতে সাহিত্যতত্ত্ব এবং বুলগেরিয়ো আধুনিকতা-- বিষয়ে পাঠদান করেন। প্রখ্যাত সাপ্তাহিক কাগজ Literature vertnik-- এর তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।তাঁর কবিতা উত্তরাধুনিক ও ধ্রুপদী উপাদানের কোলাজ।


১. প্রবেশ
তুমি বালিতে গেঁথে রাখো তোমার চিবুক
 তার কাঠিন্য কাঠিন্য
 তার কাঠিন্য কাঠিন্য অনুভব করতে।
 তার ভেতরে সাঁতরাও তুমি তুমি
--- বাতাসের মতোই এটা নরম ।
তুমি তার অভ্যন্তরে শ্বাস নাও
----এটা ফাঁকা।
কোমর পর্যন্ত তুমি নিজেকে ডোবাও
তারপর ঘাড়।
 সব শেষে তুমি পড়ে থাকো একটা খড় আঁকড়ে
 ভেতরে তাকাবে বলে

 ধীরে ধীরে তুমি উঠে আসো।
দুমুঠো বালি তুলে নাও,
দরাজ হাতে প‍্যাক করো,  লেবেল লাগাও
  তারপর চালান করো মুখের ভেতর।
তুমি চেবাও, থুতু ফেল,
বালির প্রতিটি দানা
লেগে থাকে তোমার ঠোঁটে ,তোমার চোখে,
তোমাকে মনে করায় তুমি হয়ে উঠেছ
 শম্বুকজাতীয় থেকে একজন ঘাতক।

২.হেঁয়ালিপূর্ণ বোমা

শীতলীভবনকে সন্দেহ করা যুক্তিযুক্ত:
 তোমাদের চেয়ে আলাদা   সর্বদা লেখকের ভাব,
 নামকরণ এবং নির্মান এমন সব জিনিসের যেগুলো ধরা যায় কম  নশ্বর।
এই অভিযোগ ফটোগ্রাফারের ক্ষেত্রেও একই রকম খাটে ।
অথবা আত্ম-অভিযোগ।
যা বাদ দেয় না ঈর্ষা
 তাদের প্রতি যাদের জীবন সহজ;
 যখন তারা বন্ধু হারায়
 কখনোই শোক করে না।
 তারা জানে পূর্বনির্ধারিত সত্যকে
 এবং ঘটনার অভিঘাত
যা উৎক্ষিপ্ত
পরিকল্পনার অংশ নয় ।
এটা অবশ্য কোনো জ্ঞান নয়।
 এটা কিছুই না।

৩. একই সব বিমানবন্দর

সব বিমানবন্দরেই একই ব্যাপার
---- এতটা অপরিচিত, যে তাকে শেষ পর্যন্ত খুঁজে
 পাওয়ার সম্ভাবনায়  তুমি নেশাতু্র।

কিন্তু তুমি তা পাও না পাও না না ।

এখন যখন তারা বোতলটা খুলে ধরে তুমি খুলে ধরে ধরে তুমি গ্রাহ্যই করো না,
 কিন্তু কেউ কিছুই তোমাকে চায় না,
 অথচ গলাটা দিয়ে একটা ভালো করাত হতে পারতো।

 এই সুবিধাজনক যন্ত্র দিয়ে জিনিস কাটার কথা তোমার বিবেচনার বাইরে

 অপরিচিত ডানায় উড়ে যাও এত এত আকাশ যেগুলো তোমারই।
 একটি শিশু যেভাবে হালকা বাতাস কেটে যায়। যেমন জগত , যা তোমার,  তোমার ভেতরের অপরত্বের মতো নয়।

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || কাতেরিনা স্টোইকোভা- ক্লেমার-এর কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
কাতেরিনা স্টোইকোভা- ক্লেমার-এর কবিতা


কাতেরিনা স্টোইকোভা-ক্লেমার  (Katerina Stoykova-Klemer, 1971)- এর জন্ম বুলগেরিয়ার বুরগাস অঞ্চলে। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা  ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হন এবং সেখানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে একটি হাইটেক কোম্পানিতে প্রায় এক  দশক কাজ করেন । ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্প‍্যাল্ডিং ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এ  স্নাতক হন। কাতেরিনা বুলগেরিয়ান ও ইংরেজি--- দুই ভাষাতেই মৌলিক কবিতা ও প্রবন্ধ  লেখেন। তিনি দুই ভাষার মধ্যে অবিরত অনুবাদ ও সাংস্কৃতিক সংলাপ চালিয়ে যান। তাঁর কবিতা  ইউরোপ, আমেরিকা ও বুলগেরিয়ার বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও দৈনিকে প্রকাশিত। বুলগেরিয়ান কবিতাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেবার কাজে কাতেরিনা অক্লান্ত। এ বিষয়ে তাঁর অবদান অগ্রনীর এবং প্রশংসাযোগ্য।


খাবার

টমাটো আনে ভালোবাসা।
আলুতে বাড়ে চেতনা।

পেঁয়াজ থেকে উৎসারিত করুণা।
তুঁত বদলের অনুপ্রেরণা।

 ভুট্টা মায়ের ঔদার্য।
 আর্টিচোক ভদ্র যোদ্ধা।

 তুমি প্রতিবেশীকে পারো না ভালবাসতে
 যদি না খাও শাক-সবজি।

এক কাপ ফল‍রসেশর করুণায় তুমি
থামাতে পারো বিশ্বযুদ্ধ ।


সংলাপ কবিতা
১.
 আমি তোমার সঙ্গ উপভোগ করি
আশ্রয়দাতা হাসে।
তোমাকে ছাড়া জীবন
কল্পনাতীত, বলে পরাশ্রয়ী।

২.
 কতদিন ধরে তুমি এভাবে আছো?
 বাক্স খুলে আমি বলি কিসমিস শব্দটিকে।
 বাঁচাও! বাঁচাও ! সে চেঁচায় আর আমি কাঁদতে চেষ্টা করি ।

৩.
আমাকে পরো  জীবন-বাঁচোয়া শব্দটি বলে
 যখন সে আমার কাছাকাছি ভাসে।
আমাকে ভাবো
যেন একটা অঙ্গুরীয় ।

৪.
তাহলে কী শিখলে তুমি?
 কৌতূহল বিড়ালকে বলে, তারপর
লাঠি দিয়ে খোঁচায় তার কঙ্কাল।


 আমি তোমাকে এঁকেছি তরুণতর,
  আমি বলেছি ন্যাকা শব্দটি ।
আমি তোমাকে এঁকেছি সুখীতর ,
সে উত্তর দিয়েছে ।

৬.
আমি আজ খেয়েছি সতেরটি আপেল , বাঁদরের অহংকার।
 চমৎকার, খুশিতে ডগমগ মৌলিক সংখ্যা, হাততালি দিল তিনবার ৷

অসম্মতি
#
বাড়তি টায়ার
সর্বদাই সন্ত্রস্ত
 ভেবে যে একদিন
 তার পালা আসবে
বহন করতে হবে
 গাড়ির ভার
যাতে
 সে এতোকাল চেপে এসেছে
#
 একবার
একটু পিছিয়ে
 সে বিড়বিড় করে তার ভয়
 উইন্ডশিল্ড ওয়াইপারদের কাছে
কিন্তু নীরব বিচক্ষণতায়
তারা কেবল মাথা নাড়ে
#
আর তাই
 সে ভয়ে লুকায়
 ঢাকনার নিচে
অন্ধকারে নিচে শুয়ে থাকে
 আর বৃষ্টির দিনে সে থাকে
 বিশেষত
চুপচাপ
#

অনেক
সময় বাড়তি টায়ার
গণনা করে তার সৌভাগ্য
 এক দুই তিন চার
এক দুই তিন চার
#
 স্বীকার করে
প্রকৃতপক্ষে
যদি না সর্বদা ভয়
তাড়া করে ফিরত
 তবে বাড়তি হয়ে থাকা
মোটেও খারাপ কাজ নয়
#

সত্যিই
একটু ম‍্যাড়মেড়ে
 কিন্তু চালু টায়ার হওয়া
প্রতিদিনের ব্যবহারে
 মনে হয় সত্যি
ভয়ের
#
ইতিমধ্যে
উদ্বেগের গভীর খাত
আঁকাবাঁকা জড়িয়ে
তার কপাল
 পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে
#
মরিয়া
সে পড়ে
সমস্ত পাঠাগারের বই
 সেখুঁজে পায়
ভুলে-যাওয়াকে তোরঙ্গে
শোনে
 পিছনের সিটে বসা পন্ডিত যাত্রীদের
খোশগল্প
রেডিও টক
বিখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদদের
বুঝতে চেষ্টা করে
কোথা থেকে তার অসম্মতি
 উঠে আসে
#
বিশ্বাস করো আমাকে
 সে গভীর লজ্জিত
নিজেকে অযোগ্য অনুভব করে
 ওই চাকাদের সঙ্গে তুলনায়
যারা নিশ্চিত করে অগ্রগতি
টানে ভারী বোঝা
ঘোরাই চক্রকার  মুখ
হাইওয়ে
এবং ময়লা ভরা
রাস্তায়
#

কত
সে ঈর্ষা করে তাদের
 যেভাবে তারা বহন করে
 নিজেদের 
কত সে ইচ্ছে করে ইচ্ছে করে
তাদের মত হয়ে উঠতে
 এতটা আত্মবিশ্বাসী
আর কেতা দুরস্ত


সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পেটজা হাইনরিখ-এর কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
পেটজা হাইনরিখ-এর কবিতা


পেটজা হাইনরিখ(Petja Heinrich, 1973)
কবি, ব্লগার এবং সাইক্লিস্ট। পাখি তার ভালোবাসার আরেকটা দিক। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা পাঁচ। No Poezia  (না কবিতা) নামের একটি প্রখ্যাত নতুন কবিতা ম্যাগাজিনের তিনি প্রধান সম্পাদক।  তাঁর কবিতা নিরীক্ষাপ্রবণ, সংবেদনশীল এবং দার্শনিকতা মন্ডিত । তার কবিতার ভেতরে আছে বহু চলাচল এবং মুক্ত পরিসর। সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন ।


১. কীসের জন্য সমুদ্র

যদি কেউ না থাকে

 তাকে নিয়ে ভাববার
 তার লবণ লবণ চেখে দেখার এবং ফেরাতে
 বাতিল  তিমিদের

 সহজে আক্রান্ত এবং ছোটো হতে

একটা ঝড়ো বাতাস  উড়িয়ে নিতে পারে
 একটা  ঢেউ তাকে ঢেকে ফেলতে পারে সম্পূর্ন
 আর ভাসিয়ে নিয়ে যায়

তবে কী জন্য এসব
যদি কেউ না থাকে কাছে

তাহলে সমুদ্র ঝুলে থাকবে তোমার ছোট্ট আঙুলে

২. আমি চিনতে শিখেছি

 সবজে মাথা হাঁসেদের থেকে সারসের  উড়ান
 উঁচু আকাশে যা সহজ কাজ নয়
 এই দক্ষতায় আমি যা হোক করে জীবন চালাবো


৩. অবস্থার ব্যাখ্যা না হওয়া  পর্যন্ত স্থগিত

 আমাকে স্বীকার করতেই হবে
 তোমাকে ভাবতে ভাবতে আমি ক্লান্ত
যখন আমি কেনাকাটা করি,  বাসের জন্য অপেক্ষা
 যখন আমি পড়ি অথবা ঘুমিয়ে পড়ি
অথবা মাঠে হাঁটি
 তখন প্রতিটি পাখি
তোমার দৃষ্টিতে আমাকে দেখে অন্ধ অনুরাগে
 আর আমাকে পাঠায় ভেদযোগ্য সংকেতগুলো

 ভালো
আমি মনে মনে বলি
যদি সে বাঁয়ে ওড়ে
এটা সত্যি
 আর সেটাই করে
 যদি আগুনপোকা আবার লুকায়
 আগস্টে গত বছরের ঝোপে
 তার মানে তুমি আমায় ভালোবাসো

 আর যেহেতু এখন এপ্রিল
আমি ভেবে চলি কর্তব্য হিসাবে
 কমপক্ষে যতদিন না গ্রীষ্ম ফুরিয়ে আসে

শনিবার, ৬ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ক্রিস্টিনা মিতেভা-র কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
ক্রিস্টিনা মিতেভা-র কবিতা 

ক্রিষ্টিনা মিতেভা (Kristina Miteva ,1981)-র জন্ম বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়াতে। ইউনিভার্সিটি অফ সোফিয়া থেকে তিনি থেকে তিনি থেকে তিনি ইতিহাস ও কালচার থিওরি বিষয়ে স্নাতক। বুলগেরিয়ার মিনিস্ট্রি অফ কালচার- এ তিনি কিছুদিন সম্পাদক ও লাইব্রেরিয়ান হিসেবে হিসেবে কাজ করেন। এ পর্যন্ত ক্রিস্টিনার ক্রিস্টিনার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা চার--- তিনটি কবিতা ও একটি প্রবন্ধের বই।

১.
আমার আত্মা সূর্যমুখীক্ষেত

আমার আত্মা স্বর্গোদ‍্যান নয়
 আর স্বর্গের পাখিরা সেখানে গায়ছে না
 আমার আত্মা ভষ্মীভূত রোম
আর নরকের আগুন এখনো সেখানে গুমরে জ্বলে।

আমার আত্মা স্মরণ করে কী ছিল একদিন
আর কী ঘটবে বলে লেখা আছে
আর বারবার পুনর্জন্মে

আমার আত্মা সূর্যমুখীক্ষেত
 যার দৃষ্টি ঊর্ধ্বমুখী---
আকাশ আর সূর্যের দিকে
আর তোমার দিকে, ভালোবাসা...

২.
 দেবদূতের ডানা থেকে নেওয়া একটি পালক

 একটি পালক দেবদূতের ডানা থেকে নেওয়া একটি পালক লেখা ---
আমার স্বপ্ন।

 মানবতা আর মানবহৃদয়ের
 সুন্দরতমকে লেখাই
আমার দিশা।

যদি অক্ষর
অর্জন করে ঈশ্বরকে ---
সেটাই পুরস্কার ....

৩.
আমার চোখে জীবন সুন্দর

 ভোর। পোস্তক্ষেত।
তারপর ----সূর্যমুখী ।
 আর দিনের শেষে
 সূর্যাস্তের আকাশ ...
ঘুমের আগে শিশুর হাসি।

৪.
অসীমের দিকে রাস্তা

 রাস্তা হয়ে ওঠে রাস্তা
যখন তা জন্ম নেয়
পথিকের পায়ের নিচে ।


রাস্তা হয়ে ওঠে রাস্তা
যখন সে ধুলার উপর ধরে রাখে
তার পায়ের চিহ্ন ।

রাস্তা হয়ে ওঠে রাস্তা
 যখন শেষ পর্যন্ত তার হাটা হয় ।
অভিমুখ ---- অসীমের দিকে...

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || জুন ইর- এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
জুন ইর- এর কবিতা

১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে জুন ইর (Jun Er, 1968)-এর জন্ম। চিন জুড়ে তখন চলছে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উন্মাদনা। তার বিকল্প ধারার অধীন ছিল তরুণ কবিদের লেখা।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ঝলমলে আলোর নিচে যে গভীর অন্ধকার লুকিয়ে থাকে তারই লুকিয়ে থাকে তারই তথ্যনিষ্ঠ উন্মোচন ঘটেছে এ প্রজন্মের তরুণ কবি জুন ইর-এর কবিতায়। চীনের অর্থনৈতিক বিপ্লব চিনা মানুষের আত্মিক মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছে। জীবনের এই  বিপ্রতীপ অবস্থানের বাচন জুন ইর-এর কবিতা।


১. রেফারেন্স

আমার বিপরীতে: রাস্তা, বাড়িঘর ,হাউজিং, এস্টেট, কয়েকটা বাড়ি
আমার বিপরীতে: ঘাসজমি, গাছপালা, পথচারী
 আমার বিপরীতে: আত্মা ও জানালা
আমি অন্য জগতে, অন্য শহর ,অন্য ঘর
 আমি পাশ থেকে দেখছি,
 এই জগতের জীবন প্রবাহে পুরোপুরি অংশগ্রহণে অসমর্থ
 কাজকর্মে আমি অর্ধেক মানুষ
 তোমাদের কাছে আমি খাবার খাই যা আমাকে বাঁচতে সাহায্য করে
আমার অন্য অর্ধেক ভাসমান মেঘ, গ্রীষ্মকালীন ফুল
হেমন্তের পাতা, পৃথিবীর হ্রদসমূহ
নদী-নালা যা সমুদ্রগামী
টিলা, ঘাসজমি ,বিস্তীর্ণ আদিম বন,
রাতের বাতাস, সকালের বাষ্প, অতর্কিত বাষ্প
 দূরবর্তী স্থান, অব্যবহৃত রেলট্রাক, ভুতুড়ে শহর
 মরুভূমি, শীতঘুম, একটা বীজ ধুলোয় আহূত
 অদৃশ্য

২. এক পয়সার মুদ্রা

আমার ডেস্ক -এর এক কোনে একটা এক পয়সার মুদ্রা
একাকী
 হাবিজাবি কাগজের টুকরোর ভেতর
 কখনো কখনো আমি ড্রয়ার খুলে
খোঁজাখুঁজি করি
এবং আবার বন্ধ করি
 মুদ্রাটির অস্তিত্ব নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবনা চিন্তা ছাড়াই
আজ কর্মহীন একটি মুহূর্তে
 আমি আবার আবিষ্কার করলাম এক পয়সার মুদ্রা স্বাধীনতা
তার সংযম, শান্তি আর শব্দহীনতা
 মানুষের জীবনের সঙ্গে কোনো মিল আছে কি?
 যদিও তারা কখনো বলেনি
এই মুদ্রাগুলি একদা ছিল, তা সত্বেও

৩. সাগর মানিক

এই সাগরজল আকাশের চেয়ে বেশি নীল:
আমি যদি এর ভেতর শব্দ খুঁজে পেতাম,
 আমি নিশ্চিত তারা বলত সাগর আশা ছেড়েছে,
 সে চায়না আরো গভীরে গিয়ে তার আবেগের
 বেহিসেবি খরচ
শুধু কি লবন যা তুমি তুমি লবন যা তুমি তুমি যা তুমি গ্রহণ করেছ করেছ, বর্জন করেছ,
 কোমলতার সঙ্গে? প্রতিটি কণা
তোমার তিক্ততার ভেতর ক্রিস্টাল ?
শুধু কি সূর্যালোক যা জড়ো করেছে
 ছড়ানো-ছিটানো সবকিছু?
 এই জীবনের ভেতর যেতে যেতে আমি দেখি
 তোমার স্বচ্ছতা, তোমার শুদ্ধতা আমার কাছে অতর্কিত
আমি এসব দেখে মুহূর্তে হতচকিত
 শব্দ খুঁজে পাইনা

৪. জার

আজ একটা বড়ো জার সরালাম
জারটা আচারের আনাজপাতি রাখার,
ঝুল বারান্দা থেকে আমার পড়ার ঘরে
এই গাঢ়  লাল পাত্রটা
একটু মোটা দাগের নির্মাণ
 পেট মোটা
আর সারা গায় গর্ত ভরা
এর ঢাকনাটা ছোটো গোলাকার
আমি জানিনা এটা দিয়ে কী করব
মেঝের উপর দাঁড়ানো, প্রতিফলিত আলো
শান্ত আর মোটা,
এখন, ঢাকনা খুললে
ঘরের সব বাতাস এর ভেতর ঢুকে যাবে


সোমবার, ১১ মে, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা রুদ্র কিংশুক ক্রিস্টিন দিমিত্রোভা-র কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 

রুদ্র কিংশুক

ক্রিস্টিন দিমিত্রোভা-র কবিতা

কবি ,উপন্যাসিক ও অনুবাদক ক্রিস্টিন দিমিত্রোভা (Kristin Dimitrova, 1963) -র জন্ম বুলগেরিয়ার সোফিয়া শহরে  তিনি এই সময়ের একজন উল্লেখযোগ্য
বুলগেরিয়ান সাহিত্যিক। স্প্যানিশ ,জার্মান ,রাশিয়ান , রোমানিয়ান প্রভৃতি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর ছোটগল্প কবিতা এবং অন্যান্য রচনা ।
সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার।


১. রেলগাড়িতে

রেলগাড়িতে
একজন বৃদ্ধ হাঙ্গেরিয়ান
 মহিলা, সামনের
দাঁত নেই
আমাকে বললেন যে তাঁর
তিন ছেলের দু'জন
মারা গেছে
আর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র পুত্র

এখন আমেরিকায়
এগুলো তার ফটো
এইটা আমার ছেলে
এইটা ওর পরিবার।
তিনি টান ছিলেন বুলগেরিয়ান
সিগারেট অথবা
বুদাপেস্ট থেকে আনা খুব লম্বা সিগারেট

 বুখারেস্টে
আর তিনি বললেন:
 এখন বাঁচার মতো আমার কিছুই নেই
এটা বললেন
সহজে নির্বিকারভাবে
দন্তহীনার সম্ভ্রম সহ।


২. তিব্বত

 গোটা রাস্তা লণ্ঠন আকীর্ণ,
হাসছেন লামারা। পরস্পরকে আক্রমণ করছেন; ঠান্ডা আগুনের পাশে জড়ো হচ্ছেন ,
শরীরে আঙ্গুল দিয়ে মাখিয়ে নিচ্ছেন  আগুন , চেটে খাচ্ছেন অগ্নিশিখা।
আমার দূরবর্তী ছায়াগুলি, বহুক্ষণ আমি হামাগুড়ি দিয়ে এগুচ্ছি তোমার দিকে,
 টুকরো টুকরো ভাবে । কাউকে তো অবসাদের গা থেকে ছাড়িয়ে ফেলতে হবে খোসা ফেলতে হবে খোসা, দমন  করতে হবে অভ্যাসকে ।
জানি আমিও একজন স্বাধীন মানুষ
কিন্তু আমি তা ভুলেই যাই।

৩. বর্ডার

আমার মেয়ে জিজ্ঞেস করল
আমি তার জন্য বাবলগাম এনেছি এনেছি কিনা ।

আমি বললাম আমার আনা হয়নি
কিন্তু আমি ভালোই ছিলাম ।

তার প্রতিবাদ -- আমি আর বাবলগাম
দুটো আলাদা জিনিস ।

আমি বুঝিয়ে দিলাম যে
সে সর্বদায় ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারে না।

 সে সংশোধন করলো আমাকে :
ভালো কিছু নয় শুধু একটা বাবলগাম।

 সূর্য যথাসাধ্য উজ্জ্বল
পাখিরাও উত্তর প্রত্যুত্তরে যুক্ত।

পার্কের ঘাস মুগ্ধকর সবুজ
 কিন্তু মেয়ে হৃদয় ঢাললো বৃষ্টির ধারায় ধারায় ।

সুখী জগৎ, বিষন্ন জগৎ
 মধ্যিখানে একটা বাবলগাম।

৪. প্রতিদিনের বুদ্ধবাদ

কথায় বলে শিষ‌্য প্রস্তুত হলে
গুরু নিজেই দেখা দেবেন।
 গুরুর দেখা পেতে অপেক্ষা আর অপেক্ষা
শেষে আমি  নিজেই হয়ে উঠলাম গুরু ।
এখন আমি শিশুদের দেখা দিই
কিন্তু তারা প্রস্তুত নয়।

৫. তিন ভাই এবং সোনার আপেল

তিন ভাই তারা হেঁটে চলল, হেঁটেই চলল
তোমরা সবাই জানো জ্যেষ্ঠপুত্র বাবার পছন্দের, কনিষ্ঠজন
ভাগ্যবান ।
মধ্যমজন দুজনের মধ্যে হাটে।

 সারারাত তারা পাহারা দেয় সোনার আপেল এবং জ্যেষ্ঠ যে সে তাকায় বামে
 কনিষ্ঠ দক্ষিনে ।
মধ্যমজন
দত‍্যিদানোর বন্ধু।

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০

রুদ্র কিংশুক || পিটার চোখভ-এর কবিতা || বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক

পিটার চোখভ-এর কবিতা

পিটার চোখভ (Petar Tchouhov)--এর জন্ম বুলগেরিয়ার সোফিয়া শহরে। প্রথমে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে স্নাতক এবং পরে সমাজ বিজ্ঞানে  স্নাতকোত্তর, পিটারের কবিতা বুলগেরিয়ার সহ পৃথিবীর বিভিন্ন  দেশের পত্রপত্রিকা ও কাব্য সংকলনে প্রকাশিত । কবিতার ফর্ম হিসেবে হাইকু  পিটারের খুব প্রিয়।ইমেজিস্ট ও বিট  কবিদের অনেক বৈশিষ্ট্য তাঁর রচনায় পরিলক্ষিত। পিটার একজন রক-মিউজিশিয়ানও। তিনি নিয়মিত পারফর্ম করেন।

নীরব

 আমাদের মায়েরা নিখোঁজ---
 কিনতে বার হয়েছিল
কিছু সুস্বাদু
আর ফিরে আসেনি

আমাদের পিতারা নিখোঁজ ----
দেখতে গেল
তাদের পিতাদের সমাধি
আর সেখানেই তারা থেকে গেল

আমাদের ভাইয়েরা
আর বোনেরাও নিখোঁজ ----
ছুটে গেল খুঁজতে
তাদের বাপমাকে
আর পথ হারালো

আমাদের ছেলেমেয়েরাও
নিখোঁজ
খুন হয় রাস্তায়
নিজেদের স্বপ্নের দ্বারা

তাইতো
এই ছেলেভোলানো গান
এখন
আমাদের জন্য

শুভরাত্রি
শুভরাত্রি
 শুভরাত্রি

প্রস্তরফলক
আমার বাবার
হিমশৈলের মতো জেগে উঠছে
মৃত্যুসাগর থেকে

তার আধ- মিটার
দৃষ্টিগ্রাহ্য
অদৃশ্যটুকু আমার ভেতরে

হাইকু
১.
 বসন্ত সূর্য
অসমাপ্ত শব্দ
কী-করনীয় তালিকার ওপর
২.
মোমালোকিত গির্জা
সমস্ত ছায়া
আমারই
৩.
অবিশ্রান্ত বর্ষণ
পাঠাগারের বই
যা আর নেই
৪.
পূর্ণ চাঁদ
গর্ত
তার বিবাহ অঙ্গুরীয়
৫.
তার নাম
বাঁধা নৌকার গায়ে
গ্রীষ্ম শেষ হয়
৬.
দীর্ঘতম রাত
দঁড়কাক চুরি করে চোখ
বরফ-মানুষের

জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার

আমি ছিলাম
হলিউডেও

বৃষ্টি হলো
 ক্যালিফোর্নিয়া ছিল যেন আমার মা রৌদ্রকরোজ্জ্বল সবার কাছে, আমি ছাড়া

আমার মাথার ওপর ব্যক্তিগত মেঘ
আমি হাঁটলাম গাড়ি ও হোটেলের মাঝখান দিয়ে তখন দেবদূতেরা জড়ো হয়েছে বিদায় দিতে

 আমি হেঁটে গেলাম মরুভূমির ভেতর
মরীচিকা তরঙ্গের ওপর  হাঁটলাম, নগ্নপা

আমি ফিরে চাইলাম
 দেখলাম অগণিত মানুষ
আমাকে রাস্তায় অনুসরণ করছে

লাস ভেগাসের দিকে


সেফটি-পিনস
১.
ফেলে -দেওয়া খেলনা
প্রস্তর-ফলকের পাশে
হেমন্ত গোধূলি
২.
সকালের কুয়াশা
কেউ দেখে না
পাতাঝরা
৩.
 ঠান্ডা সকাল
দুটো হারানো বিড়াল
 কুকুর-আস্তানায়
৪.
হঠাৎ বৃষ্টি
আমি ভাগ করে নিই ছাতা
স্ট্যাচুর সঙ্গে

৫.
ভূতচতুর্দশীর দিনে
আমি খুলি বাবার
কালো ছাতা

বুধবার, ৬ মে, ২০২০

লুৎফা হানুম সালিমা বেগম || রুদ্র কিংশুক || বিশ্ব দুনিয়ার নতুন কবিতা

বিশ্ব দুনিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র  কিংশুক
লুৎফা হানুম সালিমা বেগম

লুৎফা হানুম সালিমা বেগম ( লুটফা  হানুম ছালিমা বেগম , Lutfa Hanum  Salima Begum, 1962) বেগম সাম্প্রতিক অসমীয়া কবিতা উল্লেখযোগ্য নাম। তাঁর কবিতা সহজবোধ্য । খুব সহজভাবে স্বল্প প্রকরণের ব্যবহারে তিনি বলতে পারেন গূঢ় কথা। মানুষের চিরকালীন দুঃখ-বেদনার কথা তাঁর কবিতায়। প্রতিদিনের জীবনের মধ্য থেকেই উঠে আসে তা়ঁর চিত্রকল্প বা চিহ্নকল্প। চিরকালীন পরম্পরা ও আধুনিকতা তাঁর কবিতায় সুনিপুণ গ্রন্থিত গ্রন্থিত আধুনিকতা তাঁর কবিতায় সুনিপুণ গ্রন্থিত গ্রন্থিত।

১.
একটি চিঠি

ঘাস চিঠি লিখেছিল
আকাশকে
বাতাস এসে তাকে নিয়ে

 গেল বাতাস খেলা করলো
 এক পশলা বৃষ্টির জন্যে বৃষ্টির জন্যে পশলা বৃষ্টির জন্যে বৃষ্টির জন্যে
 এক পশলা বৃষ্টির জন্যে বৃষ্টির জন্যে পশলা বৃষ্টির জন্যে
তার উত্তর স্বরূপ

২.
ছিদ্র

বহুকাল থেকেই বহু ছিদ্র
নরকে

এখন স্বর্গেও দেখা গেল
একটা ছিদ্র
স্বর্গের চোখের জল
এখন মাটিতে পড়ছে
ফোঁটা ফোঁটা
 এই ছিদ্র দিয়ে

অপার্থিব সুখের
বন‍্যায়
পৃথিবী প্লাবিত
ক্রমে ক্রমে ।

৩.
ঝরা পাতা

ঝরা পাতা চায়
সবুজ পথ
গাছের শাখায় ফিরবে বলে

পাখিরা হতে চায়
ডিমের ভিতর হলদে কুসুম
নদী চায়
মৃত মাছেরা ফিরে আসুক

ছায়া হতে চায়
গাছ
মানুষের হৃদয়
ধোয়া হতে চায় লাল পথে
আগুনের হৃদয়ে ফিরতে

জল হয়ে উঠবে পাথর
পাথর বিগলিত হবে
মানুষের হৃদয়ে
আর আমি চলে যাব তোমার ভেতরে
চাই পথ ফিরতে নিজের ভেতর
সবুজের ভেতর দিয়ে

 জল পাথরের ভেতর দিয়ে
শব্দ আর সুর

৪.
কেউ এলো না

কেউ এলো না

ভালোবাসার উৎসব পাত্রে
প্রদীপ জ্বলতেই থাকে

আমি খুঁড়লাম সারারাত ধরে
 কিন্তু জল পেলাম না

৫.
নিজেকেই রোপন করো

সে আমাকে দিয়েছিল বাঁশি
 স্বপ্নে আমার ঠোঁটে
আর বলেছিল

 সুর বানাও
আমি তোমাকে দুঃখ দেব

দুঃখ নিয়ে আমি কী করব

বানাও একটা সুখের বাড়ি

যদি সুখের বাড়ি
ভেসে যায় চোখের জলে

পলি জমবে বুকের ভেতরে

কী ঘটবে তখন
জীবন হবে উর্বর
রোপন করো নিজেকেই সেখানে

 ৬.
 পাখি উড়ছে

পাখি উড়ছে এদিক সেদিক
পাহাড়- উপত্যাকার উপর, নদী-ঝরনার উপরে
সে ওড়ে

 যদি সে একটা গাছ পেত
জিরিয়ে নিত তার সুন্দর ডানা
আর ছোট্ট কাঁপা কাঁপা হৃদয়

যদি সে পেতো এমন একটা গাছ
বৃষ্টির মতো উঁচু
ডালপালা আর পাতায়
নদীর মতো বড়ো

তার উপর সে বানাতো বাসা
সূর্যের মতো বড়ো
তার ডিমের ভেতরে সে হয়ে উঠত আবার
নিজেই হলুদ

 মায়ের বুকে ঘুমাবে বলে

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...