Thursday, May 7, 2020

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পেতিয়া দুবারোভা-র কবিতা


বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা
 রুদ্র কিংশুক
পেতিয়া দুবারোভা-র কবিতা

পেতিয়া দুবারোভার (Petya Dubarova, 1962---1979) বুলগেরিয়ার অকাল প্রয়াত কবি প্রতিভা। সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রী, তুচ্ছ কারণে স্কুলে তিরস্কৃত হয়ে পেতিয়া আত্মহননের পথ বেছে নেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে শেষ হয়ে যায় একটি সম্ভাবনাময় কবি-জীবন। তাঁর মৃত্যুতে গোটা বুলগেরিয়া জুড়ে  স্কুলের অন্তঃসারশূন্য, নির্দয় নিয়ম কানুন এবং কিশোর-কিশোরীদের ওপর অসহনীয় প্রত্যাশার চাপের বিরুদ্ধে নানান প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে ওঠে। দুবা্রোভা হয়ে ওঠেন তরুণদের সামনে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রতীকস্বরূপ। তাঁর নামে সারা দেশে গড়ে ওঠে গড়ে ওঠে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

তাঁর খুব সংক্ষিপ্ত লেখক জীবনে পেতিয়া দুবারোভা লিখেছেন মূলত কবিতা এবং ছোটগল্প। তাঁর কবিতা একজন সংবেদনশীল তরুণ মনের অনুভবের প্রকাশ। মিথ্যা,ভন্ডামি, আদর্শহীনতা  ------ এইসব সামাজিক  অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তাঁর রচনা। সমুদ্র, বৃষ্টি, যৌবন ভালোবাসা----তাঁর কবিতায় প্রত্নপ্রতিমীয়  তাৎপর্যে উজ্জল।

১.
মেজাজ

গোটা আকাশটা হোঁচট খেলো মেঘের ওপর,
আর মন্দির-চূড়ার মতো ভেঙে পড়ল।
তখন একটা প্লেনের মতো সে চেঁচামেচি করল।
 আর আমি দেখলাম ক্রুদ্ধ এবং বোবা হয়ে,
রাতের  ঝুঁকেছে ঠেলে দিতে
ছেটে ফেলা মেঘের সীমান্ত।
আনন্দ আমার ভেতর ডালপালা-মেলা একটা ওক গাছ , তার মুকুট সুবিস্তীর্ণ ...

আমার জীবন খেলা-মশগুল একটা মুহূর্ত,
ছিনিয়ে নিল একটা লম্বা দিন ,তৎক্ষণাৎ ,
তার ভেতরে আমি নজর এড়িয়ে বাঁচি
 কিন্তু সমস্ত আকাশ বাঁচে আমার ভেতর ।

২.
ডুবে -যাওয়া নক্ষত্র

 ডুবে -যাওয়া নক্ষত্রেরা সমুদ্রে ভাসে।
 লবণ পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের উজ্জ্বলতা।
 কত নীরবে বিদায় না না নিয়েই বিদায় না না
 কত নীরবে, আনুষ্ঠানিক বিদায় না নিয়েই
তারা হারিয়ে ফেলে আলো আর বল । কিন্তু আমি ফেরাবো আমার হৃদয় এখনি
একটা পিরামিডের দিকে , একটা শামুক ,
আর সে তাদের ফিরিয়ে আনবে জীবনে,
মাংসে রৃদ্ধ , যেমন একটা শামুক।

৩.
শীতকালীন ছুটি

তারা আমার চুলে বরফের মতো গলে,
 তারপর মরে  যায় ঝরে যাওয়া চুলের মত । আমার হাঁপিয়ে-ওঠা দিন স্বপ্ন দেখে
 তারা এখানে এখনো আছে ।
আমার সকাল তাদের থাকতে আকুতি করে। আনন্দ-গুহায় জড়ো করে বরফ
আমি সেখানে লুকায় একটা ছবি,  গোপনীয়।
তখন টেক্সট-বইগুলো মেঘে ঢাকে আমার দৃষ্টি ,
পরীক্ষাগুলো ছুটে আসে দূরন্ত আঘাত করতে।

 মনোরম ছুটির দিনগুলো, তোমাদের পেতে চাই আমি স্মৃতিতে যারা পল্লবিত দ্রাক্ষালতা,
 আর আমার শীতের পত্র-সংগ্রহে তোমাদের রেখে দেবো এক ফোঁটা বরফ-অশ্রুর মতো।



1 comment:

  1. খুব সুন্দর কবিতা। কিন্তু অকাল প্রয়াত কবির জন্য মনটা ভরে উঠলো বেদনায়।

    ReplyDelete

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || নারী~ গৌতমকুমার দে

 কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার  নারী । গৌতমকুমার দে । প্রোরেনাটা । কুড়ি টাকা । কোন পুরুষ কবি যখন নারীকেন্দ্রিক কবিতা লেখার জন্য তৈরি হন ত...