বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৩৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৩৮.
অ্যাগ্রেসিভ কথাবার্তা এখন তোলা থাক।  ৩৭ কিস্তি লেখা হয়ে গেল এখনো বহরমপুরে পা রাখা হল না ! এই অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই।
প্রথমেই জানিয়ে রাখি এই বহরমপুর-কে বা বহরমপুরের সাহিত্য পরিমণ্ডলকে আমি চিনেছিলেন নাসেরের মাধ্যমে। অর্থাৎ নাসের হোসেন আমাকে হাত ধরে নিয়ে গেছে প্রায় সকলের বাড়ি। এখনো নিয়ে যায়।  বহরমপুর পৌঁছে গেলেই আমি অন্ধ হয়ে যাই , আর অন্ধের লাঠি হিসেবে উপস্থিত হয় নাসের। আমি সেই লাঠি ধরে হাঁটতে থাকি।
ঠিক কবে প্রথম বহরমপুর গেলাম এটা মনে করতে পারছি না। তবে রেকর্ডে দেখতে পাচ্ছি কবিতাপাক্ষিক প্রথম গ্রন্থমালা সিরিজে প্রকাশিত হয়েছিল প্রদীপেন্দু মৈত্র-র কবিতার বই ভালোবাসার অন্যনাম।
প্রদীপেন্দু তখন সদ্য প্রয়াত। এই বই-এর সব কাজ নাসের করেছিল , এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠছে না। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি , নাসের আর আমি একটা সাইকেল রিক্সা করে সুশীল ভৌমিক-এর বাড়ি। সুশীলদার বন্ধু ছিলেন প্রদীপেন্দু। সুশীলদা বন্ধুকৃত্য করেছিলেন।

অমিতাভ -র মতোই সৈয়দ খালেদ নৌমান-এর সঙ্গেও আমার সম্পর্ক জোড়া লেগেছিল। খালেদ ছয়ের দশকের কবি।কলকাতায় পড়াশুনো করত। সেই সূত্রে সাম্প্রতিক- কবিপত্র। খালেদ তখন বহরমপুর মেন্টাল হাসপাতাল কোয়াটারে। সেই অবিচল সাইকেল রিক্সা।নাসের আমি পাশাপাশি।
উৎপলকুমার গুপ্ত-র বাড়িতেও নাসের আমাকে নিয়ে গেছে।
কবিতাপাক্ষিক-এর যাবতীয় বাড়বাড়ন্তের অনেকটাই কিন্তু কবি সন্দীপ বিশ্বাস-এর জন্য।এমনকী কবিতাপাক্ষিক-এর তৃতীয় বর্ষপূর্তি উৎসবের অনেকটা কৃতিত্ব সন্দীপ বিশ্বাসের জন্য।  কার্যক্ষেত্রে সন্দীপ বিশ্বাস রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের কর্মী সংগঠনের নেতা। সেই সুবাদেই আমার বহরমপুরের অস্থায়ী ঠিকানা রাজ্য বিদ্যুতের গেস্টহাউজ।
আর একজনের কথা না বললে আমার বহরমপুর মিথ্যা হয়ে যাবে। সেই নামটি হল --- সমরমাস্টার।আসল নাম সমরেন্দ্র রায়। শুধু কবি বলাটা ভুল হবে , একজন প্রকৃত কবিতাকর্মী। এরকম কবিতাযাপন সচরাচর চোখে পড়ে না। দেড়খানা ঘর বা ঘরের মতো একটা আখড়া , সেটুকুতেই ঢুকে পড়েছে গোটা বাংলাকবিতা। উত্তর বসু থেকে নবীন কবিদল সকলেই আদৃত হয়েছে এই আখরায়।আর আমার পায়ের যাবতীয় বা আমার হাঁটাহাঁটির যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছে সমরমাস্টারের দ্বিচক্রযান। এটি কখনো মপেড , কখনো বা স্কুটার। চালক সমরমাস্টার আর পেছনের সিটে আমি। বহরমপুরের অসংখ্য রাস্তা একথার সাক্ষ্য দেবে।
আগামীকাল বলব চাঁদু এবং পম্পু দুই মহাপুরুষের কথার সঙ্গে আরো কয়েকজন উত্তমপুরুষের কথা।

1 টি মন্তব্য:

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~ ২২/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems 22/6 Debjani Basu

  আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~ ২২/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems 22/6 Debjani Basu   আটপৌরে ২২/৬ আটপৌরে২২/৬ ১. পৃথিবী ...