Prabhat Chowdhury লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Prabhat Chowdhury লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৬৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৬৬.
আজ বলব অনিন্দ্য রায় সম্পর্কিত কথাবার্তা। অনিন্দ্য-র সঙ্গে আমার প্রথম দ্যাখা হয় কবিতাপাক্ষিক ৩  প্রকাশ অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠানের কথা আগে লিখেছি । আগ্রহীরা পাতা উলটে পড়ে নিতে পারেন। আর বার্তাটি হল ওই দেখা হবার সময়কালে অনিন্দ্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের হাউসস্টাফ অথবা ইন্টান। তখনো ছাত্রকাল শেষ হয়নি। বাড়িও বাঁকুড়ায়।
 কবিতাপাক্ষিক ৪ -এ অনিন্দ্য-র প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ।কবিতাটির নাম : মনে রেখ ।
অনিন্দ্য ওখানে লিখেছিল : ' তুমি যদি পার তবে মনে কর বালকের ভুলে আসার সুতোর রুমাল ।'
কবিতাপাক্ষিক -এ ' এই পক্ষের কবি '  আরম্ভ হয়েছিল ১৩ তম সংখ্যা থেকে। আর ১৬ সংখ্যার 'এই পক্ষের কবি ছিল অনিন্দ্য রায়। হাতের পাঁজিটিতে এমনটাই লেখা আছে। কবিতাগুলির নাম দেখে নেওয়া যাক।
শ্রেণিধর্ম ॥ চেয়ার ॥ সেলাই ॥ সিঁড়ি
এই চারটি কবিতা। এই চারটি কবিতাকে চিনতে গেলে যা করতে হয় , তাই করছি।অর্থাৎ উদ্ধৃতি :
১ . চাকা নিয়ে লিখব না আর , তাই নিজেই গড়াতে
      থাকি ( শ্রেণিধর্ম ) ।
২. হাঁটু মোড়ার লালসা / আমাদের চেয়ারে বসাবে
      ( চেয়ার ) ।
৩.   সূচের কলায় যাও / তুমি কি ফোঁড়ের বোধ উপলব্ধি কর ? (সেলাই )
৪.  এই সিঁড়ি , ওঠা বা নামার ছল আমাকে শেখালো
       ( সিঁড়ি ) ।
অর্থাৎ সূচনাতেই অনিন্দ্য রায় জানিয়ে দিয়েছিল সে মফসসলের কবি নয়।বা পাঁচ মাত্রা সাত মাত্রার শহুরে কবি নয় । সে লিখতে এসেছে নতুন কবিতা ।নতুন সময়কালের কবিতা তার অর্থ এই নয় যে ছন্দে লিখলেই তা প্রাচীনকালের কবিতা হয়ে যাবে ! আর পাঁচমাত্রা - সাতমাত্রার বাইরেও ছন্দ আছে।সেই ছন্দেও কবিতা লেখা সম্ভব। এমনকী নতুন কবিতাও লেখা যায় । তার যথারীতি প্রমাণ পাওয়া গেল অনিন্দ্য-র ' কাগজের হারপুন '
কবিতা সিরিজটিতে। প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ৩৮ -এ। ওই সিরিজে মোট ১৮টি কবিতা ছিল। প্রতিটি কবিতা ৩ লাইনের। প্রতিটি কবিতাতেই প্রথম দু-লাইনের পর স্পেস। তারপর আরো একটা লাইন।
এভাবে বলার অর্থ এই লেখার পাঠক অনিন্দ্য-র কবিতাগুলিকে যেন সশরীরে দেখতে পান। আর সব থেকে উল্লেখযোগ্য কথাটি হল ,কবিতাগুলি নির্ভুল ছন্দে লেখা। এবং এটাও বলা যেতে পার এগুলি পরাকল্পিত লেখা। না হলে আকার -আয়তনের ভিন্নতা হত। এবার এই  ১৮ টির মধ্যে আমাকে নির্বাচন করতে হবে ১ টি কবিতা , যেটি আমি নমুনা হিসেবে আপনাদের কাছে পেশ করব।  করছি ৭ নম্বরটি :

গণিত নির্ভুল যদি তুমি তবে উপার্জিত রোদে
ক্ষুব্ধ কতদিন আর , মুদ্রা ভীতি মুখোশে থাকে না

শালিক, শালিক , তুমি তুলে নিও শিশিরের সোনা।

প্রতিটি কবিতাই একই রকম দেখতে, আগেই লিখেছি।এখন বলছি প্রতিটি কবিতাতেই নির্দিষ্ট কিছু প্রেরিতবার্তা আছে । যা পাঠককে সমৃদ্ধ করবে।
 অনিন্দ্য রায় - কে ধরতে গেলে পাঠককে তার অবস্থান বদল করতে হবে। কিছুটা উঠে এসে কথা বলতে হবে। তাহলেই অনিন্দ্য-কে ধরা যাবে । ছোঁয়াও যাবে। অনিন্দ্য-র গণিত চিন্তার কথা অন্য কোনো এপিসোডে বলা যাবে।
আগামীকাল উত্তরবঙ্গ। আর উত্তরবঙ্গ বলতে সেসময় তো সুবীর সরকার একাই ছিল।

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৬৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৬৪.
প্রথমেই জানিয়ে রাখি যশোধরা রায়চৌধুরী-র সঙ্গে বহুদিন জানতে পেরেছিলাম  ওর কাকা কবি মানস রায়চৌধুরী। প্রথম পরিচয়ের কথাটা জানিয়ে রাখি।একদিন জহর সেনমজুদারের এক বন্ধুর বাড়িতে রবিবারের সকালে একটা আড্ডা ছিল। সেই আড্ডায় জয় গোস্বামীও উপস্থিত ছিল। জহর তো ছিলই। জহরই আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়  ও ছিল।
ফেরার সময় জানলাম যশোও আমার সঙ্গে ফিরবে। বাসে। 1  নম্বর বাস। ওখানেই স্ট্যান্ড। যশো লেডিস সিটে , আমি তার লাগোয়া সাধারণ সিটে। জিজ্ঞেস করেছিলাম : কী কর ?
দু-চারটি প্রশ্নের পর জেনেছিলাম এজি বেঙ্গলে কাজ করে। আই এ এ এস।বা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অডিট সার্ভিসের । আমার ন - দাদুও এজিতেই কাজ করতেন। অনেকটা উঁচু পোস্টে। আরো জানতে পারলাম আমার ন- দাদু বাড়ির খুব কাছাকাছিই থাকে।  অতএব আত্মীয়তা গড়ে উঠতে এক মিনিটও সময় লাগেনি। আমাদের কবিতাপাক্ষিক পরিবারের অন্যতম একজন ছিল যশোধরা।
যশোধরা-র কবিতাপাক্ষিক-এ প্রথম প্রকাশিত কবিতা : ' বিশেষ ত্বক সংখ্যা ' ।প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ৪৬ - এ। 25 মার্চ ,1997।
একবার ওই কবিতাটি দেখে নেওয়া যাক।
কবিতাটি ৫ পর্বের + পুনশ্চ। আমি কয়েকটি পঙ্ ক্তি তুলে ধরছি।
১. ত্বক মানে হরীতকী। ত্বক মানে বর্ণগুচ্ছ ,শেডকার্ড
    , মানব সংসার ।
২. ত্বক মানে শিল্প ।আর অনুভূতি ।চূড়ান্ত নিভিয়া

এ যেন টি ট্যুয়েন্টি ম্যাচ। শুরুতেই ছক্কা । হাত খুলে খেলা । বা মন খুলে লেখা। রক্ষণশীলদের দুর্গে চরম আঘাতের জন্য তৈরি হয়েই লিখতে শুরু করেছিল যশোধরা। ন্যাকা ন্যাকা প্রেমের পদ্য বা রংমেলান্তি খেলা থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল সে।
৪৬ সংখ্যার পর ৫২ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতাটির নাম : প্রচ্ছদকাহিনি। এই কবিতাটি দুই পর্বের। পর্ব দুটির নাম : রাতের রূপচর্চা , গ্রীষ্মে কী করে সুন্দরী থাকবেন ।
এযেন 'বিশেষ ত্বক সংখ্যা '-র কন্টিনিউশন।
৫২- র পর আবার ৫৪ -তে। ওই সংখ্যাতেও দুটি কবিতা। এতে করে প্রমাণিত হচ্ছে যশোধরা কবিতাপাক্ষিকে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে। 
1996- এর বইমেলায় কবিতাপাক্ষিক গ্রন্থমালা ৪ র্থ সিরিজে প্রকাশিত হল যশোধরা-র প্রথম কবিতার বই : পণ্যসংহিতা। ওই সিরিজে মোট  ৩১ টি বই প্রকাশিত হয়েছিল । বেশ ভালো বিক্রি হয়েছিল।
পরের বই  : পিশাচিনীকাব্য। প্রকাশিত হল 1998 বইমেলায় । এবার সুপার হিট। মনে আছে এই বইটির প্রচ্ছদ করেছিলাম আমি নিজে।
এই পিশাচিনী কবিতার একটি পড়ে দেখুন , আপনি শিহরিত হবেন :
অথবা মৃত্যুর পরও শান্তে, ধীরে নখ বাড়ে মানুষের , অনন্তসীমায়।
যশোধরা-র একটা সিরিজ ছিল , সিরিজের কবিতাগুলির নামগুলি লক্ষ করুন :
উত্তরা-পূরবী-উজ্জ্বলা , রাধা- পূর্ণ-প্রাচী , মিনার-বিজলী- ছবিঘর ,রূপবাণী-অরুণা- ভারতী।
এই চারটি ছিল সিনেমা রিলিজের চেইন। সেই চেইননাম-কে ব্যবহার করে কবিতা লেখার সাহস দেখিয়েছিল যশোধরা। তখনকার যশোধরা।
আরো একটা উল্লেখযোগ্য কাজ মূলত যশোধরা-র উদ্যোগে আমরা সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছিলাম, সেটি হল  ' শূন্য তাপাঙ্কের নীচে ' , সমকালীন ১৪ জন ফরাসি কবির কবিতার বাংলা অনুবাদ  প্রকাশ করতে। সম্পাদনা করেছিল যশো-র মনের মানুষ তৃণাঞ্জন চক্রবর্তী।
ফরাসি দূতাবাসের একটা অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলাম আমি। অনুষ্ঠানের পর  দূতাবাসের সাংস্কৃতিক প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় ঠিক হয়েছিল আমরা বইটি প্রকাশ করবো। তৃণাঞ্জন যশোধরা সঙ্গে না থাকলে এটা করার কথা ভাবতেও পারতাম না আমি।
ব্যক্তিগত বহু কথা , বহু ঘটনা , বহু অনুষঙ্গ বাকি থেকে গেল। সুযোগ পেলে সেসব অতীতচর্চা করা যাবে।
আগামীকাল মানসকুমার চিনি , অনিন্দ্য রায় এবং সুবীর সরকার-এর মধ্য যেকোনো একজন।

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য লেখা গদ্য || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য লেখা গদ্য
প্রভাত চৌধুরী



৬৩.
রজত বা রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে আমার কাছে যে সমস্ত ডকুমেন্ট আছে, তা দিয়ে সম্পূর্ণ উপন্যাস না হলেও শারদীয় সংখ্যার জন্য একটা নভেলেট লেখা হয়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র রজতেন্দ্র নয়, নয়ের দশকের আরো কুড়িজন কবির সম্পর্কেও তা লিখে দিতে পারি। সেসব গল্পকথা অল্পতেই সেরে রাখতে চাইছি।
রজতেন্দ্র আমার ছেলে রাজা বা গৌরবের সহপাঠী।মিত্র স্কুলের।হরিশ পার্কের পাশে মিত্র , সেখানের।
রজতের বাবা এবং জ্যাঠারা সব গানজগতের মহাজন।সেসব পরে বলছি।রজতের ঠাকুরদা ডা: নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন সেই সময়ের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার CMOH বা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা।থাকতেন অফিসের কাছাকাছি চৌরঙ্গীতে।অফিসের বরাদ্দ বাড়িটি উনি কিনে নিয়েছিলেন।মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তার পরে হোমিওপ্যাথি শেখার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন। বিলেত যাবার কারণে পরিবার ওনাকে ত্যাজ্য করেছিল।  রজতের বাবা প্রভাতভূষণ ছিলেন প্রকৃতই একজন সংগীতসাধক। রেডিওতে একাধারে রবীন্দ্র নজরুল এবং আধুনিক গান গাইতেন। খুব গ্রহণযোগ্য সংগীত- শিক্ষক ছিলেন। বড়ো জ্যাঠা রেবতীভূষণ ভক্তিগীতি গাইতেন। মেজজ্যাঠা বিজয়ভূষণ ডাক্তারি করলেও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মীরাবাঈ সিনেমায় তাঁর অবদান ছিল।আর ন- জ্যাঠা বিমলভূষণ তো সুপরিচিত সংগীতজ্ঞ। তাঁর সম্বন্ধে বহু গল্প বাজারে চালু আছে।কাজী নজরুলের খুব ঘনিষ্ট ছিলেন উনি।
এহেন পরিবার থেকে রজতেন্দ্র কবিতায় চলে এল। আবার নাটকেও।
এবার কবি রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়-কে দ্যাখার চেষ্টা করি। সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের দ্যাখানোর চেষ্টাও করি।
কবিতাপাক্ষিক-এর অষ্টম সংখ্যায় রজতেন্দ্র-র প্রথম প্রকাশিত হয় একটি কবিতা। 28 অগাস্ট 1993। আর কবিতাপাক্ষিক ১৫ -তে ' এই পক্ষের কবি ' ছিল রজতেন্দ্র।ওই সংখ্যার অপর দুজন , পূণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত এবং জহর সেনমজুমদার ও এইপক্ষের কবি ছিল।প্রকাশকাল : 11 ডিসেম্বর ,1993।
ওই সংখ্যায় প্রকাশিত রজতের 'দ্বীপ ' কবিতাটির প্রথম এবং শেষ , এই দুটি লাইন উদ্ধৃত করছি :
হরিণের অস্থি দিয়ে , গন্ধ দিয়ে গড়ে তোলা দ্বীপ
....       ...      ...
অদূরে লাগানো হবে অ্যাক্রিলিক নিয়নের আলো

এই যার শুরু একমাত্র তারই অধিকার আছে ' বাজার করিবার সহজ উপায় ' -এর মতো কবিতা লেখার।  কিংবা ' আনারস ও হেমিংওয়ে '' কিংবা ' গীতা ঘটক ' শীর্ষনামের কবিতাগুলি লেখার। আমি যে বাংলাকবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণের কথা বলি , তার কারণ আমার হাতে যে তাসগুলি আছে , তার মধ্যে অন্যতম প্রধান তাসটি হল: রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
বাজার করিবার সহজ উপায় - এর ৮ নম্বর উপায়টি হল : ঘাটশিলায় বেড়াতে গিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া টিয়াপাখির পালকটি বাজারে যাওয়ার আগে বুক পকেটে রেখে দিন।এতে করে বাজার করার সময় আপনার মন হালকা ও ফুরফুরে থাকবে।
রজতেন্দ্রর আগে এহেন বিধান অন্য কেউ দিয়েছে বলে আমার জানা নেই।
আরো কয়েকটি কবিতার লাইন :
১. শ্রদ্ধেয় অমরেন্দ্র চক্রবর্তী-র ভ্রমণ পত্রিকার প্রচ্ছদে
     মূর্ধণ্য-এর একটি চমৎকার ডানা আছে।( বাঘ )
২.  হেমিংওয়ে , বাঁহাতে একটা ড্রেসড আনারসের
       ঝুঁটি আর ডানহাত আমার কাঁধে রেখে হোটেলের
        এসি রুমে দুলকি চালে ঢুকে গেলেন। (আনারস
        ও হেমিংওয়ে )
 ৩. ... ডানহাতের প্রথম তিনটি আঙুল নেচে নেচে
         যাচ্ছে যেন বল্গাহরিণ
এইসব কবিতাই আমার যুদ্ধাস্ত্র। এইসব নিয়েই আমার যুদ্ধ  আধুনিকদের বিরুদ্ধে।
আগামীকাল যশোধরা-র কথা।

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৬২ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৬২.
' হাতে পাঁজি মঙ্গলবার ' একটা লোককথা চালু আছে। আজ কিন্তু শনিবার , আপনাদের পাতে পড়বে রবিবার। মঙ্গলবার থেকে কয়েক ঘর এগিয়ে।
আমার হাতে যে পাঁজিটি আছে সেটি ' সম্মিলিত সূচি ',
কবিতাপাক্ষিক-এর মুদ্রিত সূচিপত্র। সেখানে অনুসন্ধান করে দেখলে জানা যাবে দুজন তরুণতম কবির নাম। একজন রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় অপরজন সুমিতেশ সরকার। এই দুজন সব থেকে বেশি বার বা বেশি সংখ্যায় কবিতা লিখেছিল কবিতাপাক্ষিক ১ থেকে ১০০ সংখ্যার মধ্যে
আজ সুমিতেশ-এর দিন। বা আজ সুমিতেশ-কথা। কিংবা একে ' কথাসরিৎসাগর ' ও বলতে পারি ।আমি সুমিতেশ এই নামটির একদিকে রাখি রানাঘাট আর অন্যদিকে দেনা ব্যাঙ্ক। সুমিতেশ-এর রানাঘাটকে আমি চিনি না।আমি দেবাশিস চাকী-র রানাঘাটকে চিনি। কিন্তু দেনা ব্যাঙ্ক আমার সুপরিচিত।ওই ব্যাঙ্কের বেশ অনেকগুলি শাখার সঙ্গে আমার গভীর তথা নিবিড় পরিচয় ছিল। এর সবটার জন্য বন্দুকটা রাখা ছিল সুমিতেশ-এর কাঁধে। আমার আঙুল যে ট্রিগারে ছিল , এটা বুক বাজিয়ে বলাটা শোভন নয়। বরং চোখ বন্ধ করে বলতে পারি সুমিতেশ-এর পাণ্ডুলিপি। যতটা সুন্দর এবং মনোহর করা যায় পাণ্ডুলিপি , এটা সুমিতেশ -এর চর্চার বিষয় ছিল। গোটা গোটা অক্ষর , বিভিন্ন রঙের কালি ব্যবহার করত সুমিতেশ। সুমিতেশ -এর কবিতা চোখ-কে তৃপ্ত করত। আর মন-কে !
মনের কথা মন বলতে যাবে কেন ! বরং সুমিতেশ - এর কবিতা কিছুটা পড়া যাক।
তখন যে কোনো কবিসম্মেলনে বা কবিতাপাঠের আসরে সুমিতেশ তার ' চেকপোস্ট ' কবিতাটি পাঠ করত। কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক২১ -এ।
ওই সংখ্যার বা ' এই পক্ষের কবি ' ছিল সুমিতেশ  । ওই সংখ্যায় তার চারটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল । এর আগে কবিতাপাক্ষিক ১৪ -তে ও সুমিতেশ ছিল এই পক্ষের কবি । ওই সংখ্যাতেও ওর পাঁচ পর্বের ভ্রমণকাহিনি ছাড়াও অন্য তিনি কবিতা ছিল । এথেকে অনুমান নয় , সিদ্ধান্তে আসা যায় সুমিতেশ সরকার আমার পছন্দের কবি ছিল।
এখন সুমিতেশ -এর প্রিয় ' চেকপোস্ট ' কবিতাটির কয়েক লাইন :।
যে ভাষায় কথা বলছি আজ
                           তার নাম বাংলাভাষা
 আমি দেখতে পাচ্ছি
একটা অস্বচ্ছ আলো এসে পা রেখেছে
              আমাদের সবুজ লতা-গুল্ম ঘেরা উঠোনে
এই কবিতাটির সম্পদ হল আন্তরিকতা। ভেতর থেকে উঠে আসা আন্তরিকতা। ঋত্বিক ঘটক-এর ট্রেনের থেমে যাওয়ার মধ্যে কেবলই যে হতাশা ছিল , আমি মনে করি না। আমি মনে করি আন্তরিকতা ছিল। ভালোবাসাও ছিল ।
 আরো কয়েকটি কবিতার উদ্ধৃতি :
১. প্রিয় শহরের সীমান্তরেখায় যারা দাঁড়িয়ে রয়েছে
তাদের কোনো ডাকনাম নেই ( সীমান্তরেখা ॥ কপা ৪২-৪৩ )
২. আমাদের সমুদ্র ভাবনায় কোনো গুপ্তহত্যা নেই
( সমুদ্রসম্বন্ধীয় কিছু মধ্যবৃত্ত ভাবনা ॥ কপা৪২-৪৩ )
আরো অসংখ্য সুমিতেশ রচিত পঙ্ ক্তি তুলে আনতে পারতাম , তা না করে কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তা জুড়ে দিতে চাইছি। যেমন
সুমিতেশ-এর হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের দপ্তরে খুব বেশি হাজিরা দিতে হত না , কারণ অফিসের টিফিনের সময় কিংবা ছুটির পর আমাদের ঠিক দ্যাখা হয়ে যেত প্রায় প্রতিদিন।
সুমিতেশ প্রথমে ছিল দেনা ব্যাঙ্কের ভল্টে। যে ভল্টে টাকা থাকতো  টিনের বড়ো বড়ো বাক্সে। ওখান কাজের ধরন আলাদা। আমাদের কথাবার্তার পক্ষে আদর্শ। অনেকদিন ওখানেই ছিল।রাইটার্স থেকে হাঁটাপথ। পর সেখান থেকে শ্যামবাজার ব্রাঞ্চ।ওখানে যাতায়াতের জন্য ট্রাম কিংবা মিনি। তারপর আমাদের এপাড়ার কাগজপট্টির ভেতর।
একটা কাজ সুমিতেশ বেশ কয়েকবার করে দিয়েছিল, বইমেলায় প্রদত্ত ব্যাঙ্ক ড্রাফ্ট বা পে-অর্ডার।

এটা না-বলাটা দোষণীয় হবে , সুমিতেশ বলেছিল : আপনি ' সাক্ষাৎকার ' পেয়ে গেছেন। কোথা থেকে পেয়েছিলাম সুমিতেশ সেটা জানত না। আমি জানি ।সুমিতেশ- রজতেন্দ্র - অংশুমান- অনিন্দ্য রায় প্রমুখ তরুণ কবিদের সহচার্য আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিল সাক্ষাৎকার কিংবা নোটবই- এর কবিতাগুলি।
আগামীকাল রজতেন্দ্র-কথা।

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৬১ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী



 ৬১.
নবপল্লি , বারাসত থেকে গোটা গোটা অক্ষরে কবিতা লিখে পাঠাতো আবীর সিংহ।  বারাসত নামটি পরিচিত ছিল। নবপল্লি পরিচিত না হলেও পল্লি আমার কাছে সুপরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে কমপক্ষে ৬৭ টি নবপল্লি আছে , এটা হিসেব না করেও বলা যেতে পারে। প্রথমে চিঠি আসেছিল , পরে সশরীরে প্রতি রবিবার নবপল্লি , বারাসত থেকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ৩৬ ডি নম্বর বাড়িটিতে উপস্থিত হয়ে যেত আবীর সিংহ স্বয়ং। বেশ রোগা- ফর্সা প্রায় কিশোর আবীর আমার খুব প্রিয় হয়ে উঠেছিল অচিরেই।
আগের প্যারাতে ৬৭ নম্বরটি নবপল্লির কথা লিখেছিলাম, কারণ আবীর-এর একটি কবিতার শিরোনামে বসানো ছিল --- ' সাতষট্টি নম্বর পাতা '। কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ২৯ - এ।প্রকাশকাল 09 জুলাই 1994 । ওই সংখ্যায় ' এই পক্ষের কবি ' ছিলেন : শান্তিকুমার ঘোষ প্রদীপচন্দ্র বসু শান্তিময় মুখোপাধ্যায় আবীর সিংহ এবং রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
আর ওই সংখ্যাতে আবীর -এর মোট চারটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। আরো জানিয়ে রাখি কবিতাপাক্ষিক ২৯ - এর আগে কবিতাপাক্ষিক ২১- এ প্রকাশিত হয়েছিল আবীর-এর মোট ৮ টি কবিতা।তা সত্ত্বেও ৬৭ নম্বর -কে কেন এগিয়ে আনলাম, তার কারণ এই কবিতাটি ছিল সেই সময়ের খুব আলোচিত একটি কবিতা।এখন কবিতাটির শেষ প্যারাটি পড়ে নিতে পারেন। আমি উদ্ধৃত করছি :
অরিন্দম নামের এক স্মৃতিটান ' তেইশবছর '
'আরণ্যক ' দিয়ে বলেছিল, ' পরশু দিলেই হবে
আর সাবধান।সাতষট্টি নম্বর পাতাটা খোলা আছে .....'
কেন মুগ্ধ হয়েছিলাম , আজও তা জানি না। তবে এটুকু বলতে দ্বিধা নেই , সেই মুগ্ধতা এখনো মুছে যায়নি। আসলে কোনো মুগ্ধতাই মোছা যায় না। মোছা সম্ভব নয় বলেই।
আর সেকারণে এর বহুবছর পর বারাসত গিয়ে মনে হয়েছিল এই কবিতার শিরোনামটি।আর বাসনা হয়েছিল আবীরের সঙ্গে দ্যাখা করার। কারণ আবীর তখন কবিতা থেকে বিচ্ছিন্ন । ওকে আবার কবিতায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
গিয়েছিলাম কবি বাপন চক্রবর্তীর বাড়ি। ওখানেই দুপুরের খাওয়া-দাওয়া। বাপন-কে বলেছিলাম , আমাকে আবীরের বা। ওখানেই দুপুরের খাওয়া-দাওয়া। বাপন-কে বলেছিলাম , আমাকে আবীরের বাড়ি নিয়ে চল। আবীর নিয়ে গিয়েছিল। সেই দ্যাখা হবার ডিটেলে যাচ্ছি না। অবশেষে যখন দ্যাখা হল তখন সেই আবীরকেড়ি নিয়ে চল। আবীর নিয়ে গিয়েছিল। সেই দ্যাখা হবার ডিটেলে যাচ্ছি না। অবশেষে যখন দ্যাখা হল তখন সেই আবীরকে আমি চিনতে পারিনি। একদম অচেনা মনে হয়েছিল। কিন্তু ৬৭ নম্বর পাতাটা যে এখনো খোলা আছে , তার জন্য যথেষ্ট সাবধনতা অবলম্বন করি।
তবে এখনো বিশেষ করে কোনো দিন দ্যাখার প্রয়োজন বোধ করিনি আরণ্যক-এর ৬৭ নম্বর পাতাতে ঠিক কী লেখা আছে !
সত্যই কি বিপদজনক কিছু ! জানি না। জানতে চাইও না। কেবলমাত্র আরণ্যক-এর ৬৭ নম্বরের পাতাটি মাথা উঁচু করে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
আগামীকাল কত নম্বর পাতা , তা জানা যাবে আগামীকালই।

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য ৬০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৬০.
অনেকেই ভাবছেন আমি কেবলই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের রিপোটার্জ দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছি আমরা কতটা অনুষ্ঠান-পটু ছিলাম। তাঁদের চিন্তার মধ্যে খুব একটা অন্যায় কিছু দেখছি না। ভুলটা আমারই। আমি কি দেখাতে চাইছি আমার সঙ্গে কবিতার রথী- মহারথীরা কত সংখ্যায় ছিলেন !
তা তো লেখার কথা ছিল না। লেখার কথা , কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের আগে বাংলাকবিতা ঠিক কেমন ছিল , আর কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের পর বাংলাকবিতার ঠিক কী কী পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল বা হল।
এই প্রকল্পে আমি আগে একবার এই পক্ষের কবি শিরোনামে কাদের কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল, তার উল্লেখ করেছিলাম মাত্র । কেবলমাত্র নাম বললেই সবটা উন্মোচিত হয় না। আলোচনায় আনতে হবে কবিতাকে।
সেই কাজ শুরু করেদিলাম এই পর্ব থেকেই।

আমার প্রথম নাম : রোশনারা মিশ্র। এবং তার 'স্কুলমিথ '।
এই রোশনারা মিশ্র মেদিনীপুরের। কবিতাপাক্ষিক -এর অনুষ্ঠানে প্রথম দেখি।আমাদের যুক্ত কমিটির ব্রজেনদার মেয়ে মুঙ্কা-র সহপাঠী ছিল রোশনারা এবং মউলি।
রোশনারা-র স্কুলমিথ ১ প্রকাশিত হয়  কবিতাপাক্ষিক ১১- ১২ সংখ্যায়।তারিখ :16 অক্টোবর 1993।
কবিতাপাক্ষিক ১৭ তে রোশনারা মিশ্র -- এই পক্ষের কবি । যার প্রকাশকাল 08 জানুয়ারি 1994। এই সংখ্যায় একসঙ্গে চারটিই স্কুলমিথ সিরিজের ।আমার মনে আছে এই কবিতাগুলি কবিতাপাক্ষিক পাঠকের কাছে মিথে রূপান্তরিত হয়েছিল । আমি কয়েক টুকরো উদ্ধৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছি । হে প্রিয় পাঠক , আপনার সামনে উপস্থিত করছি নতুন কবিতা।
'  মিস রুথ ড্যানিয়েলস আমাদের রূপকথায় আছেন ,যসব আকন্দবীজ ফেটে যাচ্ছে বাতাসের টানে তার ধূসর আঁশের মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন তিনি , ওই তাঁর সাইকেলের ঘণ্টি বেজে উঠল মফসসল নোতরদামে ...... '
' প্রত্যেক মেয়েদের স্কুলে থাকে অজস্র দমচাপা গল্প ; গল্পের সোনাঝুরি গাছ, অজস্র গল্পের ঝুরোঝুরো হলুদ রেণু , গল্পের মেহগিনিগুঁড়ি , কাষ্ঠল , ভাঙাচোরা ছালওঠা গল্পের বিবর্ণ ছাপ , গল্পের টানাগাড়িবারান্দা , লাল , নীল , সবুজ গল্প সাইকেল ঢলে আছে এ ওর গায়ে ....... '
 আমি অধ্যাপক নই। আমি কেবলমাত্র পাঠক এখন। কেন ভালো লাগল , সেই অনুভবকে বিশ্লেষণ করতে শিখিনি। ভালো লাগল মানে ভালো লাগল। আমাকে স্পর্শ করেছিল। সেই ভালোলাগাটা এখনো স্থায়ী আছে। হিসেব করুন , 1994- এর জানুয়ারি থেকে 2020- জুলাই !
জানিয়ে রাখি রোশনারা তখন সবে স্কুল ডিঙিয়ে কলেজে। তার স্কুল জুড়ে মিস রুথ ড্যানিয়েলস , যাঁকে সে চোখেও দ্যাখেনি।
ধন্যবাদ রোশনারা , তুমি স্কুলমিথ না লিখলে আমি সাক্ষাৎকার কিংবা নোটবই -এর কবিতাগুলি লিখতে পারতাম না ।
আগামীকাল নতুন কবি, নতুন কবিতা

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য প্রভাত চৌধুরী ৫৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৫৯ .
২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ যে রবিবার ছিল , এটা জানার জন্য ক্যালেন্ডারের কোনো সাহায্য গ্রহণ করলাম না। দেখে নিলাম ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ১০৭ সংখ্যাটি। আমরা জানতাম কবিতাপাক্ষিক ক্যালেন্ডারের শনিবারেই প্রকাশিত হয়। এই তথ্যটি আমরা ছাড়াও আরো কয়েকজন যে জানতেন না , এমনটা মনে হয় না আমার। আমার যাত্রাপথকে যাঁরা অনুসরণ করতেন , তাঁরা সকলেই জানতেন।
২৭ শনিবার হলে ২৮ রবিবার হবেই।
ওইদিন কবিতা পাঠের আসর বসেছিল ' অমরাবতী '-তে।বানিয়ে বলছি না । লেক রোডের এই বাড়িটি  কবিতাপাক্ষিক-এর বন্ধু শর্মিলা বসুঠাকুর-এর বাড়ি।ওইদিন কবিতা পড়েছিলেন : আলোক সরকার এবং অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।
শুরুতেই টেপরেকর্ডারে বাজানো হয়েছিল কবি জগদিন্দ্র মণ্ডলের সুচারু কণ্ঠের রবীন্দ্রগান।
প্রারম্ভিক কথা বলেছিল নাসের হোসেন।
সঞ্চালনায় সুজিত সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন : শঙ্খ ঘোষ ট্রুডবার্টা দাশগুপ্ত দীপংকর দাশগুপ্ত অজয় দাশগুপ্ত জগদিন্দ্র মণ্ডল প্রভাত চৌধুরী সমীর রায়চৌধুরী মলয় রায়চৌধুরী সুধীর দত্ত দীপ সাউ কুমুদবন্ধু নাথ সৈয়দ কওসর জামাল কামাল হোসেন গৌতম বহ্মর্ষি গোপাল আচার্য কানাইলাল জানা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
সমাপ্তিভাষণ তথা ধন্যবাদজ্ঞাপন : রবীন্দু বিশ্বাস।
ঠিক এর পরের মাসেই ছিল আমাদের শারদসম্মেলন।আমরা পুজোর পর মিলিত হতাম প্রতিবছর। একে বিজয়াসম্মেলন বলিনি কখনো  এটাই আমাদের হেরিটেজ।
শারদ সম্মেলন হয়েছিল আলিপুর হেস্টিংস পার্ক রোডে ড: সুবোধ রায়-এর বাড়ি। গোপনে জানিয়ে রাখি , অতীতে এই বাড়িতেই ক-দিন ব্রিটিশ রাজবংশের কেউ কেউ বসবাস করেছিলেন। সেটা হতেই পারে।
সূচনায় ছিল জগদিন্দ্র মণ্ডলের রবীন্দ্রগান।মূলত ছিল আড্ডা। এবং মেলামেশা এরই ফাঁকে ফাঁকে গান শুনিয়েছিল : রশ্মি বন্দ্যোপাধ্যায় রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় যশোধরা রায়চৌধুরী পিয়ালী বন্দ্যোপাধ্যায়। ড: নীলাদ্রি বিশ্বাস গান এবং আবৃত্তি দুটিই শোনান । রজতেন্দ্র-র গানের কিছুক্ষণ হাততালি দিয়ে নেচেছিলাম আমি ।
সঞ্চালক ছিলেন রবীন্দু বিশ্বাস।
শেষের দিকে গানে গানে গলা মিলিয়েছিল : রশ্মি স্বপ্না রজতেন্দ্র যশোধরা পিয়ালী বুবলি অশোক তৃপ্তি সীমা যূথিকা ও অন্যান্যরা।উপস্থিত ছিলেন : আলোক সরকার সমীর রায়চৌধুরী মঞ্জুষ দাশগুপ্ত ভূমেন্দ্র গুহ কবিরুল ইসলাম অজয় দাশগুপ্ত সৈয়দ কওসর জামাল কামাল হোসেন নাসের হোসেন জহর সেনমজুমদার রফিক উল ইসলাম শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় অনিন্দ্য রায় গৌরব চৌধুরী ঋদ্ধিমান এবং সুবোধ রায় , তাঁর জননী এবং ভগিনী।
আমাদের   পারিবারিক ক্যাটারার কেষ্ট ঠাকুরের তৈরি  ফ্রায়েড রাইস এবং মটন।
পাশাপাশি  জমজমাট ককটেলও ছিল। তাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন কেবলমাত্র রসিকজনই।
আগামীকাল ভিন্ন রস। ভিন্ন ভিয়েন।

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৫৮.
কবিতাপাক্ষিক ১০৭ সংখ্যার ব্যাক কভারে ছাপা একটি সংবাদ দিয়ে শুরু করছি আজকের কিস্তি :
অগ্নিদগ্ধ বইমেলার ক্ষতিপূরণ বাবদ
১৬, ৩০০ টাকা পেয়েছিল কবিতাপাক্ষিক। এবং
বাংলাভাষার সমস্ত কবি এবং কবিতাপ্রেমীদের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মাননীয় মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-কে কৃতজ্ঞতা এবং উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছিল।
কিন্তু সেদিন একটা কথা ওখানে লেখা হয়নি। তা হল এই ক্ষতিপূরণ দেবার সরকারি সিদ্ধান্ত-কে কার্যকর করতে  পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৎকালীন ডাইরেকটর কালচার কবি কালীকৃষ্ণ গুহ-র তৎপরতার কথা না লিখলে পাপ হবে । আরো একটা কথাও খুব বিনয়ের সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই , এই কাজে বা কাজটি সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত ছিল আমার কিছুটা শ্রম এবং অঙ্কবিদ্যা।
এসব টুকরো টুকরো কথা যদি না জানাই তাহলে প্রকৃত সত্য কখনোই প্রকাশিত হবে না।
এবার ১ অক্টোবর১৯৯৬ - এ যেতে চাইছি।
গন্তব্যস্থল : পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাদেমি সভাঘর ।
অনুষ্ঠান : শংকর চট্টোপাধ্যায় স্মরণ-উৎসব।
আয়োজক : কবিতাপাক্ষিক।
কবি শংকর চট্টোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর কুড়ি বছর পর এই অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শ্যামল দত্তরায় সত্যেন্দ্র আচার্য এবং আলোক সরকার
এই উপলক্ষে প্রকাশিত পুস্তকটির অসাধারণ ব্লার্ব লিখে দিয়েছিলেন মান্যবর শঙ্খ ঘোষ।
কবি শংকর চট্টোপাধ্যায় মারা গিয়েছিলেন ১৯৭৬-এ গৌহাটিতে। চাকরি সূত্রে ওখানে গিয়েছিলেন।হার্ট- অ্যাটাকে মৃত্যু ।
মৃত্যুর ঠিক পরেই যে স্মরণ-সভা হয়েছিল , সে সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। ওইদিন অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া গানটি এখনো শুনতে পাই।
কুড়ি বছর পরে এই স্মরণ-উৎসবে স্মৃতিচারণ করেছিলেন চার আহ্বায়ক সহ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় কালীকৃষ্ণ গুহ  দীপ সাউ।
কবি-প্রাবন্ধিক সুজিত সরকার শংকরদার কবিতা পাঠ করে আলোচনা করেন।
আর শংকরদার কবিতা পাঠ করেছিলেন :
বিদিশা মাইতি মিতা দে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় নাসের হোসেন এবং ড:  নীলাদ্রি বিশ্বাস।
আরম্ভের গান : রশ্মি বন্দ্যোপাধ্যায় ।
মাঝে ও শেষে গান শুনিয়েছিলেন : তৃপ্তি সেন এবং শ্যামসুন্দর গোস্বামী।
মঞ্চে ব্যবহৃত শংকর চট্টোপাধ্যায়-এর প্রতিকৃতিটি  দিয়েছিলেন সমরেন্দ্র দাস
সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন রবীন্দু বিশ্বাস।
সমাপ্তিভাষণের সুযোগ পেয়েছিলাম আমি।
আগামীকালের জন্য অপেক্ষা করা যাক।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


 ৫৭.
কবিতার নতুন মানচিত্র প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছিলাম  আগের মানচিত্রে যেখানে জলাভূমি ছিল সেখানে তৈরি হবে নগর। এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে জানিয়ে রাখতে চাই জলাভূমি ভরাট করে হাউসিং কমপ্লেক্স করার কথা বলিনি।সে ক্ষমতা আমার নেই। আমি শাসকের মদতপুষ্ট প্রমোটার নই। আমার কাজ কবিতা লেখা। নতুন কবিতা লেখা। যে কবিতা আমার আগে কেউ লেখেননি , সেই কবিতা লেখা। আর সেই কবিতা লেখার কারণেই কবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণের প্রসঙ্গ এসেছিল।
এই প্রসঙ্গে কিছুটা বিশদে যাবার জন্য আমি আমার 
' কবিতার মানচিত্র ' প্রবন্ধটির সাহায্য গ্রহণ করছি ।সেই প্রবন্ধটিতে আমি যা লিখেছিলাম , তার কিছু কিছু অংশ আমি আপনাদের পড়াতে চাইছি ।
১. Map Projection বা মানচিত্র অভিক্ষেপণ ভূ - বিজ্ঞানীদের একটি জরুরি বিষয়।
২. মানচিত্র নির্মাণ একটি জরুরি কাজ।সেই সমুদ্র- অভিযানের যুগ থেকে কিংবা তীর্থযাত্রীদের কাল থেকে মানচিত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য।কিন্তু কবিতার মানচিত্র তো আগে কেউ বলেননি। নতুন কবিতা লেখার জন্য নতুন মানচিত্র একটি আবশ্যিক আইটেম।
৩.  ৩ জুন, ২০০০ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাঘরে কবিতা বিষয়ক সেমিনারে বক্তব্য বলতে উঠে বলেছিলাম : নতুন মানচিত্র নির্মাণের অর্থ হল যেখানে সমুদ্র আছে সেখানে নিয়ে আসতে হবে পাহাড় বা মালভূমি , যেখানে ব- দ্বীপ আছে সেখানে আসবে মরুভূমি , নদীর পরিবর্তে রেললাইন ইত্যাদি কিছু কথা।
সেসময় যা বলেছিলাম তার মধ্যে অপ্রাসঙ্গিক একটি বর্ণও ছিল। মানচিত্রে যা যা থাকে সেগুলিকে বর্জন না করে কেবলমাত্র স্থান পরিবর্তন করেছিলাম। এর প্রতিক্রিয়ায় সেসময় যাঁরা 'গেল- গেল ' রব তুলে হইচই  করেছিলেন তাঁরা নিজেদের কানে হাত না দিয়ে কাকের পেছনে দৌড়েছিলেন।
আমি চেয়েছিলাম কবিরা এখন নতুন কবিতা লিখুক  । একঘেয়েমি থেকে মুক্ত হোক । এই টুকু চাওয়াটা কি খুব অন্যায় ছিল আমার ! জানি না। রক্ষণশীলদের একটা নির্দিষ্ট ভূমিকা থাকে সব কালে। সব যুগে। ইতিহাসে এর অসংখ্য নজির আছে।
আর মনে রাখবেন চিরদিন রক্ষণশীলরাই সংখ্যাগুরু। আর পরিবর্তনকামীরা সংখ্যালঘু 
শেষকথাটি হল : ইতিহাস পরিবর্তনকামীদেরই মনে রেখেছে । কবিতার কী কী পরিবর্তনের সূচনা আমরা করেছিলাম তার প্রতিফলন হল আজকের কবিতা ।
এখন অল্প দু-একটি উদাহরণ পেশ করছি।
১.  একটা মন্ত্রমুগ্ধ ক্রাচ হেঁটে আসছিল সাঁকো পেরিয়ে ॥ প্রভাত চৌধুরী
২. ভালোবাসা আমার কাছে একটা বৃত্ত এই বৃত্তের ব্যাস আছে ব্যাসার্ধ আছে জ্যাও রয়েছে॥ কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়
৩.   একটি বুদবুদের গঠনতন্ত্রে রয়েছে একটি জলবিন্দুর প্রতিবাদ॥ সমীর রায়চৌধুরী
৪. তৎসম শব্দের মতো ঝরে পড়ছে বৃষ্টি ॥ নাসের হোসেন
৫. মানুষের মন মানে নানারকম আয়নায় তৈরি কোনো কুয়াশা ॥ বাপন চক্রবর্তী
৬. ক্ষীণ গোধূলির মাথা একখানা ফুলস্কেপ কাগজ দিয়েই ঢেকে দেওয়া যায়॥ অনিন্দ্য রায়।
৭. আমাদের সম্পর্কও বহুব্রীহি সমাসের মতো ॥ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ।
৮. আলোকবর্ষ শব্দটা বললেই মেহগিনির ছবি তৈরি হয় ॥ রুদ্র কিংশুক।
৯.  পিছুডাকগুলি কখনো-সখনো পালিয়ে বাঁচতে চায় ॥ মুরারি সিংহ।
১০. হাসপাতালমুখী সব রাস্তাই মিতভাষী হয়॥ রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই ১০ টি মাত্র উদাহরণ দিলাম। মাননীয় পাঠক আপনারা বিচার বিবেচনা করে দেখুন আমাদের নতুন মানচিত্র নির্মাণের নমুনাগুলি। প্রতিটি লাইন ধরে ধরে পড়তে থাকুন। দেখুন এগুলি প্রকৃতই নতুন কিনা।
আগামীকাল এগুলির ব্যাখ্যা দেবো না , কথা দিলাম।ব্যাখ্যা যে যাঁর নিজের মতো করে করবেন। আমি পাঠকের সামনে হাজির করলাম মাত্র।

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৫৬.
গতকাল লিখেছিলাম আজ নতুন এপিসোড -এর কথা লিখব। কী সেই নতুন এপিসোড তা কিন্তু গতকাল জানতাম না। এই দীর্ঘ ৭৭ বছর জীবনে ঠিক কতগুলি নতুন এপিসোড থাকতে পারে বা আছে তা জানার জন্য কোনো যন্ত্র আমাদের হাতের কাছে মজুত নেই।  যন্ত্রটির প্রাপ্তিস্থানও জানি না । যতটুকু জানি ঠিক ততটুকু দিয়েই খেলাটা খেলে যেতে হবে। অর্থাৎ লেখাটা চালিয়ে যেতে হবে।
আমি তখন যেটুকু জানতাম , তার একটা তালিকা করা যেতে পারে।এই তখনটা ঠিক কখন ? যখনকার কথা এখন লিখছি। অর্থাৎ কবিতাপাক্ষিক - এর তৃতীয় বর্ষ পূর্তি উৎসবের সময়। কিংবা কবিতাপাক্ষিক-এর বইপাড়ায় একটা বসার জায়গা পেয়ে যাবার সময়।ক্যালেন্ডারের মাপকাঠিতে 1995- 96 ।
এখন আমার নির্বাচিত ঘটনাগুলি পরপর লিখছি :
১. 19 নভেম্বর 1995-এ সাক্ষাৎকার সিরিজের প্রথম
       কবিতাটি লেখা শুরু করি।
২. কবিতাপাক্ষিক ৬৩ সংখ্যায় প্রথম ২০ টি
      সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় 09 ডিসেম্বর 1995।
৩ . কবিতাপাক্ষিক ৬৯ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিল
      09 মার্চ 1996 ।
       ওই সংখ্যা থেকেই কবিতাপাক্ষিক-এর প্রথম
        মলাটে লেখা শুরু হয়েছিল নতুন শ্লোগান :
        কবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণের জন্য
                            কবিতাপাক্ষিক
 এখন একবার সময় ও দূরত্বের অঙ্ক করা যাক। 1995-এর 19 নভেম্বর থেকে 09 মার্চ 1996 -এর ভিতর কতবার নতুন সকাল হয়েছিল বা কতগুলি তারিখ পার হতে হয়েছিল সেটি নির্ধারণ করতে সমর্থ হলেই নতুন মানচিত্র-র প্রকল্পনাটি বোঝা যাবে।অর্থাৎ এই সময়সীমার মধ্যেই ঘটে গিয়েছিল সেই অলৌকিক ঘটনাটি।
মানচিত্র তো দেশের হয় , বিদেশের হয়। ভৌগোলিক হয় , সামাজিক / রাজনৈতিক হয়। নদীর হয় , পর্বতের হয়। মালভূমির হয় , মরুভূমির হয়।
তার সঙ্গে যোগ করলাম কবিতার মানচিত্র ! কই , কবিতার মানচিত্র-র কথা তো আগে কখনো শোনা যায়নি। না শোনার কারণ হল : কবিতার যে মানচিত্র হতে পারে এই কনসেপ্টটা এর আগে তৈরিই হয়নি।
আমরা , গৌরবার্থে বহুবচন , প্রথম কবিতা প্রসঙ্গে মানচিত্র -কে যুক্ত করলাম। বললাম আগের কবিতায় যেখানে জলাভূমি ছিল , এখনকার কবিতায় ঠিক সেখানেই নগর গড়ে তুলতে হবে।  অর্থাৎ কবিতার  আগাপাছতলা পাল্টে দিতে দিতে হবে। আর এই মহান কাজটি সম্পন্ন করতে হবে আমাদের। হ্যাঁ , আমাদেরই।
এর জন্য আবিষ্কার করতে হবে নতুন নতুন পরিসর।
ঠিক তখন থেকেই আমরা আধুনিকতা থেকে মুক্ত হতে সচেষ্ট হয়েছিলাম।
তার অল্প কিছু নিদর্শন আগামীকাল।

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৫৫.
অন্নপূর্ণা প্রকাশনী-র বিজয় দাস-এর মেয়ের বিয়েতে আমরা শংকরপুর গিয়েছিলাম। এই আমরা অর্থাৎ অজয় দাশগুপ্ত এবং আমি।
যাত্রাপথটি দ্যাখার চেষ্টা করছি। সেই পথটি আলোকিত করে ছিল ভোরে ট্রাম , বড়োঘড়ি  , সাউথ ইস্টান রেলের লোকাল ট্রেন ,কিছুটা বাসরাস্তা , বাকিটুকু  সাইকেলভ্যান ।বেশ মনোরম ছিল সেই যাত্রাপথটি।
বিজয় দাস-এর ভাই অজয় দাশ আমাদের রিসিভ করেছিলেন। আমাদের দেশের বাড়ির যে গ্রাম তার সঙ্গে অনেকটা মিল। শুধুমাত্র সমুদ্র-টিকে সংযোজন করে নিলেই বাঁকুড়া -মেদিনীপুরের ব্যবধান মুছে যাবে। অতএব প্রথমেই সমুদ্রদর্শন ।অজয় দাস সব ঘুরিয়ে দেখিয়ে দিলেন। দেখেছিলাম সমুদ্র-বন্দরের একাংশ , গেস্ট হাউস , আর অফুরন্ত জলরাশি।
একটা সময় অজয় দাস আমাদের এক গল্পকারের হাতে সমর্পণ করে বাড়ি ফিরে গেলেন।
গল্পকার বিধান মাজী , সমীরণ মজুমদার- এর পত্রিকা অমৃতলোক -এ প্রকাশিত হয়েছিল ওর গদ্য। আমার যাবতীয় বায়োডাটা বিধানের জানা ছিল। অর্থাৎ আমার পছন্দ-অপছন্দের সঙ্গে পরিচিত ছিল বিধান।
বিধানের মাছধরার ট্রলার ছিল। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়াটা ছিল ওর যাপনপ্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
আমি ওকে ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি পড়তে বলেছিলাম। বলেছিলাম ওর ডিপ-সি ফিশিং নিয়ে লেখা শুরু করার কথা। আরো বলেছিলাম ওর লেখার ব্যাপারে আমি ওর পাশে থাকব।আর বলেছিলাম আমাকে একটা ট্রিপে নিয়ে যাবার কথা। বিধান রাজিও হয়েছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য সে সুযোগ আমার কাছে আসেনি।
বিধান এক সময় বলেছিল -- কী খাবেন ?
আমি বলেছিলাম তুমি কী খাওয়াতে পারবে ?
--- আপনি যা চাইবেন।
--- চিংড়ি।
বিধান আমাকে একটা হোটেলে নিয়ে গিয়ে ফ্রিজের পাল্লা খুলে বের করে এনেছিল প্রকৃত লবস্টার। বিশাল সাইজের চিংড়ি ।
আমার নির্দেশ মতো নুন এবং গোলমরিচ মাখিয়ে মাখনে ভাজা হয়েছিল । সঙ্গে উপাদেয় পানীয়।
সেই আসর যখন শেষ হয়েছিল তখন সূর্য অস্ত গেছে
[27/06, 8:37 pm] Kobi Prabhat Chowdhury: মাখিয়ে মাখনে ভাজা হয়েছিল । সঙ্গে উপাদেয় পানীয়।
সেই আসর যখন শেষ হয়েছিল তখন সূর্য অস্ত গেছে।বিয়ের আসর বসে গেছে।
রাতে পঙ্ ক্তি ভোজনে বসা হয়নি। আমাদের শোয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল দোতলার বারান্দায় , বেশ ভালো বিছানায়। ওখানেই খাবার পৌঁছে গিয়েছিল।
ডিনার এবং ঘুম শব্দদুটি বেশ সুসম্পর্কে ছিল।

পরদিন অজয় দাশগুপ্ত-র সঙ্গেই ফিরেছিলাম। তবে একটা কথা বলা হয়নি অজয়দা কিন্তু আমার সঙ্গে লবস্টার-প্রযুক্তিতে ছিলেন না। তিনি বিয়েবাড়িতে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।
পরবর্তীকার বিধান মাজী-র সঙ্গে আমার আর যোগাযোগ হয়নি। সমীরণ-কে বলেছিলাম ধরে আনতে।
বিধান এখন কোথায় আছে জানি না। ও কি গভীর সমুদ্রে মাছধরার পটভূমিকায় কোনো উপন্যাস লিখেছিল কিনা জানি না।
তবে সেদিনের  মাত্র কয়েক ঘণ্টার স্মৃতি এখনো আমি ভুলে যাইনি , এজন্য নিজেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।
আগামীকাল অন্য একটি দিন। অর্থাৎ ভিন্ন এপিসোড।

শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


 ৫৪.
অন্নপূর্ণাকথা। শুরুতেই একটা দোমনা-ভাব ! কীভাবে বা কোন সূত্রে। সুতো-র সংখ্যা দুই। সম্ভবনা-র সংখ্যাও দুই।
প্রথম সম্ভাবনা ডাক্তারবাবু বা ভূমেন্দ্র গুহ। দ্বিতীয় সম্ভাবনা অজয় দাশগুপ্ত। সাম্প্রতিক- কবিপত্র - অমৃত - তিনসঙ্গী কোনো সূত্রেই অজয় দাশগুপ্ত-র সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না। কবিতাপাক্ষিক-এর সময় ভূমেন্দ্র গুহ-র মারফত অজয়দার সঙ্গে যোগাযোগ এটা বেশ মনে আছে। কারণ অজয়দা আগে বিমল কর - এর সহযোগী ছিলেন বিভিন্ন কাজকর্মে। আর আমি ছিলাম বিমল কর - এর পাঠক মাত্র। ব্যক্তিগত পরিচয়ও ছিল না।
ভূমেন্দ্র গুহ-র সঙ্গে পৃর্ব পরিচয় ছিল না। শান্তিময় মুখোপাধ্যায় সূত্রে পেয়েছিলাম। সেকথা আগেই লিখেছি।
১৯৯৭-এ কবিতাপাক্ষিক প্রকাশনার বেশ অনেকগুলি বই প্রকাশিত হয়ে গেছে। কলেজ স্ট্রিট বইপাড়ায় কোনো কাউন্টার নেই। দে বুক স্টোর কিংবা অন্য দোকানে অর্ডার থাকলে কালীঘাট থেকে ব্যাগে করে বই নিয়ে আসতে হত। বিপদ হত বাংলাদেশের অর্ডার এলে। নয়াউদ্যোগ- এ বই দেবার জন্য ট্যাক্সি করতে হত। আমাদের এই সমস্যার কথা আমাদের পরিচিত সকলেই জানতেন।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে অজয়দা অথবা ভূমেনদা , দুজনের একজন পরিচিত করিয়ে দিয়েছিলেন বিজয় দাশ -এর সঙ্গে।বিজয় বুক স্টল বিশ্বাস বুক- এর লাগোয়া। রাস্তার বা ফুটপাতের ওপর একটা স্টল বা দোকান। বিজয়দা-কে একটা ঘর দেখে দিতে বলেছিলাম। উনি এককথায় বলেছিলেন --- আমাদের কলেজ রো-তে একটা ঘর আছে। ওই ঘরটা আপনারা ব্যবহার করুন। বিকেলে চাবি নিয়ে ঘর খুলবেন , রাত্রে চাবি ফেরত দিয়ে যাবেন। কোনো ভাড়াটাড়ার কথা মনেও আনবেন না।
ভাবতে পারেন এ রকম বড়ো মনের মানুষ সেই সময় কবিতাপাক্ষিকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই এগিয়ে যাবার কথা ভাবতে পরেছিলাম।
আজ অন্নপূর্ণা-য় ফোন করেছিলাম। বিজয়দার ভাই অজয় দাস বললেন অজয় দাশগুপ্ত সূত্রেই আমি অন্নপূর্ণায় পৌঁছেছিলাম। বিজয়দা দেশের বাড়িতে আছেন।উনি আসার পর সঠিক তথ্য জানা যাবে। তবে সূত্র যা-ই হোক না অন্নপূর্ণা-র কলেজ রো -র ঘরটা প্রতিদিন জমজমাট থাকত। যোগাযোগ আরো সহজ হয়ে গেল। আমরা বইবাজারে প্রবেশ করলাম।

কলেজ রো- তে আমার একটা অতীত ছিল। ' তিনসঙ্গী '- র অতীত। নিজের কায়িক পরিশ্রম দিয়ে বানিয়েছিলাম তিনসঙ্গী। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়-এর প্রকল্পনাটিতে আমি ছিলাম জাস্ট আজ্ঞাবহ।
তিনসঙ্গী-ঠিকানা ছিল ৫৭/সি , কলেজ স্ট্রিট। যদিও যাতায়াত সব কিছুই কলেজ রো দিয়ে। ওখানেই সন্তোষ -এর মিষ্টির দোকান। শুভাপ্রসন্ন-র বাড়ি।
তখন আমি টিফিন করতাম খুব শস্তার একটা দোকানে। ভাজারুটি আর তরকারি।সম্ভবত একটাকায় তিনটি। তরকারি ফ্রি।
ঠিক এই পর্বে বিজয়দার মেয়ের বিয়েতে অজয় দাশগুপ্ত এবং আমি ওদের দেশের
বাড়িতে গিয়েছিলাম।শংকরপুর। সে-গল্প আগামীকাল।

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

প্রভাত চৌধীরী || সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী



৫৩.
২৯ জুন ১৯৯৭ , দুপুর ২টো ।পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাঘর । শুরু হল সেমিনার। বিষয় :
কবিতার নতুন মানচিত্র --- পোস্টমডার্নিজম।
অংশগ্রহণ করেছিলেন : ড. প্রদীপ বসু সমীর রায়চৌধুরী অশোক বিশ্বনাথন সুজিত সরকার
সঞ্চালক :  উৎপলকুমার বসু।
এদিনের আলোচনা ছিল বেশ জোরালো এবং আকর্ষণীয়।

ওইদিনেও ছিল আধ ঘণ্টার বিরতি। বিরতির পর কবিতাপাঠ। অংশগ্রহণ করেছিলেন : রত্নেশ্বর হাজরা প্রমোদ বসু শবরী ঘোষ কামাল হোসেন সুবোধ সরকার প্রদীপচন্দ্র বসু ধীমান চক্রবর্তী মল্লিকা সেনগুপ্ত  সর্বজিৎ সরকার গোপাল আচার্য জয়ন্ত ভৌমিক আবীর সিংহ পঙ্কজ মণ্ডল নমিতা চৌধুরী
তীর্থংকর মৈত্র শ্যামলকান্তি দাশ হিমাদ্রিশেখর দত্ত বিভাবসু অমিত নাথ রামকিশোর ভট্টাচার্য সুশান্ত মুখোপাধ্যায় প্রদীপ রায়গুপ্ত সুধীর দত্ত কাজল চক্রবর্তী প্রফুল্ল পাল অর্ণব সাহা গোপাল দাশ দীপঙ্কর সরকার সমীর চট্টোপাধ্যায় প্রদীপ হালদার বিশ্বজিৎ লায়েক আনন্দ দাস উত্তর বসু অরূপ পান্তি অংশুমান কর অজয় নাগ শম্ভু রক্ষিত নীলাদ্রি ভৌমিক সৈয়দ হাসমত জালাল সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় শান্তিময় মুখোপাধ্যায় চৈতালী চট্টোপাধ্যায় পলাশ বর্মন সমরেন্দ্র দাস অমৃতেন্দু মণ্ডল অশোককুমার দে শুভব্রত দত্তগুপ্ত স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায় প্রদীপ কর দেবব্রত চট্টোপাধ্যায় তাপস দত্ তো জয়ন্ত জয় চট্টোপাধ্যায় অরূপ দত্ত।
এই কবিতাপাঠের আসরের সঞ্চালক ছিলেন মঞ্জুষ দাশগুপ্ত।
সবশেষে সকলকে  ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছিলাম আমি।
দু-দিনের এই উৎসবের মুখ্য দায়িত্বে ছিলেন সৈয়দ কওসর জামাল।
পত্রপত্রিকা এবং বই বিক্রির দায়িত্বে ছিল তরুণ কবি পলাশ বর্মন।

কবিতাপাক্ষিক ১০১ সংখ্যায় এই কবিতা উৎসবের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। লিখেছিল নাসের হোসেন। সেই রিপোর্টাজ থেকেই আমার যাবতীয় হম্বিতম্বি। আমি কখনোই স্মৃতিধর ছিলাম না । ভুলে যাই।
একমাত্র অপমানগুলি ভুলে যাই না। জমিয়ে রেখে দিই। কোনো প্রতিকার কিংবা প্রতিশোধের জন্য নয়। অপমান জমিয়ে জমিয়ে অপমানের একটা সৌধ রেখে যেতে চাই । যাঁরা আমাকে অপমান করেছেন , আমি তাঁদের একটি অপমানও ভুলে যাইনি। সেই অপমানগুলিকে আমি ইঁটে রূপান্তরিত করে নিয়েছি। সেই ইঁটগুলি দিয়েই সৌধটি নির্মাণ করা হবে। সেই নির্মাণের কাজই এখন শুরু করেছি।
 এই কবিতাপাক্ষিক১০১ সংখ্যার ব্যাক কভারে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটি পড়ুন :
                       কাছাকাছি নয়
        বইপাড়ার কেন্দ্রে পৌঁছে গেল
                         কবিতাপাক্ষিক
সোম থেকে শুক্র  □ বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধে ৭ টা
শনিবার □ দুপুর ২টো থেকে সন্ধে ৭টা
       পত্রিকা এবং প্রকাশনা সংক্রান্ত
        যাবতীয় যোগাযোগ কেন্দ্র
প্রযত্নে : অন্নপূর্ণা প্রকাশনী
৩৬ কলেজ রো , কলকাতা ৭০০০০৯
 আমাদের তিনসঙ্গী-র খুব কাছেই। অথচ বহু দূরে।
সেই অন্নপূর্ণাকথা আগামীকাল।


বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫২ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৫২.
২৮ জুন, ১৯৯৭ । সন্ধে ৬ টা। দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান ।
এ প্রজন্মের কবিদের সম্মান প্রদান করা হল। সম্মান পেলেন অমিতেশ মাইতি পিনাকী ঘোষ মল্লিকা সেনগুপ্ত রফিক উল ইসলাম সুব্রত চেল মানসকুমার চিনি যশোধরা রায়চৌধুরী সাম্যব্রত জোয়ারদার সুদীপ বসু সুমিতেশ সরকার। এঁদের হাতে সম্মান- ফলক তুলে দিয়েছিলেন : বিজয়া মুখোপাধ্যায় কবিরুল ইসলাম তারাপদ আচার্য মঞ্জুষ দাশগুপ্ত সৈয়দ খালেদ নৌমান ব্রত চক্রবর্তী সুবোধ সরকার শ্যামলকান্তি দাশ তুষার চৌধুরী সমরেন্দ্র দাস ।
এরপর কবিতাপাক্ষিক সম্মানফলক প্রদান করা হয়
' কৃত্তিবাস ' এবং ' শতভিষা ' , বাংলাভাষার দুটি উল্লেখযোগ্য পত্রিকাকে। কৃত্তিবাস-এর পক্ষ সম্মাননা গ্রহণ করেন বিজয়া মুখোপাধ্যায়।দীপংকর দাশগুপ্ত গ্রহণ করেন শতভিষা-র সম্মানফলক।
পরের পর্ব কবিতাপাঠের আসর।
কবিতা পড়েছিলেন : অমিতেশ মাইতি পিনাকী ঘোষ রফিক উল ইসলাম সুব্রত চেল মানসকুমার চিনি যশোধরা রায়চৌধুরী সুদীপ বসু সুমিতেশ সরকার আলোক সরকার  বিজয়া মুখোপাধ্যায় মৃত্যুঞ্জয় সেন মঞ্জুষ দাশগুপ্ত ব্রত চক্রবর্তী সুজিত সরকার প্রশান্ত গুহমজুমদার সৈয়দ খালেদ নৌমান গৌরীশংকর দে অনন্ত দাশ জহর সেনমজুমদার নিখিলকুমার সরকার  দেবাশিস প্রধান নীলিমা সাহা নয়ন রায় রজতশুভ্র গুপ্ত দিলীপ ঘোষমৌলিক অরুণ চক্রবর্তী ( দিল্লি) সোমক দাস জয়দীপ চক্রবর্তী গৌতম ব্রহ্মর্ষি প্রমুখ সঞ্চালক ছিলেন দীপ সাউ
এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন নাসের হোসেন ।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের পর কয়েকটি খুঁটিনাটি কথা নাসের হোসেন লিখে রেখেছিল। সেই লেখা থেকে :
বাঁকুড়া বর্ধমান মেদিনীপুরের কবিদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল হাজরা- ল্যান্সডাউন ক্রসিং-এর খুব কাছে একটা ভাড়াবাড়িতে। দায়িত্বে ছিল কবি এবং ফটোগ্রাফার অশোককুমার দে। দুর্গাপুর থেকে আগত কবিরা ছিলেন প্রিন্স আনোয়ার স্ট্রিটের একটা গেস্ট হাউসে।
২৮ জুন সকালে মল্লিকঘাটের ফুলবাজার থেকে ফুল কিনতে গিয়েছিল কানাইলাল জানা এবং দেবাশিস প্রধান।
কবিতাপাক্ষিক সম্মানফলকের ডিজাইন করেছিলাম আমি। রূপদান করেছিল চন্দ্রেশ্বর ধর।
কবিতাপাক্ষিক-এর প্রথম সুহৃদ সনাতন দে-র এঁকেছিল মাথাভাঙায় বসবাস করা কবি সন্তোষ সিংহ-র ছেলে দেবার্ণব সিংহ। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি কবিতাপাক্ষিক-এর বইমেলার স্টলের দেওয়ালে এখনো এই প্রতিকৃতিটিই টাঙানো থাকে।
অনুষ্ঠানের ফটো তোলার দায়িত্বে ছিল অশোককুমার দে ।
প্রবীণ কবি অরুণ মিত্র-কে বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল নাসের হোসেন। আর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিল শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
মান্যবর শঙ্খ ঘোষ-কে নিয়ে এসেছিল সুশান্ত মুখোপাধ্যায়।
চা ও জলখাবারের দায়িত্ব ছিল রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় অংশুমান কর নয়ন রায় -এর ওপর ।
গাড়ি দেখাশুনোর দায়িত্বে ছিল শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঞ্চের পিছনে ' কবিতাপাক্ষিক ১০০ ' কথা কটি থার্মোকল কেটে তৈরি করে দিয়েছিল আমার ভাই শিল্পী শিব চৌধুরী। যার তৈরি লোগো কবিতাপাক্ষিক - এর প্রথম সংখ্যা থেকে এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে।
২৯- এর খবর আগামীকাল।

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য ৫১ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৫১.
কবিতাপাক্ষিক-এর ১০০ সংখ্যার ফ্রন্ট কভারে ছাপা হয়েছিল :
মানুষ / যতদিন পর্যন্ত / স্বপ্ন দেখবে / ততদিন / কবিতাও থাকবে
বেশ বড়ো টাইপে। এখন এটাই আমাদের ক্যাচলাইন।তো , এখন বলার কথা কবিতা উৎসবের কথা। ২৮-২৯ জুন ,১৯৯৭ -এর কবিতা উৎসবের কথা।
কবিতাপাক্ষিক ১০০ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত কবিতা উৎসবের কথা।
একটা কবিতা উৎসবকে তিনটি ভিন্ন বাক্যে ভাগ করে বললাম কেন ?
এই কেন -র কোনো উত্তর নেই।কেন-র উত্তর দেবার জন্য কোনো লেখা লিখি না। লেখা থেকে যাতে একশোটা প্রশ্নচিহ্ন উঠে আসে সেকারণেই লিখি। সেই একশোটি প্রশ্নের একশোটি উত্তরও উঠে আসবে নিশ্চিত হবার পর লিখি।
বলে রাখা দায়িত্ব এবং কর্তব্য হল ১০১ তম সংখ্যা থেকে এডিটোরিয়াল টিম পুনর্গঠিত হয়েছিল। প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে এসেছিল নাসের হোসেন।সংযুক্ত সম্পাদক হয়েছিল শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
নাসের হোসেন তার এডিটোরিয়াল-এ লিখেছিল :
মনে রাখতে হবে কবিতাপাক্ষিক-এর মূল আদর্শ দুটি :
১. কবিতার জন্য পরিচ্ছন্ন এবং নিভৃত একটু স্থান
     করে দেওয়া
২. কবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণ।

  এবার পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাঘরে প্রবেশ করা যেতে পারে। বা সরাসরি অনুষ্ঠান-পর্বে আসা যেতে পারে।
২৮ জুন , ১৯৯৭ দুপুর ১ টায় শুরু হল কবিতা উৎসব।সূচনায় উৎসবের আহ্বায়ক সৈয়দ কওসর জামাল প্রারম্ভিক কথা ।এরপর কবিতাপাক্ষিক-এর প্রথম সুহৃদ সনাতন দে-র প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে নাসের হোসেন।
উৎসবের উদ্বোধন করেন কবি অরুণ মিত্র পুষ্পবৃষ্টি করে । সমস্ত কবিতাপ্রেমীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় লালগোলাপ।
কবিতাপাক্ষিক ১০০ তম সংখ্যাটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
সম্মিলিত সূচি গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেছিলেন শঙ্খ ঘোষ , একথা গতকালই জানিয়ে ছিলাম। আবার জানালাম। নজিরবিহীন এই কাজটির কথা বারবার বললেও ফুরিয়ে যাবে না।
প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় ।
সভাপতি : ভূমেন্দ্র গুহ।
উদ্বোধনের পর  অরুণ মিত্র , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় , শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এবং ভূমেন্দ্র গুহ তাঁদের বক্তব্য বলেন। এরপর আমি আমার কথা বলেছিলাম।
এরপর শুরু হল সেমিনার। বিষয় : বাংলাকবিতা চর্চায় সমান্তরাল পত্রপত্রিকার অবদান ।
অংশগ্রহণ করেছিলেন : পবিত্র মুখোপাধ্যায় , প্রমোদ বসু , রবিশংকর বল , অজিতেশ ভট্টাচার্য , দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় , প্রভাত চৌধুরী , সমীরণ মজুমদার এবং সন্দীপ দত্ত। বক্তব্যের পর ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বের সঞ্চালক ছিলেন আলোক সরকার।

বিরতির পর সন্ধে ৬ টায় শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় পর্ব।
সেই পর্বের কথা আগামীকাল।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

প্রভাত চৌধুরী || সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য ৫০ || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৫০.
সম্মিলিত সূচি গ্রন্থটির বিজ্ঞাপনে আমরা লিখেছিলাম
ভারতবর্ষের একমাত্র নিয়মিত পাক্ষিক কবিতা পত্রিকা ' কবিতাপাক্ষিক  ' -এর ১ থেকে ১০০ সংখ্যায় প্রকাশিত সমস্ত কবিতা , আলোচনা ,সাক্ষাৎকার ,সংবাদ প্রমুখের বর্ণানুক্রমিক ক্রমপুঞ্জিত নির্ঘণ্ট।
                            কবিতাপাক্ষিক
                           ( ১ - ১০০ )
                          সম্মিলিত সূচি
সংকলক : অমিতাভ দাস প্রদোষকুমার বাগচী যূথিকা দাস ( দাম )
এই কথাকটি কত সহজেই লিখে দিলাম। কিন্তু এই কাজ করার মতো উদ্যোগ আর কারো মধ্যেই দ্যাখা যায়নি। একমাত্র কবিতাপাক্ষিক-ই এই প্রকল্পনা গ্রহণ করার সাহস দেখিয়েছিল।শুধু সাহস দেখিয়েই থেমে যায়নি। কাজটি করেও দেখিয়েছিল।
কবিতাপাক্ষিক - এর ১০০ সংখ্যাটি প্রকাশ উপলক্ষে
                       কবিতা উৎসব
হয়েছিল ২৮ - ২৯  জুন , ১৯৯৭ ।
পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাঘরে।
এই অনুষ্ঠানেই প্রকাশিত হয়েছিল এই সম্মিলিত সূচি গ্রন্থটি।
আজ বলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই , এই দুঃসাধ্য কাজটির কথা আমি ভাবনাতেই আনতে পারতাম না ,যদি না অসিতাভ দাস -এর মহান মানুষটির সন্ধান না পেতেন। অসিতাভ ছিলেন লাইব্রেরি সায়েন্স -এর মানুষ। চন্দননগর সরকারি কলেজের লাইব্রেরিয়ান। কীভাবে বা কোন সূত্রে অমিতাভ- কে পেয়েছিলাম বলতে পারছি না। তবে এক অলৌকিক যোগাযোগ ছাড়া এই মহামানুষটির সান্নিধ্য আমি পেতাম না।
এখন সংকলকদের কথা শিরোনামে অমিতাভ দাস যা লিখেছিলেন , তার কিছু কিছু অংশ :
  ' নিরবচ্ছিন্নভাবে ভারতবর্ষের একমাত্র পাক্ষিক কবিতা পত্রিকা প্রকাশ  নিঃসন্দেহে দুর্লভ সম্মান।এর সাথে ' কবিতাপাক্ষিক ' পত্রিকা আর একটি দুর্লভ সম্মানের অধিকারী হতে চলেছে পত্রিকার ( ১ --১০০ সংখ্যা ) সম্মিলিত সূচিটি প্রকাশ করে । '
অসিতাভ আরো জানিয়েছিলেন : এর আগে প্রকাশিত হয়েছিল বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ' কবিতা ' পত্রিকার সূচিগত ইতিহাস।কিন্তু যে সম্মানের কথা আমরা উল্লেখ করতে চাই সেটি হচ্ছে কোনো কবিতা পত্রিকার ১০০ তম সংখ্যা প্রকাশের দিনে একই সাথে প্রকাশিত হচ্ছে গ্রন্থাগারে সেই পত্রিকার( ১- ১০০ সংখ্যা ) সম্মিলিত সূচি। এমন দুর্লভ সম্মানের অধিকারী হওয়া ' কবিতাপাক্ষিক ' ব্যতীত আর কোনো পত্রিকার হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।
এই সার্টিফিকেট কিন্তু আমি দিচ্ছি না। দিচ্ছেন অসিতাভ দাস, যিনি এই গ্রন্থটির প্রধান সংকলক।
 লাইব্রেরি সায়েন্সের যাবতীয় নিয়মবিধিকে মান্যতা দিয়ে এই মহান কাজের দ্বিতীয় কোনো নজির আজও চোখে পড়েনি।
কবিতাপাক্ষিক ১০০ তম সংখ্যা প্রকাশের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রবেশ করে গেছি । সেটিকে আরো উজ্জ্বল করার জন্য জানিয়ে দিলাম :
এই সম্মিলিত সূচি গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেছিলেন আমাদের অভিভাবক মান্যবর কবি শঙ্খ ঘোষ। উৎসবের অন্যান্য খবর আগামীকাল ।

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

প্রভাত চৌধুরী || সৌমিত্র রায়- এর জন্য ৪৯ || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৪৯.
গতকাল ছিল ঢাক। আজ বাঁশি বাজাবার কথা। এই বংশীবদনের উদ্দেশ্য হল হাতে পাঁজি মঙ্গলবার।গতকাল গলা উঁচু করে যা বলেছি আজ তার কিছু প্রমাণপত্র দাখিল করব। আর সে কাজের জন্য বাঁশি বা কবিতাপাক্ষিক -এর সূচিপত্র প্রকাশ।
কবিতাপাক্ষিক ১৩ , প্রকাশকাল 13.11.1993 থেকে শুরু হল ' এই পক্ষের কবি ' শিরোনামে কবিদের প্রাধান্য দেবার কাজ।সেই তালিকা :
কপা ১৩. বিদ্যুৎ পরামাণিক মানসকুমার চিনি ।
কপা ১৪. সোমনাথ মুখোপাধ্যায় সুমিতেশ সরকার ।
কপা ১৫. পূণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়
                  জহর সেনমজুমদার।
কপা ১৬ . অনিন্দ্য রায় সব্যসাচী সরকার।
কপা ১৭ . নাসের হোসেন রোশনারা মিশ্র চঞ্চল দুবে।
কপা  ২০. রামপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় রুদ্র পতি মউলি
                  মিশ্র।
কপা ২১. অজিত মিশ্র সুমিতেশ সরকার আবীর সিংহ
কপা ২২. জহর সেনমজুমদার তাপস রায় দেবব্রত
                 চট্টোপাধ্যায়।
কপা ২৩ .  স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় অরূপ আচার্য
                  সব্যসাচী ভৌমিক সঞ্জয় চক্রবর্তী রাজর্ষি
                   চট্টোপাধ্যায় অমলেন্দু ভট্টাচার্য
কপা ২৪ . ভূমেন্দ্র গুহ তপন গঙ্গোপাধ্যায় কল্লোল
                  বন্দ্যোপাধ্যায়।

কবিতাপাক্ষিক -এর দ্বিতীয় বছরের প্রথম সংখ্যা বা কবিতাপাক্ষিক ২৫  থেকে এই পক্ষের কবি শিরোনামটি বদলে গেল। তার বদলে হেডিং হল :
কবিতাগুচ্ছ।

সে-দিনের তারিখ : 14 . 05 . 1994.
কপা ২৫.
আলোক সরকার পবিত্র মুখোপাধ্যায় দেবদাস আচার্য
বিশ্বজিৎ সেন সাম্যব্রত জোয়ারদার শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়।
কপা ২৬
দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নির্মল হালদার সৌমিত বসু শান্তনু কুণ্ডু সৌগত রায়।
কপা ২৭
ফণিভূষণ আচার্য রত্নেশ্বর হাজরা বিজয় মাখাল শৌনক বর্মণ অর্ণব সাহা রোশনারা মিশ্র অমিতকুমার নাথ ।
কপা ২৮
প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত প্রমোদ বসু নাসের হোসেন কানাইলাল জানা রূপক চক্রবর্তী প্রদীপ কর।
কপা ২৯
শান্তিকুমার ঘোষ প্রদীপচন্দ্র বসু শান্তিময় মুখোপাধ্যায় আবীর সিংহ রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
কপা ৩০
শান্তি লাহিরী গোপাল আচার্য জহর সেনমজুমদার অংশুমান কর বুদ্ধদেব বন্দ্যোপাধ্যায় নীলাদ্রি বিশ্বাস।
কপা ৩১
ভূমেন্দ্র গুহ উত্তর বসু খোকন বসু সুমিতেশ সরকার দেবাশিস চাকী ।
কপা ৩২
রফিক উল ইসলাম সুব্রত চেল জয়ন্ত ভৌমিক তাপসকুমার লায়েক ।
কপা ৩৩
বীতশোক ভট্টাচার্য সোমনাথ রায় ব্রজেন্দ্রনাথ ধর প্রসূন ভৌমিক শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় , এই পাঁচ কবির পাঁচটি দীর্ঘকবিতা ছিল
মাত্র ৩৩ সংখ্যা পর্যন্ত কাদের হাইলাইট করা হয়েছিল সেই চিহ্নগুলি দ্যাখালাম।
আরো অনেক বাকি ইতিহাস। ১ থেক ১০০ সংখ্যার সূচিপত্র ছাপা হয়েছিল। সম্মীলিত সূচি দেখে নিতে পারেন।
এই সম্মীলিত সূচি বইটির কথা বলব আগামীকাল।

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

প্রভাত চৌধুরী || সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য ৪৮ || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৪৮.
ঢাকিরা বাজায় ঢাক খালেবিলে।
তিনি বলেছিলেন।আমরা সকলেই কথাটা জানতাম।তাঁর আগে আমরা কেউ বলিনি। একারণে ঢাকের কথা বা বাদ্যি এসে গেলেই তাঁর কথা মনে পড়ে যায়।এটি আদিখ্যেতা নয়। এটিই আমার স্বভাব।
আর ঢাক যখন বাজাব , তখন নিজের ঢাক নিজেই বাজাব। বাজনদার-দের ডাকতে যাব কেন। অর্থাৎ আত্মপ্রচার একটি কৌশল মাত্র।
এখন আরো একটা কথা বলে রাখতে চাইছি। আমরা ঢাক এবং ঢোল -কে মিশিয়ে ঢাকঢোল বলে থাকি।মনে রাখতে হবে ঢাক এবং ঢোল দুটি ভিন্ন তালবাদ্য।
ঢোল-এর কণ্ঠস্বর ততটা তীব্র নয় , ঢাকের ঢক্কানিনাদ  সুদূরপ্রসারী। অতএব গ্রহণ করলাম ঢাক।

এই পর্বে এমন কিছু কথা বলব , যা খুব একটা শ্রুতিমধুর নয়। তবে আমি যা বলব তা আমার বিশ্বাস থেকে বলব। একেই সম্ভবত আত্মবিশ্বাস বলে। আমার পুত্রবৎ এক কবি বলে থাকে আমার ' কনফিডেন্সের কথা।সে খুব একটা ভুল বলে না। আমি যা করি বা এতদিন যা করেছি তা করার জন্য 'আত্মবিশ্বাস ' একটি জরুরি পরিসেবা । আমি অন্তর থেকে যা করতে চেয়েছি , সেই কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কাজ থেকে সরে আসিনি।
এবার আমার কার্যাবলি এবং তার প্রভাব সম্পর্কে গুটিকয় কথা সবিনয়ে নিবেদন করছি।

১. কবিতাপাক্ষিক প্রতি পক্ষে ধারাবাহিকভাব নিয়মিত প্রকাশ হয়ে যাবার পর অনেকেই বুঝতে পেরেছিলেন --- এই কাজটা করা অসম্ভব নয়। এর ঠিক পরেপরেই নয় , পঞ্চাশটা সংখ্যা প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়াগুলি লক্ষ করা গেল ।
ক. বাঁকুড়ার বেলবনী থেকে রাজকল্যাণ চেল - এর সুযোগ্য নেতৃত্বে ' কবিতা দশদিনে ' পত্রিকাটির প্রকাশ শুরু হয়।
খ.  পুরুলিয়া থেকে অংশুমান কর-এর উদ্যোগে 'নাটমন্দির' প্রতিমাসে বের হতে থাকে।
গ. যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অর্ণব সাহা-র পরিচালনায় সাপ্তাহিক কবিতা পত্রিকা প্রকাশ করতে থাকে।
বলার কথা হল এই পত্রিকাগুলির মূল সংগঠকরা সকলেই কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে যুক্ত ছিল। এবং এটাও ঢাক পিটিয়ে বলত--- আমার অনূপ্রেরণা ছিল এই পত্রিকাগুলির ভাবনা- চিন্তায়।  এটাই ছিল চরম- বাস্তব ।
ে পারি --- আমার অনূপ্রেরণা ছিল এই পত্রিকাগুলির ভাবনা- চিন্তায়।  এটাই ছিল চরম- বাস্তব ।

এই বাস্তবতা থেকেই একটি রূপচর্চা -র বাণিজ্যিক পত্রিকা কবিতা প্রকাশ শুরু করেছিল। কবিতাপাক্ষিক-এর একচেটিয়া আধিপত্য-কে খর্ব করার জন্য। ওদের লক্ষ্য কিছুটা পূরণ হয়েছিল নিশ্চয় । অনেকেই দল বেধে রূপচর্চার দিকে ঢলে গিয়েছিল। তাতেও কবিতাপাক্ষিক বন্ধ হয়ে যায়নি। আমাদের লক্ষ্য তখনো পূরণ হয়নি। আজও হয়নি।
আমরা কবিতাকে আপডেট করতে চেয়েছি প্রথম থেকেই। এখনো সেই আপডেট করার কাজ করে চলেছি।

রূপচর্চা-র পত্রিকাতে সবটা হয়ে উঠছিল না। অবশেষে ' কৃত্তিবাস ' - কে পুনরায় জীবিত করতে হল। যে পত্রিকা মৃত ঘোষিত ছিল , হয়ত মৃত নয় , ভেন্টিলেটারে ছিল , তাকে আবার সজীব করা হল।
এসব কর্মকাণ্ড কিন্তু কবিতার পরিসরকে অগ্রসর করেছে। অনেক নতুন নতুন কবি উঠে আসতে লাগল। কবিতার স্বীকৃতি আসতে লাগল। যে প্রতিষ্ঠান কবিতার নির্বাসন চেয়েছিলেন , তারা বুঝতে পেরেছিলেন কবিতাকে নির্বাসনে পাঠাবার কোনো ক্ষমতাই তাঁদের নেই।
কবিতা এমন একটি মাধ্যম যার মৃত্যু নেই। মানুষ যতদিন পর্যন্ত স্বপ্ন দেখবে ততদিন কবিতাও থাকবে।
ঢাকটিকে নামিয়ে রাখলাম। আগামীকাল বাঁশি শোনাবো।

শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

প্রভাত চৌধুরী || সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য ৪৭ || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৪৭.
সন্ধের অনুষ্ঠানের আগে আরো যাঁরা কবিতা পাঠ করেছিলেন সেই নামগুলি জানিয়ে রাখছি।
সমরেন্দ্র রায় শুভব্রত দত্তগুপ্ত নুরুল আমিন বিশ্বা


স মানবেন্দ্রনাথ সাহা ইন্দ্রনীল রায় তিলক সরকার কুমুদ চক্রবর্তী এম. নাজিম আব্বুস শুক্কুর সরকার রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায় মলয় মিশ্র জ্যোৎস্না সেন রাজন গঙ্গোপাধ্যায় লিপিকা ঘোষ সুশান্ত বিশ্বাস আরতি মজুমদার সাদিক সরকার।
উপস্থিত থেকেও কবিতা পড়েননি এমন কয়েকজন :
রকিউদ্দিন ইউসুফ কৃষ্ণেন্দু ঘোষ শুভ চট্টোপাধ্যায় অনুপম ভট্টাচার্য।
আরো কিছু নাম যে বাদ থেকে গেল তার গ্যারান্টি দিলাম না।
এবার সন্ধের অনুষ্ঠানে । অনুষ্ঠানটিকে অর্জুন মিশ্র বা নাসের হোসেন নামকরণ করেছিল :
' অরণি ' -র আবৃত্তি ও ' দীধিতি ' -র ভারতপথিক।
মৃণাল রায় - এর  ' অরণি ' - র অনুষ্ঠানে ছিল কবিতা পাঠের সঙ্গে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার গান 'পাথরে পাথরে নাচে আগুন '।
এরপর দীধিতি-র  নৃত্যগীতের অনুষ্ঠান ' ভারত পথিক '।  যার উদ্দেশ্য ছিল ' প্রাদেশিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি স্থাপন '।
এই অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেছিল কিশোরীরা।নাম : শাঁওলী শুচিস্মিতা বনানী তানিয়া প্রিয়াংকা মামাই মৌমিতা অনন্যা দেবমিতা মৌসুমী সোমদত্তা সুপর্ণা রুচিস্মিতা ইভা সোমা আভেরী শ্রাবন্তী চন্দনা দেবলীনা।
কণ্ঠসংগীত : লাইলী পিয়ালি সুরথ সৌমিত্র সঞ্জীব।
পাঠ : অরিন্দম প্রশান্ত রৃপসা।
যন্ত্রানুষঙ্গে : সৌমেন্দু সুব্রত বাবন গৌতম।
নৃত্য পরিচালনা : ইভা সেন।
সংগীত পরিচালনা :  লাইলী সেনগুপ্ত।
দুটি বাদে সব গান সংগ্রহ  : ঝর্না ব্যানার্জি। নাচের বিশেষ মুদ্রাগুলিও তিনিই নির্বাচন করে দিয়েছিলেন।
রাজস্থান ও পাঞ্জাবের  গানদুটি সংগ্রহ : আশিস উপাধ্যায়।
এইসব কিছুকে মিলিয়ে বা মিশিয়ে আলেখ্যটি সাজিয়েছিলেন সঞ্জীব সেনগুপ্ত।
অনুষ্ঠান শেষ হবার পর মান্যবর শঙ্খ ঘোষ স্ব-ইচ্ছায় মঞ্চে উঠে শিল্পীদের সঙ্গে দ্যাখা করেন।
এটিকে আমাদের বড়ো অর্জন  বলেই আমি মনে করি।
আগামীকাল অন্যদেশ।

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

প্রভাত চৌধুরী || সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য ৪৬ || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৪৬.
গতকাল থেকে আমরা অপেক্ষা করছি কবিতাপাক্ষিক- এর তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে মনীশ ঘটক মঞ্চে। অপেক্ষা করছি কারা কবিতাপাঠ করেছিলেন সেই নামগুলি জানার জন্য। পড়তে থাকুন :
কবিরুল ইসলাম বিমল চক্রবর্তী সৈয়দ খালেদ নৌমান সৈয়দ হাসমত জালাল সন্দীপ বিশ্বাস নিখিলকুমার সরকার তুষার চৌধুরী সোমক দাস অনুরাধা মহাপাত্র রামকিশোর ভট্টাচার্য অলোক বিশ্বাস নাসের হোসেন ধীমান চক্রবর্তী প্রণব পাল  যশোধরা রায়চৌধুরী গীতা কর্মকার নীলিমা সাহা সমীরণ ঘোষ এবাদুল হক তাপস সরখেল রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায় গৌতম ব্রহ্মর্ষি উৎপলকুমার গুপ্ত দীপঙ্কর চক্রবর্তী সুশীল ভৌমিক সুমিতেশ সরকার
নারায়ণ ঘোষ কার্তিক মোদক সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায় সুশান্ত মুখোপাধ্যায় ফিরোজা বেগম নীলাঞ্জন সাহা উমাপদ কর অরূপ দত্ত দেবাশিস চাকী রণজিৎ সরকার লক্ষ্ণণচন্দ্র মল্লিক আবুল কাজি কল্পনা ইসলাম অনিন্দ্য রায় হিমাদ্রিশেখর দত্ত অপরাজিতা বর্ধন নাসিম- এ- আলম শাখী ভট্টাচার্য শ্যামল রায় রাজীব ঘোষ দিব্যেন্দুবিকাশ ঘোষ দেবাশিস সরখেল
প্রমুখ প্রায় ১৫০ জন কবি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন , কবিতা পড়েননি সেই নামগুলি :
শান্তিময় মুখোপাধ্যায় উত্তর বসু অমিতাভ মৈত্র সৈয়দ কওসর জামাল সুব্রত চেল দীপ সাউ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রলয় মুখোপাধ্যায় স্নেহাশিস সৈয়দ প্রণব চট্টোপাধ্যায় ড: দীপংকর মাজী ।
কবিতা না-পড়া তালিকায় ছিলেন :
শঙ্খ ঘোষ আলোক সরকার উৎপলকুমার বসু পবিত্র মুখোপাধ্যায় এবং আমি।
পম্পু মজুমদার উপস্থিত ছিল।অসুস্থ থাকায় তার কবিতা পাঠ পড়ে শোনান অভিজিৎ সরকার।
কবিতা -বিষয়ক বক্তব্য বলেছিলেন উৎপলকুমার বসু শক্তিনাথ ঝা এবং আমি।
রবীন্দ্রগান : সন্তোষকুমার মজুমদার।
সমগ্র অনুষ্ঠানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন সন্দীপ বিশ্বাস।
এছাড়াও সন্ধের পর অন্য অনুষ্ঠানের খবর আগাম
অনুষ্ঠানের খবর আগামীকাল।
কেউ কেউ বলবেন , এই সুদীর্ঘ নামের তালিকা পড়তে যাবো কেন ? এই প্রশ্নটির বিনীত উত্তর হল , এই নামের তালিকাই কবিতাপাক্ষিক আজকের কবিতাপাক্ষিক। এই নামের তালিকাই সেদিনের প্রভাত চৌধুরী -কে আজকের প্রভাত চৌধুরী-তে রূপান্তরিত করেছে।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...