Sunday, June 28, 2020

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৫৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৫৫.
অন্নপূর্ণা প্রকাশনী-র বিজয় দাস-এর মেয়ের বিয়েতে আমরা শংকরপুর গিয়েছিলাম। এই আমরা অর্থাৎ অজয় দাশগুপ্ত এবং আমি।
যাত্রাপথটি দ্যাখার চেষ্টা করছি। সেই পথটি আলোকিত করে ছিল ভোরে ট্রাম , বড়োঘড়ি  , সাউথ ইস্টান রেলের লোকাল ট্রেন ,কিছুটা বাসরাস্তা , বাকিটুকু  সাইকেলভ্যান ।বেশ মনোরম ছিল সেই যাত্রাপথটি।
বিজয় দাস-এর ভাই অজয় দাশ আমাদের রিসিভ করেছিলেন। আমাদের দেশের বাড়ির যে গ্রাম তার সঙ্গে অনেকটা মিল। শুধুমাত্র সমুদ্র-টিকে সংযোজন করে নিলেই বাঁকুড়া -মেদিনীপুরের ব্যবধান মুছে যাবে। অতএব প্রথমেই সমুদ্রদর্শন ।অজয় দাস সব ঘুরিয়ে দেখিয়ে দিলেন। দেখেছিলাম সমুদ্র-বন্দরের একাংশ , গেস্ট হাউস , আর অফুরন্ত জলরাশি।
একটা সময় অজয় দাস আমাদের এক গল্পকারের হাতে সমর্পণ করে বাড়ি ফিরে গেলেন।
গল্পকার বিধান মাজী , সমীরণ মজুমদার- এর পত্রিকা অমৃতলোক -এ প্রকাশিত হয়েছিল ওর গদ্য। আমার যাবতীয় বায়োডাটা বিধানের জানা ছিল। অর্থাৎ আমার পছন্দ-অপছন্দের সঙ্গে পরিচিত ছিল বিধান।
বিধানের মাছধরার ট্রলার ছিল। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়াটা ছিল ওর যাপনপ্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
আমি ওকে ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি পড়তে বলেছিলাম। বলেছিলাম ওর ডিপ-সি ফিশিং নিয়ে লেখা শুরু করার কথা। আরো বলেছিলাম ওর লেখার ব্যাপারে আমি ওর পাশে থাকব।আর বলেছিলাম আমাকে একটা ট্রিপে নিয়ে যাবার কথা। বিধান রাজিও হয়েছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য সে সুযোগ আমার কাছে আসেনি।
বিধান এক সময় বলেছিল -- কী খাবেন ?
আমি বলেছিলাম তুমি কী খাওয়াতে পারবে ?
--- আপনি যা চাইবেন।
--- চিংড়ি।
বিধান আমাকে একটা হোটেলে নিয়ে গিয়ে ফ্রিজের পাল্লা খুলে বের করে এনেছিল প্রকৃত লবস্টার। বিশাল সাইজের চিংড়ি ।
আমার নির্দেশ মতো নুন এবং গোলমরিচ মাখিয়ে মাখনে ভাজা হয়েছিল । সঙ্গে উপাদেয় পানীয়।
সেই আসর যখন শেষ হয়েছিল তখন সূর্য অস্ত গেছে
[27/06, 8:37 pm] Kobi Prabhat Chowdhury: মাখিয়ে মাখনে ভাজা হয়েছিল । সঙ্গে উপাদেয় পানীয়।
সেই আসর যখন শেষ হয়েছিল তখন সূর্য অস্ত গেছে।বিয়ের আসর বসে গেছে।
রাতে পঙ্ ক্তি ভোজনে বসা হয়নি। আমাদের শোয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল দোতলার বারান্দায় , বেশ ভালো বিছানায়। ওখানেই খাবার পৌঁছে গিয়েছিল।
ডিনার এবং ঘুম শব্দদুটি বেশ সুসম্পর্কে ছিল।

পরদিন অজয় দাশগুপ্ত-র সঙ্গেই ফিরেছিলাম। তবে একটা কথা বলা হয়নি অজয়দা কিন্তু আমার সঙ্গে লবস্টার-প্রযুক্তিতে ছিলেন না। তিনি বিয়েবাড়িতে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।
পরবর্তীকার বিধান মাজী-র সঙ্গে আমার আর যোগাযোগ হয়নি। সমীরণ-কে বলেছিলাম ধরে আনতে।
বিধান এখন কোথায় আছে জানি না। ও কি গভীর সমুদ্রে মাছধরার পটভূমিকায় কোনো উপন্যাস লিখেছিল কিনা জানি না।
তবে সেদিনের  মাত্র কয়েক ঘণ্টার স্মৃতি এখনো আমি ভুলে যাইনি , এজন্য নিজেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।
আগামীকাল অন্য একটি দিন। অর্থাৎ ভিন্ন এপিসোড।

No comments:

Post a Comment

আটপৌরে কবিতা ৪৪৬- ৪৫০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা নীলাঞ্জন কুমার ৪৪৬ কুসুমাস্তীর্ণ /কণ্টকাকীর্ণ/  স্বাভাবিক          ) পথ ( চলতে চলতে লক্ষ্যে এগোন । ৪৪৭ মোব...