মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৬৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৬৪.
প্রথমেই জানিয়ে রাখি যশোধরা রায়চৌধুরী-র সঙ্গে বহুদিন জানতে পেরেছিলাম  ওর কাকা কবি মানস রায়চৌধুরী। প্রথম পরিচয়ের কথাটা জানিয়ে রাখি।একদিন জহর সেনমজুদারের এক বন্ধুর বাড়িতে রবিবারের সকালে একটা আড্ডা ছিল। সেই আড্ডায় জয় গোস্বামীও উপস্থিত ছিল। জহর তো ছিলই। জহরই আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়  ও ছিল।
ফেরার সময় জানলাম যশোও আমার সঙ্গে ফিরবে। বাসে। 1  নম্বর বাস। ওখানেই স্ট্যান্ড। যশো লেডিস সিটে , আমি তার লাগোয়া সাধারণ সিটে। জিজ্ঞেস করেছিলাম : কী কর ?
দু-চারটি প্রশ্নের পর জেনেছিলাম এজি বেঙ্গলে কাজ করে। আই এ এ এস।বা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অডিট সার্ভিসের । আমার ন - দাদুও এজিতেই কাজ করতেন। অনেকটা উঁচু পোস্টে। আরো জানতে পারলাম আমার ন- দাদু বাড়ির খুব কাছাকাছিই থাকে।  অতএব আত্মীয়তা গড়ে উঠতে এক মিনিটও সময় লাগেনি। আমাদের কবিতাপাক্ষিক পরিবারের অন্যতম একজন ছিল যশোধরা।
যশোধরা-র কবিতাপাক্ষিক-এ প্রথম প্রকাশিত কবিতা : ' বিশেষ ত্বক সংখ্যা ' ।প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ৪৬ - এ। 25 মার্চ ,1997।
একবার ওই কবিতাটি দেখে নেওয়া যাক।
কবিতাটি ৫ পর্বের + পুনশ্চ। আমি কয়েকটি পঙ্ ক্তি তুলে ধরছি।
১. ত্বক মানে হরীতকী। ত্বক মানে বর্ণগুচ্ছ ,শেডকার্ড
    , মানব সংসার ।
২. ত্বক মানে শিল্প ।আর অনুভূতি ।চূড়ান্ত নিভিয়া

এ যেন টি ট্যুয়েন্টি ম্যাচ। শুরুতেই ছক্কা । হাত খুলে খেলা । বা মন খুলে লেখা। রক্ষণশীলদের দুর্গে চরম আঘাতের জন্য তৈরি হয়েই লিখতে শুরু করেছিল যশোধরা। ন্যাকা ন্যাকা প্রেমের পদ্য বা রংমেলান্তি খেলা থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল সে।
৪৬ সংখ্যার পর ৫২ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতাটির নাম : প্রচ্ছদকাহিনি। এই কবিতাটি দুই পর্বের। পর্ব দুটির নাম : রাতের রূপচর্চা , গ্রীষ্মে কী করে সুন্দরী থাকবেন ।
এযেন 'বিশেষ ত্বক সংখ্যা '-র কন্টিনিউশন।
৫২- র পর আবার ৫৪ -তে। ওই সংখ্যাতেও দুটি কবিতা। এতে করে প্রমাণিত হচ্ছে যশোধরা কবিতাপাক্ষিকে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে। 
1996- এর বইমেলায় কবিতাপাক্ষিক গ্রন্থমালা ৪ র্থ সিরিজে প্রকাশিত হল যশোধরা-র প্রথম কবিতার বই : পণ্যসংহিতা। ওই সিরিজে মোট  ৩১ টি বই প্রকাশিত হয়েছিল । বেশ ভালো বিক্রি হয়েছিল।
পরের বই  : পিশাচিনীকাব্য। প্রকাশিত হল 1998 বইমেলায় । এবার সুপার হিট। মনে আছে এই বইটির প্রচ্ছদ করেছিলাম আমি নিজে।
এই পিশাচিনী কবিতার একটি পড়ে দেখুন , আপনি শিহরিত হবেন :
অথবা মৃত্যুর পরও শান্তে, ধীরে নখ বাড়ে মানুষের , অনন্তসীমায়।
যশোধরা-র একটা সিরিজ ছিল , সিরিজের কবিতাগুলির নামগুলি লক্ষ করুন :
উত্তরা-পূরবী-উজ্জ্বলা , রাধা- পূর্ণ-প্রাচী , মিনার-বিজলী- ছবিঘর ,রূপবাণী-অরুণা- ভারতী।
এই চারটি ছিল সিনেমা রিলিজের চেইন। সেই চেইননাম-কে ব্যবহার করে কবিতা লেখার সাহস দেখিয়েছিল যশোধরা। তখনকার যশোধরা।
আরো একটা উল্লেখযোগ্য কাজ মূলত যশোধরা-র উদ্যোগে আমরা সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছিলাম, সেটি হল  ' শূন্য তাপাঙ্কের নীচে ' , সমকালীন ১৪ জন ফরাসি কবির কবিতার বাংলা অনুবাদ  প্রকাশ করতে। সম্পাদনা করেছিল যশো-র মনের মানুষ তৃণাঞ্জন চক্রবর্তী।
ফরাসি দূতাবাসের একটা অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলাম আমি। অনুষ্ঠানের পর  দূতাবাসের সাংস্কৃতিক প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় ঠিক হয়েছিল আমরা বইটি প্রকাশ করবো। তৃণাঞ্জন যশোধরা সঙ্গে না থাকলে এটা করার কথা ভাবতেও পারতাম না আমি।
ব্যক্তিগত বহু কথা , বহু ঘটনা , বহু অনুষঙ্গ বাকি থেকে গেল। সুযোগ পেলে সেসব অতীতচর্চা করা যাবে।
আগামীকাল মানসকুমার চিনি , অনিন্দ্য রায় এবং সুবীর সরকার-এর মধ্য যেকোনো একজন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একগুচ্ছ হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

একগুচ্ছ হাইকু সুধাংশুরঞ্জন সাহা (এক) আমার আছে নানা রঙের পাখি মায়াবী চোখে । (দুই) দুদিন ছিল একটু মনমরা ঘরে বাইরে । (তিন) আজ আবার মানুষ মেখেছ...