শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || দিমিত্রিস লিয়াকস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
দিমিত্রিস লিয়াকস-এর কবিতা


দিমিত্রিস লিয়াকস(Dimitris Lyacos)-এর রচনা পোয়েনা দামনি ট্রিলজি (Poena Damni trilogy)। ট্রিলোজির তিনটি অংশের নাম ইংরেজিতে যথাক্রমে Z213:Exit( জেড দুই এক তিন), With The People From The Bridge (উইদ দ‍্য পিপল ফ্রম দ‍্য ব্রিজ) The First Death (দ‍্য ফার্স্ট ডেথ)। এখন পর্যন্ত সতেরটি ভাষায় অনূদিত এই ট্রিলজি সাম্প্রতিক ইউরোপীয় কাব্যজগতে বিপুল প্রশংসিত এবং বিক্রীত কবিতা সংকলনগুলির মধ্যে অন্যতম। তিরিশ বছর ধরে হয়ে-ওঠা পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সমন্বিত  নতুন নতুন সংস্করণের ভেতর দিয়ে  এই ট্রিলজির বর্তমান রূপ। এই প্রথাভাঙা টেক্সট দ্বারা অনুপ্রাণিত ও তার থেকে উৎসারিত বিভিন্ন সহ-পরিকল্পনা ও এর ভেতরে গড়ে ওঠা সংলাপও  এই নিরন্তর হয়ে-ওঠাকে  অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।  সাহিত্যিক পরম্পরা,  আচার, ধর্ম, দর্শন ও নৃবিজ্ঞানের উপাদানের  সংমিশ্রন ও সংশ্লেষণের  মধ্যে দিয়ে হয়ে ওঠা এই ট্রিলজি ওয়েস্টার্ন ক‍্যাননের অনেকগুলি চিরস্থায়ী মোটিফের প্রেক্ষিতে  গ্রান্ড ন‍্যারেটিভের (grand narrative) পুনঃপরীক্ষা করতে চেয়েছে।  নোবেল প্রাইজের দাবিদার হিসেবে তাঁর নাম উল্লিখিত হয়েছে। 

প্রথম বইয়ে তিনি  বর্ণনা করেছেন সুরক্ষিত নগর থেকে পালিয়ে যাওয়া এক তরুণের বিচিত্র ভ্রমণকথা। এই ভ্রমণ কখনো স্বপ্নের ভেতর দিয়ে, কখনো শারিরীক। দ্বিতীয় বইতে আছে একজন ভূতগ্রস্ত মানুষ বাঁচিয়ে তুলছে এক মৃত প্রেমিকার আত্মাকে। তৃতীয় বইতে দেখানো হয়েছে জলবেষ্টিত ভূখণ্ডে আটকে পড়া একজন মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই। গদ্য, পদ্য ও নাটকের মিশ্রণে কবি তৈরি করেছেন এমন বাচন যাকে অবশ্যই পোস্টমডার্ন বলতে হয়। ইংরেজি, স্প্যানিশ, ইতালিয়ান ও জার্মান  সহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত  লিয়াকতের কবিতা।  শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমগুলোতেও উপস্থাপিত হয়েছে  তাঁর কবিতা।

প্রস্থান, অংশ ১১ থেকে
 (From Exit 11, Part)

 আমি তোমার কথা ভাবি কিন্তু আগের মতো নয়। ঘুমের ভেতরে আমার চোখ খোলা, একটা হাত আমাকে ধরে। কারো হাতের মধুরতায়। পতনশীল আমি। আমার একই স্বপ্ন আবার, একটি শিশুর শরীর যাকে জড়িয়ে রেখেছে এক নারীর হাত। তার ওপরে ঠোঁট তার ঠোঁটকে রক্তিম করে। আমি উঠে পড়ি। অন্যেরা ঘুমায়। দিনগুলো পাহাড়ে উঠছে, চিরসবুজ সমতল আছে।  শান্ত। একটা আহত ফিসফিসানি কানের খুব কাছে।  আমার সঙ্গে ছিল এমন কিছু যার সাহায্যে আমি জয় করেছিলাম ভয় ।আমি কোন কিছুকেই  গ্রাহ্য করতে পারিনি । একটা ছবি আমার আঙ্গুল কেটে নিল । এবং রক্ত থামানোর ব্যাপারে আমি কিছুই করার কথা ভাবতেই পারিনি।  অপেক্ষা করার কিছুই নেই। দিনের শুরু, আলোহীন ঊষা। মঠ-মন্দিরের ভেতরে খালি পাখিবাসা। নির্জনতা।  তাদের মধ্যে বহমান নদী।  আর সেখানে অগনিত তারা গাইছে। বিবাহ বাসর পূর্ণ , হাতে ধরা হাত। শরীরের নিচে বহমান ঝরনা। তার তীরে তাদেরই এক ঝাঁক পড়ে আছে ,মুখোমুখি । আমি পাগলের মতো তোমাকে খুঁজছি।  একজন মা বুকে ধরেছে তার মেয়েকে,  পোড়া কপাল, আমরা  অনেকদিন খাইনি।  আশাহীন রশ্মি দীপ্যমান। স্বপ্নের ভেতরে এ ওর গায়ে ধাক্কা দিচ্ছে ।

তোমার মুখ আবার ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে,  তোমার মাথাটা একটু ধরতে হবে, এবং তোমার উষ্ণ শরীর।  আর যখন আমাকে চুম্বনের জন্য তুমি একটু নিচু হচ্ছো তখনও তুমি ইতঃস্তত করছো কিছুক্ষণ, যেন তাদের আগমনের শব্দ তুমি শুনতে পেয়েছো। অথবা জলের শব্দে অথবা পর্বের আঙুলের শব্দ ঢোলকের উপর।  আমার পাশে অবেলার ফুল তোমার মুখের উপর,  আর এটা তোমার চুম্বন। আলোর সন্ধ্যা তোমার মনে পড়ে? সেদিন পাথর খুঁড়ে ছিলাম আর পুঁতে ছিলাম ফার গাছের মুকুট...আমরা তখন ছিলাম দুজনে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সবাই মিলে সিনেমা হলে ২১ || সিনেমা ও বিরতি || কান্তিরঞ্জন দে

  সবাই মিলে সিনেমা হলে ( ২১) সিনেমা ও বিরতি  কান্তিরঞ্জন দে        নমস্কার ।  উৎসবকালীন বিরতির পর আবার ফিরে এলাম । আমরা যখন সবাই মিলে সিনেমা...