রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

যেমন দেখেছি || কাশীনাথ সাহা || রম্যরচনা

রম্যরচনা
যেমন দেখেছি 
কাশীনাথ সাহা 


যা দেখছি তা সবটা বলা যাবে না। বলতেও নেই। কি দরকার দাদা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার! ঘাড়ে তো একটাই মাথা। বেশ পুরাতন। পুরাতন জিনিসে একটু জং ধরে। ধরাটাই স্বাভাবিক। আমার মাথাতেও ধরেছে। তবু্ও নিজের মাথা তো তাই সামান্য একটু মায়াদয়া আছে। এই বয়সে ধড় থেকে মাথাটা আলাদা করবার কোন সদিচ্ছা আমার নেই । অসময়ে শহীদ হতেও চাইছি না।  তাই যা দেখছি তার সবকিছু বলতে পারলাম না বলে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিলাম।  যেদিক গুলি নিরাপদ ভাবে বলা যায় সেই দিকগুলিতেই মেরুদণ্ড সোজা রেখে দু'চারটি কথা বলি।
প্রথমেই সাহিত্যের কথা বলি। গ্রামে গঞ্জে এখন কবিদের ছড়াছড়ি। লকডাউনে কবি আর কবিতার সংখ্যা প্রচুর বেড়ে গেছে। সরকার কবিতা লেখার ক্ষেত্রে কোন নিষেধাজ্ঞা এখনো অব্দি জারি করেনি। ফলে গাছে গাছে এখন কবিতা প্রচুর ফলছে। তিন ফসলি দো ফসলি জমির কথাই এতোকাল শুনে এসেছি। এখন দশ ফসলি কবিও দেখছি। প্রতিদিন দশ বারোটা কবিতা কোন কোন কবি নামিয়ে দিচ্ছে। কলমের মুখ দিয়ে গলগল করে কবিতা বের হচ্ছে। কবিতা কেমন হচ্ছে সেটা বিবেচ্য নয়। কবিতা যে অনর্গল বের হচ্ছে সেটাই বিবেচ্য। ওই কবিতা পরিবেশনের জন্য ভাল ক্যাটারার আছে। আর কিছুই না বুঝতে পেরে অসাধারণ, অসামান্য বলবার কিছু উর্বর বোদ্ধা তো আছেই। কবি লিখলেন প্রেমের কবিতা, বোদ্ধা মন্তব্য করলেন, আপনার এই পোতিবাদি কোবিতা পড়ে আমি ভাসা হারিয়ে ফেলেছি। আমি মনতোমুগধো। আগে কোনদিন আমি এমন পোতিবাদী ভকতি মূলক কোবিতা খাওয়া দূরস্থ চেখে দেখবারও সামাননো সুযোগ পাইনি। মম্তব্যের ভাষা আর বানান দেখে কবির আক্কেল গুড়ুম!
কবি যদি মহিলা হয় তো পোয়া বারো। তখন প্রশংসা আর থামতেই চায় না। ওই স্তাবকদের নৈবেদ্যে মহিলা তুষ্ট হয় কিনা জানি না। নিশ্চয়ই কোন কোন কবি হয় নইলে এমন বোদ্ধার দল তো কবেই অবলুপ্ত হয়ে যেত। এরপর আছে চুলকানির পালা। পালা নয়, মহোৎসব!  তুমি আমার কবিতার প্রশংসা করো আমিও তোমাকে দেখবো। আমার কবিতা যেমনই হোক তোমাকে প্রশংসায় প্রশংসায় ভরিয়ে দিতে হবে। নই-লে আড়ি। দাদা দিদিকে দেখেন দিদি দাদাকে। সবার হাতে শিশি ভর্তি তেল। মালিশ, তেল মালিশ। এ খেলা চলছে নিরন্তর। আর এই করতে গিয়ে কবি, কবিতা দুজনেই ডুবে মরছে।প্রায় প্রতি কবির একটা চেনা গন্ডী আছে। সেই গন্ডীতে আছে পোষা বোদ্ধা। তাদের গন্ডীর কবিতা যতো নিকৃষ্ট মানের হোক না কেন। নৈবদ্যের ডালি নিয়ে ফুল বেলপাতা নিয়ে ভক্তকূল প্রতিক্ষায় থাকে।  চরণামৃত না খেয়ে সেই ভক্তকূল উঠবেই না। এখানেও দর্শন আছে। সে দর্শন সকলের বোধগম্য নয়। এ ব্যথা কি যে ব্যথা বোঝে কি আনজনে..  সজনি আমি বুঝি মরেছি মনে মনে।
অবশ্য স্তাবক পরিবৃত না হয়েও ভাল কবিতা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই কবিতায় হৃদয় আছে, আলো আছে, প্রাণ আছে, উত্তাপ আছে, লাবণ্য আছে, গভীরতা আছে।  সেই কবিতার নাম শম্ভুনাথ রক্ষিত। বিনয় মজুমদার। যাঁদের মাথায় রাজনৈতিক ছত্রছায়া নেই। যাঁদের জন্য সুদৃশ্য মঞ্চ নেই। যাঁদের পেটে খিদে বাসি আমানির মতো শুয়ে থাকে। হৃদয়ে অক্ষরের মন্ত্রধ্বণি। চেতনায় আলোর ছটা।
এদের স্তাবককূল নেই। তবুও একদিন  এই কবিতাই আমাদের আলোকিত করবে। আমাদের পথ দেখাবে। আমাদের শুদ্ধ করবে।
হারিয়ে যাবে এই স্তাবক পরিবৃত অক্ষম কবিতার অহংকারী মুখ গুলি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১০/১ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu

  আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১০/১ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu আটপৌরে ১০/১ ১. উঁই ঢিপিদের একাকীত্ব ছাড়...