শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০

পূরবী~ ২২ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী- ২২
অভিজিৎ চৌধুরী


পাতিরামে দুটো চটি কবিতার বই চোখ টানতো,শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা।ভাস্কর চক্রবর্তীর লেখা।আরেকটি অতো যে গভীরতা নেই বোঝা যেত,হস্টেল থেকে লেখা কবিতা।

সব হারাদের মাঝে।তীর্থ ভাবছিল,এই উক্তির মধ্যে কতোখানি সত্যকথন রয়েছে।রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন কিন্তু জাঁক দেরিদার বিনির্মাণ হয়তো অসাড়তা বের করে বলবে,পাঠকের অবিশ্বাস রইল।ধরুন,রবীন্দ্রনাথ কখনও কি বলেছেন, ভারতবর্ষকে জানতে গেলে বিবেকানন্দকে জানতে হবে।এটাও দূর কল্পনা।আমদের মন এরকম বিনির্মাণের জন্ম দেয় পজিটিভ হতে চায় বলে।

 বিবেকানন্দ হিন্দু ধর্মের কথা বলতে গেছিলেন।বলতে গেছিলেন বেদান্তের কথা।সেদিনের নব জাগ্রত আমেরিকা তাঁকে গ্রহণ করে।কোন স্ববিরোধ ছিল না।তা ভুল ঠিক যাই হোক।

বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে তিনি মারা যাবেন।তাঁর সাফল্যের স্মারক সেই মহাদেশ।

তীর্থের মনে হয় ইউরোপে প্রিচ করতে তাঁর একটুও ভাল লাগত না।গান নেই এ থেকে বিষণ্ণতা আসত।ফলে Songs Offerings এর কবির সঙ্গে প্রচুর অমিল।

এই দ্বন্দ্ব তো তীর্থের চেনা।এই টানাপোড়েন স্বাভাবিক।রাশিয়ার জাগরণ দেখে উদ্বেলিত রবীন্দ্রনাথ আর আমেরিকার জাগরণ দেখে উদ্বেলিত বিবেকানন্দ - কোন বিরোধ নেই।আসলে ধনতন্ত্র নয়,সমাজতন্ত্র নয়,সেদিন আমরা ছিলাম পরাধীন।

সময় বদলেছে।স্বাধীনতা এসেছে।এসেছে কালো বাজারি কালো সাহেব।এতো কালো কেন এলো!

জাঁক দেরিদা বলবেন,কালো প্রতীয়মান করে সাদাকে।মুক্তচিন্তা বিনাশ ঘটায় ধনতান্ত্রিক আগ্রাসনের।

এখানেও তীর্থের মনে দ্বন্দ্ব রইল।

অতিমারি বিশ্বজুড়ে।কাতারে কাতারে মরছে মানুষ।আবার জন্মাবেও।কবি আত্মহত্যা করে বলে যাবেন হয়তোবা - শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা!বিষণ্ণতার দাঁড়কাক কলকাতাকে গ্রাস করলে আমরা ভাববো- ওগো পূরবী, ওগো অস্তরাগ এই মিথ্যের বাসরঘরে আর একটু জাগি।

পূরবীর রাগে তো সমর্পণ। এবার তো চলে যাওয়া অচিন দেশে।

মানুষের শরীরে যদি ব্যাঙের রক্ত ঢুকে যায়- এরকমটা রবীন্দ্রনাথ ভাবলে কি কোন আত্মার মৃত্যু হতো! নাকি এরকম স্ববিরোধ কবি অন্তর্লীন রেখেছিলেন ভাবীকালের জন্য।তীর্থের মনে পড়ে সে কোন কিশোরবেলায় পাতিরামে আবার দাঁড়িয়ে রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একগুচ্ছ হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

একগুচ্ছ হাইকু সুধাংশুরঞ্জন সাহা (এক) আমার আছে নানা রঙের পাখি মায়াবী চোখে । (দুই) দুদিন ছিল একটু মনমরা ঘরে বাইরে । (তিন) আজ আবার মানুষ মেখেছ...