Monday, July 13, 2020

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৭০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৭০.
কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় ॥ নির্মলনীড় , পর্বতপুর ,বর্ধমান।
এর পরে একটা ফোন নম্বরও ছিল। ল্যান্ডফোন।
প্রথমে ভারতীয় ডাক বিভাগের সৌজন্যে কল্যাণের কবিতা পৌঁছেছিল কপা দপ্তরে। দপ্তর তখন : ৩৬ডি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০ ০২৬ ।
সেই কবিতাটিকে দ্যাখার জন্য কপা ৪০ সংখ্যাটি বের করলাম। কবিতাটির নাম : সকাল ।ওই কবিতাটি নির্বাচনের অন্যতম একটি কারণ , ওই কবিতাটিতে
' পাখিদের সাথে উড়তে উড়তে দেখে আসি ত্রিভুবন ' ।
কল্যাণের এই লাইনটি থেকে আমি অবগত হয়েছিলাম ওর একটা আকাশ আছে , যে আকাশটি ওর নিজস্ব। আর আছে সেই আকাশে ওড়ার বাসনা। আবার বাসনাটা খুব সীমিত নয় ,  ত্রিভুবন পর্যন্ত কল্যাণ উড়ে  আসতে চায়। কারণ ওর ত্রিভুবন দ্যাখারও একটা বাসনা আছে।
৫৪ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতাটির নাম ' প্রেম '। মাত্র চার লাইনের কবিতা :
সেইদিন এক পাখিকে চুমু খেতে গিয়ে দেখি
পালকে পালকে মেঘ , জড়ো হয়ে আছে।
যখনই ঠেকিয়েছি ঠোঁট ডানার ওপর
একরাশ বৃষ্টি এসে ভেজালো সমূহ শরীর।
প্রকৃতই প্রেমের কবিতা। বলে রাখা ভালো কল্যাণ এখনো ভালো প্রেমের কবিতা লিখতে পারে।আর তার প্রেমের কবিতাবই -এর একটা বাজারও আছে।অর্থাৎ বই বিক্রিও হয়।
৮১ সংখ্যায় ছিল তিনটি কবিতা। ফিরে দেখা ॥ মুকুটমণিপুরকে ॥ ও জলে পড়ে আছে ।
আর কপা ৯৪ - এ ছিল কল্যাণের ছ-টি কবিতা। সবগুলিই গদ্যের ফরম্যাটে। আমাদের ভাষায় রান অন।বা টানা গদ্যে লেখা।
এখন মাননীয় পাঠক আপনিই বিচার করে দেখুন কল্যাণের গদ্যরীতির প্যাটার্ন।
' কারণ আমার কোনো আবহাওয়া অফিস নেই। তবু বলতে বাধ্য হচ্ছি আমার সাম্প্রতিক মেঘেরা শুকিয়ে শুকিয়ে গ্রামোফোন হয়ে গ্যাছে আর সেইসব রেকর্ড জুড়ে বেজে ওঠে মিস্ গহরজান , আঙুরবালা  , সায়গল। '
[12/07, 1:00 pm] Kobi Prabhat Chowdhury: ৭০ ॥ শেষাংশ

এই কল্যাণের সঙ্গে আগের কল্যাণের একটা প্রভেদ দেখতে পাচ্ছেন কি ? পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কল্যাণ আগের থেকে অনেক সরাসরি কথা বলতে চাইছে। আরো একটা বিষয় ,  মেঘেরা শুকিয়ে গ্রামোফোন রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে। এই রেকর্ড হবার কারণ পুরোনো দিনের গান শোনা।
এই সংখ্যার আরো একটি কবিতা :
আসলে ফাইলটি তুমি ক্রিয়েট করেছিলে ২১৷৭৷৯০-এর ৭ :৫০ : ৩৩ পি. এম-এ লগিং টাচ এন-তে।
বোঝা যাচ্ছে তখন কম্পিউটর এসে গেছে। তার ভাষা কবিতার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।
আবার প্রেমের কবিতার ক্ষেত্রেও অন্য ডিকশন :
' দিন দিন তুমি কাচ হয়ে উঠবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি কোনোদিন। ' এই বাক্যটি দিয়ে শুরু হচ্ছে যে কবিতাটি , সেটি শেষ হচ্ছে ' সব সূর্য বরফ হয়ে গেছে আজ। '

কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়দের পর্বতপুরের ' নির্মলনীড় ' বাড়িটির সামনে একটা প্রাচীন নিমগাছ আছে। ওই গাছটি এখনো আমাকে জাগিয়ে রাখে। কল্যাণের কবিতার সঙ্গে এর কী সম্পর্ক তা আমার জানা নেই। আমি মনে ওই নিমগাছটিই কল্যাণের সঙ্গে আমাকে যুক্ত রেখেছে।
কল্যাণের কবিতার বইগুলির নাম :
রাত্রির নিজস্ব কথা ॥ তৃণার জন্য লেখা ॥ সহকর্মী ॥
লেডিস-কামরার জানলা ॥  সূর্যাস্তের কবিতা।
আমি সূর্যাস্তের কবিতা থেকে কয়েক পঙ্ ক্তি তুলে দিচ্ছি :
অর্জুনগাছের নীচে আমাদের যে সংলাপ হয়েছিল তা আজ সূর্যাস্তে মিশে যাচ্ছে ।[১]
সারাদিন মনের ভেতর পালক ঝরে পড়ে।[৩]
প্রেমকে প্রতিষ্ঠান বলে মনে হয়।[৬]
আমাদের না বলা কথারা আটকে আছে চাঁদের ভেতর ।[৮]
আমাদের অসম্পূর্ণ সম্পর্ক কখন ঢুকে গ্যাছে সার্কাসের তাঁবুর ভেতর।
আশা করি কল্যাণ -কে অনেকটাই চেনাতে সক্ষম হলাম , বাকিটুকু চেনার জন্য চিনতে হবে ওর সহকর্মীদের। আর তার জন্য পড়তে হবে কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় বিরচিত ' সহকর্মী ' নামক কবিতার বইটি, যেটার জন্য কল্যাণ বাংলাকবিতার ইতিহাসে নিজের নাম সুপারিশ করতে পারে। আমি সেই সুপারিশটি ফরোয়ার্ড করলাম মাত্র।

4 comments:

  1. কল্যাণের যথাযত মূল্যায়ন । ধন্যবাদ সকলকে ।

    ReplyDelete
  2. কল্যাণের যথাযত মূল্যায়ন । ধন্যবাদ সকলকে ।

    ReplyDelete
  3. কল্যাণ কবিতা পাক্ষিকের এক উজ্জ্বল নাম ❤❤❤❤

    ReplyDelete
  4. দারুণ লাগলো। আপনার মুখে শুনে কবি কল্যান চট্টোপাধ্যায়কে বিষদ জানার ইচ্ছা হলো। আশাকরি তা পূর্ণ হবে।

    ReplyDelete

ভালো আছো প্রিয় জল ? || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

ভালো আছো প্রিয় জল ?   ||    জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় লেলিহ শিখার মতো ঘিরেছে অন্ধকার আত্মীয় হাত অচেনা দস্তানায় ঢাকা কালো রক্তের বিষ মিশে যা...