Friday, July 24, 2020

পূরবী~ ২০ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী- ২০
অভিজিৎ চৌধুরী


 তীর্থ প্রায় শুনত এক সময় এক বৈশাখে দেখা হল দুজনার।গানটা প্রথম শোনা যখন মেজ মামার বিয়ের ম্যারাপ বাঁধা হচ্ছে তখন।সানাই বসল।প্যান্ডেল হল।হালুইকর এলো।বিয়েবাড়ি গমগম করে উঠল।অথচ ভালোবাসা না বোঝা বয়সে বেশ লাগত গানটা।

 রবিবাবুর গানে আছে,সখী ভাবনা কাহারে বলে। তবে সেই গানও বুঝতে বুঝতে ভালোবাসা ফুরুৎ করে উড়ে গেল দূর নীলিমায়।

 রবীন্দ্রনাথ বললেন প্রতিমা দেবীকে,গান্ধীজীর শুনেছি কতোজন সেবিকা।আর আমি সকলের সেবক হয়ে রইলুম।আমার সেবিকারা সব পরী হয়ে দূরান্তে চলে গেল।

 সময় ফুরিয়ে এলে জীবনটাকে অণুগল্প মনে হয়।এই দিন দুপুর বিকেল আর রাত- সব কি সত্যি তার জীবনে!

 প্রতিমা খিলখিল করে হেসে উঠলেন।বললেন,বাবামশাই - গান গাইবেন!

 কবে থেকে এরকমটা শুনলে মন নেচে ওঠে এখনও।নতুন বউঠাান বলতেন,রবি তুমি বড্ডো হ্যাংলা।বড় গায়কের কতো গুমোর।তাকে অনেক সাধাসাধি করতে হয়।

 রবি বলতেন,আমি তো পারিনা।গান গাইব না,এও আবার হয়!

 রবীন্দ্রনাথ গাইতে লাগলেন,রইল না সেই যে আমার নানা রং এর দিনগুলি।গলা ভেঙে যাচ্ছে বারবার।চোখ দুটো ভেসে যাচ্ছে জলে।

 প্রতিমা বললেন,আমি বললেম গাইতে।

 এই বেলাশেষে রথী এলেন তখন।বললেন,ইউনানি চিকিৎসায় আপনি ভালো নেই।অযথা মন খারাপ করছেন।

 হাসলেন রথী।গভীর শ্রদ্ধা করেন তিনি।পিতৃদেব হয়েও তিনি যেন অনেকটাই আলাদা।সংকোচ,অভিমান হয় আবার মনে হয়- নিরাকার ব্রহ্ম বুঝি এরকমই।

 একটা চেক সই করালেন।

 কেন,কি বিষয়--- কখনও জানেন নি।এই আশ্চর্য মানুষ প্রায় বলেন,আমি প্রকৃতির সন্তান।আর সব পরিচয় মিথ্যে।

No comments:

Post a Comment

ভালো আছো প্রিয় জল ? || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

ভালো আছো প্রিয় জল ?   ||    জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় লেলিহ শিখার মতো ঘিরেছে অন্ধকার আত্মীয় হাত অচেনা দস্তানায় ঢাকা কালো রক্তের বিষ মিশে যা...