বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

গোপন মিনার: বর্ষার ভাবনা || রুদ্র কিংশুক || ধারাবাহিক বিভাগ

গোপন মিনার: বর্ষার ভাবনা 
রুদ্র কিংশুক

পর্ব ৩

ছোটবেলায় আমরা থাকতাম একটা মাটির বাড়িতে। মোট তিনটে ঘর। টালির  চাল। চালগুলো খুব পুরনো হয়ে এসেছিল।  তাই এখান সেখান দিয়ে চাল ভেদ করে বৃষ্টির জল পড়ত। আমার কাজ ছিল সেই সমস্ত জায়গায় বাটি, গামলা বা অন্যান্য পাত্র পেতে দেওয়া, যাতে ঘরের মেঝে না ভিজে যায়, বিছানাপত্র শুকনো থাকে। এই কাজটা ছিল আমার কাছে খুব  আনন্দের ব্যাপার। একেকটা পাত্রে একেক রকম শব্দে বৃষ্টিফোঁটা  পড়তো। পাত্রগুলো জলে ভরে গেলে জলভরা পাত্রের ভেতরে বদলে যেত বৃষ্টিপতনের গান। মাঝে মাঝে বৃষ্টিফোঁটায় হাত ছড়িয়ে দিতাম।  হাতের ওপর বৃষ্টি পড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তো মেঝের ওপর। খুব আনন্দ হতো। আসলে আনন্দ প্রতিমুহূর্তে পথ খোঁজে কীভাবে সে আমাদের শরীরের ভেতরে ঢুকবে। তারও তো একটা বন্ধু চাই। আমি ছিলাম বৃষ্টির উচ্ছল বাতাসের সেই ছোট্ট বন্ধু। ও, আমার অল্পে-খুশি মন, কত দূরে তুমি চলে গেছো।
[21/07, 5:34 pm] Kobi Rudra Kingshuk: মাঝে মাঝে বাড়ির জানালায় বসে থাকতাম ঘন্টার পর ঘন্টা। দেখতাম আশেপাশের বাড়ির উঠানের বৃষ্টির সম্মিলিত জলধারা কীভাবে পথঘাট ভাসিয়ে মাঠে গিয়ে পড়ছে।  অথবা কোন পুকুরে নামছে  আর তার চারপাশে লাফালাফি করছে বৃষ্টির আনন্দ-মশগুল মাছেরা।

 রাতের বেলা ঘন অন্ধকার।  চারদিকে বাঁশবন আর সবুজ গাছপালা ঢাকা গ্রামটা অন্ধকারের পেটের ভেতর সেঁদিয়ে যেত। একদিন একটা তীব্র হ্যাজাকের আলোয় মায়রাপুকুরের  পাড় আলোকিত হয়ে উঠল। একটা লোক এগিয়ে আসছে ধীরে ধীরে।তার পিঠে বস্তা, হাতে একটা লম্বা লাঠি। লাঠির মাথায় একটা জাল। দেখে মনে হল কোন সুদূর পৃথিবীর মানুষ। কোন রাক্ষস-খোক্শ-একানরে।  ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতাম। আবার চোখধাঁধানো আলোয় অই অদ্ভূত দৈত্য-দানোকে দেখার ইচ্ছে। মাঝেমাঝে জানালায় উঁকি দিচ্ছি। বাবা বলল:
ভয় কীসে! ওতো আমাদের সুরেন। রামেশ্বরপুর থাকে। তোদের সুরেনকাকা।  ব্যাঙ ধরতে এসেছে। ব‍্যাঙ ধরে কলকাতা চালান করে।
 আমাদের সুরেনকাকা কীর্তনের দলে দোহার। বাঁশি বাজাতে পারে। আড়বাঁশি মুখে সু্রেনকাকা শ্যামসুন্দর।   কলকাতার খিদে আজ আমাদের বাঁশিবাদক সুরেনকাকাকে কংস সাজিয়েছ।

কত যুগ পর এই বর্ষার অন্ধকার রাতে সুরেনকাকাকে মনে এলো। বর্ষার এলোমেলো বাতাসে কার পায়ের ঘুঙুর নীরবে কাঁদে। বড়ো মায়া চারিদিকে, প্রিয়!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একগুচ্ছ হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

একগুচ্ছ হাইকু সুধাংশুরঞ্জন সাহা (এক) আমার আছে নানা রঙের পাখি মায়াবী চোখে । (দুই) দুদিন ছিল একটু মনমরা ঘরে বাইরে । (তিন) আজ আবার মানুষ মেখেছ...