শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ৬৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৬৮.
আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত করছি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মোট তিনজন পরিচিত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় আছে আমার। তাছাড়া আরো একজন আছেন যিনি আমার পরিচিত নন ।
আমি যে শান্তনু-র কথা লিখতে চলেছি সে-শান্তনু এক পর্বে কবিতাপাক্ষিক-এর প্রধান সম্পাদক ছিল। একাধারে কবি এবং অভিযাত্রী।
শান্তনু-র সঙ্গে প্রথম পরিচয় জহর সেনমজুমদার সূত্রে। জহরের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ আছি শান্তনুকে নিয়ে আসার জন্য। আজকের কবিতাপাক্ষিকের যে রমরমা তার জন্য শান্তনুর অবদান কারো থেকেই কম নয়। আরো একটা মহত্ব ওর আছে ও আমার ভুল-কে সঠিক চিহ্নিত করতে সক্ষম। আর কেউই এভাবে করে না। মনে করে আমার বিরোধিতা করলে আমি যদি অসন্তুষ্ট হই , এজন্য নীরবতা পালন করে। শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় যখন  প্রায় ছাত্র তখনও নিজের মতামত বা নিজস্ব মতামত জানাতে কুণ্ঠাবোধ করত না।
এবার শান্তনু-র কবিতায় প্রবেশ করছি।
শান্তনু-র আত্মপ্রকাশ কবিতাপাক্ষিক ২৫  - এ। ওই সংখ্যায় শান্তনু-র জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ২ পৃষ্ঠা।
১৬ পৃষ্ঠার মধ্যে ২ পৃষ্ঠা। ওই সংখ্যাতেই  সাম্যব্রত জোয়াদার-এর ' মৃত্যুর সঙ্গে কয়েক লাইন ' সিরিজের মোট ৭ টি কবিতা ছাপা হয়েছিল।আর শান্তনু-র ছিল ৩ টি কবিতা। আমি শুরুর কবিতা থেকে দু-একটা চিহ্ন তুলে দিচ্ছি :
ধুলো থেকে হৃৎপিণ্ড কুড়িয়ে / আমার বাড়ির চাতালে রেখে যায়/ এক বাতাস খুঁটে খাওয়া প্রাণী।(পার্থিব )
বাঁশের খোলা থেকে ঢেলে অন্ধকারের গোলা বানাচ্ছে / ডানাপোড়া এক বৃদ্ধ।( ব্যত্যয় )
এই দুটি কবিতায় দুটি চরিত্রের সন্ধান পেলাম :
১॥ বাতাস খুঁটে খাওয়া প্রাণী
২॥ ডানাপোড়া এক বৃদ্ধ
মাননীয় পাঠক , বাংলাকবিতার প্রাজ্ঞ পাঠক আপনি লক্ষ করুন , এক নবীন কবি তার আবির্ভাবেই আবিষ্কার করতে সক্ষম হল, একজন প্রাণী ,যার খাদ্য বাতাস। আরো দেখতে পেল একজন বৃদ্ধ-কে যাঁর ডানাটা পুড়ে গেছে।

ঠিক এর কিছুদিনের মধ্যেই বা কপা ৩৩ -এ শান্তনুর দীর্ঘকবিতা :মহাকালকথা।
এই কবিতায় ব্যবহার করেছিল অনেকগুলি চোখ।একটি চোখে সে লাগিয়ে নিয়েছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানীর দৃষ্টশক্তি , অপর চোখটি ছিল পুরাতাত্ত্বিকের ,  তৃতীয় চোখটি সাংবাদিকের, আর চতুর্থ চোখে লাগানো ছিল স্বপ্নের কাজল।
ফলত রচিত হল এক মহান কবিতা । দীর্ঘকবিতা থেকে এক-দু লাইন তুলে দেবার ক্ষমতা আমার নেই। ওই একই সংখ্যায় প্রসূন ভৌমিক-এর ' একটি আগ্নেয়গিরির তথ্যচিত্র দীর্ঘকবিতাটিও ছাপা হয়েছিল।
কপা ৪২- ৪৩ , বইমেলার সময় বলে যুগ্মসংখ্যা ,-তে প্রকাশিত হল আরো একটি দীর্ঘকবিতা :উন্মাদচক্র।
এই কবিতাটিতে আন্তঃচক্র এবং বহির্চক্র নামক দুটি চক্র আছে । সঙ্গে একটি উপসংহার । যে উপসংহারে শান্তনু লিখেছিল : ' এইসব ইতিহাস ও সমকালের মধ্য , ছবির মধ্যে এক নতুন বাঁশিওয়ালা আসে '। এই ফাঁকে জানিয়ে রাখি কবি শান্তনু নিজেই এক বাঁশিবাদক। তালিম নেওয়া। গুরুজিও আছেন।
এইরকম চলতে চলতে শান্তনু-র বিয়ে হল। আমরা দল বেঁধে ভোজ খেয়ে এলাম। বিয়ের পর হনিমুন। সেখানেও চললুম কবিতাপাক্ষিক টিম। সেই টিমে ছিলাম : শান্তনু-রশ্মি , যূথিকা- আমি , আর নাসের হোসেন এবং সুব্রত চেল।
ঠিক হল যাওয়া হবে মাইথন। থাকা হবে মজুমদার নিবাসে ।অর্থাৎ ডিভিসি গেস্টহাউজে। বলে রাখা উচিত , এই গেস্টহাউজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন কবি প্রদীপচন্দ্র বসু  । প্রদীপ তখন ডিভিসি-র পিআরও।
 আমরা , যারা কবিতা লিখি , তারা মাইথনে মজুমদার নিবাসে থাকছি আর কবিতা লেখা হবে না , এটা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। আমিও লিখেছিলাম।সেকথা পরে।আগে শান্তনু কী লিখেছিল তা পড়ার জন্য আপনাকে কপা ৮৬ সংখ্যাটি খুলতে হবে। ওই সংখ্যাতেই অংশুমান কর-এর ৮ টি নবীন শিলালিপি প্রকাশিত হয়েছিল। ওসব পরে আসছে।এখন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মাইথনে লেখা চারটি কবিতা থেকে চারটি চিহ্ন তুলে দিচ্ছি :
১ ॥ আর সাবধানে ডিঙিয়ে এলাম স্বপ্নের চৌকাঠ ৷
২ ॥  আমি / পাথরের ওপর আরো নির্জন এক পাথর
        হয়ে ঘুমিয়ে/  পড়ি ।
৩ ॥  ভিজে ঘাসের উপর দিয়ে লাফিয়ে নামছে /
        একটা সুর।
৪ ॥  যতদূরেই যাই ফিরে আসতেই হয় , চ্যাটালো
        পাথর , পাকদণ্ডী অথবা নিভু ব্রিজ পার হয়ে;
এই চিহ্ন চারটিকে  ব্যাখ্যা সহকারে পেশ করার বাসনা আমার নেই। পাঠকের ব্যাখ্যা পাঠক করে নেবেন।আমি অকারণে হরষে যাবো কেন !
আর একটি বিকেলের কথা।
09. 08. 1998 □ বিকেল ৫ টা থেকে ৫টা ৫৩ , এই সময়সীমায় আমি চারটি কবিতা কবিতা লিখেছিলাম।
মাতৃভবনে লেখা কবিতা
যার আগমনে মাতৃভবনে যাওয়া সেই ঋক-কে।
এই কবিতাগুলির সঙ্গে রশ্মি , শান্তনু এবং ওদের পুত্র ঋক-এর যোগসূত্র কখনোই ছিন্ন হবার নয়।
আর কলকাতা এবং বহরমপুর বইমেলায় কবিতা পাক্ষিক স্টলের ক্যাপটেনের নাম যে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ছিল , এটা লিখলাম অকারণে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১৪/৫ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu

  আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১৪/৫ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu আটপৌরে  ১৪/৫ ১. লোডশেডিং হবে অজানিত পতিত...