Wednesday, August 26, 2020

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১১৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১১৪.
' ঠিক এসময় অলিখিতভাবেই এর ভার গ্রহণ করেছেন কবিতাপাক্ষিক । না , তার পত্রিকা বলেই তার গুণগান নয়। এ যেন শুক্ল আর কৃষ্ণপক্ষের মতোই সত্যি। একদম নিয়মিত বললে মিথ্যে বলা হবে , মাঝে মধ্যেই ' বুকস ' থেকে টেনে আনি। রাখি নিজের সংগ্রহশালায়। কবিতায় নিমগ্ন কবিতাপাক্ষিককে।পড়ি। ভালোবাসি। নিন্দুকেরা অনেক কিছু বলেন। না, যাদের ' নেই কাজ তো খই ভাজ ' তাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। কষ্ট হয়। প্রশ্ন আসে। হাজারো। ওরা কেন কবিতাকে কাছে টানলে এমন করে তবে ভয় পাওয়া তো দূরের কথা , পাত্তাই দিই না। চলি নিজের মতো । কবিতার সাথে। কারণ আমি যে অঙ্গীকারবদ্ধ তারই কাছে , নিভৃতে, একান্তে। '
কবিতাপাক্ষিক সম্পর্কিত এই সার্টিফিকেটটি আমার নয়। এটি রিমি দে-র লেখা। প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ২৫০ -এ। ওই সংখ্যাটির শিরোনাম ছিল ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক '।
রিমি দে শিলিগুড়ি থেকে উঠে আসা বাংলাভাষার কবি।
রিমি দে আমাদের একান্ত আপনজন। ও যখনই কলকাতায় আসত , আগে থেকে খবর দিয়ে আসত। উঠত কিছুটা ভালো হোটেলে। মনে আছে আমার তরুণ বন্ধু সুমিতেশ সরকারের সঙ্গে ওর সঙ্গে আড্ডা দিতে গেছি। পরের দিকে একাও গেছি।
আমি ওকে যতটা চিনেছি , ও কবিতা ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না। শিলিগুড়িতে যখন ওদের নতুন বাড়ি হল , তখন সে বাড়িও দেখে এসেছি।
রিমি খুব রুচিশীল একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতে শুরু করে কিছুদিন পরে। পদ্য । পত্রিকাটির নাম। পদ্য এখনো একই রকম পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে প্রকাশিত হয়ে চলেছে। এবং কবিতাপাঠকের সমর্থন আদায় করে নিয়েছে।
২০০৪ - এর ২৪ -২৫ জুলাই সমবায়ীপ্রথায় ১৭ জন কবি ১০০টি  কবিতা লিখেছিলেন, যার নাম ' মাদলে লেখা কবিতা '। এই ১৭ জনের একজন রিমি দে।
কবিতাপাক্ষিক ২৫৮- এর ' মাঝের পাতা ' কবি ছিল
রিমি দে। ওই পাতাটির অলংকরণ করেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী অমিতাভ সেনগুপ্ত।
কবিতাটির নাম : ছায়ান্তর। ৬ পর্বের কবিতা। পঙ্ ক্তি বিন্যাস -রান অন। বা টানা গদ্যে লেখা। পড়া যাক কিছু কিছু :
১॥ তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো এক অপরিচ্ছন্ন ভোর এসে ছুঁয়ে গেল দুর্বলতর রেলস্টেশন ,
২॥ বিকৃতির একটা বিয়োগান্তক রূপ আছে , ঠিক যেমন ২+ ২ = ৪ , আলো যুক্ত হচ্ছে , বাতাস যুক্ত হচ্ছে , টেরাকোটায় সমৃদ্ধ শিল্প।
৩॥ স্তরে স্তরে বিন্যস্ত হতে হতে অসুখেরা এগিয়ে যাচ্ছে শুকনো ডালপালার দিকে ...
৪॥ একটা নীলাভ অঞ্চল তেড়ে আসছে।বুকে বর্ষার বলিরেখা । শিরা ঊপশিরায় গজিয়েছে আঞ্চলিক গান।
৫॥ বিষণ্ণ বৃষ্টিপতনের শব্দে মাছেরা জেগে উঠে ডিঙিতেই ছুটে আসে।
৬॥ ঘনীভবনে যে যন্ত্রপাতিগুলো কাজ করজে তির অন্তহীন ক্রিয়াকলাপের শত্রুরা আজ এই মুহূর্তে ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে।

' কবিতায় মগ্নতা ' একটি অন্যতম প্রধান নির্ণেয়ক , এ কথাটা আমি বলতেই পারি। গলা উঁচু করে বলতে পারি। আরো সহজ -সুন্দর করে বলতে পারি রিমি দে-র কবিতায় যে মগ্নতা দ্যাখা যায় , তাও খুব দুর্লভ , একথাটাও গলা উঁচু করেই বলতে পারি।

No comments:

Post a Comment

সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) || কান্তিরঞ্জন দে || কিভাবে সিনেমা " দেখব ?"

  সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) কিভাবে সিনেমা "  দেখব ?"        সত্যি সত্যি যদি সিনেমার রূপ রস দৃশ্যসুখ উপভোগ করতে চান, তাহলে আগ্রহের ...