রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০

সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য ৯০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৯০.
কবিতাপাক্ষিক কোনো নদীর নাম নয়। এমনকী গাছের নামও নয়। কবিতাপাক্ষিক একটি পত্রিকার নাম। কবিতাপাক্ষিক একটি মতাদর্শের নাম। এই মতাদর্শের সমর্থক বা কাছাকাছি থাকা কবিজনেরা যেমন কবিতাপাক্ষিক-কে মহিমামন্বিত করেছিল সর্বান্তকরণে , ঠিক তেমনি আমাদের মতাদর্শের বাইরের বহু কবিজনেরা কবিতাপাক্ষিক-কে তাদের নিজস্ব মুখপত্র রূপে গণ্য করত। এসব আমাদের অর্জন।
আর একদল ছিল , যারা কবিতাপাক্ষিক বা তার পোস্টমডার্ন অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি সেসময় মুখর ছিল না , হয়তবা , কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আমরা যে যে লক্ষণগুলিকে প্রাধান্য দিতাম , ঠিক সেগুলিকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করত তাদের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় প্রদীপ চক্রবর্তী-র নাম। প্রদীপ-এর বাড়ি দুর্গাপুর , সেই অর্থে আমার বাঁকুড়ার প্রতিবেশি।অথচ ব্লাক ডায়মন্ডে নেমে দুর্গাপুরের আড্ডায় প্রদীপের সঙ্গে দ্যাখা হয়েছে , এটা মনে করতে পারছি না।
কপা  ৯৯ -এ প্রদীপের প্রথম কবিতা ছাপা হয়েছিল।কবিতাটির নাম ' কালবেলা '। কবিতাটির শেষটা দেখুন :
' চুপ কেটে শিকড় ছিঁড়ে উঠে আসছে বাস্তুসাপ '
এই লাইনটা দু-একবার পড়ুন। পড়লে দেখতে পাবেন প্রদীপের বৈশিষ্ট্য।
' বাস্তুসাপ ' এখানে বিশেষ্য। এই বিশেষ্য-র দুটি কাজ।
১॥ চুপ কেটে বা ' চুপ ' -কে কেটে ফেলা
২ ॥ শিকড় ছিঁড়ে ফেলা
বাস্তুসাপ যে কোনো উদ্ভিদ নয় এটা লিখে বোঝানোর মতো দুর্মতি যেন আমার কখনো না হয়। কিন্তু প্রদীপ যখন নিজ অধিকারে এটা লেখে ফেলে তখন তাকে সমর্থন জানাতেই হয়।
এবার প্রদীপ চক্রবর্তী-র বিভিন্ন কবিতা থেকে কিছু কিছু শব্দবন্ধ তুলে দিচ্ছি ওর কবিতায় সেসময়ের চিহ্নগুলিকে দ্যাখাবার জন্য। পড়তে থাকুন :
১॥ চামচিকে ও বাদুড়ের ঝুলন্ত মাস্তুল
২ ॥ ড্রপ দিতে দিতে ছেড়ে দেওয়া জলপাথর
৩ ॥ নীলমন্তাজে বৃষ্টি সফর
৪ ॥ দাসপ্রথা নয় , কুসুমপ্রথা, গোপীময় একদিন।
৫ ॥ ভেজা আলোর চিরুনি পাতাজোড়া
৬ ॥ সরযূ পাহাড়ের বাসী অন্ধকার।
৭ ॥ রংবেরং -এর ব্যাকরণ
এই উদ্ধৃত ৭ টি চিহ্ন থেকে ৭ নম্বর চিহ্নটিকে প্রসারিত করছি। এই প্রসারণ থেকে উদ্ভাসটুকু খুঁজে নেবার চেষ্টা করুন :
' একজীবনের পাখি তেতুঁলপাতায় রংবেরং-এর ব্যাকরণ লেখে। '
এই একটি লাইন থেকে আমি হাজারটা লাইন লিখে যেতে পারি , এই লাইনটি সমর্থনে। যেখানে  যে রঙের আলো ফেলব সেখানটা ঠিক সেই রঙের হয়ে যাবে। কবিতাকে চেনার জন্য বা চেনাবার জন্য এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
আমি পাখিটির শরীরে বা ডানায় হলুদ রঙের আলো ফেললাম।সেই পাখিটি যখন তেতুঁলপাতায় রংবেরং-এর ব্যাকরণ লেখে , তখন তেতুঁলপাতার স্পর্শে পাখিটির ডানার হলুদ রং তেতুঁলপাতার সবুজের সঙ্গে মিশে নিশ্চিত আর হলুদ থাকবে না। আর পারিপার্শ্বের রংগুলি ভূমিকা কী হবে , তা জানার জন্য ' জনৈক প্রদীপ চক্রবর্তী ' কবিতাটির সাহায্য গ্রহণ করা যাক :
' দিন যায় , আরাংখা রীন , হয়ত বেহাগে বাহারে আর্যহলুদ। / এই মৃদু সেন্টপলস ,বৃষ্টিসদন ।ছাপারক্তে ফাইলের পর ফাইল /হারানো মাথার ভেতরে বাড়তে বাড়তে কেয়ারি চারণ , অঝোর বর্ষার /টোলি গলিয়ে পড়ন্ত পয়রা , গলে জল হাফ চকলেট '।
নতুন বাকশস্য নির্মাণও এই সময়ের একটি প্রধান কাজ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শব্দব্রাউজ ২১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

  শব্দব্রাউজ ২১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar শব্দব্রাউজ ২১৫ || নীলাঞ্জন কুমার বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ১৭।...