বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

পূরবী- ২৫ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী- ২৫
অভিজিৎ চৌধুরী




ব্ল্যাক হোলের গ্র্যাভিটেশানাল ফোর্স অনেক অনেক বেশী হয়।ফলে সেখানে প্রবেশ করলে আর ফেরা নেই।কৃষ্ণগহ্বর তাহলে অনন্ত মৃত্যুর কথা।তিনিই কি ঈশ্বর! শেষ দণ্ডপাণি।

এসব ভাবছিল তীর্থ।তখন ছোটুরাম পান দিয়ে গেল।স্যানিটাইজারে বিধৌত হয়ে পান মুখে দিল তীর্থ।

দেবেন ঠাকুর গরম সহ্য করতে পারতেন না।শীত তাঁর প্রিয় ছিল।অতি প্রত্যুষে ঠাণ্ডা জলে স্নান করতেন।বালক রবীন্দ্রনাথেরও করতে হয়েছিল।শেষে অবশ্য উষ্ণ জলে করতেন বেশী বয়সে।

ব্রহ্ম কৃপাহি কেবলম্।পিতৃদেব মানেই রবির কাছে ব্রাহ্ম ধর্ম আর হিমালয় ভ্রমণ।

সেবার বিলেত থেকে ফেরার কয়েক বছরের মধ্যে মুসৌরি দেখা করতে যেতে হয়।আবার বিলেত যেতে হবে।ব্যারিস্টার হতেই হবে।

কিন্তু বাবামশাইয়ের মন থেকে সায় ছিল না।তাঁর স্নেহের স্পর্শ না থাকলে রবির স্বাধীন ইচ্ছে ডানা মেলতো না।


হিমালয় ভ্রমণে পিতৃদেব রবিকে গান গাইতে বললেন।তুমি বিনা কে প্রভু সংকট নিবার/ কে সহায় ভব অন্ধকারে।তিনি নতশিরে কোলের ওপর দু হাত জড়ো করে শুনেছিলেন।তবে গীতিকারের স্বীকৃতি বহু পরে।

তীর্থের বাবা চাইতেন,সে ফুটবলার হোক।সে যোগ্যতা তীর্থের ছিল না।একটু আধটু লিখত তখন সে।খবরের কাগজে বের হলে বাবাকে দিতে হতো একটা কপি।

কতোদিন দেখেছে যিনি কখনই সাহিত্য রসিক ছিলেন না,ছেলের লেখা বলে নিভৃতে পড়ছেন।

মা মাঝেমধ্যে বলত,গল্প লিখতে পারিস তো!  তীর্থ বলত,কি হবে!

কিশলয় তো রয়েছেই।
 তখন খুব হাসির হররা পড়ে যেত।রোদ ফুরিয়ে যাওয়া বিকেলে কাঠকয়লার উনুনে চা বসাতো মা।
এবার পুজো কবে রে মনু!

সাধনার জন্য নির্জনতা বড় প্রিয় ছিল মহর্ষির।

পুজোর গন্ধে আকূল হয়ে উঠত তীর্থ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কিছু বই কিছু কথা - ২০৫ || নীলাঞ্জন কুমার শিরোনাম নেই শিরোপাও || সুবোধ সেনগুপ্ত || সাংস্কৃতিক খবর ত্রিশ টাকা ।

  কিছু বই কিছু কথা - ২০৫ ||  নীলাঞ্জন কুমার শিরোনাম নেই শিরোপাও || সুবোধ সেনগুপ্ত || সাংস্কৃতিক খবর  ত্রিশ টাকা । এমন কিছু কবিতার বই প্রকাশ...