Sunday, August 9, 2020

নস্টালজিয়া ১০ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ১০ 
পৃথা চট্টোপাধ্যায়


স্মৃতির ঝাঁপি খুললেই দিনগুলো টুপটাপ বেরিয়ে আসে। সেগুলো সবই যে রঙিন ছিল তা নয়, তবু তখন কী যেন ছিল যা আজও মনে পড়লেই ভালো লাগে।আজ মেঘলা দিনে আমার ছোট্ট ব্যালকনি থেকে আকাশ দেখতে দেখতে ফেলে আসা বাদলঘন শ্যামল মোহ ঘেরা শৈশব আর কৈশোর ভিড় করে অজান্তেই। আগে বরাবর সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ছিল আমার।  ঘুমাতে যে  ভালোবাসতাম না এমনটা নয়,আসলে মা বেশি  বেলা পর্যন্ত ঘুমান মোটেই পছন্দ করত না। তখন আমাদের সকাল সন্ধ্যা নিয়মিত পড়তে বসতে হত। টেলিভিশন ছিল না, তাই সময় অপচয়ের সুযোগ ছিল না।  কিন্তু মেঘলা দিনে আমার পড়তে মোটেই ভাল লাগত না।কিছুতেই মন বসতো না পড়াশোনায়। আমার বোন আর আমি সেদিন খুলে বসতাম 'সঞ্চয়িতা'। খুব ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথের 'শিশু' র কবিতা আবৃত্তি করতাম। একটু বড় হলে আমার ছোটমামা উপহার দিয়েছিল 'সঞ্চয়িতা' আর 'সঞ্চিতা'। সে যে কী অমূল্য উপহার ছিল আজও তা অনুভব করি। মেঘলা দিনে আকাশের  খুব নিচ দিয়ে ভেসে যেত বাদল মেঘ। আমরা চলে যেতাম ছাদে  সঙ্গে 'সঞ্চয়িতা'। দুই বোনে অনন্ত আকাশের নিচে বসে মনপ্রাণ খুলে আবৃত্তি করে  পড়তাম  "হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে ময়ূরের মতো নাচেরে..." ,"গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা, কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা..."। একটার পর একটা বর্ষার কবিতা পড়তাম। যা পড়তাম তার অর্থ তখন বুঝতে পারতাম না, কিন্তু ধ্বনি মাধুর্য, ছন্দের দোলায় মন ভরে যেত ; কবিতা পাঠ করতে  করতে অদ্ভুত এক ঘোর লাগত মনে। বড় হয়ে যখন জীবনদেবতা তত্ত্ব পড়লাম তখন নতুন করে আবিষ্কার করলাম কবিকে আর এইসব কবিতাকে। আমার মা রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান শুনতে খুব ভালো বাসত। এই বাদল দিনে মা তার কাজের মাঝে আমাদের কবিতা পাঠ বেশ উপভোগ করত।দেখতে দেখতে  হয়তো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামত,আমরা বইপত্র গুটিয়ে দুদ্দাড় নেমে আসতাম ছাদ থেকে।

No comments:

Post a Comment

সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) || কান্তিরঞ্জন দে || কিভাবে সিনেমা " দেখব ?"

  সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) কিভাবে সিনেমা "  দেখব ?"        সত্যি সত্যি যদি সিনেমার রূপ রস দৃশ্যসুখ উপভোগ করতে চান, তাহলে আগ্রহের ...