পৃথা চট্টোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পৃথা চট্টোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১

নস্টালজিয়া ৪৫ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ৪৫

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



ছোটবেলা থেকে দেখেছি আমাদের ওখানে হিন্দু মুসলিম বরাবরই  মিলেমিশে থাকতো। আমাদের  বাড়িতে বাবার বন্ধু, অফিসের স্টাফ, প্রতিবেশী অনেকেই আসতেন তাঁরা হিন্দু না মুসলিম এই নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবনা ছিল না। তবে আমার রক্ষণশীল পরিবারের  মা বাইরের লোকজন  চলে যাবার পর চারিদিকে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিতো। বাবা খুব রসিক মানুষ ছিলো,  দূষিত গঙ্গা জলের পবিত্রতা নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঠাট্টা করতো আর মা তাতে খুব রেগে যেতো।
    ছোটবেলায় নবাব পরিবারের মুসলিম মেয়েদের দেখতাম তারা সচরাচর কোথাও যেতো না।সন্ধ্যে হলে  খুব সাজগোজ করে নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কাছাকাছি এ বাড়ি ও বাড়ি যাওয়া আসা করতো। আমাদের বাড়ির সংলগ্ন গলিতে তাদের চলাচল অনুভব করতে পারতাম কাচের চুড়ির শব্দে , বেল জুঁইয়ের মালার সুগন্ধিতে অথবা টুকরো টুকরো উর্দু কথায় ।  গ্রীষ্মকালে চুলে তারা বেল- জুঁই ফুলের মালা জড়াতো। খুব আতর মাখতো। তারা যে সবাই বোরখা পরতো তা নয়, তবে ওড়না দিয়ে নিজেদেরকে ঢেকে রাখতে অভ্যস্ত ছিল। এইসব ক্ষীণকায় মেয়েদের সাদা মোমবাতির মতো  সুন্দর  লাগত আমার।  আমাদের বাড়িতে বাবার কাছে বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে  যাঁরা আসতেন তাঁদের কাকু, জেঠু , দাদা বলতাম। বাবা খুব ভালো উর্দু জানতো। নবাব পরিবারের অনেকের সঙ্গে বাবা সুন্দর উর্দুতে কথা বলতো।

বুধবার, ৫ মে, ২০২১

নস্টালজিয়া ৪৪ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ৪৪

পৃথা চট্টোপাধ্যায়




আমার ছোটবেলার দিনগুলোতে দেখতাম পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে একটি সৌহার্দের সম্পর্ক ছিল।
সদ্য বাংলাদেশ থেকে আসা প্রতিবেশী একটি পরিবারের একজন জেঠিমা ( বুন্নাদির মা) আসতো আমাদের বাড়িতে। সব্জি কাটা হলে যে খোসা ছাড়িয়ে ফেলে দেওয়া হতো সেগুলো আর ভাতের ফ্যান নিয়ে যেত। তার বাড়িতে ছাগল ছিল। সেই ছাগলের খাবারের জন্য সেগুলো নিয়ে যেত। একদিন হঠাৎ করে আমি কোনো কারণে তার বাড়িতে গিয়ে দেখি সেই জেঠিমা আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া বিভিন্ন সবজির খোসা কুচিকুচি করে কাটছে। আমাকে বলেছিল এগুলো তারা ভেজে বা বেঁটে কড়াইতে তেল দিয়ে নেড়েচেড়ে ভাতে মেখে খায়। আমি মাকে এসে কথাটা বলেছিলাম। তারপর থেকে মা ইচ্ছাকৃতভাবে ঐ জেঠিমাকে শুধু সব্জির খোসা না, অনেক সময় আলু, পটল, লাউ ,কুমড়ো দিয়ে দিত। তখন জিনিসপত্র এত অগ্নি মূল্য ছিল না। আমার বাবা বরাবর বেহিসেবি বাজার করত। ঐ পরিবারের সঙ্গে একটা সৌহার্দের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
আমাদের বাড়ি ছিল বেশ পুরোনো, দাদুর আমলের। বাংলা ইঁটের , খিলানের বারান্দা। কড়ি বর্গার ছাদ। আগেকার চুন সুরকির গাঁথুনি। বর্ষাকালে প্রতিবছর ছাদ সারাতে হতো না হলে ঘরে জল পড়তো ।এছাড়াও বারোমাস রাজমিস্ত্রির কিছু না কিছু কাজ লেগেই থাকতো।কাপাসডাঙার আবের, মান্নান এইসব মিস্ত্রিরা কাজ করতো।তারা আমাদের ঘরের লোকের মতো ছিল। বাড়ি থেকে ভাত তরকারি আনলেও মা তাদের তরকারি, মাছ ইত্যাদি দিত। বারবার চা ,বিস্কুট । লোকজনকে খাওয়াতে বাবা মা দুজনেই খুব ভালো বাসতো। মেঘুকাকু ছিল আমাদের বাড়ির ধোপা।একদিন পরপর আসতো কাপড় নিতে। বাবা তখন আদ্দির ধুতি আর হাফ সার্ট বা ফুল সার্ট পরতো। মেঘুকাকু আমাদের স্কুল ড্রেস বাবার জামা কাপড়, মায়ের তাঁতের শাড়ি একগাদা করে রোজ নিয়ে যেত, একটা খাতা ছিল হিসেবের। মা খুব গম্ভীর মুখে এই সব হিসেব রাখতো আর মাসের শেষে মেঘুকাকুকে টাকা দিতো। মেঘুকাকু ছিল আমাদের বাড়ির পুরোনো ধোপা। তার বাবা আগে আসতো। আমি মেঘুর ছেলেকেও দেখেছি মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে সে আসতো। মেঘুকাকু প্রায়ই ভাত খেতো আমাদের বাড়িতে। আমার মা সকলকে আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করতো। কোনো জাতপাতের কথা এ প্রসঙ্গে ছিল না। বহরমপুর গার্লস কলেজে হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছি। আমার প্রিয় বন্ধুদের বাড়িতে ঈদের সময় গেছি ভাবতায়। ওদের বাড়িতে আদর যত্ন আপ্যায়নে মুগ্ধ হয়েছি। সায়রা, সরিফার মায়ের স্নেহ আর আমার মায়ের স্নেহের মধ্যে কোনো তফাৎ খুঁজে পাই নি। লালগোলায় বেগমপারা(জলি)র দিদির বিয়েতে গিয়ে কত আনন্দ করেছি। প্রায় সব বন্ধুই আমার বাড়িতে আসতো। বন্ধু বিষয়ে আমি বরাবরই খুব দুর্বল। তাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে আমার চিরকালই ভালো লাগে।সেখানে হিন্দু মুসলিম এইসব ভাবনা জীবনে মনেই আসে নি কখনো। 


মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

নস্টালজিয়া ৪৩ পৃথা চট্টোপাধ্যায়

নস্টালজিয়া ৪৩

পৃথা চট্টোপাধ্যায়



কৈশোরের দিনগুলো কি শুধুই পড়াশোনা আর মায়ের স্নেহ, বাবার আদরে মাখা ছিল? তা মোটেই না। একটু একটু করে যত বড়ো হয়েছি ফুলের মত জীবনও পাঁপড়ি মেলে ধরেছে। ডালে কাঁটা ছিল অনক। সজাগ হয়েছে মন। মা চারপাশের পরিবেশ, জীবন সম্পর্কে কিছু কিছু বিষয়ে শেখাতো।কোনোটা শুনতাম ,কোনোটা ভালো করে শুনতাম না। বড়ো হয়ে বুঝতে পেরেছি ঐ বয়সে মায়ের কথাগুলো কতটা মূল্যবান ছিল। আমার পিরিয়ড হবার পরে মা বলেছিল মেয়ে হিসেবে সতর্ক থাকতে হয় জীবনে।ছেলেদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা মা পছন্দ করতো না। তবে ছেলে বা মেয়ে সব বন্ধুর সঙ্গে একটা স্বচ্ছ সাবলীল সম্পর্ক থাকা দরকার একথা মা-ই আমাকে বলেছিল। আমি সাইকেল চালতে খুব ভালোবাসতাম। পিরিয়ডের সময় বেশ কয়েক দিন সাইকেল চালাতে দিতো না বলে রাগ করতাম মায়ের উপরে।
ক্রমশ চারপাশের মানুষ,পরিবেশ আত্মীয় স্বজন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভাবে ধরা দিয়েছে আমার মনে।ছোট থেকেই সবকিছু অবজার্ভ করতে ভালো লাগত আমার।আমাদের বাড়িতে মা সবসময় একটা মার্জিত রুচিশীল পরিবেশ বজায় রাখতো। তবে কাজের লোকের বিষয়ে খুব খুঁতখুঁতে ছিল। বাবার সঙ্গে মতের অমিল হতো সাংসারিক অনেক বিষয়ে। কাজ কর্মে ব্যস্ত মা রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ যেমন পড়তো তেমনি ভালোবাসতো রবীন্দ্রনাথের গান। সঞ্চয়িতা আর সঞ্চিতা থেকে আমি আর বোন খুব কবিতা পড়তাম, আর মা শুনতে ভালোবাসতো। ছোটদের সিনেমা দেখা মা মোটেই পছন্দ করতো না। আমাদের ওখানে তখন ছায়াবাণী একটি মাত্র সিনেমা হল।ঠাকুমার সঙ্গে সম্পূর্ণ রামায়ণ আর মহাভারত এই দুটো ছাড়া আর কোনো সিনেমা আমি ছোটবেলায় দেখি নি।বড়ো হয়ে প্রথম ভালো সিনেমা বলতেদেখেছিলাম বাবা মায়ের সঙ্গে 'হংসরাজ' বহরমপুরে কল্পনা হলে।
আমাদের পাড়ায় সব ঠিকঠাক হলেও একটা জিনিস সব মাটি করে দিয়েছিল বলে মনে হতো। সেটি হলো একটি দেশি মদের দোকান। বড়ো হবার পরে মা বেশি বাড়ি থেকে বেরোতে দিত না এই দোকানটির জন্য। যদিও আমাদের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে ছিল দোকানটি। গঙ্গাস্নানের যাতায়াতের পথে ছিল সেই দোকান। অনেকটা দূর থেকেই ঐ দ্রব্যের মদির গন্ধ বাতাসে ভাসত। আমাদের বাড়িতে বাবাকে জীবনে মদ্যপান করতে দেখি নি, কিন্তু ঐ বস্তুর গন্ধের সঙ্গে খুব ছোটবেলা থেকেই পরিচিত হয়েছিলাম। ঐ দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা আড়চোখে দেখতাম কাচের খালি শিশি স্তূপাকারে পড়ে থাকতে। আর অনেককেই নেশা করে রাস্তায় ধুলোর মধ্যে পড়ে থাকতে দেখতাম। পাড়ার মধ্যে সেই দোকানটি নিয়ে কারো তেমন মাথা ব্যথা ছিল না। আজও ঐ দোকানটি পুরোনো নেমপ্লেট নিয়েই বহাল তবিয়তে আছে। 

রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

নস্টালজিয়া ৪১ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ৪১

পৃথা চট্টোপাধ্যায়




নস্টালজিয়া ৪১
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

ব্যক্তিগত জীবনের ছবি নিছকই নিজের কাছে জমা করে রাখার। পুরোনো অ্যালবাম খুলে দেখতে তো নিজেরই বেশি ভালো লাগে। তাকে সবার সামনে আনার তেমন তো কোনো প্রয়োজন থাকে না। তবুও আমার অতীতের কথা লিখতে ভালো লাগে, ইচ্ছে করে সবাইকে বলতে। যত বড় হয়েছি ততই বুঝতে পেরেছি যা আমার মনে হয় তা সবসময় আমার হয় না। অনেকের তাতে অধিকার থাকে। যে সমাজের ছবি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমার চোখের সামনে, ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে মূল্যবোধ, দ্রুত বয়ে চলেছে যে সময় নদীর স্রোতের সাথে- তাকে ধরে রাখার একটা ক্ষীণ আশা থেকে আমার এই নস্টালজিয়া লেখা। লিখতে বসে যখন কত কিছু মনে পড়ে যায় তখন খুব অবাক হয়ে যাই।
ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি আমাদের পড়াতে আসতেন গৌরাঙ্গ মাস্টার। টিউশনি ছিল তাঁর পেশা। তখন গৃহশিক্ষক প্রতিদিন আসতেন পড়াতে এবং তাঁকে খুব যত্ন করে নিত্য নতুন জল খাবার ও চা খাওয়াতো মা। প্রথম দিকে লুচি তরকারি, চপ,সিঙাড়া, মিষ্টি এবং ক্রমশ পুরোনো হলে বাড়ির সদস্য হয়ে যেতেন তিনি। তখন মা অনায়াসে রুটি তরকারি দিতেও সঙ্কোচ বোধ করত না। বাড়ির পুজো পার্বণ অনুষ্ঠানে তাঁর আমন্ত্রণ থাকতো। গৌরাঙ্গ মাস্টারের কাছে পাড়ার অনেকেই পড়তো। তখন আমার বোন পড়তো ক্লাস টু তে। আমাদের দুজনকেই তিনি প্রত্যেকটি বিষয় পড়াতেন। বিকেলে ঠিক খেলার সময়ে পড়াতে আসতেন বলে আমার খুব রাগ হতো। কিন্তু কিছু বলার উপায় ছিল না আমাদের। দু'ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আমাদের দু'জনকে সব বিষয় কীভাবে পড়াতেন এখন তাই ভেবে আশ্চর্য হয়ে যাই। তিনি সাইকেল নিয়ে আসতেন। পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার হলেও একটা মালিন্য ছিল তাতে। কঠিন জীবন সংগ্রামের একটা ছবি মিশে থাকত তাঁর চোখে মুখে। ঝড় বৃষ্টি শীত গ্রীষ্ম কামাই ছিল না তাঁর। আমার মনে আছে কোনো পড়া তেমন বোঝানোর বালাই ছিল না। অঙ্ক বাড়িতে করতে দিতেন। রিডিং পড়তে বলে নিজেই সবটুকু পড়ে দিতেন। মা আমাদের পড়াশোনা কঠিন শাসনে তৈরি করিয়ে রাখতো। তিনি শুধু মুখস্থ ধরতেন। তাঁর কাছে বিশেষ কিছু শেখা হচ্ছিল না বলে মাত্র এক বছরই পড়েছিলাম। তবুও বরাবরের জন্য একটা পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল এই মাস্টার মশায়ের সঙ্গে। 

মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১

নস্টালজিয়া ৪০ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ৪০

পৃথা চট্টোপাধ্যায়




আমাদের জীবনের যে মুহূর্তটি চলে যায়, তা আর কখনোই ফিরে আসে না। কিশোরীবেলার কত ছোট ছোট মুহূর্ত এইভাবেই আমার হারিয়ে গেছে। আজকাল কেন যে  একটা শূন্যতাবোধ ক্রমশ ঘিরে ধরে মনকে। আবার এক অসম্ভব ভালবাসাকে আঁকড়ে বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে সেই মুহূর্তেই । কোনো ফাঁক না রেখে তোমাকে পরিপূর্ণ করে পেতে চেয়েছিলাম। আমারও দিতে কোনো কার্পণ্য ছিল না । কিন্তু সে সুযোগ আসে নি কখনো। এখন নিজেকে বড্ড নির্বোধ মনে হয়। অবশ্য কড়া গন্ডি ছাড়িয়ে বের হবার সাহস ছিল না আমার সেদিন। আজ তাই হয়তো  এইসব ভাবলে এক অনন্ত সুন্দর সমস্ত বিষাদকে মুছে দেয়। আমার এই ভাবনা কোনো ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে নি কখনোই। আমি ছিলাম আমার গন্ডিতে, সে তার প্রিয়জনের বেষ্টনীতে আবদ্ধ। সেখানে কারো নিবিড়তার ফাঁকি ছিল না, তবু আমাদের মন কোন এক ফাঁক ফোকর গলে মুহূর্তের জন্য এক নির্জন বনস্থলীতে চলে আসত। তখন ফোন বা মোবাইল ছিল না আমাদের। সে এক অদ্ভুত টেলিপ্যাথি। ঠিক দেখা হয়ে যেত তার সঙ্গে। এক অন্তর্মুখিনতার সঙ্গে বাহির আমাকে বরাবর ডাকে। কোনো এক মুহূর্তের নির্জনতায় সে আর আমি মুখোমুখি হয়েছি কতবার। সেটা যে প্রেম বুঝতেই পারি নি।কিন্তু একটা টান। এক প্রতিশ্রুতিহীন ভালবাসার মুহূর্তে আমি তোমাকে চাই একথা মুখ ফুটে বলতে পারি নি। তার মধ্যে যে সুন্দরের সন্ধান আমি পেয়েছিলাম তাকে অস্বীকার করার সাধ্য আমার আজও নেই। এক নিজস্ব গহনলোক এতদিন আমার অগোচরে ছিল। নিজেকে ফাঁকি দিয়ে ভুলিয়ে রেখেছিলাম কি? আজ আবার সে এক বিস্ময় চিহ্ন হয়ে এসেছে আমার কাছে। আজকের এইসব কথা লেখার মুহূর্তটি এক নিজস্ব বিন্যাসে ধরা দেয়। মনে হয় সেখানে আর কেউ নেই শুধু সে আমি মুখোমুখি বসে আছি অনন্ত স্তব্ধতায়। ভালবাসা এক অন্তহীন যাত্রা। কোনো পাত্রে আবদ্ধ করতে চাওয়া বৃথা। সত্যিকারের ভালবাসা হৃদয় উপচে পড়ে। তাকে অপচয় না করে অন্য পাত্রে ঢালতে তো কোনো ক্ষতি কিছু নেই। 

বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১

সুচারুরূপে পরিবেশিত একটি পত্রিকা" সারস " পৃথা চট্টোপাধ্যায় || কিছু বই কিছু কথা

সুচারুরূপে পরিবেশিত একটি পত্রিকা" সারস "

পৃথা চট্টোপাধ্যায়



"...ভয় করে। মনে হয়, এ মুহূর্ত বুঝি সত্য নয়" কবি নবনীতা দেবসেনের প্রয়াণে কবিকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে প্রকাশিত হয়েছে স্বচ্ছ, ছিমছাম, মার্জিত একটি পত্রিকা "সারস" ১৪২৭ আশ্বিন সংখ্যা। পত্রিকার সম্পাদক হলেন মৌলিক পাঠক। তাঁকে সহযোগিতা করেছেন অর্ধেন্দু বিশ্বাস ও সুনীল সোনা। পত্রিকাটি খুব ছোট আকারের হলেও বিশিষ্ট কবিদের লেখায় সমৃদ্ধ। পড়তে ভালো লাগে মলয় গোস্বামীর লেখা কবিতা "নৌকার পাশ থেকে , কেউ জলে পড়ে গেলে /জল ছিটকে- এসে লাগে অন্য জীবনে".., অথবা " ভাঙা আয়না দিয়ে বিচ্ছুরিত/বিষাদ নিয়ে বসে আছি ..../ আয়নাভাঙার মধ্যে আজ/ বড্ড কোলাহল "। তীর্থঙ্কর মৈত্রের কবিতায় " নতুন বৌয়ের মুখে ধান ভানা কষ্টে নামে ঘাম" "যিশুর বাণীর মত গ্রাম্য পথ" ," প্রথম কার্তিকের চাঁদ এখনো সহজ আছে/ডুমুর ডালের পাশে কলোনির নিতাইয়ের মতো" এইসব টুকরো টুকরো চিত্রকল্প পাঠককে মুগ্ধ করে। কবি গোলাম রসুল এর অনবদ্য একটি কবিতা "ঘরের বাইরে বৃষ্টি পড়ছে" রয়েছে এই "সারস "পত্রিকায় । গোলাম রসুল যখন লেখেন " যোনির ভিতরে বুভুক্ষু যুদ্ধ/ কায়াহীন ঈশ্বরের গায়ে জামা নেই ".. পাঠকের মন দেহ নয় এক অতীন্দ্রিয় দেহাতীত বোধে উন্মীলিত হয়। এই পত্রিকায় কবিতা লিখেছেন তৈমুর খান, সমরেশ মন্ডল, সুনীল সোনা, ময়ূখ হালদার, জ্যোতির্ময় মুখোপাধ্যায়, রাজীব মিত্র,সুপম রায় , চঞ্চল নাইম, শংকর দেবনাথ, শামীম নওরোজ প্রমুখ কবিগন। প্রবন্ধ লিখেছেন অর্ধেন্দু বিশ্বাস । এই পত্রিকার সুন্দর প্রচ্ছদটি করেছেন উৎপল মান। ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনায় সব কবির নামোল্লেখ করতে পারলাম না বলে মার্জনা করবেন। পত্রিকাটির সব লেখাই খুব ভালো লাগল। পত্রিকাটির কোনো বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করা নেই। সম্পাদক মহাশয় পত্রিকাটি নিজ উদ্যোগে ডাকযোগে পৌঁছে দিয়েছেন কবিদের কাছে। এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ সম্পাদক মহাশয়কে। পত্রিকাটি আরো সমৃদ্ধ হোক এই কামনা করি। 

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

নস্টালজিয়া ১০ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ১০ 
পৃথা চট্টোপাধ্যায়


স্মৃতির ঝাঁপি খুললেই দিনগুলো টুপটাপ বেরিয়ে আসে। সেগুলো সবই যে রঙিন ছিল তা নয়, তবু তখন কী যেন ছিল যা আজও মনে পড়লেই ভালো লাগে।আজ মেঘলা দিনে আমার ছোট্ট ব্যালকনি থেকে আকাশ দেখতে দেখতে ফেলে আসা বাদলঘন শ্যামল মোহ ঘেরা শৈশব আর কৈশোর ভিড় করে অজান্তেই। আগে বরাবর সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ছিল আমার।  ঘুমাতে যে  ভালোবাসতাম না এমনটা নয়,আসলে মা বেশি  বেলা পর্যন্ত ঘুমান মোটেই পছন্দ করত না। তখন আমাদের সকাল সন্ধ্যা নিয়মিত পড়তে বসতে হত। টেলিভিশন ছিল না, তাই সময় অপচয়ের সুযোগ ছিল না।  কিন্তু মেঘলা দিনে আমার পড়তে মোটেই ভাল লাগত না।কিছুতেই মন বসতো না পড়াশোনায়। আমার বোন আর আমি সেদিন খুলে বসতাম 'সঞ্চয়িতা'। খুব ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথের 'শিশু' র কবিতা আবৃত্তি করতাম। একটু বড় হলে আমার ছোটমামা উপহার দিয়েছিল 'সঞ্চয়িতা' আর 'সঞ্চিতা'। সে যে কী অমূল্য উপহার ছিল আজও তা অনুভব করি। মেঘলা দিনে আকাশের  খুব নিচ দিয়ে ভেসে যেত বাদল মেঘ। আমরা চলে যেতাম ছাদে  সঙ্গে 'সঞ্চয়িতা'। দুই বোনে অনন্ত আকাশের নিচে বসে মনপ্রাণ খুলে আবৃত্তি করে  পড়তাম  "হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে ময়ূরের মতো নাচেরে..." ,"গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা, কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা..."। একটার পর একটা বর্ষার কবিতা পড়তাম। যা পড়তাম তার অর্থ তখন বুঝতে পারতাম না, কিন্তু ধ্বনি মাধুর্য, ছন্দের দোলায় মন ভরে যেত ; কবিতা পাঠ করতে  করতে অদ্ভুত এক ঘোর লাগত মনে। বড় হয়ে যখন জীবনদেবতা তত্ত্ব পড়লাম তখন নতুন করে আবিষ্কার করলাম কবিকে আর এইসব কবিতাকে। আমার মা রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান শুনতে খুব ভালো বাসত। এই বাদল দিনে মা তার কাজের মাঝে আমাদের কবিতা পাঠ বেশ উপভোগ করত।দেখতে দেখতে  হয়তো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামত,আমরা বইপত্র গুটিয়ে দুদ্দাড় নেমে আসতাম ছাদ থেকে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

নস্টালজিয়া ৫ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ৫
পৃথা চট্টোপাধ্যায়


ছোটবেলার দিনগুলো যে এতো আনন্দের মুঠোয় ভরা ছিল তখন বুঝতে পারি নি। আজ লিখতে বসে মুঠো খুললেই তা ফুলঝুরির মতো ছড়িয়ে পড়ে । আমার এই আনন্দের ফল্গুধারা ছিল আমার ঠাকুমা যাকে আমি ও অন্য ভাই বোনেরা  'দাদা' বলেই ডাকতাম। আমিই প্রথম ঠাকুমাকে এই অদ্ভুত নামে (কারণ দিদি হলে তবু মানাত) ডাকতে শুরু করেছিলাম ।' দাদা ' শব্দটি আমি প্রথম বলতে শিখি ,কিন্তু আমার দাদা বা ঠাকুর্দা না থাকায় আমার প্রথম উচ্চারিত শব্দটি  ঠাকুমা সাদরে গ্রহণ করে এবং তাকেই দাদা বলা শুরু করি। গঙ্গাস্নান করতে যাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেলায় যাওয়া সিনেমা দেখতে যাওয়া সব কিছুতে তার সঙ্গ ধরতাম । তাহলে মাও খুব একটা কিছু বলতে পারত না, মায়ের অমত ধোপে টিকতো না।শুধু বলতো লেখাপড়াটা মন দিয়ে করতে তাহলে তারও মুখরক্ষা হবে মায়ের কাছে। শ্যামবর্ণ হলেও ঠাকুমার মুখের গড়নটি ভারি মিষ্টি ছিল। টিকালো নাক, হাঁটু ছাড়িয়ে কোঁচকানো চুল ।আমি তার মাথায় চুল বেঁধে বিনুনি করতে শিখেছিলাম। সকাল থেকে অ-দরকারি  সব কাজ সেরে একটু বেলা করে গঙ্গাস্নানে যেত ঠাকুমা।  আমি এবং পাড়ার দুতিন জন আমার বন্ধু তার সঙ্গ ধরতাম ।স্নানে যাবার আগে অসাধারণ দুটো গোলারুটি বানিয়ে চা দিয়ে খেত। আমার জন্যেও বরাদ্দ ছিল একটা। তার সঙ্গে কোথাও যাওয়া মানেই অবাধ স্বাধীনতা, অগাধ মুক্তির স্বাদ । জলে যতক্ষণ খুশি সাঁতার,  ঝাঁপাঝাঁপি করা যেত। স্নান সেরে অপেক্ষা করত আমাদের জন্য,  কখনো একটুও বকাবকি করত না বা মায়ের কাছে নালিশ করে বকা খাওয়াতো না। নশিপুর রাজবাড়ির রথযাত্রা আর ঝুলনের মেলায় যেতাম তার সাথে, অনেকটা রাস্তা হলেও হেঁটে যেতাম অনায়াসে। রিক্সা বা টাঙ্গা  (ঘোড়ার গাড়ি) করে যেতে পছন্দ করতো না,  হেঁটে গেলে পথে অনেকের সাথে দেখা আর গল্প  হোতো সেটা তার খুব ভালো লাগত।পৌষ মাসে যেতাম কিরীটেশ্বরীর মেলায়। নৌকায় চড়ে গঙ্গা পার হয়ে হলুদ সর্ষে খেতের মাঝখানে পথ ধরে  আমি আর ঠাকুমা যে কতবার গেছি এই মেলায় আমার আজও সেই দিনগুলো ছবির মত  মনে পড়ে। ঠাকুমা  ঠিক যেন আমার বন্ধুর মতো ছিল ।  কত বৃষ্টিঝরা অন্ধকার রাতে তার কোল ঘেঁষে আমি  রূপকথার রাজকন্যা-রাজপুত্র-দৈত্যর গল্প, সুয়োরানি দুয়োরানির গল্প, আলিবাবা-চল্লিশচোরের গল্প, টুনটুনির গল্প, ফিঙেপাখির গল্প শুনেছি। সেই স্বতঃস্ফূর্ত বাল্যকালে এখনকার  বাচ্চাদের মতো টি ভি দেখা,  গেম খেলা,  কার্টুন দেখা এসব কৃত্রিম আনন্দের জোগানের দরকার ছিল না আমার শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলোতে । ঠাকুমার হাতের  রান্না ছিল অনন্য,  খুব সাধারণ নিরামিষ রান্নাও তার হাতের ছোঁয়ায়  অমৃত লাগত। কুল, তেঁতুল, আমের আচার করতো দারুণ,  আমচুর করে রোদে দিত শুকোতে , আর সেই আমচুর তৈরি হবার আগেই কুলো থেকে বারবার শেষ হয়ে যেত।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

নস্টালজিয়া ৪ || পৃৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ৪
পৃৃথা চট্টোপাধ্যায়



আমবাগানে ঘেরা আমাদের শান্ত স্নিগ্ধ ছোট্ট  শহরটাতে বর্ষা আসতো আপন ছন্দে- চাঁপার গন্ধে,কামিনীর ফুলদলে আর ভাগীরথীর ভরা যৌবনে। আমাদের বাড়ি থেকে এই গঙ্গা নদী ও হাজারদুয়ারি প্যালেস ছিল খুব কাছে।গঙ্গায় স্নান করতে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম। গঙ্গার জলে আমাদের বাড়িতে রান্নাও হতো । মা বারোমাস প্রতিদিনই প্রায় গঙ্গায় স্নান করতে যেত খুব  ভোরবেলায়,মাঝে মাঝেই সঙ্গ ধরতাম  তার। তখন দু-কূল ছাপিয়ে বইতো নদী, জল  পলিমাটি মিশে ঘোলা।  নদী অনেক চওড়া  হয়ে যেত বর্ষাকালে । অতিবর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি  হলে অনেক খাল- বিল-পুকুর ভেসে মিশে যেত গঙ্গার সাথে, তাই এই সময়  দেখতাম তীব্র  জলস্রোতে কত কচুরিপানা, কাঠকুটো ,ঘাসের চাঁই আরও কত কী  অনায়াসে ভেসে যেতে। বর্ষায় গঙ্গার  জল এতো বেড়ে যেত যে নবাবের বাঁধানো ঘাট ছাপিয়ে প্রায় সব সিঁড়ি ডুবে যেত। মা একবার খুব ভোরে সূর্যোদয়ের আগে একা স্নান করতে গিয়ে জলে ডুব দেওয়ার সময়  একটা গলা কাটা দেহ জলে  গা ঘেঁষে ভেসে যেতে দেখে খুব ভয় পেয়েছিল। সেই থেকে অতি ভোরে আর যেত না। নদীতে স্নানের সময় বৃষ্টি নামলে আমার অপূর্ব আনন্দ হতো। এপার থেকে নদীর অন্য পার  ঝাপসা লাগত।  বৃষ্টির অজস্র ফোঁটা আমাকে ভিজিয়ে কীভাবে অনন্ত জলরাশির সঙ্গে অবলীলায়  মিশে যাচ্ছে দেখতাম। হাজারদুয়ারির চারপাশে নবাবি আমলের  ফল ও ফুলের বাগান ছিল। ফলের গাছ এই সময়  আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ,জামরুল , ফলসা প্রভৃতি ফলে ভরে থাকত। স্বর্ণচাঁপা,কাঠগোলাপ,করবী,কদম,কামিনী ,হাসনুহানা, ম্যাগনোলিয়া  প্রভৃতি অজস্র ফুলের গাছ ছিল। বর্ষার জলভরা মেঘ, বৃষ্টি আর ভিজে হাওয়ায় এইসব ফুলের গন্ধ মিশে আমার কিশোরী বেলার মনকে উতলা করে তুলতো। এক অনাস্বাদিত বৃষ্টিভেজা সুখের অনুভব আপন মনে অনুভব করে মেঘলা সকালে  নীরবে (কারন মা স্নান করে ইষ্টনাম জপ করত বলে কথা বলত না) মায়ের সঙ্গে ঘরে ফিরতাম ।

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

নস্টালজিয়া || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া 
পৃথা চট্টোপাধ্যায় 


জায়গাটা মফঃস্বল। ছোট শহর । ভাঙা গম্বুজ, প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ আর চলতি পথের ধারে ছড়িয়ে আছে অতীতের ইতিহাস -সুপ্রাচীন নবাবি আমলের  ঐতিহ্য । শীতকাল। ভোরের অস্পষ্ট আলো ফুটছে খুব ধীরে, সন্তর্পণে । ঝুপঝুপে অন্ধকার । পাখিরা বাসায় বসেই ডাকছে।দু-একটা টাঙা অর্থাৎ ঘোড়ার গাড়ির  চলাচল শুরু হয়েছে ঘোড়ার খুড়ের খুটখাট শব্দে। গাঢ় কুয়াশায় ঢাকা চারিধার।গবার চায়ের দোকানটা স্টেশন  চত্বরে প্রথম খোলে। কলকাতাগামী ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার আসবে ।যাত্রীরা  সোয়েটার,  চাদর, টুপি, মাফলারে জবরদস্ত ঢেকে একে একে হাজির হচ্ছে স্টেশনে। লোকজন বেশির ভাগই আসছে হেঁটে ।মাত্র একটা রিক্সা এল যাত্রী নিয়ে । গাছপালায় ঘেরা শহরে পুরোনো বাড়িগুলো স্হবির প্রপিতামহের  স্মৃতি নিয়ে জাঁকিয়ে বসে আছে । ভোরের আলোআঁধারিতে ফসলের খেত ভালো দেখা যায় না । তবে একটু ঠাহর করে দেখলে বোঝা যায় শীতকালীন সবজি চাষের খেত।  ফুলকপি, বাঁধা কপি, পালং, সরষে ,ছোলার খেতে শিশির ভেজা সবুজের  হাতছানি।  স্টেশনের কাছাকাছি বাড়ি কম।  সিম, বরবটি শশার মাচায় দু একটা দোয়েল শিস্ দিয়ে ফিরছে।

বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

বিমূর্ত মুহূর্ত || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

বিমূর্ত মুহূর্ত
পৃথা চট্টোপাধ্যায় 

তারায় ভরা রাতে
উধাও হয়ে যাওয়া আকাশের নিচে
মাতামহীকে  আশ্চর্য অবিকল দেখেছি

স্থবির হয়ে যাওয়া গাছ হতে হতে
              শীতল আলো আঁধারিতে
সে ক্রমশ বাড়িয়েছে  নির্জন শীর্ণ হাত

বিমূর্ত সেই মুহূর্তে
            দিকশূন্যপুরে
                আমার শরীর  জুড়ে রোমাঞ্চ
কিছু জীবিত ও মৃত গভীর অনুভূতির প্রহেলিকায়...

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...