Thursday, September 3, 2020

পূরবী~৩১ || অভিজিৎ চৌধুরী || একটি অন্যধারার উপন্যাস

পূরবী~৩১
অভিজিৎ চৌধুরী।


শেষ জন্মদিনে পূরবীতে উপনীত রবীন্দ্রনাথ এই গানটিই করতে দিলেন শান্তিদেব ঘোষকে- হে নূতন দেখা দিক আরবার...
রিক্ততার বক্ষ ভেদ করি আপনারে করো উন্মোচন।
জোড়াসাঁকোর বাড়িতে এসেছেন স্যার নীলরতন সরকার।অপারেশন তিনি চাইছেন না।তরুণ চিকিৎসকেরা রবীন্দ্রনাথকে শল্য চিকিৎসায় সুস্থ করতে কনফিডেন্ট।
নীলরতন সরকার বললেন,ওঁর দেহটা সুরে বাঁধা বাদ্যযন্ত্রের মতোন।এটা খেয়াল রেখো।
সাতই পৌষের শেষ প্রার্থনায় যেতে পারলেন না তিনি।
বালকবেলায় বৃষ্টির মজা দুঃখ সবটাই ছিল।স্কুল না যেতে হলে পুরো দিনটা হাজির হতো জানালায়।পেয়ারা গাছটার পাতায় জলের দাগ লেগে থাকতে থাকতেই আশ্বিনের রোদ উঠত।অবশ্য তখনও ভাদর।
তীর্থ বহুদিন পর একটা খাঁটি রোববার পেয়েছে।বাইরে শ্রাবণের ধারা।তার তো উত্তরায়ণ নেই।বদ্ধ ঘর।শব্দগুলি কখনও আসছে,কখনও না।
ট্রেন তখন অজয় নদী ছাড়াল।জানলা দিয়ে দেখে বললেন,কতোদিন পর অজয়কে দেখলুম।
বেলা বয়ে গেল,লেখা আর হল না।
পুজো ঢের দেরী।পুজোর সংখ্যা দিয়ে যেতেন সুভাষকাকু।বলতেন,বড় হও খোকা।তুমি একদিন লিখবে।
কতো ভাবনা ঢেউয়ের মতোন আসে যায় কিন্তু লেখা হয় না আর।
চোখে জল দেখেননি কেউ।অনেক শোকেও যেন  ভেঙে পড়তেন না।রোদচশমায় আড়াল করলেন চোখের জল।

No comments:

Post a Comment

পূরবী-৩৬ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী(৩৬)  অভিজিৎ চৌধুরী। হুগলির গঙ্গা আর মা যে"ন মিলেমিশে রয়েছে তীর্থের স্মৃতির খাতায়।এখন খুব বিতর্ক হচ্ছে কোন ভাষা ক্লাসিকাল তা নিয়ে।...