Friday, September 11, 2020

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ১২৯ || প্রভাত চৌধুরী || নিয়মিত বিভাগ

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১২৯.
ছান্দারের কিয়স্ক নিয়ে আলাদা করে একটি ঘটনার কথা জানাতে চাইছি। গাজন চলছে। শিবের গাজন।বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর ,জগন্নাথপুর এবং ছান্দারের গাজনের বেশ নামডাক আছে। নামডাক থাকা মানে জনসমাগম হয়। এই গাজনের জনতার কাছে কবিতা
পাক্ষিককে পৌঁছে দিতে হবে। আর সেটা সক্ষম হলেই প্রান্তিক-কে যে আমরা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রেখেই বগল বাজিয়েছিলাম , সেই অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হব। আমরা প্রান্তিককে প্রাধান্য দেবার জন্য শুশুনিয়া গেছি। ঠিক সেজন্য ছান্দার।  উৎপল চক্রবর্তী রাজকল্যাণ চেল সুব্রত চেল স্বরূপ চক্রবর্তী সুদীপ মণ্ডল আনন্দ চট্টোপাধ্যায় প্রদীপ তুং এবং আমি , এই ছিল কপা পরিবার । শিবথানের সামনেই বসানো হয়েছিল কিয়স্ক।
হঠাৎ ঝড় আরম্ভ হল।ক্রমশ ঝড়ের গতি বাড়ছে।
কিয়স্কটিকে ধরাধরি করে আটচালায় তোলা হল। তখন কিয়স্ক-কে পাহারা দিচ্ছি রাজকল্যাণ এবং আমি। একজন ৪০ কেজি অন্যজন ৫০ কেজি। দুজনে শরীরে যতটুকু শক্তি থাকার কথা , তার সঙ্গে মনের শক্তি যোগ করে ডবল করে নিয়েছিল শক্তিসম্পদ।
একসময় মনে হয়েছিল আমাদের দু-জনকে নিয়ে কিয়স্ক উড়তে শুরু করবে। শেষে ঝড় কমে এল। বৃষ্টিও। আর শেষ হল আমাদের শক্তির পরীক্ষা। আমরা পাশ করে গেলাম।
কিয়স্ক সাজিয়ে বসে পড়লাম। হাতে ঘড়ি , চোখে চশমা পরিচিত ভদ্রজনেরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে গেলেন। কাছাকাছি ঘেঁষলেন না।চোখাচোখি হলে চক্ষুলজ্জা বলে একটা শব্দের কবলে পড়ে যাবার ভয় আছে। অতএব দূরে থাকাই শ্রেয়।
ঠিক এরকম দুঃসময়ে দুজন গরিব শ্রেণির কিশোর খুচরোতে ঠিক পাঁচটাকা দিয়ে এককপি রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ কিনেছিল। এটা এখনো মনে আছে। বলেছিল মেলাদেখার জন্য এই পাঁচটাকাই পেয়েছিলাম। সেই টাকা দিয়ে বই কিনলাম।
এত বছর ধরে বিভিন্ন প্রান্তে বই বিক্রি করেছি। এই স্মৃতির কাছাকাছি আসতে পারে সেই মাপের আর একটিও স্মৃতি নেই।

No comments:

Post a Comment

পূরবী-৩৬ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী(৩৬)  অভিজিৎ চৌধুরী। হুগলির গঙ্গা আর মা যে"ন মিলেমিশে রয়েছে তীর্থের স্মৃতির খাতায়।এখন খুব বিতর্ক হচ্ছে কোন ভাষা ক্লাসিকাল তা নিয়ে।...