শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৩৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৩৭.

অনেক অনুষ্ঠানের খবর স্মৃতি থেকে মুছে গেছে।এর জন্য দায়ী একমাত্র আমি। নাসের চেয়েছিল প্রতিটি অনুষ্ঠানের খবর লেখা হোক কবিতাসংবাদের পৃষ্ঠায়। আমি বলেছিলাম , সবটা একসঙ্গে লিখলে একটা ইম্পাক্ট ধরা থাকবে। আমি লিখব সেই লেখা। অনুষ্ঠান শেষ হবার পরই লিখে রাখা উচিত ছিল। কিন্তু লেখা হয়নি। এখন যাঁরা আমার লেখার পাঠক তাঁদের অনেকেই জানেন না সেই উন্মাদনার কথা। এখন চেষ্টা করছি যতটুকু উদ্ধার করা যায় , সেটুকু দিয়েই নিজেকে ক্ষমা করা।

২০ জুলাই ২০০৩ অনুষ্ঠান হয়েছিল ঘাটালে।  মূল আয়োজক ছিল সৌমিত্র রায়।তখন সৌমিত্র-র বয়স কত ? সদ্য যুবক। তবে একটা সুসমাচার ছিল ঘাটালের প্রবীণ কবি-সাহিত্যিক-সম্পাদক লক্ষ্মণ কর্মকার সবসময় সৌমিত্র-র পাশে ছিলেন।আর ছিলেন ড : তুষারকান্তি ঘোষ সুশান্ত সিংহ প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকরা। 

ঘাটাল উচ্চ বিদ্যালয়ের একটা বড়ো হলঘরকে সুসজ্জিত করে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। সেদিন এক নবীনের সঙ্গে দেখি হয়েছিল। সে বলেছিল আজ ঘাটালে প্রভু যিশু-র আগমন হয়েছিল , আগামীদিনের ঘাটালবাসী তা চিরকাল মনে রাখবে। এরকম একটা পোস্টকার্ডও পেয়েছিলাম সম্ভবত। আর তারপর  বেশ কয়েকজন আমাকে ফাদার সম্বোধন করত। সেসব কথা আমার ভুলে যাওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু আমার মূর্খতা আমাকে ভুলতে দেয়নি।

জমজমাট অনুষ্ঠান। শিলাবতী লজে রাত্রিবাস , এটাও মনে পড়ে গেল।

ঘাটাল থেকে ফিরে পরের সপ্তাহে খাতড়া। ২৬ জুলাই ২০০৩। বাঁকুড়ার এই জনপদ বেশ প্রাচীন। পৌরসভাও বহুদিনের। আমরা বাঁকুড়ায় নেমেছিলাম ট্রেন থেকে। গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আপ্যায়নের পর গাড়িতে খাতড়া। প্রায় ঘরোয়া এবং আন্তরিকতায় ভরপুর এই অনুষ্ঠান ছিল প্রেরণাদায়ক। আমাদের প্রান্তিক-যাত্রা কর্মসূচির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে খাতড়ার অনুষ্ঠান। এই প্রান্তে পৌঁছনোর সমস্ত কৃতিত্ব গুরুদাসের।

পরের দিনের অনুষ্ঠান ছিল বাঁকুড়া শহরে। ধান্য গবেষণা কেন্দ্র-র সভাগৃহে। মূল উদ্যোক্তা ছিল দুই তরুণ কবি : বিকাশরঞ্জন ভুঁই এবং গৌতমকুমার মল্লিক। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি , এই দুজনকে কবিতাপাক্ষিক পরিবারে যুক্ত করেছিল গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুদাসের  আন্তরিকতায় আমরা বেলিয়াতোড়- সোনামুখী-র গণ্ডি থেকে বের হতে পেরেছিলাম।

২৭ জুলাই -এর অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সংখ্যা মনে রাখার মতো। সরকারি সভাঘর। জমজমাট। বাঁকুড়া শহরের অবনী নাগ ঈশ্বর ত্রিপাঠী প্রমুখ প্রবীণের উপস্থিতিতে উজ্জ্বল ছিল এই উৎসব।তাছাড়া দীপ সাউ রাজকল্যাণ চেল সত্যসাধন চেল সুব্রত চেল প্রণব চট্টোপাধ্যায় সহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিল।

আগামীকাল দক্ষিণেশ্বর দিয়ে শুরু করব।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দশটি হাইকু || ফটিক চৌধুরী || কবিতা

  দশটি হাইকু ফটিক চৌধুরী ১. রবিঠাকুর কাছে টানে নীরবে বাড়ায় হাত। ২.প্রাণের টানে কবিতায় এসেছি কবিতা জানে! ৩.রাত বাড়ুক আসবে সুপ্রভাত তোমার ...