সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য লেখা গদ্য ১৫৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য লেখা

প্রভাত চৌধুরী



১৫৪ .

গতকাল ' মলাটপাতা ' শব্দটি লেখায় ব্যবহার করেছিলাম। শব্দটি ব্যবহারের জন্য আমি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসটিকে গ্রহণ করেছিলাম। 

মলাটের পাতা = মলাটপাতা ।

এটি যে একটি ব্যবহারিক ভুল এটা জেনেও বারবার ব্যবহার করেছিলাম। সকলের মতো আমারও অজানা নয় যে বই বা পত্রিকার মলাট ইট শেল্প একটি পাতা। তাকে আবার নতুন করে পাতা রূপে চিহ্নিত করতে হবে কেন ! এই কেন-র উত্তর আমার কাছে নেই। অন্তরিক্ষ থেকে উঠে এসেছে শব্দটি। মলাটপাতা। একারণে ব্যবহার করলাম। তবে একটা কথা তো ঘোষণা করতেই পারি , যে আমার কোনো অগ্রজ , সমকালীন , পরবর্তী-র কোনো কবি-লেখক 'মলাটপাতা ' ব্যবহার করেননি। জানতে আগ্রহী ছিলেন না বলে। ওঁনারা বেশি তৎপর ছিলেন গিমিক করতে। যেমন কৃত্তিবাস পত্রিকা ১৯৬৬ -তে ঘোষণা করেছিল : পৃথিবীর শেষ ভালো কবিতাগুলি অতি দ্রুত লেখা হচ্ছে।

এই কথাটি কৃত্তিবাস-এর মলাটে ছাপা হয়েছিল , আমি এত দূর থেকেও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এবং বুঝতে পারছি ' গিমিক-রহস্য ' ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কি পাঠকদের জানাতে চেয়েছিলেন যে এরপর পৃথিবীতে আর ভালো কবিতা লেখা হবে না বা ভালো কবিতা লেখা সম্ভব হবে না। তা কিন্তু নয়। জাস্ট একটা চমক। কিন্তু আমি তো চমকাবো না বা অন্য কাউকেই চমকে দিতে চাই না। আমি আপন মনে নিজের কাজটিই করে যেতে চাই। হ্যাঁ , আপন খেয়ালে !

আর এই জন্যই কবিতাপাক্ষিক -এর প্রচ্ছদ থেকেই শুরু করতাম লেখা কিংবা খেলা। এই লেখা এবং খেলার নাম-ই মলাটপাতা।

যেমন  কবিতাপাক্ষিক ২৬০ - এ হাইলাইট করেছিলাম  সহজিয়া থেকে সি আর পি সি ।

সহজিয়া যে বাউলাঙ্গের গানের একটা ধারা , এই সহজ সত্যটা যে আমি জানতাম না , এমনটা ভাবার কোনো কোনো কারণ নেই। জেনেবুঝেই উৎপল ফকির-কে পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।এই চাওয়ার মধ্যে আর যা-ই থাকুক গিমিক ছিল না।

উৎপল ফকির লিখেছিল বাউল-অঙ্গের কবিতা।সহজিয়া কবিতা। ' সর্পের মাথায় হংসের ভিম্ব '। এই উচ্চারণ আর যা-ই হোক আধুনিক নয়।

আর অমিতাভ মৈত্র -র ছিল সি আর পি সি ভাষ্য।

মুখবন্ধে অমিতাভ জানিয়েছিল : The code of criminal procedure 1973 (সংক্ষেপে C.R.P.C ) ১লা এপ্রিল ১৯৭৪ থেকে কার্যকর হয়। এর আগে সারা- ভারতবর্ষের জন্য কোনো অভিন্ন অপরাধ বিচারবিধি ছিল না।

এই বিচারবিধির ভাষ্য লিখেছিল অমিতাভ। এসব তখন কল্পনাও করতে পারতেন না আধুনিকজনেরা।অমিতাভ কবিতার পরিসর-কে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

উৎপল ফকির এবং অমিতাভ মৈত্র-র মাঝে ছিল  মুরারি সিংহ সন্দীপ বিশ্বাস গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় দীপংকর ঘোষ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় সৌম্যজিৎ আচার্য সহ আরো কয়েকজনের।

আমি মুরারির সূর্যের চেয়ে লুনাটিক পঙ্ ক্তিমালা থেকে  কয়েক লাইন পড়ে দেখুন :

' জলপায়রাদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব পাতানোর অর্থ

এই নয় যে স্থলপদ্মদের সব নদীভক্তি

           আমি একবাক্যে মেনে নিয়েছি '

অথবা  এই কবিতার অন্য পর্বের তিন লাইন :

' পোড়া কপালের ঠিক মাঝখানটিতে

                      আবাদ করলাম

                          আরো কিছু বাটিকপ্রিন্ট ' 

এই ভাষা কিংবা ডিকশন বাংলাকবিতায় আগে ছিল না। কবিতাপাক্ষিকই এই ভাষার স্রষ্টা।

ওই সংখ্যাতেই শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় -এর কবিতাটির নাম পাসবই।এবং এই কবিতাটিতে শান্তনু State Bank of India-র Branch Manager -কে একটি চিঠি লেখেছিল তার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার জন্য।মাননীয় পাঠক মনে করে দেখুন তো এই বিষয়টিকে কবিতায় রূপান্তরিত করার কথা শান্তনুর আগে কেউ ভেবেছিলেন কিনা !

না , ভাবেননি। কারণ এসব ভাবার বিষয় কবিতাতে ছিল না । কোনো পত্রিকা বা অগ্রজ এই ভাবনাকে কবিতায় রূপান্তর - কে সমর্থন করেননি। তখন সমর্থন করাও যেত না । আমরা বলতাম এবং পারতাম। 

C R P C কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার বিষয়টিও যে কবিতা -কবিতাবিচ্যুত নয় , একথা শুধুমাত্র যে বড়ো গলায় বলতাম , এমনটাই নয় , কবিতা লিখে প্রমাণ করার চেষ্টাও করতাম। এবং শেষাবধি প্রমাণ করে ছাড়তাম

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস শ্রাবণী গুপ্ত একটা গোটা জীবন আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল আমাদের গায়ে, হৃদয়ে তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আম...