মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য প্রভাত চৌধুরী

  সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬২.

গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া-র। এক অর্থে কবিতা- পাক্ষিকের বাঁকুড়া শহরের প্রথম প্রতিনিধি। আগে যাঁরা ছিলেন , কবিতাপাক্ষিককে কেন্দ্র করে লেখালেখি করতেন , তাঁদের মধ্যে সকলেই কবিতাপাক্ষিক-এর কবি ছিলেন। কবিতাপাক্ষিকের শুভার্থীও ছিলেন। কিন্তু একজনও কবিতাপাক্ষিকের সংগঠক ছিলেন না। সমর্থকও ছিলেন হয়তবা।

কিন্তু গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-ই শহর বাঁকুড়ার প্রথম কবি যে কবিতা-পাক্ষিক-কে সম্পূর্ণ আপন-পত্রিকা মনে করেছিল। 

ওকে পেয়েছিলাম বাঁকুড়া বইমেলায় ডিসেম্বর ২০০০ । আমাদের স্টল থেকে। সেসব কথা আগে লেখা হ্য়ে গেছে। ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক ' সংখ্যায় গুরুদাস কীভাবে শুরু করেছিল সেটুকু জানিয়ে রাখছি :

' আমি দিনলিপি লিখি । গত ৩ বছরের দিনলিপির অনেকখানি জায়গা জুড়ে কবিতাপাক্ষিক চলে এসেছে। খুঁজতে গিয়ে দেখেছি, বাঁকুড়া ষষ্ঠদশ বইমেলা শুরু হল ৫ ই ডিসেম্বর ২০০০ ।একজন নতুন মানুষের কথা এখান থেকে এখান থেকে শুরু হয়েছে এবং সঙ্গে একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের গল্প।'

লেখা বাহুল্য , :

একজন নতুন মানুষ = আমি

একটি নতুন প্রতিষ্ঠান = কবিতাপাক্ষিক

 ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায় কবিতাপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের একটি স্তম্ভ ছিল একসময়। নিত্যদিনের কাজকর্মের সঙ্গী ছিল। নিত্যনতুন অভিযানের সহযাত্রী ছিল। পেশায় হোমিপ্যাথিক চিকিৎসক । প্রচুর পেশেন্ট। তবু কপা-র কাজে সবসময় তৎপর ছিল।

এই ঠাকুরদাসের কবিতাপাক্ষিকের প্রথম আগমণটা ছিল বেশ মজার।

' সময়টা ১৯৯৮ -র শেষের দিকে এক পড়ন্ত বিকেল। সামান্য মাত্র খুঁজতেই পেয়ে গেলাম ৪৯ পটলডাঙা স্ট্রিট।'

ঠিকানায় পৌঁছেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নেমে যাচ্ছিল। নামার সময় দেখা হয়েছিল গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তারপর পুরো পরিবারের সঙ্গে।

এবং ঠাকুরদাস সূত্রেই ওর দাদা উল্লাস চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। এবং কবিতাপাক্ষিকের   ' রিমিল ' - এর ঐতিহাসিক কবি -সমাবেশ সহ আরো অসংখ্য ঘটনা।

রজতশুভ্র গুপ্ত একজন যুগান্তকারী কবি , এই দাবি আমি করতেই পারতাম । কিন্তু আপাতত বিরত থাকলাম । তবে এটুকু তো বলতেই পারি বাংলাকবিতা -কে আপডেট করতে আমার ঠিক যতটুকু ভূমিকা রজতশুভ্র-র ভূমিকা তার থেকে এক মিলিমিটারও কম নয় । আরো একটা তথ্য জানিয়ে রাখি রজতশুভ্র

-র অসীম প্রচেষ্টা এবং আন্তরিকতায় আমাদের দুর্গাপুর ইউনিট বাংলা কবিতার এরিনায় একটা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এই রজতশুভ্র-র মাধ্যমেই কবিতাপাক্ষিক তথা বাংলাকবিতা পেয়েছে পিনাকীরঞ্জন সামন্ত , ব্রজকুমার সরকার বা রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মতো কবিদের।

এই রজতশুভ্র গুপ্ত কপা ২৫১ সংখ্যায় লিখেছিল :

' কবিতাপাক্ষিক - এর ৫২ থেকে ২৫১ সংখ্যার মধ্যে দূরত্ব ঠিক যতখানি আমার সঙ্গে কবিতাপাক্ষিকের পরিচিতির সময় ঠিক ততখানি '।

রজতশুভ্র  আরো লিখেছিল :

' সময় যে বিন্দুতে এসে থেমে যায় এবং বৃহত্তর নির্মাণের দিকে এগিয়ে যায়। নচেৎ উত্তর-আধুনিকতার গৌরববোধ ' কবিতা ' ও ' পাক্ষিক ' দুটি শব্দকেই প্রবল যান্ত্রিকতায় গ্রাস করে নিতে পারে  শুধু কবিতাকে ভালোবেসে, অসংখ্য আমরা নিশ্চয়ই তা চাইব না '।

রজতশুভ্র-র আরো একটা কথা না তুলে ধরে পরের কথায় যেতে পারছি না। রজতশুভ্র লিখেছিল :

' যে কারণে আমি কবিতাপাক্ষিক অর্থে কোনো লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে চিহ্নিত করিনি , কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করিনি --- চিহ্নিত করেছি একটি রূপকথা হিসেবে। কারণ ,রূপকথা ছাড়া এ কীভাবেই বা সম্ভব '।

ইয়েস , রজতশুভ্র , ইয়েস। তুমি ঠিকই বুঝেছিলে । এতদিন আগে। আমরা যে রূপকথায় ঢুকে যাব , এটা সর্বপ্রথম তুমিই উপলব্ধি করেছিলে।

 কবি রজতশুভ্র গুপ্ত যুগ যুগ জিও।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস শ্রাবণী গুপ্ত একটা গোটা জীবন আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল আমাদের গায়ে, হৃদয়ে তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আম...