মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৯৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৯৭.

সাম্প্রতিক অতীতে এমন অনেক  ঘটনা ঘটেছিল , যেসব আমরা মনে রাখিনি, এটা একটি বাস্তব-সত্য। কিন্তু যেগুলি এখন মনে রাখিনি , সে সময় আলোড়িত হয়েছিলাম , সেটা অস্বীকার করা যায় না। একে কি পুরোনো কাসুন্দি বলে অবহিত করা যায় ?

না , আমি কোনো প্রশ্ন করছি না। কাজেই এর কোনো উত্তরও চাইছি না। তবে এই লেখাটিকে আমি আমার আত্মজীবনী-র মর্যাদা দিতে চাইছি , সেকারণে অতীত

-কে অবহেলা করতে চাইছি না। এবার বিষয়টা স্পষ্ট করে বলা যাক।

আমরা শুধুমাত্র কবি নয় , একজন মানুষও । সমাজের যে কোনো অন্যায়ের সাধ্য মতো প্রতিবাদ করাটা আমাদের কর্তব্য। আমাদের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু ন্যায় কথাটা না জানানোটা একটা অন্যায়। আমাদের সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যে আমরা দায়িত্ব পালনে তৎপর ছিলাম , এটা আজকের বন্ধুদের , পাঠকদের জ্ঞাতার্থে পুনরায় উপস্থাপন করাটা যদি দোষের হয় , তাহলে আমি দোষী। আমার সেই দোষের কথাও গোপন করা উচিত নয়। দোষ স্বীকার করাটাও একটা দায়িত্ববোধের কাজ।

অনেকটা ভূমিকা হল। এবার ঝোলা থেকে বেড়ালটি বের করা যাক।

কবিতাপাক্ষিক ২৮৫ (২১ আগস্ট, ২০০৪ ) বিষয় ছিল : পবিত্র বিতর্ক □ আমাদের বলার কথা , জানার কথা ।

আমারা ঘোষণা করেছিলাম কবিতাপাক্ষিক ২৮৫ সংখ্যাটির শিরোনাম হবে পবিত্র বিতর্ক। কবি এবং কবিতাপ্রেমীদের মতামত আহ্বান করেছিলাম। মাত্র ৪টি  মতামত পেয়েছি। ...   ...  বেশ কয়েকজন ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় জানিয়েছেন : এটা কবিতা

-পাক্ষিক-এর আলোচ্য বিষয় নয়। সম্ভবত তাঁরা ভুল বলেননি।

তাঁদের যুক্তি ছিল পবিত্র সরকার কবি নন , কবিতার আলোচকও নন, তদোপরি রবীন্দ্রকবিতার ওপরও কোনো মৌলিক কাজ আছে বলে আমাদের জানা নেই। যদি কিছু থাকে তা নেহাৎ-ই ছাত্র-বন্ধু রচনা।

আমরা এই মতামতকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে কয়েকটি অমীমাংসিত  প্রশ্নের একটি অ্যাজেন্ডা পেশ করেছিলাম। তার সংক্ষেপসার :

১॥ বাংলাভাষাতত্ত্ব ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং জন্য তিনি আমেরিকার একটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছিলেন কেন ? তাছাড়া ওই সময় ভিয়েতনাম প্রসঙ্গে তখন সমগ্র পৃথিবী শান্তিকামী মানুষেরা মার্কিন-বিরোধী ছিল।

২॥ এম এ এবং পি এইচ ডি করতে ৬ বছর লেগেছিল কেন ?

৩ ॥ জীবনপঞ্জিতে অহেতুক তিনি কেন নিজের নামের শেষে পি এইচ ডি এবং নামের আগে ড. লিখে এসেছিলেন ! বিশ্ববিদ্যালয় তা মেনে নিয়েছিল কেন !

৪॥ একটা চালু কথা ছিল পবিত্র সরকার বাংলায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছিল সে বছর কেউ ফার্স্ট ক্লাসই পায়নি । এটাও কি মিথ্যাচার নয় !

৫ ॥ পি এইচ ডি না হয়েও তিনি বহু ছাত্রছাত্রীর পি এইচ ডি -র গাইড হয়েছিলেন কোন যুক্তিতে !

৬ ॥ ওনার গবেষণার মূল বিষয়টি কী ছিল ? দু জায়গায় দু রকম লিখে ছিলেন কেন ?

৭॥  বিষয়টি নিয়ে মিডিয়া যখন সোচ্চার হয়েছিল , তিনি নীরব ছিলেন কেন ? এটা কি ম্যাকিনসের পরামর্শ মতোই।

৮ ॥ যদি এই বিতর্ক না উত্থাপিত হত তাহলে ওনার মৃত্যুর পর আমরা যদি  আমরা ড. পবিত্র সরকার লিখতাম তো । আর মৃত্যুর পর বিতর্ক উঠলে তিনি কীভাবে বকেয়া ফর্মালিটিজের সিডি শিকাগো-তে পাঠাতেন ?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। পাওয়া যাবেও না ।

আগামীকাল ৪ জনের মতামতের অংশ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সবাই মিলে সিনেমা হলে ২১ || সিনেমা ও বিরতি || কান্তিরঞ্জন দে

  সবাই মিলে সিনেমা হলে ( ২১) সিনেমা ও বিরতি  কান্তিরঞ্জন দে        নমস্কার ।  উৎসবকালীন বিরতির পর আবার ফিরে এলাম । আমরা যখন সবাই মিলে সিনেমা...