বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২০৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৫.

 আর এসেছিল স্বরূপা দাস এবং তার হুইলচেয়ার।  জন্ম থেকেই তার পা-দুটি শরীরের ভার বহন করতে অক্ষম। তাকে কবিতাপাক্ষিক থেকে উপহার দেওয়া হয় গীতাঞ্জলি। পরের দিন সেও তার নিজের কবিতার বই উপহার দিয়েছিল দীপ , মুরারি এবং আমাকে।সেবার স্টলে বসে অনেকক্ষণ আড্ডা হয়েছিল অজিত হালদারের সঙ্গে। তিনি চিন রাশিয়া সহ ইউরোপের বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন নিজ উদ্যোগে। সেসব একটি ছোটো পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছিল।

আগেই বলেছি মেলার প্রথম দিন ছিলাম উদয়ের বাড়িতে। শেষের চারদিন ছিলাম ল্যান্ড ডেভালেপমেন্ট ব্যাঙ্কের গেস্ট হাউসে । সেখানে ১২ ডিসেম্বর ২০০৪ রবিবার সকালে আমাদের পরিবারের মুরারি নিয়াজুল রসুল করিম তপন দাস এসেছিল। হয়েছে কবিতাপাঠ এবং আলোচনা। নিয়াজুলের ছেলেও এসেছিল তার আঁকা কিছু কার্টুন নিয়ে। কাটোয়া থেকে বাইক চালিয়ে তপন রায় এসে উপস্থিত হয়েছিল। তপনের কাছে জানা গেল ও পুলিশ লাইনে  একটা ফ্ল্যাট পেয়েছে। পরিকল্পনা হল ওর ফ্ল্যাটে প্রতি মাসে একদিন করে বসা যাবে। সেই পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়নি। কিন্তু পরের বছর বর্ধমান বইমেলার দিনগুলোতে আমি ওই পুলিশ আবাসনের ফ্ল্যাটে ছিলাম। সে-গল্প অন্য কোনো দিন। আর এবারের ব্যাঙ্কের গেস্ট হাউসটি পাওয়া গিয়েছিল দীপ সাউ-এর সৌজন্যে বা ব্যবস্থাপনায়।

বর্ধমান বইমেলার অনুষ্ঠান মঞ্চটির নামকরণ হয়েছিল ' কোজাগর '। রবিবার বিকেলে সেখানে বসেছিল সাহিত্য-আড্ডা এবং কবিতাপাঠের আসর। আড্ডায় অংশগ্রহণ করেছিল : দীপ সাউ মুরারি সিংহ মানব চক্রবর্তী তুষার প্রধান প্রকাশ দাস এবং আমি। সঞ্চালক : শ্যামলবরণ সাহা। কবিতাপাঠ করেছিল মুহম্মদ মতিউল্লাহ্ অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় গৌরাঙ্গ মিত্র সহ আরো বেশ কয়েকজন স্থানীয় কবি।মানব চক্রবর্তী তার গল্পলেখার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছিল।

বর্ধমান বইমেলা মানে দীপ সাউ-এর একটা বিগসপার। যেটি দীপ তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসতো।এই বিগসপারে আসতো দুটি ফ্লাক্স। চায়ের কিংবা কফির। একটা না-চিনি । যেটা মুরারি এবং আমার জন্য। অন্যটি হ্যাঁ-চিনি। অন্যান্য অভ্যাগতদের জন্য। শেষদিনে মুরারি-র স্ত্রী মঞ্জু গরমগরম সিঙারা এবং নরম নরম চিত্তরঞ্জন নিয়ে এসেছিল। 

দীপ-পুত্র পর্জণ্য নিজের ক্যামেরায় স্টলের ছবি তুলেছে। আর মুরারি কন্যা অনন্যা কবিতাপাক্ষিকের জন্য কবিতা দিয়েছিল আমাকে।

 মেলার মাঠ থেকে সাধনপুর হাউসিং প্রায় তিন কিলোমিটার। তখন রিক্সা ভাড়া ছিল কুড়ি টাকা। রোজ রোজ কেন দেওয়া হবে ! ঠিক হয়েছিল আমাকে গেস্ট হাউসে পৌঁছে দিয়ে প্রতিদিন দীপ আর মুরারি হেঁটে গেছে সাধনপুর হাউসিং।

শেষ দিন মেলায় উপচে পড়া ভিড় । রাত ৯ টার পর আমার কাজ বা দক্ষতা। বই-এর পেটি বাধা এবং নির্দিষ্ট জায়গায় পেটি রেখে আসা।।দীপ-এর বাড়ি থেকে আসা বসার টুল , কিছু বই সব একটা রিক্সায় তুলে দেওয়া হল। দীপ বেরিয়ে পড়ল সেই রিক্সা নিয়ে। মুরারি ফিরল আমাকে গেস্টহাউসে পৌঁছে  দিয়ে সাধনপুর হাউসিং।

আমার কাছে বইমেলা মানে ছিল নতুন কবিদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং যোগাযোগ বাড়ানো। শুধুমাত্র কবিতাযাপনের একটা পর্ব হল বইমেলা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শব্দব্রাউজ ১৫৩। নীলাঞ্জন কুমার

  শব্দব্রাউজ ১৫৩। নীলাঞ্জন কুমার শব্দব্রাউজ ১৫৩। নীলাঞ্জন কুমার তেঘরিয়ার বিপাশা আবাসন কলকাতা  ১৬।৪। ২১ সময় সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট । মনের দুয়ার...