বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২০৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৬.

কবিতাপাক্ষিক ৩০০ সংখ্যা প্রকাশ উপলক্ষে কবিতাউৎসব হয়েছিল ২০ মার্চ ২০০৫ , বহরমপুরের ঋত্বিকসদনে। 

আমরা , শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় বিশাল ভদ্র সৌমিত্র রায় এবং আমি , বহরমপুর পৌঁছেছিলাম একদিন আগে। ১৯ মার্চ ।সকালে। ধর্মতলা থেকে শিলিগুড়ির বাস ধরেছিলাম।  নাসের হোসেন গিয়েছিল ১৮ মার্চের ভাগীরথীতে। নিয়ে গিয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ৩০০ -র ৫০ কপি। আর আমাদের সঙ্গে গিয়েছিল আরো ৭০ কপি।

সকাল ৮টায় কৃষ্ণনগর পৌঁছে নাসের-কে জানিয়েছিলাম শিলিগুড়ির বাসে যাচ্ছি। বাসস্ট্যান্ডে নাসের আমাদের রিসিভ করেছিল। আমরা প্রথমে গিয়েছিলাম নারানদার চা-দোকানে। পাশেই পরিতোষের রেডিমেড পোশাকের দোকান। ওখানে কবিতাপাক্ষিকও বিক্রি হয়। ওখানেই কবিতাউৎসবের ব্যানার লাগানো হল। শান্তনু মুজিবর রহমান এবং আমি , তিনজনের তৎপরতায়।

বহরমপুরে আমাদের স্থায়ী একটা থাকার ব্যবস্থা আছে, সেটা WBSEB গেস্টহাউসে। এটা সম্ভব হয় সন্দীপ বিশ্বাসের ব্যবস্থাতে। ওখানে আগেই নাসের আগেই রেখে গিয়েছিল আগের দিনে আনা পত্রিকার প্যাকেট।

সবাই মিলে গেস্টহাউসে পৌঁছনোর পর নাসের আর শান্তনু বেরিয়ে পড়ল পায়রার খোঁজে। বেশ কয়েকটি পায়রার দোকানে খোঁজখবর করার পর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল লোকনাথ মন্দির এবং অশোক সিনহার। বহরমপুর বাসস্ট্যান্ডে ট্রেকারগুলো যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে , তার পাশেই এই মন্দির। মন্দির সংলগ্ন জায়গাটি অনুচ্চ পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। ভিতরে একটা বড়ো আমগাছ। গাছের ওপাশে একটি বাঁশের তৈরি মাচা।মাচায় দুজন বসে । এপাশে পায়রা থাকার কাঠের বাসা । বছর তিরিশের যুবক অশোক সিনহা। একহাতে চোট লেগেছে। অশোক-কে জানানো হল কাছেই ঋত্বিক সদনে কবিতাপাক্ষিক ৩০০ প্রকাশ উপলক্ষে কবিতাউৎসব আগামীকাল রবিবার।

সেদিন সকাল ১০টায় ঋত্বিকসদনের সামনে থেকে তিনটে সাদা পায়রা ওড়ানো হবে , সেই পায়রাগুলো যদি এখান থেকে পাওয়া যায় , ভালো হয়। 

অশোক সিনহা সব শুনলেন , বললেন : নিয়ে যাবেন তিনটে সাদা পায়রা। উড়িয়ে দেবেন। ওরা মন্দিরেই ফিরে আসবে। কোনো টাকাপয়সা দিতে হবে না। 

নাসের -শান্তনু যখন ফিরেছিল গেস্টহাউসে তখন আমরা খেতে চলে গিয়েছিলাম বহরমপুর লজে।ওরা অপেক্ষা না করে পৌঁছে গিয়েছিল বহরমপুর লজের খাবারঘরে। অতএব একত্রেই মধ্যাহ্নভোজন।

শনিবার সন্ধেতে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকের বহরমপুরে আসার কথা। কাটোয়া থেকে যারা আসবে তাদের খাগরাঘাট স্টেশন থেকে আনতে গেল সমরমাস্টার আর স্বপন দত্ত , মাস্টারের স্কুটারে।নাসের মৃণাল এমদাদউল মুরারি বাসস্ট্যান্ডে গেল শৌভিকদের জন্য। সন্দীপ সৌমিত্র শান্তনু আর আমি গিয়েছিলাম বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে।ট্রেনে আসার কথা : শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় নমিতা চৌধুরী ঠাকুরদাস এবং দেবাশিস দুই চট্টোপাধ্যায়ের , তাছাড়া রতন দাস গৌরাঙ্গ মিত্র ইন্দ্রাণী দত্তপান্না এবং শিখা-র।

জপমালা আর তপন উঠেছে ওদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে। মৃণাল নিয়ে গেল সার্কিটহাউস এবং পি এইচ ই বাংলোয় যাঁরা থাকবেন তাঁদের।সার্কিট হাউসে থাকলেন উত্তরবঙ্গের অশেষ দাস শৌভিক সহ  দেবাশিস রতন আর বিশাল। কাছেই পি এইচ ই-তে থাকার ব্যবস্থা হল একতলায় গৌরাঙ্গ ও শিখার। দোতলায় নমিতা চৌধুরীও ইন্দ্রাণী দত্তপান্নার। আর WBSEB -র গেস্টহাউসে শুভাশিস শান্তনু মুরারি সৌমিত্র  ঠাকুরদাস এবং আমি। রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছিল এমদাদউল তার এক বন্ধুর হোটেলে। 

এই যে আমি এত কথা লিখছি , তা কিন্তু স্মৃতি থেকে নয় , সবটাই নাসের-এর লেখা থেকে কপি করছি।

এই কপি চলতে থাকুক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নস্টালজিয়া ৩২ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

  নস্টালজিয়া ৩২ পৃথা চট্টোপাধ্যায় নস্টালজিয়া ৩২ পৃথা চট্টোপাধ্যায়  আমার শৈশবের বেশ কিছুটা সময় কেটেছিল সাগরদিঘিতে। বাবা তখন ওখানে  বিডিও অফিস...