সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২১৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

 সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১৭.


অনেক কবি , মহাকবি , হাফকবি অতীব গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন : কবিদের পত্রিকা হবে অনিয়মিত তথা ক্ষণস্থায়ী । তাঁদের যুক্তি নিয়মিত ব্যাপারটির সঙ্গে কলুর বলদের যতটা যোগাযোগ , সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে ঠিক ততটাই বিরোধ। অর্থাৎ কবিদের পত্রিকা বা লিটল ম্যাগাজিনের দীর্ঘকাল প্রকাশের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো বাধাধরা নিয়ম থাকবে না। অনিয়মিত , এই কনসেপ্টটা -কে প্রমোট করার কারণ নিজেদের অক্ষমতা । আরো একটা গোপন কারণও আছে । সেটি হল , তাঁরা মনে করেন লিটল ম্যাগাজিন হল গাদাবোট , কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে বা নোঙর করেছে প্রতিষ্ঠান নামক আলোকোজ্জ্বল জাহাজটি , কবিদের লক্ষ্য লিটল মাগ্যাজিন নামক গাদাবোটটি ব্যবহার করে দৃরে নোঙর করা জাহাজটিতে ওঠা। এই কার্য সুসম্পন্ন হবার পর আর পত্রিকাটি প্রকাশের প্রয়োজন কোথায় !

কিন্তু আমাদের কবিতাপাক্ষিক-কে আমরা কখনোই লিটল ম্যাগাজিন মনে করিনি।  মনে করেছি প্যারালাল প্রতিষ্ঠান । কাজেই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান একটি কাজ তার নিজস্ব পাঠক তৈরি করা। এই কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা কলকাতায় বসে লেজ নাড়ালে সম্ভব নয় । সরাসরি পাঠকের কাছে পৌঁছুতে হবে। একারণে প্রায় প্রতিমাসে বহরমপুর , বাঁকুড়া কাটোয়া বর্ধমান গেছি , নিজের তাগাদায়। অধিকাংশ সম্পাদক , কলকাতার , তাঁরা কলকাতা থেকেই সমস্ত পশ্চিমবঙ্গকে কন্টোল করতেন। আর তাঁদের তাঁবেদাররা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকত। তাদের একটু-আধটু নেকনজরে বা কৃপাদৃষ্টিতে তাকাতেন , তাঁরা ধন্য হতেন। তিনি বছরে একবির-দুবার তাঁর অনুজদের  ঠাকুর বা মহাকবি দর্শনে নিয়ে আসতেন কলকাতায়। অনুজরা তাঁকে পয়সা খরচ করে নিয়ে আসতেন । মহাকবি দর্শন করে ধন্য হতেন। 

আমিই প্রথম এই রীতির বিপরীতে গেলাম। আমি সরাসরি যোগাযোগ করলাম জেলার কবিদের সঙ্গে। দিন এবং সময় স্থির করে পৌঁছে যেতে থাকলাম। এই একটা নতুন পরিস্থিতি চালু হল। এরকমটা বেশ কিছুদিন চলতে থাকল।

এই পদ্ধতিতে আমার বিচরণ চলতে থাকল । আমরা ক্রমশ আধুনিকতা থেকে বেরিয়ে এসে পোস্টমডার্নিজম-এর দিকে এগিয়ে যেতে থাকলাম। তরুণতমদের একটা বিরাট অংশ তখন কবিতাপাক্ষিক-এর পরিবারে যুক্ত হয়ে গেল । সেই সময় লক্ষ করলাম আমি যে সপ্তাহে দুর্গাপুর গেলাম তার পরের সপ্তাহে এক তাত্ত্বিক পৌঁছে গেলেন দুর্গাপুর। এভাবেই আমার বহরমপুর যাবার পরের সপ্তাহে তিনি পৌঁছে গেলেন বহরমপুর। 

এখানে একটা অঙ্ক কাজে লাগিয়েছিলেন সেই তাত্ত্বিক। ধরুন , বহরমপুর বা দুর্গাপুরে ১০ জন করে কবি কবিতাপাক্ষিক-এর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দ্যাখা গেল এই ১০ জনের মধ্যে ৮ জন বেশি সুযোগ পাচ্ছে কবিতাপাক্ষিক-এ । তখন টার্গেট হল বাকি ২ জন। সেই ২ জনের সঙ্গে ঘনিষ্টতা তৈরি করে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলতে থাকল। মূল লক্ষ্য পোস্ট-মডার্নিজম থেকে বের করে আনা। 

ক্রমশ তিনিও একদিন বাংলাকবিতার একজন উপদেশক হয়ে উঠলেন। এতে জলপথভ্রমণকেও ব্যবহার করা হয়েছিল। এককথায় ' ছলেবলেকৌশলে ' তিনি কবিতার আপডেট-কে বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন। অ- কবিতাতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তার আরো একটা বড়ো কারণ বাংলাকবিতায় যে নতুন বাঁক  দ্যাখা যাচ্ছিল তাতে আমার কবিতার একটা প্রচ্ছন্ন প্রভাব দ্যাখা যাচ্ছিল , তাকে আটকানোই ছিল মূল লক্ষ্য।

এসব কথা এতদিন বলিনি বা লিখিনি। এখন লিখলাম। লিখতে বাধ্য হলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কিছু বই কিছু কথা ২৬৭ । নীলাঞ্জন কুমার || অন্বীক্ষা । রথীন দাশগুপ্ত । সমাকৃতি প্রকাশ

কিছু বই কিছু কথা  ২৬৭ । নীলাঞ্জন কুমার অন্বীক্ষা । রথীন দাশগুপ্ত । সমাকৃতি প্রকাশ । দেড় টাকা । ' ঘাসের শিশির/  সূর্যকে ডেকে বলে/  আমি ত...