বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা ২৩৯ । নীলাঞ্জন কুমার || জন্ম ছুঁয়ে থাকা মাটি । জগদীশ পাল । ত্রিষ্টুপ

কিছু বই কিছু কথা ২৩৯ । নীলাঞ্জন কুমার




জন্ম ছুঁয়ে থাকা মাটি । জগদীশ পাল । ত্রিষ্টুপ
। পন্ঞ্চাশ টাকা ।


জঙ্গলমহলের লাল কাঁকুরে মাটি ছুঁয়ে থাকা বারোটি কবিতা নিয়ে গঠিত এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো কাব্যগ্রন্থ ' জন্ম ছুঁয়ে থাকা মাটি ' তে কবি জগদীশ পাল আন্তরিকতা,  ভালোবাসার সঠিক সন্ধান দেন । তাই অক্লেশে সাদাসিধে ভাবে লেখেন: ' নতুন বউকে চালতা ফুল দেব/  খোঁপায় গুঁজবে নতুন বউ/  রাতে ছৌ নাচ হবে । ' ( জন্ম ছুঁয়ে থাকা মাটি)  , ' শুনতে পাচ্ছ মাদলের তাল / তার চেয়ে প্রণত হও/  হাঁড়িয়ায়  কুটুম পাতাব ।' ( 'অহংকার ') , ' যে মাটিতে লেগে থাকে/ কৃষক রমনীর শুশ্রূষা/  মায়ের হাতের জলপটির মতো ।' ( আগুন) যেন অসহ্য খরার পর খটখটে মাটির ওপর  বৃষ্টির ভেতর থেকে সোঁদা মাটির গন্ধ পাওয়া যায় ।
                কবি জগদীশ  সেই কবি যে মাটি মেখে মাটির ঘ্রাণ নিয়ে বাঁচতে চায় । তাঁর কবিতাতে অহেতুক জাগলিং এর আহাম্মকি নেই । বড় বেশি মাটিময়,  তার এভাবে  যাপন করার আনন্দ থেকে উঠে আসে তাঁর কবিতা ।
             কবির মাটি মাখা কবিতার ভেতর দিয়ে  কোনো বাড়তি আবেগ কিংবা সহানুভূতি পাবার ইচ্ছা দেখা যায় না। প্রান্তিক অন্ঞ্চলে অবস্থানের ফায়দা তুলতে বহু কবি ' আমি চাষার ছেলে ' কিংবা ' খেতে না পাওয়া কবি  ' বলে বাড়তি আদিখ্যেতা দেখিয়ে কলকাতার কবিদের সহানুভূতি চায় । এই কবি তার যে বিপরীত , কবিতা প্রমাণ করে । জগদীশকে আরো লিখতে হবে,  তাঁর বোধের গভীরতা তাকে সমৃদ্ধ করবে আরো বেশি । সাঁঝবাতি পালের প্রচ্ছদ বইটির মেজাজের সঙ্গে সুপ্রযুক্ত । পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের দিকে তাকিয়ে রইলাম ।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নস্টালজিয়া ৩২ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

  নস্টালজিয়া ৩২ পৃথা চট্টোপাধ্যায় নস্টালজিয়া ৩২ পৃথা চট্টোপাধ্যায়  আমার শৈশবের বেশ কিছুটা সময় কেটেছিল সাগরদিঘিতে। বাবা তখন ওখানে  বিডিও অফিস...