বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

একজন বুড়ো মানুষ-১৬, নিরুপমা বরগোহাঞি, অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস,

 একজন বুড়ো মানুষ-১৬,

নিরুপমা বরগোহাঞি,

অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস,


(১৬)

কিন্তু কেবলমাত্র কাজকর্মের ব্যবস্থায় সুবিধা করে দেওয়ার মধ্যেই কি আজকের মানুষ সন্তুষ্ট রয়েছে? সংসারের ঘরোয়া কাজকর্ম গুলি এখন আর জীবন গুলিকে নীরস এবং গতানুগতিক করে রাখতে পারে না। এখন ঘরে ঘরে রেডিও ,শহরের সর্বত্র সিনেমা হলের প্রাচুর্য,চারদিকে কালচারাল ক্লাব,-শহরে সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন, বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন,নাটক সমারোহ চলতেই থাকে। বিজয় ভরালী  মনে মনে স্বীকার করেন -আজকের মানুষ সত্যিই জীবনটাকে সরস, বৈচিত্র্যপূর্ণ করে রেখেছে ,জীবনটাকে সুন্দর নিখুঁত করে বেঁচে থাকতে জানে।
 কিন্তু তবু, বিজয় ভরালী ভাবেন, এত সৌন্দর্যের ভেতরে, এত নিখুঁত,সুরুচিপূর্ণ জীবনযাত্রার মধ্যে,এত প্রগতি এবং সর্ববিধ উন্নতির মধ্যে তার মন অহরহ কী একটা জিনিস খুঁজে বেড়াচ্ছে ?এত বিরাট অগ্রগতির মধ্যে কী অভাববোধ তাকে এত পীড়িত করে মারছে। বুক ঠেলে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে বিজয় ভরালীর। সেই জিনিসটার নাম বোধহয় হৃদয়।আর -বিজয় ভরালী ভাবলেন, সেই অভাববোধের এক জীবন্ত প্রতীক বোধহয় কমলার এই সুসজ্জিত ,স্বাচ্ছন্দ‍্যপূর্ণ সুন্দর ঘরটি এবং এই সুন্দর ঘরটির সামনের একটুখানি বাগানটির নানা রঙের সুন্দর বিলাতি ফুলগুলি। এই ফুলগুলিও  ঘরটার  মতোই এত সুন্দর, কিন্তু বর্ণই তার একমাত্র সারবস্তু, কোনো গন্ধ নেই, চোখকেই কেবল তৃপ্তি দিতে পারে,সুগন্ধ  বিলিয়ে কোনোদিন কারো প্রাণ পূলক চঞ্চল করে তুলতে পারেনা। কমলার ঘর সঞ্জয় অনেক আরাম দেবে অনেক স্বাচ্ছন্দ দেবে কিন্তু গৃহ প্রবেশের দিন দুটি মানুষ দেখে পেট ভরে খাওয়ানো সঞ্জয়ের মনকে সামান্য একটি ঘরোয়া সুখ-দেওয়ার থেকেও বঞ্চিত করে রাখল কমলা এই বাহ‍্যিক সাজসজ্জার বিনিময়ে আধুনিক যুগের উন্নত মানের মানুষের ঘরের বোধহয় এটাই নিয়ম নতুন ঘরটি নেওয়ার কিছুদিন পরে সঞ্জয় অসুস্থ হল। বড় অসুখ নয় অবশ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ ছিল না সেই জন্য বোধহয় কমলা স্কুল থেকে ছুটি নেওয়ার কোনো আবশ্যকতা বোধ করল না অবশ্য সঞ্জয়ের বাধা সত্ত্বেও সে ডাক্তার ডেকে আনল আজকের দিনে কোন ঠিক নেই কিসের থেকে কি হয়ে যাবে কেউ বলতে পারে না তাই সময়মত সাবধান হওয়া ভালো।
বিজয় ভরালী বাড়িতে থাকার জন্য বোধহয় কমলা স্কুল ক্ষতি করার কথা ভাবলো না যেদিন সঞ্জয়ের প্রায় একশো এক ডিগ্রী জ্বর উঠল কমলা গিয়ে বিজয় ভরালীকে বলল যে সে যতক্ষণ স্কুলে থাকবে ততক্ষণ যেন তিনি সঞ্জয়ের খবর নেন  টেবিলেএকটা বোতলে মিকচার রাখা আছে সে সে নটার সময় এক দাগ খাইয়েছে, তিন ঘন্টা পরে পরে এক দাগ করে খাওয়াতে হবে, তিনি যেন ঘড়ি দেখে খাওয়ান। ফ্লাক্সে গরম জল রাখা আছে খেতে চাইলেই সেখান থেকে দেওয়া যেতে পারে এগারোটার সময় ভাবিত দেবে চিনি দিয়ে পছন্দ করলে চিনি দিয়ে তা না হলে লেবু চিপে নুন দিয়ে খেতে দিলে হবে আরেকটু কথা কমলা বলল টেম্পারেচার টা দুই ঘন্টা পর পর দেখে কাগজে লিখে রাখতে হবে ডাক্তার আবার বিকেলে আসবে তিনি টেম্পারেচার চার্টটা দেখতে চাইবেন। টেবিলে কাগজ কলম যত্ন করে রাখা আছে থার্মোমিটার ও রয়েছে।
 সমস্ত বিধি ব্যবস্থা করে দিয়ে কমলা স্কুলে চলে গেল, কমলা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজয় ভরালী গিয়ে হাজির হলেন সঞ্জয় দেওয়ালের দিকে মুখ করে নিঃসারে পড়েছিল বিজয় ভরালীর পায়ের শব্দে মাথা কাত করে তাকালো মুখে কিছুই বলল না বাবা দেখতে পেল তার চোখ দুটো লাল হয়ে রয়েছে আবার জ্বর বাড়ছে নাকি! তিনি টেবিলের কাছে গেলেন এটি জিনিস টেবিলে পরিপাটি করে সাজানো।জ্বর লেখা চার্টটার উপরে থার্মোমিটার টা রেখে দেওয়া আছে।  বিজয় ভরালী দেখলেন এক ঘন্টা জ্বরের উত্তাপ মাপা হয় গেছে কিন্তু তবু তিনি থার্মোমিটারটা হাতে নিয়ে সঞ্জয়ের কাছে গিয়ে বললেন -'দেখি একবার জ্বরটা।' কিন্তু সঞ্জয় মাথা নেড়ে বলল 'লাগবেনা-'
' কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না কি পোনা?'
'ওহো'- আবার মাথা নাড়লো সঞ্জয় ছেলের জন্য কিছুই করতে না পেরে কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে টেবিলের পাশে থাকা একটা চেয়ার টেনে এনে বিজয়  ভরালী তাতে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণ তিনি এভাবে বসে বসেই ঘরটার চারপাশে তাকালেন রোগীর জন্য ঘরটিকে যে আদর্শ ঘর করে তোলা হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই সমস্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সঞ্জয়ের সবার থেকে প্রতিটি কাপড়ে ধবধবে পরিস্কার রোগির জন্য প্রতিটি জিনিস টেবিলের যত্ন করে রাখা আছে টেবিলে পেতে রাখা ঢাকনিটাও অত্যন্ত পরিষ্কার ।কোনো অবস্থাতেই কমলার কোনো ত্রুটি নেই, বিজয় ভরালী ভাবলেন।
' বাবা তুমি যাও। আমার কিছুই লাগবে না' হঠাৎ একবার দুর্বল কন্ঠে সঞ্জয় বলে উঠল।
'কী বলছ পোনা?'- বিজয় ভরালী কিছুটা অন্যমনস্ক হয়েছিল-'ও' আমার যাবার কথা- কোন অসুবিধা নেই আমি এখানে বসে থাকি, এই বইটাই না হয় পড়তে থাকি -'

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেবেন বাসুদেব দাস

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেবেন বাসুদেব দাস ৩ মার্চ বুধবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় তুলনামূলক বিভাগে রিফ্রেশার্স কোর্সে বক্তৃতা দেব...