রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

গণশত্রু || বিপুল খাটনিয়ার || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ বাসুদেব দাস

গণশত্রু

বিপুল খাটনিয়ার

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ বাসুদেব দাস




(এক)

রুপেন কাকা আমাদের ঠিক নিজের কাকা নয়, কিন্তু তিনি এলে বাড়িটা আনন্দ মুখর হয়ে ওঠে। সব সময় বা এমনিতে তিনি আসেন না, বিহু সংক্রান্তিতে আসেন। বাবার বেঁচে থাকা পর্যন্ত স্থানীয় শিপিনীকে দিয়ে বুনে আনা চার হাতের একটা গামছা বাবার গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে আশীর্বাদ চান, দাদা আশীর্বাদ করুন, প্রতিটি বাড়ির লোকজনের যেন মঙ্গল হয়। মায়ের জন্যও কখনও একটি পাটের চাদর, মেখেলা বা একজোড়া আশি সুতোর চাদর বুনে আনে।কাপড়টা হাতে নিয়ে মা অভিভূত হয়ে পড়েন।'রূপেন, আজকাল কোথায় পাওয়া যায় আশিসুতোর   চাদর ?'

আমরা জানিনা- রুপেন কাকার সঙ্গে আমাদের বাড়ির এই ধরনের আন্তরিক সম্পর্কের সূত্রই বা কি? বাবা কিন্তু মাঝে মাঝে বলতেন, রুপেন কাকা নাকি দুর্দান্ত পরিশ্রমী ছিলেন। ম্যাট্রিক পাশ করে নিজের উপার্জনে স্নাতক ডিগ্ৰি নিয়ে  একটা ছোটখাট চাকরিতে ঢুকেছিলেন। তার পরে আর পেছনে তাকাতে হল না। ক্রমাগত  প্রমোশন পেয়ে বিভাগের প্রধান হয়ে তিনি অবসর নিলেন।যারা চাকরিটাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে নেয় সেই চাকরিজীবীদের জন্য এটা একটি বড় কথা। তবে তার জীবন যুদ্ধে ঠিক কোন জায়গাটিতে বাবা বা আমাদের পরিবার যুক্ত হয়ে পড়লেন তা আমরা বাবা বা কারও কাছ থেকেই জানতে পারিনি। বাবা বেঁচে থাকতে একদিন তিনি সকালবেলা ফোনে চিৎকার জুড়ে দিলেন, ফোন নয় যেন দাঁড়কাক। বাবা শাক সবজির বাগান থেকে বলে উঠলেন -'তোরা সবাই কি মরেছিস? ফোনটা কখন থেকে বেজে চলেছে, ধর তো।‘

ওদিক থেকে অবিরাম কান্নার শব্দ ভেসে আসছে, কণ্ঠস্বরটা বুঝতে পারছি না। মোটকথা বাবাকে চাইছে- এটা বোঝা গেল। সবজি বাগান থেকে বাবা দৌড়ে এলেন। আমরা শুনলাম বাবা চিৎকার করে বলছেন, কি? কখন? কীভাবে?

  ফোনটা রেখে দিয়ে বাবা বেশ কিছুক্ষণ বজ্রাহত কবুতরের মতো দাড়িয়ে রইলেন। তার পরে স্নান করে শুদ্ধ সাদা কাপড় পড়ে এসে বড় দাদাকে বললেন, 'পিনাকী,একটা অটো দাঁড় করাতো, বলবি চলিহা নগরে যাব। অটো না পেলে একটা রিকশাকে দাঁড় করাবি।‘

  'কী হয়েছে, কার ফোন? মা দ্রুত ছুটে এলেন।

‘বৌমা মারা গেছে, রুপেনের ফোন।‘

'কার বৌমা?'

' কেন, সাদরী।'  মা ও স্তব্ধ হয়ে পড়লেন।

' কী হয়েছিল?'

‘কী হয়েছিল বলেনি।মোট কথা তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে। আমাদের ছাড়া ওর আর  আপন বলতে কে আছে? তুমিও পিনাকি বা ছোট ময়নাকে নিয়ে চলে এসো।'

কিছুক্ষণ পরে ছাতিটা হাতে নিয়ে বাবা নেমে গেলেন, একটা অটোর শব্দ শোনা গেল।

(দুই)

ছয় মাস পরে একটা অটো করে রুপেন কাকা আমাদের বাড়ি এলেন। কোনো কাজ না থাকলে বাবা উপরতলায় বেতের চেয়ারটাতে বসে এমনিতেই নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন। রুপেন কাকাকে অটো থেকে নামতে দেখেই ভেতরের দিকে তাকিয়ে আওয়াজ দিলেন- 'এই যে শুনছো, রুপেন এসেছে,ওর জন্যও এক কাপ চা তৈরি কর।'

রুপেন কাকা একেবারে ঘেমে নেয়ে এসেছে, তবু মুখে হাসি।' 

‘হঠাৎ এসে পড়লি যে?’ 

‘দাঁড়ান! প্রথমে একটু বিশ্রাম নিতে দিন। একটা ভালো খবর দিতে এসেছি। আপনার পরামর্শের প্রয়োজন। সারাটা দিন থাকব বলে এসেছি। বৌদি, ভাত হয়ে গেছে নাকি?’

‘ভাত আর কী? খাব বললেই হল।‘ মা জিজ্ঞেস করল, 'চায়ের সঙ্গে আর কিছু দেব কি?' রূপেন কাকা বলল, জানোই তো আমি জিলিপি ভালোবাসি। নিয়ে আসুন, একটা থালায় করে এনে ঢেলে দিন। ওরা কেউ নাই নাকি?’

  রুপেন কাকা বিয়ের খবর নিয়ে এসেছে। কাকার একমাত্র মেয়ে নির্মালী নৃত্য বিশারদা। পাঁচ বছর ধরে একটা নাচের স্কুল চালিয়ে আসছে। অন্য দুটি নামি ইস্কুলের ও পার্ট টাইমার। দেখলেই আদর করতে ইচ্ছা করে এমন মেয়ে। বিয়ের বয়স হয়েছে।... ছেলেও এগিয়ে আসে, কিন্তু  নির্মালী পিছিয়ে যায়। টাকা সম্পত্তি ভালো চাকরি এসব তার কাছে মুখ্য বিষয় নয়। শিল্পের প্রতি ছেলের আগ্রহ থাকতে হবে।

‘ছেলেটি কোথা কার?’

‘আপার অসমের দিকের। পড়াশোনায় ভীষণ মেধাবী ছিল, জীবনে কখনও নাকি দ্বিতীয় হয়নি। বাড়ির কথা জানিনা, মা বাবার  বিষয়েও জানিনা।... আমাদেরই বা কী এমন পিতৃপরিচয়?আপনাদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে!... ছেলেটিও সংস্কারহীন, দেখতে সুন্দর। নির্মালীও পছন্দ করেছে।'

ভাত খেয়ে রূপেন কাকা যখন বিকেলের দিকে চলে গেলেন- বাবাকে আপন মনে মাকে বলতে শুনলাম, দেখলে মেয়েটির ভাগ্য। একেবারে আমেরিকা। ছেলে কথা দিয়েছে- সেখানে নির্মালীকে  গান-বাজনা করার সম্পূর্ণ সুবিধা করে দেবে। নির্মালী বিয়ে ঠিক হওয়ার কথা শুনে মা বোধহয় ভেতরে ভেতরে কিছুটা হতাশ হয়েছে।একবার নাকি বাবাকে বলে দেখেছিল নির্মালীকে আমাদের বড় ছেলের জন্য নিয়ে এলে কেমন হয়? বাবা নাকি বলেছিল, তোমার বড় ছেলে একটা গর্ধভ, টাকা রোজগার করার বাইরে সে কিছু জানে?  নির্মালীকে তুমি চেন না, ও অন্য ধরনের মেয়ে। একেবারে মায়ের মতো।

মা জিজ্ঞেস করল, কীভাবে ঠিক হল?ওতো বিয়ের নামই শুনতে চায় না।

সেও এক সংযোগ। 

রুপেন কাকা বলে যাওয়া কথা।

ছেলেটি একটা গবেষণাগারে ফেলোশিপ নিয়ে কাজ করছিল। এক বছর পরে সেখানে একটা চাকরি বের হওয়ার কথা। গাইড বললেন এখন পর্যন্ত যতটুকু কাজ হয়েছে তার ভিত্তিতে দুটি প্রবন্ধ লিখে বাইরে পাঠিয়ে দাও। দাঁড়াও আমি জার্নালের নাম বলছি। কেবল ছাপা হলেই তো চলবে না, গুণীজনের  হাতে গিয়ে পড়তে হবে। এই ধরনের জার্নালে দুটি প্রবন্ধ প্রকাশ পেলে চাকরিটা পেতে সুবিধা হবে।

তারপরে তিন চার মাস পার হয়ে গেল।

হঠাৎ একদিন ওয়েবসাইট খুলে ছেলেটির গাইড চিৎকার করে উঠলেন। ওয়েল রক্তিম, ইধার আও ভাই। সী,হোয়াট ইজ রিটেন হেয়ার ফর ইউ?... এরকম একটি অফার পেলেই গবেষণাগারের যেকোনো স্তরের একজন বিজ্ঞানী পরেরদিনই ক্যালিফোর্নিয়ার রওনা হবে।... ইন্ডিয়ান কারেন্সিতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা বেতন। তার উপর ভিসা, আসা যাওয়ার ব্যবস্থা, ভবিষ্যৎ নাগরিকত্ব ইত্যাদি সবকিছুর দায়িত্ব কোম্পানিই নেবে।… আই সে মেকআপ ইউর মাইন্ড। সুবিধা বারবার আসেনা।

তবে ছেলের মা বাধা দিল। এবার বাবার কথা শোনা গেল, আগেও নেই পরেও নেই,একটা মাত্র ছেলে, সেও সাত সাগর তের নদীর পারে চলে যাবে।

' মত দিয়েছে?'

‘কেন দেবে না? মায়ের কেবল  কথা হল, ছেলেকে বিয়ে করে যেতে হবে। কানি হোক কুঁজী হোক- তার কিছু বলার নেই। তবে একটা মেয়ে কি নৈনিতালের আলু না নাসিকের পেঁয়াজ?  পয়সা ছুঁড়ে দাও আর বেগ মেলে ধর।

‘তাহলে?’

'সেটাইতো কথা।' বাবা স্তব্ধ হয়ে রইলেন।

(তিন)

`নির্মালীর বিয়েতে আমাদের গোটা পরিবার হুমড়ি খেয়ে পড়ল। বাবা তো সকালে যায়, রাত সাতটা আটটায় ফিরে আসে।

' এই বয়সে আপনার ক্লান্ত লাগেনা?' ভেতর থেকে মায়ের কন্ঠ ভেসে আসে।

'তুমি কি একটি মেয়েরও জন্ম দিয়েছিলে?' কেবল ছেলে দুটি। ছেলে দুটির একটিও আবার মানসিকভাবে সুস্থ নয়। একটি পাগল টাকার পেছনে, অন্যটি পাগল খেলার পেছনে। নির্মালী, সে তো আমাদের মেয়ের মতোই। আর রূপেনের কথা একবার ভেবে দেখ তো,  মাতৃহীনা বিয়ের উপযুক্ত একটি মেয়েকে বাড়িতে রাখা আর জ্বলন্ত এক টুকরো কাঠকয়লাকে আঁচলে বেঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো একই কথা। 

‘খারাপ তো লাগেই।’মায়ের কন্ঠস্বর পুনরায় ভেসে এল। রূপেন একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে যাবে। মেয়ে জামাই তো  আসতে বললেই আসতে পারবে না। কিবা চাকরি কিবা তার নিয়ম কানুন। আমেরিকা যাত্রার আনুষ্ঠানিক নিয়ম কানুনগুলি সম্পন্ন করার জন্য রক্তিম অর্থাৎ ছেলেটি গুয়াহাটিতে এসেছিল। সারাটা দিন সচিবালয়, পাসপোর্ট অফিস, ডিজিপি অফিস এইসব গুলিতে ঘোরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। সুশান্ত নামের তার একটি বন্ধু আছে, সেই সন্ধ্যেবেলা শুক্লেশ্বর নিয়ে গেল।…. বিশাল সূর্যটা লুইতের রক্ত মেশানো জলে ডুবে যাচ্ছে, জল থেকে দূরে সরে যেতে চেষ্টা করা মেঘের টুকরোটা বেশি লাল হয়ে উঠেছে সেও ক্রমশ নিষ্প্রভ হয়ে যেতে চলেছে। কেবল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বক্ষে নীরবে ভেসে চলা মাছ ধরা নৌকা গুলি।

' ভালো লাগছেনা।' রক্তিম বলল।

' স্বয়ং আইনস্টাইনকে এই রঙের সমাহার ভাবুক করে তুলত।’ সুশান্ত খিল খিল করে হেসে উঠল। বলল, শকুন্তলার সন্ধানে অস্থির হয়ে পড়েছিস। এখন তোকে বনের হরিণ, পেখম ধরা ময়ূর,লম্বা গলার রাজহাঁস ইত্যাদি কোনোকিছুই মন ভোলাতে পারবে না।... আচ্ছা,এক জায়গায় যাই চল।মন  না ভরলেও দেড় দুই ঘন্টা কাটিয়ে আসতে পারবি। তারপরে ঘুমোতে যাবি ঘুম না হলে একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ দেওয়া কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য স্লিপিং ট্যাবলেট আছে। হবে তো?'

' ড্রাগস নাকি?'

' না ড্রাগস নয়। কিন্তু গিলবি সঙ্গে সঙ্গে ঘুমে কাদা।'

এক জায়গায় একটা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রথম না দ্বিতীয় কার্যসূচিতে ছিল ভারতনাট্যমের আধারে সংগঠিত একটি আধুনিক নৃত্য। নির্মালী অদ্ভুত সুন্দর নেচেছিল ।ক্লান্ত  দুষ্মন্ত  থমকে দাঁড়াল, সুশান্তকে জিজ্ঞেস করল, কে এই নারী? কে এই আশ্রম দুহিতা? গীতের রাগের আভাস সে পেয়েছে- বাগেশ্রী। মন্দিরে মন্দিরে দেবতার খুঁজে উন্মাদিনী সে নারী।…

' তুই তো দেখছি আইনস্টাইনের সারির বিজ্ঞানী!' সুশান্ত ঠাট্টার সুরে বলল আইনস্টাইনেরও নাকি সুর তালের গভীর জ্ঞান ছিল, তিনি নিজে গান লিখেছিলেন। একবার আত্মহারা হয়ে নাকি স্বয়ং বিঠোফেনকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। সেও দুষ্মন্তের হৃদয়ের অযুত কামনা বাসনাকে দিশেহারা করে তোলার জন্যই যেন এতদিন তিল তিল  করে নিজেকে সাজিয়ে তুলেছিল।

বিছানায় ছটফট করতে থাকা রক্তিমকে সুশান্ত নীল রঙের একটি বড় ট্যাবলেট দিয়েছিল। সে খেল না, সকাল পর্যন্ত জেগে রইল।

ঠিকানাটা পেতে দেরী হল না ।সন্ধ্যেবেলা অন্য কাজগুলো শেষ করে  সে সেই বিশেষ গলিটা খুঁজে বের করল। চারপাশে দুর্গন্ধ, ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘর, মাঝখানে একটা জরাজীর্ণ দোতলা বাড়ি। বোঝা যায় ভাড়া ঘর। ভেতর থেকে নূপুরের ধ্বনি ভেসে আসছিল। দরজা খুলতেই নির্মালীর উপরে তার চোখ পড়ল, বিদ্যুৎ চমকে যেন তার চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। 

‘আপনি কাকে খুঁজছেন? আমি কিন্তু আপনাকে চিনতে পারিনি। মেপে জোকে  কথা বলে নির্মালী।

' আমি কিন্তু চিনতে পেরেছি।গত রাতে আপনার নাচ দেখেছি।’

' সেটাকেই পরিচিতি বলতে চাইছেন নাকি?' নাচ শিখতে আসা মেয়েদের বিদায় দিয়ে নির্মালী বলল, আসুন, ভেতরে চলে আসুন।

ওরা বসল। নির্মালি পায়ের নুপুর জোড়া খুলে রাখছিল, রক্তিম জিজ্ঞেস করল, আপনার পরিবারে আর কে কে আছে?

' বাবা আর আমি।'

' আর কেউ নেই?'

' মা আছে,  ওই যে।'তার দু'গাল বেয়ে জলের ধারা নেমে এল।

এই চোখের জল দেখার পরে রক্তিম আর তার বিষয়ে বিশেষ কিছু জানার প্রয়োজন অনুভব করল না।

' আপনার বাবা ঘরে আছেন?'

'এখনই আসবে। কিন্তু বাবাকে কী প্রয়োজন?'

সামান্য সময় চুপ করে থেকে রক্তিম বলল, উনার সঙ্গে আমি বিয়ের কথা বলতে চাই।

নির্মালী শিঁউরে উঠল, বিয়ে, কার বিয়ে?'

' আমি গতকাল আপনার নাচ দেখেছি এবং আজ আপনার কথাবার্তা শুনলাম।'

নির্মালী চট করে ভেতরে চলে গেল। সে আর বাইরে বেরিয়ে এল না। শকুন্তলার বন্দিনী জীবন আরম্ভ হল।

(চার)

মাঘ বিহুর  দিন রুপেন কাকা সকালে এসে উপস্থিত হল। অনেক চুল পড়ে গেছে বলে মনে হল, কিছুটা রোগাও হয়েছেন, মুখ কিন্তু আগের মতোই হাসিতে ভরা। বাবা ইতিমধ্যে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। তবু মা রয়েছে, রুপেন কাকা মাকেও কম শ্রদ্ধা ভক্তি করে না।

'কী খবর, নির্মালী কেমন আছে?' বাবার শূন্য চেয়ারটা বাড়িতে থাকা একমাত্র ছেলে হিসেবে এখন আমিই পূরণ  করি,অতিথি অভ‍্যাগতদের সঙ্গে কথা বলি 

মাও এসে এই সমস্ত কথা বার্তায় যোগ দেয়।

'কে নির্মালী?' 

‘কেমন আছে সে?’ মা জিজ্ঞেস করল।

‘ফোনেই দেখা হয়। বলে, ও নাকি স্বর্গে বাস করছে। দেশটা নাকি স্বর্গ। গত মাসে দুশো ডলার পাঠিয়েছিল। আমাদের হিসেবে প্রায় নয় হাজার টাকা।… না না, জামাইয়ের উপার্জন নয়।ও নাকি সেখানে একটা নাচের স্কুল খুলেছে। ভারতীয় ক্লাসিকাল নাচগানের সেখানে নাকি খুব আদর। জামাই থাকে সেখান থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে। কিছুটা দূর হেলিকপ্টারে যায় তারপরে নাকি জাহাজে যেতে হয়। আমাকেও যেতে বলছে, কিন্তু সাদরীকে  ফেলে রেখে কীভাবে যাই?' সাদরী মানে রূপেন কাকার স্ত্রী। বছর হিসেবে পাঁচ বছরেই হয়েছে। তার ভাড়া  ঘরের পোটিকোর দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা আছে সেই ছবি। রূপেন কাকার সমগ্র অন্তর জুড়ে রয়েছে কাকিমার স্মৃতি। তিনটি ঘরের ছোট ঘরটি, সংকীর্ণ বারান্দা, ছোট রান্নাঘরটা - সব জায়গাতে যেন ছড়িয়ে আছে কাকিমার শ্রম ক্লান্ত দেহের গন্ধ। না পারবে না, একদিনের জন্য ও রূপেন কাকা এই বাড়ি ছেড়ে যেতে পারবে না। তার মনটা বিষাদে ভরে উঠল।

(পাঁচ)

কিছু কথা বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে না, যেমন সাদরী কাকিমার সঙ্গে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ত্রিশটা বছর কীভাবে কেটে গেল, রুপেন কাকার বিশ্বাস করতেই ইচ্ছে করে না। কাকিমার মৃত্যুর দিন সে কথা বলে বলে হৃদয় উজার করে রূপেন কাকা কাঁদছিল। তাদের মধ্যে একদিনও কোনো কথা নিয়ে সামান্য ঝগড়াঝাঁটি হয়নি।একমুখ হাসি নিয়ে মানুষটা কাকার সংসারে এসেছিল। হাসি আর আনন্দে পরিবারটা ভরে রেখেছিল এবং প্রায় কোনো কিছু না জানিয়ে নিঃশব্দে চলে গেল।…

একদিন বিকেলবেলা কোথা থেকে ঘুরে এসে রুপেন কাকা দেখল, সাদরী কাকিমা যেন পুনরায় সংগোপনে এসে প্রায় নির্মালীর রূপ ধরে তার জন্য বন্ধ ঘরের দরজা মেলে ধরেছে, কিছুক্ষণ পরে তার সন্দেহ দূর হল, সাদরী কীভাবে হবে, এ তো দেখছি নির্মালী! কোনো খবর নেই, একটা ফোন কল নেই। কোথায়? জামাই কোথায়?সেও তো খবর একটা দিতে পাঁথায়?

'খবর আমি কাউকে দিইনি।' কাকা কিছুটা শান্ত হওয়ার পরে নির্মালী সহজ ভাবে বলল, ওকেও সেভাবে খবর দিইনি, কয়েকটা মাত্র সারি ইন্টারনেটে পাঠিয়ে এসেছি।

পতি পত্নীর কথা।- কোনো একটি বিষয়ে মতের অমিল  হয়েছে। টেবিলের সামনে মুখোমুখি বসে আলোচনা করা উচিত ছিল । রূপেন কাকা  স্তব্ধ হয়ে রইলেন, শকুন্তলার আংগুল থেকে নদীতে খসে পড়া আংটি কি দুষ্মন্ত  কখন ও ফিরে পাবে!

(ছয়)

তিন মাস পরে রুপেন কাকা এসে উপস্থিত হলেন। এইবার সঙ্গে সাদা বকের মতো কাপড় পরা নির্মালী। এখন মাও নেই যে - সে  সোজাসুজি ভেতরে গিয়ে মায়ের সঙ্গে কথার ফুলঝুরি ফোটাবে।

বাইরের ঘরে কাকা,নির্মালী  এবং আমি। আমি জিজ্ঞেস করছি, মাঝেমধ্যে কাকা ছোট ছোট উত্তর দিচ্ছে। নির্মালী মৌন হয়ে বসে রয়েছে- যেন তার বলার কিছু নেই, সমস্ত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার বাইরে সে এক নিষ্প্রাণ মূর্তি।

ধবধবে সাদা পোশাকে নির্মালীকে  অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছিল। আগের থেকে রোগা হয়েছে। হয়তো নিয়মিত নাচের অনুশীলন তাকে মেদ মুক্ত করে  পুরোপুরি আঁটোসাঁটো করে তুলেছে।

' রক্তিম এখন কোথায়?'

' আমাকে জিজ্ঞেস করছ, আমাকে?' নির্মালি যেন চমকে উঠল।

রুপেন কাকা ইতিমধ্যে উঠে গিয়ে বারান্দার বেতের আরাম কেদারায় বসেছেন। সেখানে বসে বসে বাবা প্রায়ই রাস্তার মানুষ দেখে দেখে সময় কাটাতেন।

' আজ আমার সঙ্গে এক জায়গায় যেতে পারবে? মনে কর ভুবনেশ্বরী বা গান্ধী মন্ডপ। যাবে?' নির্মালী এক হাত দিয়ে আমার একটা হাত খামচে ধরল।

'সেটা আমার প্রশ্নের উত্তর হল কি?'

নির্মালী আপন মনে বলল, গান্ধী মণ্ডপ থেকে লুইতের দিকে তাকালে গুয়াহাটি শহরটাকে ভেনিস বলে মনে হয়।... আমি একা গোটা ইউরোপ ঘুরেছি।

বুঝতে পারলাম নির্মালী  রক্তিমের প্রসঙ্গ থেকে দূরে থাকতে চাইছে। আমি মৌন হয়ে রইলাম।

'মানুষের জীবন কি কেবল বিবাহিত জীবনটা?' আমার মৌনতার জন্যই হয়তো নির্মালী পুরোনো প্রসঙ্গে ফিরে এল। সে বলল এর বাইরে মানুষের একটা নিজের জীবন থাকে অথবা নিজের ভালো লাগা না লাগা বিষয়টা জীবনের কোনো একটি অংশে জড়িত হয়ে থাকতে পারে। যেভাবে তোমার মনোজগৎ খেলাময়, খেলার নেশা বাদ দিয়ে তুমি বেঁচে থাকতে পারবে? আমিও এখানে এসেই নাচের স্কুলটা পুনরায় আরম্ভ করেছি, কুড়ি জনের মতো ছাত্রী হয়েছে। বেশি হলে একা সামলাতে পারব না।'

'কেন, তোমার ক্যালিফোর্নিয়ার নাচের স্কুলটা? রক্তিমও তো বাধা দেয়নি। তোমার উপার্জনও খারাপ ছিল না। নির্মালী ইতস্তত করে বলল,' ওটাতে তালা ঝুলিয়ে এসেছি।'.

' কেন? ফিরে যাবে না?'

' ওকে এক মাসের সময় দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, এই দেশ ছেড়ে  চলে যাই চল। নিজের দেশের ছোট হলেও একটা চাকরি জোগাড় করে নিতে পারবে।' নির্মালী বলল, আমার বিশ্বাস জন্মেছিল- দেরি করলে হয়তো ইচ্ছা করলেও সেই দেশ ছেড়ে আসতে পারবে না।… এক মাস অপেক্ষা করলাম, আরও দুমাস পার হয়ে গেল। প্রতিদিন ওয়েবসাইট খুলে দেখি। এক বার, দুবার, কখনও একটা  সম্পূর্ণ দিন অপেক্ষা করে থাকি। অবশেষে তিন মাস পর্যন্ত ওর কাছ থেকে কোনো উত্তর এল না।... শেষে আমার বিশ্বাস জন্মাল, ওর মতো মানুষ পেছনে ঘুরে তাকাতে শেখেনি। 

নির্মালীর কথাগুলি আমার মতো মূর্খের মগজে ঢুকল না। পৃথিবীর সবচেয়ে ঐশ্বর্যশালী দেশের একটি অত্যাধুনিক বিজ্ঞানাগার যেখানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শ্রেষ্ঠ মস্তিষ্কের সমাবেশ ঘটেছে- সেখান থেকে কোন অন্তবর্তী গ্রামের কচু- ঢেকীঁয়া খেয়ে বিকশিত হওয়া সেই ছেলেটির জন্য নির্মালীর সামান্য ভালোলাগা না লাগার কতটা মূল্য থাকতে পারে?

নির্মালী  নিজেই রান্না ঘরে ঢুকে গেল। ডিবে,চা পাতা, ছাকনি- এসব মা রেখে যাওয়ার মতোই রয়েছে। মনে হল, নির্মালী হাতের কাছেই সব খুঁজে পেয়েছে। আমাকে ভেতরে না ডেকেই সে তিন কাপ চা এবং রুপেন কাকার জিলিপির প্যাকেটটা নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল।

' বাবা এসো, চা দিয়েছি।'

চায়ের আগে রুপেন কাকা একটা জিলিপি  তুলে নিল। তিনি বলতে আরম্ভ করলেন, বুঝেছ স্বপন, এত করে বললাম তুমি পরীক্ষাটা দিলে না। তোমাদের সঙ্গের কী গগৈ যে (আমি নামটা মনে করিয়ে দিলাম ), ও  সত্যব্রত গগৈ যে- সে এবার ইয়ে, মানে ইয়ে( ভুলে যাওয়াটা কাকার এখন প্রায় অসুখে পরিণত হয়েছে, আমি বললাম, ইয়েস স্যার!), বদমাশি করছ, কাকা হেসে বললেন, ইয়েস স‍্যার নয়, আই-এস,আই-এস পেয়েছে। তুমি এখন কী করবে বলে ভেবেছ?

করার মতো একটা কাজ আমিও খুঁজে পেয়েছি।

কিন্তু রুপেন কাকাকে বলব কি?

(সাত)

চা খেয়ে কাকা পুনরায় বারান্দার বেতের চেয়ারটায় গিয়ে বসলেন। আমি পুনরায় মাথা তুলে নির্মালীরর দিকে তাকালাম। বিদেশে যাওয়ার পরে অনেক কিছুই হয়। তাদের মতো বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চলা আমাদেরও কেউ কেউ গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে যায়। হয়তো তার জন্যই নির্মালি এবং রক্তিমের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে চলেছিল। কিন্তু নির্মালীর মতে মাসের ত্রিশ দিনই রক্তিম বিজ্ঞানাগারে ব্যস্ত থাকে। মাসের ভেতরে অথবা বছরের শেষে বিধিগতভাবে  পাওয়া ছুটিগুলিও রক্তিম দুই বছর ব্যবহার করে নি। হয়তো এই ধরনের অমনোযোগিতাই নির্মালীকে অতিষ্ঠ  করে তুলেছিল। ও তো বলেছেই  একা একা ইউরোপ ঘুরে বেরিয়েছে বলে!-ওদের  সংসারের ভেতরে ঢুকব কি?

' আমি বুঝতে পারছি তুমি আমার কাছ থেকে কি জানতে চাইছ!' নির্মালি কিছু কথা বলার জন্য যেন প্রস্তুত হয়ে নিল, বিয়ের আগেই আমি তার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিলাম- তিনি আমার একটিমাত্র স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না, নৃত্য আমি ছাড়তে পারব না।

'কেবল নৃত্যের জন্যই আমি বিয়ের প্রস্তাবে এগিয়েছিলাম।' তিনি বলেছিলেন।

' তাহলে?'

' ধীরে ধীরে আমার মনে হল,  কেবল হবি বা নিজের ভালোলাগা না লাগাও প্রাচুর্যের মতো শেষ কথা হতে পারে না। আরও কিছু একটা যেন আছে যাকে সভ্য সচেতন মানুষ কখনও ত্যাগ করা উচিত নয়।'...

কথাগুলি এখন আমার কাছে আরও দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে।

  ওদেশে গিয়েই রক্তিম আমাকে একটা কম্পিউটার কোর্সে নাম লিখিয়ে দিয়েছিল, প্রথমে বেশ মজা বলেই মনে হয়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের বন্ধ ঘরগুলি খুলে যেতে লাগল।... তাল-মান, ছন্দ-লয়, দেহের ভঙ্গিমা এবং চোখ মুখের অভিব্যক্তি-অভিনয়। এই সমস্ত কিছুই কম্পিউটারে শুদ্ধ করে সাজিয়ে গুছিয়ে নেওয়া যায়।... ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং নৃত্য কলা কে একাকার করে আমি ব্যস্ত হয়ে থাকি।'

একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নির্মালী পুনরায় বলতে শুরু করল, একদিন নৃত্যের বদলে মনিটরে কিছু আশ্চর্য সাংকেতিক বাক্য ভেসে এল, বুঝতে পারলাম, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে রক্তিম সর্বদা অত্যন্ত যত্নসহকারে রাখা একটা মাইক্রোচিপস ফেলে রেখে গেছে।... মনিটরে ভেসে ওঠা সেই নির্দেশ অনুসরণ করে আমিও ধীরে ধীরে এগুলাম এবং ক্রমশ বোঝা না বোঝার এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অভাবনীয় জগতে প্রবেশ করলাম।  নির্মালীর কথাগুলি  ঢেউ তোলা জলের ছায়ার  মতো কেঁপে উঠল, সে বলল, সেই জগত তার চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ থেকে বহুদূরে।…

নির্মালী বড় ধীরগতিতে কথা বলে।

কথার মধ্যে সে চায়ের পেয়ালা গুলি নিয়ে রান্নাঘরের বেসিনে রেখে আসে। 

কাজের মেয়েটি কিছুক্ষণ পরে আসবে, আমি বাধা দিলেও নির্মালী শুনল না।

'কী দেখলে মনিটরে?'

' সবকিছু আমি কীভাবে বুঝতে পারব? বেশিরভাগ কথাই কিছু সাংকেতিক ভাষায় লেখা ছিল। কিন্তু একটা কথা বুঝতে পারলাম, এখানে রক্তিম যে বিষয়ে গবেষণা করছিল, দুটি পেপার জার্মানি থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিনে বেরিয়েছিল- প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে বিষয়টা ছিল এক ধরনের নতুন জৈব-রাসায়নিক যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণের পাশ দিয়ে যাওয়া।'.... নুপুর যে খসে পড়ল, নুপুর গুলি এক এক  করে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ল। চেষ্টা করেও সেগুলি সে কোনোমতেই একত্রিত করতে পারল না।… তার মাথা ঘুরছে, মাথার উপর দিয়ে অসংখ্য হেলিকপ্টার উড়ে যাচ্ছে। বহু দূরে গিয়ে সেসব বিশাল সমুদ্রের নীলিম জলরাশির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশাল জাহাজের গভীরে স্থাপন করা একটি গোপন গবেষণাগারে নেমে গেছে।…. বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অন্তিম আলোক কণাও যেন হারিয়ে যেতে চলেছে সেই গহ্বরে, কেবল অন্ধকারে ভরা সেইজগত ।....

নির্মালী অলস ভাবে যেন ক্রমশ হারিয়ে যেতে চলেছে সেই অন্ধকারে।তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গায়ে মুখে ছড়িয়ে পড়া বিকেল বেলার  আলো  এবং নাতিদূরের রেলপথ দিয়ে হুড়মুড় করে সরে যাওয়া ইঞ্জিনটার গর্জন যেন  তাকে জাগিয়ে তুলতে পারছে না । 

বেতের চেয়ারে বসা থেকেই রুপেন কাকা জিজ্ঞেস করছে,মা, যাবেনা ?

------------

লেখক পরিচিতি-১৯৫৩ সনে অসমের তিনসুকিয়া জেলার দেওশাল চা বাগানে বিপুল খাটনিয়ারের জন্ম হয়।১৯৭৫ সনে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে স্নাতকোত্তর উপাধি লাভ করে অসম সরকারের ভূতত্ত্ব এবং খনি বিভাগে যোগদান করেন।প্রকাশিত গল্প সংকলন গুলি যথাক্রমে ‘খোজর শব্দ’, ‘চিনাকি মুখ অচিনাকি ছবি’, ‘ভিন্ন জীবন ভিন্ন কথকতা’বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।লেখক অসমের প্রগতিশীল সাহিত্য সংগঠন ‘নতুন সাহিত্য পরিষদ’এর সঙ্গে জড়িত। 




 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আটপৌরে কবিতা ৫০২-৫০৪ || অলোক বিশ্বাস || "i-যুগ"-এর কবিতা

     আটপৌরে  কবিতা ৫০২-৫০৪ || অলোক বিশ্বাস || "i-যুগ"-এর কবিতা  আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস ------------------------ ৫০২. দু'প...