শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১

ন্যানো টেক্সট ৩৯,পৃৃৃৃথা চট্টোপাধ্যায়

 নস্টালজিয়া ৩৯

পৃথা চট্টোপাধ্যায়

নস্টালজিয়া ৩৯
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

বসন্তের দিন এলে এক অপূর্ব অনুভূতি হয় মনে। সেই অনুভব যে কী বলতে পারি না, শুধু বুঝতে পারি। দখিন হাওয়ায় ভেসে আসা লেবুফুলের গন্ধ আমাকে টেনে নিয়ে যায় শৈশবের বেড়ার ধারে যেখানে ফুলের ভারে নুয়ে পড়ে বাতাবিলেবু আর সজনের ডাল। আমের গাছে থোকা থোকা মুকুল ঘিরে মৌমাছিদের ওড়াউড়ি। শিবরাত্রির সময় এলে মসজিদের পাশে আমাদের বেলতলার সেই ফাঁকা জায়গায়, তেওয়ারিদের বাগানে অথবা মাঠে ঘাটে ফুটে থাকত ভাটফুল, আকন্দ। গঙ্গার ঘাটে স্নান করতে যাওয়ার পথে মা আমাকে সাদা দ্রোণপুষ্প চিনিয়েছিলো। এই সময় হাবুলকাকুদের বাড়ির গেটে থাকত বোগেনভেলিয়ার বাহার আর ছন্দাপিসিদের সদর দরজায় মালতীলতার শোভা। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনের ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতাম। কখনো সাজি নিয়ে ফুল তুলতে যেতাম দীপককাকুর বাড়ির বাগানে। অনেক জবা, গন্ধরাজ, বেলফুলের গাছ ছিল সেখানে। শরতে ঘাসের উপর বিছিয়ে থাকত শিউলি। নিঃসন্তান দীপককাকুর স্ত্রী বেশ সুন্দরী ছিলেন। আমরা তাদের বাগানে ফুল তুলতে গেলে কিছু বলতেন না। বরং অনেক সময় জবা গাছের উঁচু ডাল নুইয়ে দিতেন আমাকে। সুন্দরী সেই মহিলার মুখে সবসময় একটা দুঃখের ছায়া ঘিরে থাকতো।
                 খুব ছোটবেলায় বহুরূপী দেখেছিলাম আমি সাগরদিঘিতে থাকার সময়ে। পরে লালবাগে, বহরমপুরে, শক্তিপুরে মাসতুতো দিদির বাড়িতে যাওয়ার সময় ট্রেনে বহুরূপী দেখেছিলাম মনে আছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরত তারা কোনো দিন শিব, কোনো দিন কালী, কোনো দিন বা কৃষ্ণ, হরগৌরী অথবা হনুমান সেজে। এই বহুরূপীরা দরিদ্র মানুষ হলেও তখন তাদের মধ্যে কী এক প্রাণের স্পন্দন ছিল বলে আমার মনে হতো। মানুষকে আনন্দ দেওয়ার সঙ্গে তাদের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি যে বহুরূপী সাজের অন্তরালে ছিল একথা একটু বড়ো হয়ে বুঝতে শিখেছি ; বাবা বলেছিল সে কথা। এইসব বসন্তের দিনে বহুরূপী আসত বেশি। প্রথম যখন বহুরূপী দেখেছিলাম তখন আমি বেশ ছোট। শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্তের ছিনাথ বহুরূপীর কথা তখনো পড়ি নি। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় ছিনাথ বহুরূপীর কথা পড়ে খুব ভালো লেগেছিল। আমাদের সময় পাঠ্য বিষয়টিকে জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারতাম বলে এত দাগ কাটতো মনে। পড়তে ভালো লাগতো সাহিত্যের বিষয়গুলি। এখনকার ছাত্র ছাত্রীরা বাতানুকূল ঘরের আরামে বসে গ্রামের মানুষের কথা অথবা জীবনের ছোট ছোট দুঃখ সুখ আনন্দ বেদনার কথা পড়লেও সেগুলো তাদের মনকে ছুঁতে পারে না। এখনকার অধিকাংশ গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরাও সেই অর্থে কষ্ট করে কম। তাদের মা বাবারাও সন্তানদের সাধ্যমতো আরামের জীবন দিতে চেষ্টা করে। বহির্বিশ্বের রঙিন জীবনের দুনিয়া তাদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়। আমাদের দেশের মানুষের কথা, বাংলার প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের কথা, ক্ষুদ্রের মধ্যেও যে মহত্ত্বের গৌরব লুকিয়ে থাকে তার সন্ধান দিতে হবে আমাদের আজকের শিশু কিশোরদের মনে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~ ২২/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems 22/6 Debjani Basu

  আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~ ২২/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems 22/6 Debjani Basu   আটপৌরে ২২/৬ আটপৌরে২২/৬ ১. পৃথিবী ...