রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

মাতৃ || পদুমী গগৈ || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ বাসুদেব দাস

 মাতৃ

পদুমী গগৈ

মূল অসমিয়া  থেকে  বাংলা অনুবাদ বাসুদেব দাস



কারেং ইংতিপীয়ে ছেলে বরসিংকে চিৎকার করে বলল, ‘বরসিং, তুই বড় অলস হয়েছিস। কোথায় গিয়েছিলি? পড়াশোনা ছেড়ে দিলি যে। আগামী বছর মেট্রিক দিতে হবে। পড়াশোনা করছিস না কেন?

- পড়াশোনা করে কী লাভ হবে মা? চাকরি  পাব কি?'- বরসিং সমান স্বরে উত্তর দিল।

-কেবল চাকরি করার জন্য পড়াশোনা নাকি? নিজেকে জানার জন্য, নিজেকে জানার জন্য বিন্দুমাত্র শিক্ষার প্রয়োজন নেই নাকি? পৃথিবীর কাণ্ডকারখানাগুলি জানার জন্য পড়াশোনা করা প্রয়োজন। আমরা অন্ধকারে রইলাম। তুই ভালো করে পড়াশোনা কর। তাহলেই আসল চোখ খুলবে।’

‘আচ্ছা মা, আমার একটা কথা শুন। খেরনির দিকে বড় গন্ডগোল হয়েছে। ডিমাছারা  কার্বিদের কাটছে, কার্বিরা  ডিমাছাদের।’

-এরকম কথাও হতে পারে নাকি বাবা?’

-‘হয়েছে তো! থংদের বাড়িতে টিভিতে এইমাত্র দেখে এলাম। বাড়িগুলি পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। মানুষ গুলিকে কচুকাটা করেছে। ইতিহাসে পড়া তখনকার দিনে মানের আক্রমণের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।’

-কী বলছিস বাবা? আমি একেবারে বিশ্বাস করতে পারছি না। পবিত্ররা মানে ওদের গোষ্ঠীর মানুষ গুলি কেন সেরকম কাজ করতে যাবে? করবে না, এরকম কাজ ওরা করবে না। যুগ যুগ ধরে…’

-‘তুই বিশ্বাস করিস বা না করিস টিভিতে কিন্তু দিচ্ছে । মিথ্যা যদি…’

-‘কে জানে ভগবান। কী হয়েছে দেশটিতে। এই সেদিন সিংহাসন পাহাড়টিতে এতগুলো মানুষ কাটাকাটি করে মরল, সেই রক্তের দাগ এখনও শুকোয়নি, আজ আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। কল্কি অবতার হয়েছে বুঝেছিস। মেরে কেটে একাকার। আমাদের পরিবারের মানুষগুলি কে কোথায় আছে খবর নিয়ে দেখতো।’ একথা বলে কারেং সুপারির থলেটা কোমরে গুজে খাঙটা  পিঠে নিয়ে জঙ্গলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল। সঙ্গে গেল কাছাং আর কাবে।

কারেং ইংতিপীরের অবস্থা খুব ভালো নয়। মেয়ে দুটির বিয়ে দেওয়ার পরে তার স্বামী স্বার্থের মৃত্যু হয়। স্বার্থে বেঁচে থাকতেও আর্থিক অবস্থা যে খুব একটা ভালো ছিল তা নয়, কিন্তু স্বার্থে বেঁচে থাকতে তাকে এভাবে জীবন সংগ্রামে ব্রতী হতে হয়নি। সে তার শক্তি অনুযায়ী তাকে সুখেই  রেখেছিল। কিন্তু এখন  তাকেই প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে হয়। পাহারিয়া জমি দুই বিঘা আছে মাত্র। তারমধ্যে জুম  চাষ করে। আউশ ধান  আর মাকৈ। সঙ্গে মিষ্টি কুমড়ো, মেস্তাটেঙা, লঙ্কা ইত্যাদি।  কুমড়ো সেখানে হয় না। কুমড়োর চাষ করে না। কারবি মানুষের বাধা নিষেধ আছে‌। আউশ ধানটা ভালোই হয়। মাকৈগুলিও যথেষ্ট  পুরুষ্ট হয়। মা ছেলে দুজনেরই কয়েক মাস চলে যায়। তারপরে? এই জঙ্গলই ওদের ভান্ডার। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাসিমুখে একমুঠো রান্না করে বরসিংকে খাওয়ায়। তারপরে নিজেও খেয়ে সারাদিনের জন্য বেরিয়ে যায়। প্রতিদিন না হলেও  প্রায়ই জঙ্গলে গিয়ে কচু,ঢেঁকি শাক,চালতা, ভেকুরী,কলা গাছের মোচা সংগ্রহ করে এনে বিকেলের বাজারে বিক্রি করে। বিক্রি ভালোই হয়। আজকাল লোকেরা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা শাকসবজি বেশি করে খায় যদিও বন্য শাক সবজির চাহিদা কম নয়। বিক্রি করে যা পায় তাই দিয়ে চাল, শুকনো মাছ,নুন, তেল ,কেরোসিন তেল সংগ্রহ করে আনে। হলুদ, মিঠাতেল এমনিতেই খুব কম প্রয়োজন হয়। হলুদের প্রয়োজন হয় না বললেও চলে। মিঠাতেলের ব্যবহার ও ততটাই  সীমিত। প্রায়ই মেস্তাটেঙা, ভেন্ডি তিলের সঙ্গে শুকনো মাছের ঝোল রান্না করে। সেই তরকারি খেয়ে বরসিং বড় তৃপ্তি লাভ করে। তার আর কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। একটা শুকনো মাছ পুড়ে এক টুকরো আদা এবং রসুন, একটা পুষ্ট কাঁচা লঙ্কা পাটাতে বেঁটে নেওয়া চাটনি দিয়ে এক থালা  ভাত অনায়াসে খেতে পারে। মাঝেমধ্যে বরসিঙের খুব শুয়োরের  মাংস খেতে ইচ্ছে করে। সম্ভব হলে সে প্রতিদিনই মাংস খেতে চায় কিন্তু প্রতিদিন কীভাবে তা সম্ভব ?মাঝেমধ্যে আনে যখন হাতে অতিরিক্ত দুপয়সা আসে। শুয়োরের মাংসের তেল লাগে না।বাঁশের গজালি সিদ্ধ করে খায়।

আজকাল দেশে সত্যি কিছু একটা হয়েছে। কী হয়েছে সে জানে না। কেবল বন্ধ আর বন্ধ। কে বন্ধ দেয়, কেন বন্ধ দেয় সে কিছুই জানেনা। সেইসব জানার জন্য সে বরসিংকে পড়াশোনা করে জ্ঞান অর্জন করার জন্য তাগাদা দিয়ে থাকে। বন্ধ যখন হয়, তখন তাদের বড় কষ্ট হয়। উপোস থাকতে হয়। জঙ্গল আছে বলেই ওরা এখন ও বেঁচে আছে।

সেইদিনগুলিতে জঙ্গলে গিয়ে কাঠ আলু খুঁড়ে  এনে সিদ্ধ করে লিকার চায়ের সঙ্গে উদরপূর্তি করে। আজ কারেঙের  মন খারাপ। সকাল-সকাল মানুষের মৃত্যুর খবর। বাড়িঘর জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেওয়ার খবর। মানুষগুলি এত ঝগড়াঝাটি করছে কেন? ডিমাছারা  কেন কার্বিদের কাটছে? কার্বিই  বা কেন ডিমাছাদের? সে কিছুই জানেনা। সঙ্গে আসা কাছাং  এবং কায়েও জানে না। ওদের সেইসব জানার সময়ই বা কোথায় ? ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে একমুঠো রান্না করে খাইয়ে-দাইয়ে কারেঙের সঙ্গে বেরিয়ে আসতে হয়। জঙ্গলে একা এলে  চলবে না। জঙ্গলে অনেক শরীরী অশরীরী  জিনিস  আছে। বিপদ ঘটলে কী হবে?

গত দুদিন ধরে বাজারে পুরুষ মানুষেরা দলবেঁধে কিছু একটা করছে। ব্যাপারটা সবার চোখে পড়েছে। কথা বলছে না সাপ খেলা দেখছে ওরা তা জানেনা। ওরা তারমধ্যে অংশগ্রহণ করেনি। আগেও থাকে না পেছনেও থাকে না। ওদের সেই সময় কোথায়? ওরা পুরুষ মানুষ নয় যে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেই অপ্রয়োজনে কাটিয়ে দিতে পারবে। আর্থিক সমস্যা সমাধান করার পরেও সমস্ত পরিবারের দায়িত্ব ওদের উপর ন্যস্ত থাকে। তাই তারা কিছুই জানেনা। বর্তমানে দেশে কী সমস্যা চলছে। ইচ্ছে করে পুরুষ মানুষের মতো মুক্ত মনের হয়ে ঘুরে বেড়াতে। কিন্তু পারবে কি? বাড়ির সমস্ত দায়িত্ব মহিলাদের। সমস্ত প্রাণীর কল্যাণের জন্য যেন মহিলাদের সৃষ্টি। ওদের মনে এই ধরনের মনোভাব সব সময় খেলা করে। গ্রাহকের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে শাক সবজি গুলি বিক্রি হওয়ার  সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় কয়েকটি  জিনিসপত্র কিনে নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা হয়।

আজ কারেঙরা অনেক  ঢেঁকিয়া পেয়েছে। সপ্তাহে বৃষ্টির পরে ঢেঁকি শাক নতুন করে জন্মেছে । ওরা মনের আশ মিটিয়ে শাক তুলেছে সংগ্রহের ক্ষেত্রে কায়েও দক্ষ নয় তবু কাছাং  এবং সে দুজনেই কায়েওকে সমান ভাগ দেয়। তিন জনই সমান ভাগে ভাগ করে নিয়ে বাজারের দিকে এগিয়ে যায়। যাত্রা কালে ওরা গোষ্ঠী সংঘর্ষের কথাই বলে। কাছাং জানাল যে ডিফু ,হোজাই ইত্যাদি রিলিফ ক্যাম্পে বহু মানুষকে থাকতে হচ্ছে।

-আমাদের এখানেও যদি হয়।কায়েও আশঙ্কা প্রকাশ করে।

- 'ভয় লাগছে।' কাছাং বলল।

-' পবিত্রদের গ্রামের মানুষেরা কখনও এরকম কাজ করবে না। গভীর আত্মপ্রত্যয়ের  সঙ্গে কারেং বলল।

- 'পদ্ম নামের মানুষটিকে কিন্তু বিশ্বাস করা যায় না'। বিতৃষ্ণার সঙ্গে কাছাং উচ্চারণ করল।

-না, না কিছু হবে না কারেং অভয় দিল।- আমরা দুটি গ্রামের মানুষ সেই সুদূর অতীত থেকে মিলে মিশে আছি। এখন ও কিছু হবে না।'

- হয়তো । সেই পবিত্রকে  তুই তোর বুকের দুধ কম খাইয়েছিস?কায়েও  আনন্দ মিশ্রিত অনুভবের সঙ্গে বলল।

-' ওর মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে গিয়েছিল। সেদিন তাঁর কণ্ঠ শুকিয়ে গিয়েছিল। কান্নায় গাছের পাতা ঝরছিল, হৃদয় পুড়ে যাচ্ছিল। সইতে না পেরে বলেছিলাম-' আমার বুকের দুধ চুষতে থাক। বরসিঙের ভাগেরটা দুজনে ভাগ করে খা। বুকের দুধ না ছাড়া পর্যন্ত পবিত্র আমার বুকের দুধ খেয়ে ছিল। কারেঙ গর্ব এবং আনন্দ মিশ্রিত সুরে  বলে।

কথা বলতে বলতে তারা বাজারে গিয়ে পৌঁছায়। বাজারে খুব একটা লোকজন নেই। ডিমাছা গ্রামে গত রাতে কারা যেন ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। রাতের বেলায় কী হবে কেউ বলতে পারে না। ওদেরকে একজন সাবধান করে দিল। ওরা চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ল। বিক্রির চিন্তা ছেড়ে বাড়ির দিকে ফিরে চলল।

  কারেঙ আকাশের দিকে তাকাল। পূব দিক থেকে এক খন্ড কালো মেঘ ভেসে আসছে। তার বুকটা দুরু দুরু করে কেঁপে উঠল। পবিত্রের কথা মনে পড়ল। এই লঙ্কা দাহনে ওদের বাড়ি-ঘর নষ্ট হয়নি তো? পবিত্রদের বাড়ির সঙ্গে বহুদিনের পুরোনো আত্মীয়তা। বরসিঙের দাদু চনা সিঙকে একটি সামান্য  অপরাধে জনগণ একঘরে করার দিন থেকে। সেই নির্বাসিত জ্বালাময় দিনগুলিতে সাহস দিয়েছিল পবিত্রের দাদু গোবিন্দ । সেই তখন থেকেই দুটো পরিবারের মধ্যে প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে আজ এই মুহূর্তে অতীতের মতোই মিলা প্রীতি অটুট থাকবে তো?

রাত দুপুরে অদূরের পাহাড়ের বুকটা তীব্রভাবে জ্বলজ্বল করছিল। সমতলে থাকা কোনো এক রং কিমিত…. না না, সে আর ভাবতে পারছেনা। ওখানে বরসিঙের মামারবাড়ি। তার জন্ম বাড়িটা আছে কি? তার চোখ দিয়ে ধারাসার অশ্রু বইতে লাগল।

বরসিং, উঠ দেখি। তোর মামার বাড়িটা আছে না নেই? বরসিঙকে কারেঙ জাগাল।

'কী বলছ মা?'

পাহাড়ের বুকটা কীভাবে লাল হয়ে উঠেছে, একবার তাকিয়ে দেখ।

' দাঁড়া ,আমি এক পাক ঘুরে আসি। বলেই সে মামার বাড়ির দিকে দৌড় লাগালো। গিয়ে দেখে সব শেষ। মানুষ, পশু-পাখি, সবাই অঘরী  হয়ে গেছে। শুয়োর, কুকুর ইত্যাদি অনেক গৃহপালিত জীব অগ্নিদগ্ধ হয়ে বিকৃত রূপ ধারণ করেছে। গর্ভবতী পখিলা পথের পাশে পড়ে কোঁকাচ্ছে। শিশু হেম সিঙের পিঠটা বড়খারাপ ভাবে পুড়ে গেছে । দিদা কাদমের ডান পা ভেঙে গেছে। সে সেখানে অপেক্ষা করতে পারল না। শোকে কাবু হয়ে পড়ল। সে সোজাসুজি বাড়িতে চলে এল। এসে শুনতে পেল ইতিমধ্যে পবিত্রদের গ্রামের চারজনকে কেউ নিধন করেছে। এবার কার পালা এই নরমের যজ্ঞে আহুতি দেওয়ার?

দুপুর রাত। দরজাটা কেউ একজন চট করে খুলে ফেলল। কারেং ডাকল, বর সিং। বরসিঙের কোনো সাড়াশব্দ নেই। সে ধড়মড়  করে উঠে বসে বরসিঙকে হাতড়ে হাতড়ে খুঁজে বেড়াল। মাথার কাছে টর্চটা এনে জ্বালিয়ে দেখে কাপড় চাপা  দিয়ে একদল বরসিঙকে   নিয়ে যাচ্ছে। একজনকে সে চিনতে পারল। সে তাকে  চিৎকার করে ডাকতে গিয়েও  থমকে গেল। কেবলমাত্র আতঙ্কিত মনে ওদের পেছন পেছন দৌড়ে যেতে লাগল। অন্ধকারের বুকে ওরা হারিয়ে গেল।

চেতনা ফিরে পাবার পরে কারেঙ শক্ত হয়ে হাটুতে মাথা গুঁজে বসে আছে। গত কাল রাত থেকে দরজা দুফালা হয়ে খোলা পড়ে রয়েছে। এখন কত রাত হয়েছে  সে জানে না। সে ক্ষুধা তৃষ্ণা ঘুম কিছুই অনুভব করছে না। অনুভব করছেনা শীত বা গ্ৰীষ্ম। তার চিন্তাশক্তি লোপ পেয়েছে। এক নির্বিকার প্রস্তর মূর্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে সে। সে যেন যুগযুগান্তর ধরে এরকমই ছিল। সেকি কখন ও চেতনা ফিরে পাবে? আকাশে অষ্টমীর চাঁদ। দরজার সামনের আমগাছটার ছায়া এসে উঠোনে পড়েছে। নিশাচর  পাখি একটা বিকট চিৎকার করে  উড়ে গেল। দূরে শিয়ালের হুক্কাহুয়া। কারেং এক ভাবেই  স্থির হয়ে বসে রয়েছে। হঠাৎ কেউ একজন দৌড়ে এসে ঘরের ভেতর ঢুকল।কারেং যেন বহু যুগ পরে জেগে উঠল। বরসিং  হাউমাউ করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে থাকে। চুমুর পর চুমু খেয়ে যেতে লাগল।

সে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ডাকল,' মা'!

কণ্ঠস্বর শোনার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত কড়মড় করে গায়ের জোরে  ঠেলে দিয়ে বলল ,' তুই?'

- হ্যাঁ মা, তোর পাপী পুত্র পবিত্র। ওরা আমাকে তাড়িয়ে এনেছে মা।' 

  ঘরের বারান্দায় ওদের পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে তার সামনে পবিত্রকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হবে। প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞায় ওরা আবার নিজেদের হাত রক্তাক্ত করবে। কারেং  উঠে দাঁড়াল। চট করে দরজাটা বন্ধ করে দিল।

-' খুড়ি!'

-' কী হল?'

-' দরজা খোলো।'

-' কেন?'

-' পবিত্রকে চাই!'

-ক্ষোভ এবং করুণা মিশ্রিত কন্ঠে বলল,' এখানে পবিত্র নেই!'

–----------

লেখক পরিচিতি-১৯৫৭ সনে পদুমী গগৈ কার্বি আংলঙের ডিফুতে জন্মগ্রহণ করেন । নতুন দিল্লির ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের প্রমোশন ইনস্টিটিউট থেকে  ডিপ্লোমা প্রাপ্তি । 'বাগদত্তা'নামে ছোটগল্প প্রকাশিত হয়েছে । ২০০৪ সনে ' সাবিত্রী বরগোহাঁই পুরস্কার লাভ করেন।'

' যাত্রার উপকূলত','বীরাঙ্গনা' নামে দুটি উপন্যাস ছাড়া ও কবিতা, শিশু উপন্যাস এবং শরৎচন্দ্রের ‘পল্লীসমাজ’ এবং ‘গৃহদাহ’ অসমিয়া ভাষায় অনুবাদ করেন।২০১৭ সনে শরৎ চর্চা পুরস্কার লাভ করেন।


  


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

** আনন্দমঙ্গল কথা- ১ ।। Anandamangal, Soumitra Roy

 আনন্দমঙ্গল কথা সৌমিত্র রায়  (১) শুভ সকাল বন্ধুরা- কয়েক বছর আগে মেদিনীপুরে একটি দুর্গা মণ্ডপের সামনে একটি book stall- এ একজন বিজ্ঞান শিক্ষ...