রবিবার, ৯ মে, ২০২১

' সুপ্রভাত আসুক ' --- অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

 '  সুপ্রভাত আসুক '  

                 

                 ---   অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়    



এ পাড়া থেকে ও পাড়া । এক প্রান্তর থেকে আরেক প্রান্তর । প্রায় বিরামহীন খুঁজে বেড়াচ্ছে ।সন্ধান চাই  । যে ভাবেই হোক খুঁজে বের করতে হবে । না হলে যে শান্তি নেই  ।

    মলিন পোশাক, ক্ষয়ে যাওয়া চটি , চোখে মুখে ক্লান্তি আর চিন্তার ছাপের পেটেন্ট নিয়ে লোকটি এ ভাবেই প্রিয়জনকে হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছে ।শহরের এক চক এলাকায় তার শ্রান্ত শরীর নিয়ে বসে পড়ে । কোনো পাড়া থেকে ভেসে আসছে গান-- 'শূন্য হাতে ফিরি হে নাথ পথে পথে ....।' আজ পঁচিশে বৈশাখ । কোভিড-19 প্রোটোকল মেনে সেভাবে কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে না । বেশিরভাগই ভারচুয়াল । 'কোরোনা' প্রতিরুদ্ধ কিছু কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে বাজার হাট আংশিক খোলা ।তাই লোকজনও বাইরে কম । মনে হচ্ছে ভয়ার্ত সভ্যতা যেন হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে । লোকটি উঠে এসে এক টোটো চালককে জিজ্ঞেস করে--

----- হাঁগো, তুমি তাকে দেখেছো ?

------ কাকে  ?

------- ঐযে গো, যে হারিয়ে গেছে ।খুঁজে পাচ্ছি না ।

----- কোথায় বাড়ি  ?

----- তার তো সব জায়গায় থাকার কথা ।

----- ভগবানের মতো  ? পাগল ভেবে দু-একজন যাত্রী নিয়ে হাসতে হাসতে চলে যায় টোটো ।

   লোকটি দমে যায় না । আবার হাঁটতে থাকে । অন্য একটি পাড়া থেকে রবীন্দ্রসংগীত ভেসে আসে । 'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে....'। কিছুদূর গিয়ে একটি মেডিক্যাল স্টোর থেকে ধোপদুরস্ত এক লোককে বেরুতে দ্যাখে । লোকটি তার সামনে গিয়ে পথ আটকায় । লোকটি প্রশ্ন করে--

------- হ্যাঁ গো, তুমি  দেখেছো ?

------- কি দেখেছি ! কাকে ?

------- ঐযে গো, যে হারিয়ে গেছে ! অনেক খুঁজছি জানো !

------- তোমার কে হয়, কোথায় থাকে  ?

------- নিজের লোক গো ! তোমারও ।

------- কি বলছো বুঝতে পারছিনা । দোকানের মালিক পাগল ভেবে ধমকে সরিয়ে দিলে ।

লোকটিকে দেখে মনে হচ্ছে,  এক অপ্রতিরোধ্য মানুষ । মনের ভেতর যেন এক অনুসন্ধানের গবেষণাগার কাজ করে চলেছে । আবার চলতে শুরু করল । মাঝেমধ্যে গান বেজে ওঠার মধ্যে দিয়েই আজ মনে হচ্ছে পঁচিশে বৈশাখ । এখন যেমন, ' প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে....' --

      লোকটি একটি অফিসের সামনে এসে পড়ল । অল্প কিছু লোক বাইরে পড়ে থাকা ফ্ল্যাগ , ফেস্টুন ইত্যাদি ঘরে ঢোকাচ্ছে । আর নিজেদের মধ্যে  দেশের দশের কথা আলোচনা করছে । লোকটি ভাবল, বেশ কয়েকজনকে তো দেখছি ; কেউ না কেউ বলতে পারবে ।

----- এইযে দাদা'রা , কতদিন খুঁজে বেড়াচ্ছি, তাকে খুঁজে দেবে?

প্রথম জন---- শালা, নিজেদের কত সমস্যায় ফেটে যাচ্ছে ...। আবার কি হারিয়েছে খুঁজতে হবে!

দ্বিতীয় জন--- তুই কে ? কোথায় থাকিস্  ?

------ আমাকে হতভাগা বলে গো । সব জায়গায় থাকি ।

দ্বিতীয় জন--- কাকে খুঁজছিস ?

------- যে হারিয়ে গেছে  ।

তৃতীয় জন--- কতদিন আগে ?

-------- ঠিক মনে করতে পারছি না গো ।

প্রথম জন---- এই  ফোট ! তোর পাগলামি ছাড়িয়ে দেব।

দ্বিতীয় জন---- তার নামটা মনে করে বল দেখি  । বল--

------ হ্যাঁ,  মনে পড়েছে । নামটা জানি গো ।

দ্বিতীয় জন--- কি ?

------- সুপ্রভাত  ।

তৃতীয় জন--- প্রভাত নামে তো অনেকেই আছে ।কিন্তু সুপ্রভাত .....

দ্বিতীয় জন----- না না চিনি না ।যা এখান থেকে যা ।

       প্রথম জনের ধমকের চোটে আবার পথে নামল লোকটি । এ পথের শেষ দেখতে পায় না সে । প্রশ্ন আছে , উত্তর নেই ।

   বাইরে যতই ক্লান্ত ধ্যস্ত দেখাক, লোকটি কিন্তু দমে যাবার পাত্র নয় । তাই সে এগিয়ে যেতে থাকল প্রশ্ন নিয়ে । তাকে খুঁজে পেতে হবে । দূর থেকে ভেসে আসছে--- ' নিশিদিন ভরসা রাখিস হবেই হবে....।'


           ----------------***--------------

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শব্দব্রাউজ ২১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

  শব্দব্রাউজ ২১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar শব্দব্রাউজ ২১৫ || নীলাঞ্জন কুমার বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ১৭।...