চলো পাল্টাই

চলো পাল্টাই
চিন্তন। মন্থন। চিরন্তন।

রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

পাখিদের পাড়া পড়শী ২/২ ।। পঙ্কজ গোবিন্দ মেধি ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ-বাসুদেব দাস, Pankaj Gobinda Medhi, Pakhider para porshi

পাখিদের পাড়া পড়শী ২/২  

পঙ্কজ গোবিন্দ মেধি   

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ-বাসুদেব দাস,  

Pankaj Gobinda Medhi, Pakhider para porshi



দ্বিতীয় অধ্যায় (দুই)-খ


বাইরে বিকেলের শেষ কিরণকে বিদায় দিয়ে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসছে। দরজার মুখে উঁকি দেওয়া কিশোর চৌধুরীকে দেখতে পেয়ে সৌম্যদা জিজ্ঞেস করল–' চায়ের ব্যবস্থা হয়েছে কি কিশোর?

– হয়েছে সৌম্যদা।

― আপনারা এখন চা খাওয়ার জন্য ডাইনিং হলের  দিকে যান। সময় আধঘন্টা। তারপরে আমরা বারান্দায় আমাদের প্রকাশিত বই পত্র এবং বিভিন্ন তথ্যাদির দোকানটিতে সমবেত হব।

সৌম‍্যদা কিশোর চৌধুরীর সঙ্গে বেরিয়ে গেল। তখনই ঘরটিতে প্রবেশ করা গোলাপ গগৈ সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন–' আপনারা প্রত্যেকেই নিজের নিজের বিছানা ঠিক করে নিয়েছেন কি? আপনারা একটি করে বিছানা নিন। সেখানেই নিজের নিজের সঙ্গে আনা জিনিসপত্রগুলি রেখে দিন। দাস, আপনার দিদিকে একেবারে কাছের বিছানাটি দিয়ে আপনি তার পাশে থাকতে পারেন। অন্যথা নিজের ইচ্ছা অনুসারে যেভাবে খুশি থাকতে পারেন।

– কোনো ব্যাপার না। যেখানেই হোক থাকতে  পেলেই হল।

– নিজেদের সুবিধা অনুসারে  মিলিয়ে নিন। মনে রাখবেন দামি সামগ্রী এবং টাকা-পয়সার সুরক্ষা আপনাদের নিজের। অবশ্য আমাদের শিবিরে আজ পর্যন্ত কোনো অঘটন ঘটেনি। আশা করব এই শিবিরেও সেরকম কোনো অঘটন ঘটবে না।

কথাগুলি বলে গোলাপ গগৈ যেপথে এসেছিলেন সে পথে বেরিয়ে গেলেন।

নতুন করে আগত দুই চার জন নিজের নিজের বিছানা ঠিক করতে লেগে গেলেন এবং বাকিরা একজন দুইজন করে চা খাবার জন্য ডাইনিং হলের দিকে এগিয়ে গেলেন। যাদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচিতি নেই তার মধ্যে দুই একজন একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বের করে নিলেন।

চা-পর্ব সমাপন হওয়ার পরে সবাই এসে সৌম্যদা বলা নির্দিষ্ট জায়গায় উপস্থিত হল।

তিনটি বেঞ্চ পাশাপাশি লাগিয়ে তার উপরে সাদা বিছানার চাদর পেতে তার উপরে রাখা হয়েছে বেশ কিছু বই, পুস্তিকা, লিফলেট, স্টিকার,ব‍্যাজ, পোস্টার ইত্যাদি। বই গুলির মধ্যে বেশিরভাগই সৌম‍্যদা রচনা করা পরিবেশ, বন এবং বন্যপ্রাণী  সংরক্ষণ বিষয়ক । পুস্তিকা গুলি সংগঠন বিষয়ক।সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে গ্রহণ করা শিবির সমূহের তথ্য এবং নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণীকে রক্ষণের  বিষয় হিসেবে নিয়ে জনগণকে সজাগ করার উদ্দেশ্যে সুন্দর করে ছাপিয়ে প্রকাশ করা রঙ্গিন পুস্তিকা। লিফলেট সমূহ মূলত জনগণকে সজাগ করার জন্য প্রদান করা কিছু তথ্যের সমাহার এবং সঙ্গে জনগণকে জানানো বিনম্র কিছু সূচনা। টেবিলটিতে সাজানো রয়েছে ছয় ধরনের স্টিকার। প্রতিটি স্টিকারে এক একটি জন্তু সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে। তারমধ্যে বাঘ, গন্ডার, হাতি, লেজঝোলা বাঁদর অন্যতম। প্রতিটি স্টিকারে জন্তুগুলিকে সংরক্ষণ করার প্রয়াস সজোরে উপস্থাপন করা হয়েছে।গোলাকার আকৃতির স্টিকারটিতে  লেখা হয়েছে সেভ টাইগার, সেভ রাইনো ইত্যাদি। নিচে সংগঠনের নাম লেখা রয়েছে। আর মাঝখানে জন্তুগুলির রঙ্গিন আলোক ছবি। স্টিকারগুলি যাতে বৃষ্টিতে ভিজতে না পারে তার জন্য সেগুলিকে প্লাস্টিক কোটেড করা হয়েছে। গাড়ির কাছে লাগাতে পারা ব্যবস্থা থাকা স্টিকার ও টেবিলের উপরে সাজিয়ে রাখা আছে । ব্যাজগুলিতে লেখা আছে বিভিন্ন প্রবচন। লেখা আছে সংগঠনের নাম। বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখতে পারা পোস্টার গুলিতে অসমের বন‍্য পাখি, বন্য জন্তু, দিহিং পাটকাই অঞ্চলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জীবজন্তু ইত্যাদি ভিন্ন বিষয়ক জিনিসকে তুলে ধরা হয়েছে।

-– আপনারা রেহাই  মূল্যে গ্রন্থ এবং অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন। 

সৌম্যদা বললেন।

উদয়শঙ্কর টেবিলের ওপরে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী সমূহের ওপর চোখ বোলালেন। শিবিরে অংশগ্রহণ করতে আসা অংশগ্রহণকারীরা সৌম‍্যদা  অনুমতি দেওয়ায় বিভিন্ন গ্রন্থ এবং অন্যান্য সামগ্রী সমূহ পছন্দ অনুসারে হাতে তুলে নেওয়া সে দেখতে পেল।উদয় শংকর ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক গ্রন্থ 'উদগীরণ' হাতে তুলে নিয়ে চোখ বোলাল। গ্রন্থটিতে পরিবেশ বিষয়ক জ্ঞাতব্য প্রারম্ভিক অনেক কথাই সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে।

তখনই সৌম্যদা  বললেন–' আপনাদের স্টিকার কিনতে হবে না, আপনাদের দেবার জন্য কিছু স্টিকার আমি সঙ্গে করে এনেছি।

সৌম‍্যদা হাতে থাকা থলেটা থেকে বিভিন্ন স্টিকার বের করে উপস্থিত প্রত্যেকের মধ্যে বিতরণ করতে লাগলেন।

– নাও উদয় শঙ্কর।

সৌম‍্যদা দেওয়া স্টিকারটা হাতে নিয়ে গ্রন্থ বিপণির সামনে বসে থাকা  ছেলেটিকে বইয়ের মূল্যটা দিয়ে সৌম্যদাকে বইটা দেখিয়ে বলল – এটা কিনলাম সৌম্যদা ।

সৌম্যদা মাথা নেড়ে সায় দিয়ে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে কথা বলতে লাগল।

কিছু হুলুস্থুল হলেও ভালোলাগা পরিবেশ। প্রত্যেকেই নিজের নিজের পছন্দ অনুযায়ী বই এবং অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় করছে। লিফলেটগুলি বিক্রির জন্য নয়। কেবল প্রদর্শনের জন্য। দুই-একজন টেবিল থেকে নিয়ে দুই এক লাইন পড়ে দেখে পুনরায় সেই জায়গায় রেখে দিয়ে হয় চলে গেছে অথবা অন্য একটি হাতে তুলে নিয়েছে।

উদয়শঙ্কর দেখতে পেল কিশোর চৌধুরী, গোলাপ গগৈরা ওরা  থাকা ছাত্রাবাসের মতো টুরিস্ট লজের খোলা জায়গায় কয়েকটা চেয়ার পেতে বসার ব্যবস্থা করছে।সৌম্যদা বিভিন্ন জনের সঙ্গে সান্নিধ্য জনক বার্তা বিনিময় করছে। দুই-একজন হাতে নেওয়া বই- পত্র সমূহ নিজের নিজের বেগে ভরিয়ে ঘরের ভেতর নিয়ে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে অন্ধকারে সমগ্র পৃথিবী গ্রাস করে ফেলেছে। চারপাশে সন্ধিক্ষণের নিস্তব্ধ মৌনতা। অরণ্যের পৃথিবীতে দিবাচরগুলি প্রবেশ করছে এবং নিশাচরগুলি বেরোনোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে শোনা যাবে রাতের শিসধ্বনি।

উপস্থিত প্রত্যেকের মধ্যে অন্য এক ব্যস্ততা আরম্ভ হল।

দুই এক  জন করে অংশগ্রহণকারীরা খোলা জায়গায় পেতে রাখা চেয়ার গুলিতে নিজের নিজের আসন গ্রহণ করল। উদয়শঙ্করও গিয়ে পেছনের একটি আসনে বসল।

সৌম্যদা জিজ্ঞেস করল–' সবাই এসে এখানে উপস্থিত হয়েছেন কি?'

তাঁর প্রশ্নের উত্তরে কেউ কিছু বলল না।

সৌম‍্যদা বলল–' আমি এক দিক থেকে এক দুই তিন এভাবে উচ্চারণ করে যাব। উদয় শংকর, তুমি এখানে এসো।

উদয়শঙ্কর বুঝতে পারল সৌম্যদা তাকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। 

একেবারে ডানদিকে বসে থাকা লোকটির দিকে আঙুল দেখিয়ে সৌম‍্যদা বলল– এক। 

পঞ্চাশ বছরের উর্ধে মানুষটি উঠে দাঁড়িয়ে এক বলার পরে ডান দিক থেকে একাদিক্রমে একজন একজন করে দুই  তিন চার পাঁচ উচ্চারণ করে গিয়ে ত্রিশে শেষ হল। ত্রিশ বলা ব্যক্তিটি ছিল উদয়শঙ্কর।তার মধ্যে গোলাপ গগৈ এবং কিশোর চৌধুরী এমনকি সৌম‍্যদাও  ছিল। 

– আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা সমস্ত ব্যক্তিই এসে উপস্থিত হয়েছে। আপনারা নিজের নিজের নাম্বারটা ভুলবেন না। আসুন আমরা এখন নিজের নিজের পরিচয় দিই।



     




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...