চলো পাল্টাই

চলো পাল্টাই
চিন্তন। মন্থন। চিরন্তন।

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

স্মৃতিকথা- ২২ ।। এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার Nilanjan Kumar ( গত মাসের পর)

 স্মৃতিকথা- ২২


                        এই আমি চরিত্র


                             নীলাঞ্জন কুমার

                             ( গত মাসের পর)

                                 ।।   ২২ ।।




   আসতে আসতে কিন্তু চলে আসতে শুরু করেছে হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা । সত্তর দশকে ক্লাস ইলেভেনে দুটি পরীক্ষা হত , তাদের নাম ছিল প্রিটেস্ট আর টেস্ট । তারপর হতো হায়ার সেকেন্ডারি ফাইনাল । ফাইনাল পরীক্ষা হত এপ্রিল মাসে । তার তিন মাস পর রেজাল্ট আউট । মা তখন আমার হায়ার সেকেন্ডারি নিয়ে বিশেষ চিন্তিত । কারণ হাফ বাউন্ডুলে চরিত্রটি আদপে পাস করতে পারবে কিনা তা নিয়ে মায়ের মাথাব্যথা  ।মা জানতো আমি লুকিয়ে লেখালিখি করি,  গুনগুন করে গান গাই আর কেমন উদাস হয়ে থাকি ।কি যেন ভেবে চলি । পড়াশোনা মানে স্কুলের ক্লাস,  অক্ষয় স্যারের কাছে সায়েন্স,  হেরম্ব স্যারের কাছে ইংরেজি আর বঙ্কিম স্যারের কাছে বিনে পয়সায় বায়োলজি পড়া। এছাড়া মাঝেমধ্যে অশোক স্যারের খড়গপুর ইন্দার বাড়িতে সায়কোলজি পড়তে যাওয়া ।অর্থাৎ চাপ আছে কিন্তু মনে ফুরফুরে ভাব অটুট । বর্তমানের ছেলেপুলেরা যেভাবে মাধ্যমিক ও হায়ার সেকেন্ডারি বিষয়ে সচেতন , আমি ছিলাম তার ঠিক উল্টো । বাবা এসব লক্ষ্য করত না , সব ছেড়ে দিয়েছিল মায়ের ওপর । ফলে আমার চাপ বিরাট ভাবে এসেছিল মায়ের ভেতর । এখন তা বুঝতে পারি । যতদিন আসছে ফাইনাল পরীক্ষার ততই মাস্টারমশাইরা চাপ বাড়াচ্ছেন । টেস্ট পেপার থেকে বেছে বেছে প্রশ্ন দেওয়া হচ্ছে । আসলে সে সময় এখনকার মতো নব্বই শতাংশ ছাত্রছাত্রীরা পাস করতো না । মাত্র সাত আট শতাংশ পাস করলেই বিরাট ব্যাপার । তখন ফাস্ট ডিভিশনে পাস করলে মানুষ তাকে দেখতে আসতো ।
                  কিন্তু তার মধ্যে লুকিয়ে ছাপিয়ে চলছিল আমার সাহিত্য সঙ্গীত সাধনা । তখন বিভিন্ন কাগজে 
চিঠিপত্র বিভাগে চিঠি লিখছি আর তা ক্রমাগত প্রকাশিত হচ্ছে । আমি যেন আরো উল্লসিত হয়ে পড়ছি নিজের লেখার বিষয়ে । বাড়িতে যেহেতু নিয়মিত ' দেশ ' ' অমৃত ' পত্রিকা আসত তাই দেশ পত্রিকাতে আমার নিজের কলমের ওপর ' বিরাট ' ভরসা করে   তৎকালীন সময়ে 'শাঙ্গদেব'  ( রাজেশ্বর মিত্র) - এর গানের ওপর প্রতি সপ্তাহে যে নিবন্ধ লিখতেন তাঁর একটি রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্যের ওপর আক্রমণ করে লিখে ফেললাম একটি বেশ বড় চিঠি । পাঠিয়ে দিলাম সাধারণ ডাকে । আশ্চর্য বেশ কিছু দিনের মধ্যেই চিঠিটি বেশ ভালো জায়গায় প্রকাশিত হল। 'অমৃত ' পত্রিকাতে লিখলাম সিনেমা নিয়ে । তাও প্রকাশিত হল । তাছাড়া সেসময় ' আনন্দলোক ' পত্রিকা সদ্য প্রকাশিত হচ্ছে । তাতে সেসময় সাধারণ পাঠকের মতামতের জন্য ' প্রিয় মহাশয় ' নামে একটি বিভাগ ছিল যাতে বিভিন্ন সিনেমা কিংবা সিনেমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছাপা হত । আমি ছিলাম ওই বিভাগের নিত্যি লেখক । তখন আমার কি মজা! সদ্য গোঁফ গজানো এই আমি চরিত্রটি পত্র পত্রিকায় নিজের লেখা ও নাম ছাপা  ( অবশ্যই নীলাঞ্জন কুমার)  দেখার জন্য পাগল । তাছাড়া একজন মফস্বলের কিশোরের ওই সব কাগজে লেখা বেরনো মানে সে সময় স্বাভাবিকভাবেই বিরাট বিষয় । মেদিনীপুর শহরে তখন অনেকে জেনে গেছে নীলাঞ্জন কুমার-টি কে ? তখন অনেকে আমাকে বিস্ময়ের চোখে দেখে । সুতরাং হাওয়ায় ওড়া ব্যাপারটা সেই সময় বেশ অনুভব করছি । যা অবশ্যই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কেটে গেছে । পাশাপাশি বাবা মায়ের চোখের আড়ালে হায়ার সেকেন্ডারি পড়ার বাইরে ব্যাপক অন্য বই পড়ে যাচ্ছি । আসলে আমার স্থির বিশ্বাস ছিল যেমন তেমন করেই হোক না কেন,  আমি হায়ার সেকেন্ডারি পাস করবোই ।

                                       ( আগামী মাসে চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...