চলো পাল্টাই

চলো পাল্টাই
চিন্তন। মন্থন। চিরন্তন।

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৪। নীলাঞ্জন কুমার শ্রেষ্ঠ কবিতা । নৃপেন চক্রবর্তী,Book Review

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৪। নীলাঞ্জন কুমার




শ্রেষ্ঠ কবিতা । নৃপেন চক্রবর্তী । একুশ শতক। দুশো টাকা ।

শ্রেষ্ঠ কবিতা ব্যাপারে কবিরা বড়সড় গোল পাকায় কাকে ছেড়ে কাকে রাখব সে নিয়ে । এ বিষয়ে কবি নৃপেন চক্রবর্তী তাঁর ভূমিকায় আলোকপাত করেছেন ।
সামগ্রিকভাবে বইটি পড়ার পর বোঝা গেছে তাঁর বেশির ভাগ কবিতার ক্ষেত্রে তিনি ভুল করেননি । তবে তিনি যদি আরো কিছু কঠিন হতেন তবে শ্রেষ্ঠ কবিতার ক্ষেত্রে আরো কিছু আরো উৎকর্ষতা লাভ করতে পারত বইটির কিছু কলরব কমলেও ।
             কবি দীর্ঘদিন বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নাম । তাঁর কবিতায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খুবই সাধারণ ভাষায় তীব্র ব্যন্ঞ্জনায় তিনি পাঠকের কাছে হাজির করেছেন তাঁর বেশিরভাগ কবিতা যা শেষ না করে থাকতে পারা যায় না । সে কারণে তাঁর পূর্ব প্রকাশিত দীর্ঘ ৫২ বছর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ৮ টি কাব্যগ্রন্থের ও ১৬ টি  অগ্রন্থিত কবিতা নিয়ে গড়ে ওঠা এই শ্রেষ্ঠ কবিতার ভেতর পেয়ে যাই:  ' ভাঙা অ্যান্টেনায় ছুঁয়ে আছে ব্যক্তিগত সুখ - / কিছু কিছু উত্তাপ ' ( ' তবুও '), ' অথচ মানুষের দু চোখে/  ইদানিং চৈত্রের উত্তাপ বড় বেশি/  কন্ঠনালীতে তৃষ্ণা,  / জিভের তলায় লোভ,  / আমার জামার পকেটে ঘোরাঘুরি করে/  প্রতারক চতুর আঙুল! ' ( ' লাল ক্যাকটাস '), ' একদল লোক ভাতের থালায়/  ঘি মাখিয়ে আওয়াজ তোলে/  একদল লোক নুন না পেয়ে/  পান্তা মাখে হাতের জলে । ' ( ' একদল লোক '),
           কবির ভেতরের ভাবনা আরো গাঢ় হয় যখন তিনি ' শব্দহীন কথোপকথন ' ( রচনাকাল ২০১১-২০১৫)  কাব্যগ্রন্থে আসেন তখন থেকে আজ পর্যন্ত যে তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর তাতে দেখা যাচ্ছে কোন কবিতা ফেলে দেবার নয় । গভীর গভীরতর কবিতার অসুখ তাঁকে ছুঁয়ে আছে বলে তিনি লিখতে পারেন:  ' এখন ধোঁয়াহীন রান্নাঘরে  / ভিন্ন ব্যান্জ্ঞনে অন্য আয়োজন, / তুমি ভালোআছো তো?' ( ' মা ' ) , ' রক্তাক্ত হাত ধুয়ে মুছে ফেলে/  একদল মানুষ/  আলোর অক্ষরে লিখে দিচ্ছে/  ভালোবাসার গান।' (' স্পর্শ করতেই'), এক টুকরো হাইফেনে/  জীবন ও মৃত্যু ঝুলে রয়েছে; / তবুও ভেতর থেকে কে যেন সাহস যোগাচ্ছে,  বুঝতে পারছি অথচ তাকে দেখতে দেখতে পাচ্ছি না আমি । ('সাহস') , ' তোমার মেটারনিটি লিভ শুরু হলে/  আমি প্রতিদিন তোমাকে ঈশ্বরচন্দ্রের বর্ণপরিচয় পড়ে শোনাবো ।' ( ' মেটারনিটি লিভ ও ঈশ্বরচন্দ্রের বর্ণপরিচয় ' ) , ' তারা অনেকেই এখন/  দিব্যি গলায় উত্তরীয় ঝুলিয়ে/  আরো বেশি বেশি করে/  কবিতা  লিখছেন ।/তবে মানুষের জন্য নয় রাজার জন্য! ' ( ' বুদ্বিজীবী')।
             কবির সম্ভবত সাম্প্রতিক অগ্রন্থিত একটি কবিতা বুঝিয়ে দেয় তিনি কি জাতের কবি । যখন পড়ি ' একজন বেঁটে ও কুঁজো হয়ে যাওয়া কবির গল্প ' তখন প্রতিবাদী সত্ত্বা তাঁর ঝিকিয়ে ওঠে ।কবির এই কবিতার প্রথম চার লাইন : ' একজন কবি হঠাৎ করেই বেঁটে ও কুঁজো হয়ে গেলেন । / রাতারাতি পিঠের ওপর বিরাট একটি কুঁজ গজিয়ে গেল ।/হাতে লাঠি নিয়ে মাথা নিচু করে/  তিনি প্রতিদিন রাজার বাড়ি হেঁটে যান ।' আজকে এক শ্রেণীর কবির চরিত্র  চিনিয়ে দেয়  । কবি এভাবে ঋজু থাকুন । এই কামনা । প্রচ্ছদ সাধারণ ।




1 টি মন্তব্য:

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...