চলো পাল্টাই

চলো পাল্টাই
চিন্তন। মন্থন। চিরন্তন।

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

স্মৃতিকথা- ২৪ ।। এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার, Nilanjan Kumar

 স্মৃতিকথা- ২৪



                        এই আমি চরিত্র

                            নীলাঞ্জন কুমার

                            (গত মাসের পর )



                                  ।। ২৪।।


' জরাজীর্ণ বাড়ির দলে ' পুস্তিকার ভেতর একটি কবিতা নিয়ে বেশ আলোড়ন হয়েছিল । কারণ তা আমি সুর করে গাইতাম । কবিতার নাম ' কংকাল কংকাল ' । তখন আমি সামান্য সময় নারী বিরোধী ছিলাম । নারী দেখলেই মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নিতাম । যা হোক  মেদিনীপুর শহরে মেদিনীপুর কলেজের সামনে গোটা রাস্তায় তখন  ( এখনো হয়) প্রচুর প্রতিমার পুজো হত।প্রচুর ক্লাব ওখানে পুজো করতো , যাতে থাকতো সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কীর্তিকলাপ ; যা দেখার জন্য গোটা শহর মেদিনীপুর কলেজের  সামনে গোটা রাস্তায় তখন সরস্বতী পুজো দেখার জন্যে সন্ধ্যা থেকে হামলে পড়তো । এই চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থায় ঘুরতে ঘুরতে এক কিশোরী আমার বুকের মধ্যে এসে পড়লো । আর তখনই মনে হল এ মেয়ে নয়,  এ কংকাল ।সেখান থেকেই কবিতাটার লেখার আইডিয়া । কবিতার প্রথম
কয়েকটি লাইন:  ' কংকাল কংকাল/ সব কিছু কংকাল/  যেখানেই যাও সেখানেই দেখবে/  কংকাল কংকাল/  ওই দ্যাখো আধুনিকা নারীদের বুকে আঁটো ব্রা/ গায়ের কোথাও ঢিলেঢালা নেই/  বাইরে থেকে দেখতে পাবে সব/  কিন্তু ভেতরে দ্যাখ কংকাল কংকাল ।' ' জরাজীর্ণ ...' তে প্রকাশিত হওয়ার কারণে বেশ কিছু জায়গায় লেখাটি গিয়েছিল । জনৈকা নারী কবিতাটি পড়ে বিরক্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে পুলিশে যাবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল । তবে শেষ অবধি যায়নি । কেউ কেউ আমার নাম দিয়ে ফেলল ' কংকাল কবি' । আমার তাতেই আনন্দ,  কংকাল বলুক কিংবা যা বলুক কবি তো বলছে । ওতেই হবে ।
                সে সময় কর্ণেলগোলায়  আঢ্যদের দুই ভাই এর সঙ্গে বেশ ভাব হল । ওদের নাম নূপুর আর বাঁশি । ওদের বাবা পুলক আঢ্য ছিলেন একজন কবি   ওদের ছিল চালের দোকান । তারপর আমার দেখাদেখি ওরা মাইকের দোকান দিল সঙ্গে ডেকোরেশনের ব্যাপার  ।  ওদের ওখানে প্রচারের জন্য প্রতিদিন ওই সময়ের বিভিন্ন গান বাজানো হত । মাঝে মধ্যে আমায় নিয়ে আসর বসতো । আমি মাইকে কংকাল গাইতাম । জানতাম না কিংবা বুঝতাম না ওরা হাসাহাসি করার জন্য এসব কান্ড করছে । একদিন দেখি এক মহিলা সেই গান গাইছে । আমায় দেখে সে থতমত!
            ' কংকাল ' হিট  ( ? ) করার পর আমি আর নূপুর মিলে ' অভিযাত্রী 'নামে  একটি পত্রিকা বার করলাম । তার সঙ্গে' উদয় ' নামে আর একটি পত্রিকা বার হল । পয়সা দিল নূপুর । মাত্র একটি করে সংখ্যা বের হয়েছিল । অভিযাত্রী তে  আমার আর নূপুরের কবিতা প্রকাশ হল , উদয়ে বিভিন্ন কবির কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল ।সে যে কি কিম্ভুতকিমাকার জিনিস হল তা বোঝানো সম্ভব নয় । এদিকে মেদিনীপুর কলেজের লাইব্রেরি প্রায় দখল হতে চলেছে আমার । মোট ৭/৮টি দেওয়াল পত্রিকা এক সঙ্গে সম্পাদনা করছি । বিভিন্ন মনন সন্ঞ্জাত পত্রিকাগুলি বহু ছাত্র ছাত্রীরা পড়ছে ।
আমি মাঝেমধ্যে লাইব্রেরি গিয়ে দেখে এসেছি কেউ কেউ পত্রিকা পড়ছে কিনা । দেখি ভীড় করে সবাই পড়ছে । কিন্তু কোন মন্তব্য কারো মুখে নেই । তবে মুখ দেখে বুঝেছি তারা আশ্চর্য হচ্ছে এতগুলো পত্রিকা সম্পাদনা করছে ' নীলাঞ্জন কুমার ' নামে একজন ! পত্রিকাগুলির নাম ছিল 'অভিযাত্রী' ,  'অভিষেক' , 'আরো কিছু ' , ' টেলপিস ' ইত্যাদি । ফাস্ট ইয়ার বলে সব মুক্ত ভাবে করতে পেরেছিলাম ।বাড়িতে কিংবা বাইরে থাকতো আমার সঙ্গে নোটবই আর পেন । তাতে যা খুশি লিখতাম । সে সব এখনও আমার কাছে যত্নে আছে । যে সব মাঝেমধ্যে দেখে বুঝি এগুলো না করলে আমি যতটুকু এসেছি আসতে পারতাম না ।

1 টি মন্তব্য:

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...