Friday, June 12, 2020

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || তিন মো-র কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
তিন মো-র কবিতা



"কাব্য আমার শ্বাসপ্রশ্বাস,কবিতা আমার রুটি"। একথা বলেছিলেন প্রখ্যাত বার্মিজ কবি তিন মো (Tin Moe, 1933--2007)।  মধ্য মায়ানমারের একটি শহরে তিন মো-র জন্ম। ১৭ বছর বয়সে প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতা। ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ, কাঁচের লন্ঠন। ১৯৬৭খ্রিস্টাব্দে তিনি ইয়াঙ্গুনে চলে আসেন এবং রেঙ্গুন ইউনিভারসিটিতে কুড়ি বছর ধরে অনুবাদ ও প্রকাশনা বিভাগের কাজ করেন। রাজনৈতিক কার্যকলাপের কারণে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কারাবন্দি হন এবং ৬ মাস কারাবাস করেন করেন ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে নেদারল্যান্ড সরকার তাকে প্রিন্স ক্লোজ আওয়ার্ড দেন।

 ১.বুড়ো অতিথি

সিগারেট পোড়া
বাদামি সূর্য
কেউ কি আমাকে ফেরাবে ঘরে?

২. নির্জন রাত

ভয় আর উৎকণ্ঠা উৎকণ্ঠা
রাতের প্রতীকধর্মিতা ।

সব পাখি ঘরে ফেরে
একটা পেঁচা ছাড়া, যে কেবল একাকী বাইরে বিস্ফারিত চোখ, নির্ঘুম
মনোরোগের নিশ্চিত চিহ্ন চিহ্ন ।

শুনেছি পদধ্বনি।
 বরফ পতনের মতো যদিও
আসলে তারা ভূমিধস ও ভূমিকম্পের
তীব্র গর্জন।

 বৃষ্টির ফোটার শব্দ
পাতার উপর  এক এক করে
কুচিকুচি করে আমার হৃদয় ।

আমার রাতের সঙ্গী ভাবনা
আমার দুর্বল ও ছেলেমানুষ মনকে ইতস্তত আন্দোলিত করে,
কতটা নির্বোধ আমি!

 তবু রাত শুধু রাত শুধু রাত রাত ...
আমি বুঝি
তা কখনো সুন্দর হতে পারে না।

৩. খাঁচাবন্দি মুরগি

 যদি আমার
ডানা
থাকত
তা হয়ে উঠত
কবিতা ।

যদি আমার
 কবিতা
 থাকত

সমস্ত মানবতার কাছে
উড়ে যেতো , ভেসে যেতো
ছড়িয়ে পড়া সংগীত।

কিন্তু এক্ষেত্রে
আমার
কোন কবিতা নেই।

 মানবতা থেকে অনেক দূরে
অন্ধকার ঘরে
 ডানাহীন বন্ধুহীন।
 খাঁচাবন্দি মুরগি
অসার ঘুমচোখে তাকিয়ে।

No comments:

Post a Comment

অতিমারী || অভিজিৎ চৌধুরী || করোনা-যুদ্ধের অণুগল্প~ ১

অতিমারী অভিজিৎ চৌধুরী ব্যাসদেব বললেন,অশ্বত্থামা অসূয়াকে প্রতিরোধ কর। কার অসূয়া মহাকবি!  হাসলেন ব্যাসদেব।বললেন,আজও তুমি কি ...