বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

কুমোর পোকা || প্রশান্ত দে || অণুগল্প

কুমোর পোকা
প্রশান্ত দে 


না।চাবিকাঠি রাখার ইনফরমেশনটা মেলাতে পারে নি।শেষমেষ তালাটাও ভাঙতে না পেরে ছিচকে চোর চলে গেছে। অফিস থেকে ফিরে বাঁকাটেরা তালাটাকে দেখে ভাবতে লাগলেন মাধবী।মাধবী মানে স্বামী পরিত্যক্তা
মাধবী স্যান্যাল।এক মাত্র ছেলেকে নিয়ে স্বর্গলোক প্রাপ্ত বাবা মায়ের ভিটেতেই থাকেন।ছেলেকে ইংরাজী মাধ্যম স্কুলে পাঠিয়ে নিজের অফিসে গিয়েছিলেন ।নিত্যদিনের অভ্যাস মতো ঘরে প্রবেশের দরজায় তালা দিয়ে,চাবিকাঠিটা চৌকাঠের বাজুর উপরের ফাঁকে রেখে গিয়েছিলেন ।আগে পরে আসার কথা চিন্তা করে ।
কিন্তু আজ শারীরিক অসুস্থতার কারনে ছেলের স্কুল থেকে ফিরে আসার আগেই ক্লান্ত শরীরে ফিরেছিলেন।
"আজ আরেকটা আঘাতের থেকে বেঁচে গেলম ,এই দামি কোম্পানীর তালাটার জন্য" এই কথাটা ভাবতে ভাবতে চাবিকাঠি  রাখার স্থানটিতে নজর পড়ল।দেখতে পেলেন চাবিটাকে ঢেকে একটা কুমোরপোকা মাটি বয়ে নিয়ে এসে নিজের লার্ভার পিউপা দশার  জন্য কলসাকৃতি ঘর তৈরী করছে।
অথচ আগে এক দিন চাবিকাঠিটা খুঁজে পেতে কতো কষ্ঠই না করতে হয়েছিল।সন্ধ্যায় অবসন্ন শরীরে অফিস থেকে ফিরে দেখে--ছেলেটা চাবিকাঠি খুঁজে না পেয়ে দরজার বাইরে বসে আছে।অন্ধকারে প্রথমে হাতড়ে চাবিটা না পেয়ে ,নিজের  ব্যাগটা তন্নতন্ন করে খুঁজে ছিলেন।অবশেষে নিজের ভাগ্যকে দোষারুপ করতে করতে মোবাইলের আলোটা জ্বেলে চাবি রাখার স্থানটা ভালো করে দেখতেই দেখতে পেয়েছিলেন-চাবি রাখার স্থানে ছোট্টো মাটির কলসের মতো কি যেন একটা।সেটা হাত দিয়ে ভাঙতেই চাবিটা খুঁজে পেয়েছিলেন।এবং খেদোক্তির সুরে বলেছিলেন ,'কেমন দুষ্টুমি দেখ্! কে যেন মাটি দিয়ে চাবিটা ঢেকে দিয়েছে।'
পরের দিন সকালে ঝাড়ু দিতে গিয়ে দেখতে পেয়েছিলেন  -মাটির টুকরোর সঙ্গে মরা একটা পতঙ্গের লার্ভা।
আজ ব্যাপারটা দেখে সব বুঝতে পারলেন এবং ভাবলেন ,"ভাগ্যিস আজও কুমোর পোকাটা চাবি রাখার স্থানে কলসাকৃতি ঘর তৈরী করছিল,তাই চাবিকাঠি রাখার ইনফরমেশন মেলেনি"।
এই জন্য কুমোরপোকাটাকে বাহবা দিলেন এবং আগের দিনের অপরাধের জন্য নিজেকেই অপরাধী করলেন।লার্ভার মৃত্যুতে দুঃখ পেলেন এবং আফশোষ করতে লাগলেন।

1 টি মন্তব্য:

পূরবী-৪৫ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

পূরবী-৪৫ অভিজিৎ চৌধুরী।। একটা আহ্বান থাকত সেই সমস্ত পুজোর দিনগুলিতে।আকাশের রোদ্দুরের।শরতেরও।আর প্রতিমার সঙ্গে মায়ের গায়ের গন্ধেরও।কোন কোন মু...