বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

পূরবী~ ১২ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ১২
অভিজিৎ চৌধুরী

পুরোনো একজন বন্ধু বলল,তুই যে লিখিস ত- তো জানতাম না।
তীর্থ বলল, দিনলিপি লিখি।
হাসল সে।রবীন্দ্রনাথের বিনির্মাণ!
চমকে উঠল তীর্থ। বলল, একেবারেই না।আমি কখনও কঠিন বই পড়তে পারিনা।।সহজ ভাবেই ভাবি।আর সেখানে রবীন্দ্রনাথ আসেন।অলেখককে লেখক তিনিই নির্মাণ করেন।
সে বলল আবার,তবে রবীন্দ্রনাথ বেশী এলেই ভাল হয়।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পড়ার সময় একজন বন্ধু ছিল।নাম রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। কালো,মুগুভাজা চেহেরা।খেতে আর খাওয়াতে ভালোবাসত।ইংরেজি সাহিত্যে অসাধারণ ব্যুৎপত্তি ছিল কিন্তু রেজাল্টে রবীন্দ্রনাথ তেমন আশানুরূপ কিছু করতে পারত।সে তীর্থকে বলত,তোমার মধ্যে লেখক সত্তা আছে।
চুপ করে রইল তীর্থ।সব অন্তর্লীন ভাবনা মুখে বলা যায় না।যিনি প্রশ্ন করছেন,তিনিও বলতে পারছেন না।
সেই রবীন্দ্রনাথ সংসার ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়েছে।খুব দেখতে ইচ্ছে করে।স্বপ্নে সে মাঝেমাঝে উঁকি দেয়।
একদিন রবীন্দ্রনাথ বললেন,তুই নাকি কাজ আর কর্তব্য দুটোকেই রসের ভিয়েনে মজিয়ে রাখিস,সত্যি!
দীনেন্দ্রনাথ বানানটা বদলে করলেন দিনেন্দ্রনাথ।ডাকতেন দিনু বলে।
তখন একজন বললেন,গুরুদেব,আপনার দিনু উৎসব- রাজ।
দিনু মৃদু হাসতে থাকলেন।
হো হো করে হেসে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ। যদিও উচ্চকিত হাসি তাঁদের ব্রাহ্ম পরিবারের নয়।কবি নবীন সেন এই নিয়ে তাঁকে খোঁচাও দিয়েছেন।তখনও তিনি তরুণ।শিলাইদহে জমিদারি দেখাশোনা করছেন।
তারপর নিজেকে খানিকটা সামলে নিয়ে বললেন,অবনের তো স্মৃতিরেখাও ছবিরেখার মতোনই।সে সেদিন বলচিলে,দিনুর বয়স তখন সবে তিন পেরিয়েছে।বাল্মিকী প্রতিভায় সে এলো তার পোষা টাট্টু ঘোড়া নিয়ে।সেই ঘোড়ার পীঠে শিশুর যাবতীয় লুঠের মাল।সংলাপ ছিল না অবিশ্যি।
দিনেন্দ্রনাথ লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শব্দব্রাউজ ৩০২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-302, Nilanjan Kumar

  শব্দব্রাউজ ৩০২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-302, Nilanjan Kumar শব্দব্রাউজ ৩০২ || নীলাঞ্জন কুমার বিপাশা আবাসন । তেঘরিয়া মেন রোড । কল...