শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

নস্টালজিয়া ১২ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ১২
পৃথা চট্টোপাধ্যায় 


এইরকম একটানা বৃষ্টি হলে আমার ছোটবেলার কথা খুব  মনে পড়ে। তখনও এইরকম একনাগাড়ে বৃষ্টি হলে ঘরে বসে কাটতো ভাই,বোন, মায়ের সঙ্গে লুডো, দাবা, ব্যাগাডুলি খেলে আর কবিতা পড়ে। তখন আমাদের কারো বাড়িতেই টিভি ছিল না। টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে আমরা স্কুলেও যেতাম না। অনেক সময় স্কুলে গিয়ে রেইনি ডে হয়ে যেত। সঙ্গে ছাতা থাকলেও কিছুটা ইচ্ছে করেই  চুপচুপে হয়ে ভিজে বাড়ি ফিরতাম।বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ভালো লাগত আমার।  বাবা অফিসে যেত। ছুটির দিন সবাই ঘরে গল্প গুজবে কাটত।বাবা তাস খেলা শিখিয়েছিল এইরকম এক বৃষ্টির দিনে। আমরা সবাই খিচুড়ি পছন্দ করতাম বলে যে কোনো ছুঁতোয় আমাদের বাড়িতে  খিচুড়ি হতো , আর এরকম বৃষ্টির দিন হলে তো কথাই নেই। এখনকার মত তখন সব সবজি বারোমাস পাওয়া যেত না বিশেষ করে  শীতকালের সবজি। মা বর্ষার জন্য  শীতের বাঁধাকপি খুব সুন্দর কেটে শুকিয়ে যত্ন করে কাচের বয়ামে রেখে দিত, একটুও নষ্ট হতো না।  বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির সাথে সেই বাঁধাকপির তরকারিতে বেশ স্বাদবদল হত মনে পড়ে, সেই সাথে থাকত পাঁপড় ভাজা। আমাদের বাড়িতে অনেক গাছপালা ছিল।  নারকেল,  সুপারি,  কাঁঠাল, পেয়ারা, শিউলি, কুন্দ, জবা, কাঞ্চন, করবী,টগর ইত্যাদি। বর্ষাকালে নানা রঙের দোপাটি ফুল ফুটতে আমাদের উঠোন জুড়ে। এত গাছ পালায় বৃষ্টির দিনে আরও অন্ধকার হয়ে থাকত চারপাশ। অনেক সময় বৃষ্টি থেমে গেলেও গাছের পাতা থেকে টুপটুপ করে জল ঝরতো। একটানা ব্যাঙ ডাকত। কাকগুলো গাছের ডালে বসে অকাতরে ভিজতো। তখন খুব  লোডশেডিং হতো। বৃষ্টির রাত্রে ঠাকুমার কাছ ঘেঁষে বসে কত গল্প শুনতাম। তখন বাবা মাও আমাদের অনেক গল্প বলতো।একটানা বৃষ্টি হলে এক অকারণ  মন খারাপ ঘিরে থাকত আমাকে। আনন্দ ,মজা ,গল্প সবই হতো কিন্তু  কিসের জন্য  মনের  সেই বিষণ্ণতা বুঝতে পারতাম না। এখনও বৃষ্টি হলে আমার মন খারাপ করে ।এখন মায়ের কথা,  বাবার কথা ,হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলার কথা মনে পড়ে খুব কান্না পায়।

এইরকম একটানা বৃষ্টি হলে আমার ছোটবেলার কথা খুব  মনে পড়ে। তখনও এইরকম একনাগাড়ে বৃষ্টি হলে ঘরে বসে কাটতো ভাই,বোন, মায়ের সঙ্গে লুডো, দাবা, ব্যাগাডুলি খেলে আর কবিতা পড়ে। তখন আমাদের কারো বাড়িতেই টিভি ছিল না। টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে আমরা স্কুলেও যেতাম না। অনেক সময় স্কুলে গিয়ে রেইনি ডে হয়ে যেত। সঙ্গে ছাতা থাকলেও কিছুটা ইচ্ছে করেই  চুপচুপে হয়ে ভিজে বাড়ি ফিরতাম।বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ভালো লাগত আমার।  বাবা অফিসে যেত। ছুটির দিন সবাই ঘরে গল্প গুজবে কাটত।বাবা তাস খেলা শিখিয়েছিল এইরকম এক বৃষ্টির দিনে। আমরা সবাই খিচুড়ি পছন্দ করতাম বলে যে কোনো ছুঁতোয় আমাদের বাড়িতে  খিচুড়ি হতো , আর এরকম বৃষ্টির দিন হলে তো কথাই নেই। এখনকার মত তখন সব সবজি বারোমাস পাওয়া যেত না বিশেষ করে  শীতকালের সবজি। মা বর্ষার জন্য  শীতের বাঁধাকপি খুব সুন্দর কেটে শুকিয়ে যত্ন করে কাচের বয়ামে রেখে দিত, একটুও নষ্ট হতো না।  বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির সাথে সেই বাঁধাকপির তরকারিতে বেশ স্বাদবদল হত মনে পড়ে, সেই সাথে থাকত পাঁপড় ভাজা। আমাদের বাড়িতে অনেক গাছপালা ছিল।  নারকেল,  সুপারি,  কাঁঠাল, পেয়ারা, শিউলি, কুন্দ, জবা, কাঞ্চন, করবী,টগর ইত্যাদি। বর্ষাকালে নানা রঙের দোপাটি ফুল ফুটতে আমাদের উঠোন জুড়ে। এত গাছ পালায় বৃষ্টির দিনে আরও অন্ধকার হয়ে থাকত চারপাশ। অনেক সময় বৃষ্টি থেমে গেলেও গাছের পাতা থেকে টুপটুপ করে জল ঝরতো। একটানা ব্যাঙ ডাকত। কাকগুলো গাছের ডালে বসে অকাতরে ভিজতো। তখন খুব  লোডশেডিং হতো। বৃষ্টির রাত্রে ঠাকুমার কাছ ঘেঁষে বসে কত গল্প শুনতাম। তখন বাবা মাও আমাদের অনেক গল্প বলতো।একটানা বৃষ্টি হলে এক অকারণ  মন খারাপ ঘিরে থাকত আমাকে। আনন্দ ,মজা ,গল্প সবই হতো কিন্তু  কিসের জন্য  মনের  সেই বিষণ্ণতা বুঝতে পারতাম না। এখনও বৃষ্টি হলে আমার মন খারাপ করে ।এখন মায়ের কথা,  বাবার কথা ,হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলার কথা মনে পড়ে খুব কান্না পায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২১৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য  প্রভাত চৌধুরী ২১৪. কবিতাপাক্ষিক ৩০০ সংখ্যায় মোট ৪২১ জন কবির কবিতা ছাপা হয়েছিল । সংখ্যাটা কোনো পজিটিভ চিহ্ন বহন কর...