সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

নস্টালজিয়া ১৯ || পৃথা চট্টোপাধ্যায়

নস্টালজিয়া ১৯

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



আজকাল পুজোর দিন যত এগিয়ে আসে ততই আমার হারিয়ে যাওয়া শৈশবের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে তাদের কথা যারা স্নেহে মমতায় আদরে আবদারে বড় করে তুলে তারপর ...তারপর একদিন নিজেরাই কোথায় চলে গেল। 'মৃত্যুরে লহো  সহজে'  বলা হলেও , আমি কোনো মৃত্যুকেই সহজে মেনে নিতে পারি না। যে চলে  যায় সে  যে চিরতরে হারিয়ে যায় এটা আমার কাছে খুবই বেদনার। একটা ভাষাহীন কান্না আমাকে চেপে ধরে মৃত্যুর প্রসঙ্গ এলেই।

  আমার বাবার কথা খুব  মনে পড়ে। বাবা নেই এ কথাটা যত সহজে বলি মন তত সহজে মানে না। বাবার মৃত্যুর পর খুব একা অসহায়  মনে হয়েছিল সেই রাতে।  ছোটবেলায় বাবা ছিল আমার কাছে এক প্রশ্রয় স্থল। বাবা দূরে দূরে চাকরি করত বলে মাকেই সামলাতে হত আমাদের তিন ভাই বোনকে।মা তাই হয়তো  একটা শাসনের  আবরণে ঘিরে রাখত আমাদের। বাবা সকালে অফিসে  বেড়িয়ে রাতে ফিরতো।আমার মনে আছে মা খুব সকালে উঠে বাবা অফিসে যাবার আগে সব রান্না সেরে ফেলতো।খাওয়া দাওয়ার শৌখিনতা ছিল আমাদের বাড়িতে। তখন রান্নার গ্যাস ছিল না। আঁচে রান্না হত, অথচ মা কত যত্ন করে তেতো সুক্তো ,শাক,রকমারি সব্জি,  ডাল, মাছ, চাটনি ইত্যাদি সব পদ রান্না করে ফেলত সকাল আটটার মধ্যে। বাবাও সেই সাত সকালে সব রকম পদ গুছিয়ে তৃপ্তি করে খেয়ে দুপুরের টিফিন বাক্সে গরম রুটি তরকারি ইত্যাদি নিয়ে নির্দিষ্ট  ট্রেন ধরত অফিসে যাবার। বাবা পরবর্তীকালে প্যান্ট সার্ট পরলেও  আমার শৈশবে ও কৈশোরে বাবা  ধবধবে সাদা ধুতি হাফসার্ট, ফুলসার্ট অথবা পাঞ্জাবি পরত। বাবা অফিস থেকে ফিরলে নিশ্চিন্ত হতাম আমরা। বিকেল থেকেই বারবার ঘড়ি দেখতাম,  উৎকর্ণ হয়ে থাকতাম ট্রেনের শব্দ শুনতে। বাবা মা সন্তানের সঙ্গে এক নিবিড় বন্ধন ছিল আমাদের শৈশবে।বাবার অফিস থেকে ফেরার ট্রেন লেট করলে কতবার ঘর বার করতাম আমি। মা ও চিন্তা করত । গরমের সময় বেলা বড় বলে অসুবিধা হত না, কিন্তু শীতের রাতে কনকনে ঠান্ডায়,  বর্ষার রাতে বৃষ্টিতে ভিজে বাবা বাড়িতে ফিরলে বাবার জন্য আমার খুব কষ্ট হত। বাবা অফিস থেকে ফিরলে খুব নিশ্চিন্ত হতাম আমি। ক্লান্ত থাকলেও খুব আদরের সঙ্গে আমাদের সমস্ত দিনের কার্যকলাপের খোঁজ নিত। বাবা  অফিস থেকে ফিরে ইংরেজি পড়াত আমাদের। আর ছুটির দিনে নিজের হাতে খাসির  মাংস রান্না করত। মা সব জোগাড় করে দিত। বাবার রান্নার স্বাদই ছিল আলাদা। বাবা রান্না করার  সময় আমরা ঘুরঘুর করতাম কখন ছোট্ট বাটিতে করে আমাদের একটুকরো মাংস দেবে সেদ্ধ কতটা হয়েছে দেখতে, এর যে কী আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না।  বাবার কাছে আনন্দের অনেক প্রশ্রয় ছিল। কোনো ছুটির দিনে, বৃষ্টির সন্ধ্যায় বাবা আমাদের অনেক মজার ঘটনা,  গল্প বলত।বাবার গল্প বলার মধ্যে এমন একটা আকর্ষণীয় ভঙ্গি ছিল যে আমরা খুব উপভোগ করতাম। কত গল্প বাবার কাছে বারবার শুনেও পুরোনো মনে হত না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস শ্রাবণী গুপ্ত একটা গোটা জীবন আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল আমাদের গায়ে, হৃদয়ে তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আম...