বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য ১৬৩ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৩.

সুমিতেশ সরকার কখনোই কবিতাপাক্ষিক - এর এডিটোরিয়াল টিমে ছিল না । কথা সঠিক লিখলাম না। লিখতে হত : কখনোই নামটা ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর আমার নিত্যসঙ্গী ছিল। প্রতিটি কাজে পাশে থাকত । ঠিক এরকমভাবে খুব কম জনই আমাকে সঙ্গ দিয়েছে। এমনকী বেশ কয়েকটি দিন সুমিতেশের অফিসে আমি স্রেফ টিফিন করতে গেছি। এই সমীকরণটা বোঝানো খুব একটা সহজ নয়।বরং   ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক ' -এর লেখায় ঠিক কীভাবে শুরু করেছিল , সেটা দ্যাখা যেতে পারে ।

' হয়তো । কিংবা হয়তো নয় , নিশ্চিতভাবেই বলা যায় কবিতাপাক্ষিক মানে এই আপনারা ; এবং আমিও।এইখানে , হ্যাঁ ঠিক এইখানে খুব সামান্যভাবে হলেও আমাকে অস্বীকার করা যাচ্ছে না। এবং এইজন্য --- আপনাদের পাশাপাশি আসন পাচ্ছি বলে , সত্যি বলতে কি , আমার রোমাঞ্চ হচ্ছে। নচেৎ এই রচনাটির শীর্ষক আমাদের কবিতাপাক্ষিক হয় কী করে !'

 সুমিতেশ কেন যে আমাদের ছেড়ে এত দূরে চলে গেল , জানি না। ফিরিয়েও আনা গেল না।

অভিজিৎ চৌধুরী নিজেই বলেছিল 'কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে আমার প্রথম যোগসূত্র পাঠক হিসেবে ।'

কিন্তু এই পাঠক অভিজিৎ চৌধুরী খুব বেশিদিন পাঠক পরিচয় টিকিয়ে রাখতে পারেনি। প্রথমে কবি , পরে গদ্যকার রূপে হাজির হয়েছে কবিতাপাক্ষিকের পাঠকদের সামনে। 

বলতে দ্বিধা নেই , অভিজিৎ সূত্রে আমি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম মদনমোহন তর্কালংকার এবং তৎকালীন সমাজের প্রতি। এবং অভিজিৎ-এর সৌজন্যে বেথুন সাহেবের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম। এবং পরবর্তী সময়ে ভগবান বুদ্ধ-র স্ত্রী গোপা সম্বন্ধে বিশেষভাবে অবগত হয়েছিলাম।

এবং অভিজিৎ যেমন কবিতাপাক্ষিক পরিবারের একজন হয়ে উঠেছিল , আমিও অভিজিৎ-এর পরিবারে যুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

পরের লেখাটি ছিল সমীর রায়চৌধুরী-র। আমি সমীরদাকে প্রথম থেকেই আমার শিক্ষক রূপে প্রচার করে এসেছি। এর মধ্যে আমার কোনো কৌশল ছিল না। আমি প্রথম থেকেই সততার সঙ্গে বলে এসেছি যে ইউরোপের পোস্টমডার্ন চিন্তকদের কোনো বই -এর মলাটও আমি মন দিয়ে দেখিনি। পড়া তো দূরের কথা। সমীর রায়চৌধুরী বলে দিয়েছিলেন : আমার লেখার মধ্যে পোস্টমডার্নের যাবতীয় লক্ষণ বর্তমান , অতএব আমি পোস্টমডার্ন ।

তবে এটুকু বলতে দ্বিধা নেই , সমীরদা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। আর রুদ্র কিংশুক-এর কাছে ছুটে গেছি পোস্টমডার্ন সম্পর্কে জানার জন্য।

আর সমীর রায়চৌধুরী এবং রুদ্র কিংশুক সমবেতভাবে ঘোষণা করেছিলেন / করেছিল : আমি যা লিখব , সেটাই পোস্টমডার্ন রূপে গণ্য হবে। এভাবেই আমি বা আমার  ওড়াউড়ি।

তো ' আমাদের কবিতাপাক্ষিক ' শিরোনামের লেখাটিতে জানালেন :

' এলো কবিতাপাক্ষিক।পরিষ্কার ঘোষণা টেক্সটের গুরুত্বের। পোস্টমডার্ন কবিতার মানচিত্র। গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে গেল কবিতা ।চট্টোপাধ্যায় , গঙ্গোপাধ্যায় , গোস্বামী বা দাশগুপ্তের কেবলমাত্র কদর নয়। হরেকপদবির কবির কবিতা। নানা ধরনের কবিতা। প্রত্যন্ত গ্রামের কবিতা।'

সমীরদা আরো লিখেছিলেন :

' কবিতাপাক্ষিক-কে ঈর্ষা করা যায় কিন্তু কোনো মতেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কবিতাপাক্ষিকের প্রচ্ছদ ঘোষণা কেউ মানুক না মানুক। এভাবে দীর্ঘকাল সজীব নিয়মিত প্রকাশিত কবিতার পাক্ষিক কাগজ এই পৃথিবীর যে কোনো ভাষায় ক-টা আছে!!'

সমীর রায়চৌধুরী তাঁর লেখাটির শেষে লিখেছিলেন :

' কবিতাপাক্ষিক কবিতার এ যাবৎ অচেনা অদেখা অধরা স্পেসগুলোকে শনাক্ত করে সেই মানচিত্রের আবছা এলাকাসমূহকে গড়ে চলেছেন । '

হ্যাঁ সমীরদা আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজগুলি নিষ্ঠার সঙ্গে করার চেষ্টা করে চলেছি। বহু সমস্যা , বহু মৎস্য-শিকারিদের টোপ ,নানাবিধ  প্রলোভন ইত্যাদি থেকে  কতদিন , কতটা ঠিক থাকতে পারব জানি না। তবে

চেষ্টা থেকে সরে যাব না সমীরদা। কথা দিলাম আপনাকে। আপনার সঙ্গে সঙ্গে আমার প্রিয় পাঠকদেরও কথা দিলাম নিজকাজে ফাঁকি দেব না। করে যাব আপন -স্বভাবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস শ্রাবণী গুপ্ত একটা গোটা জীবন আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল আমাদের গায়ে, হৃদয়ে তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আম...