বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

ব‍্যক্তিত্ব || কমল কৃষ্ণ কুইলা || দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব‍্যক্তিত্ব 

কমল কৃষ্ণ কুইলা 

দৈনিক বাংলা ডেস্ক




কমল কৃষ্ণ কুইলা। একটি বর্ণময় চরিত্রের নাম। যা রূপকথাকেও হার মানায়। ওঁনার পিতার নাম  হরিপদ কুইলা। মাতা বীনাপাণি কুইলা। ওঁনার পিতা ছিলেন একজন হতদরিদ্র দিনমজুর। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থার মধ্যেই ওঁনার ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠা। শৈশবে তথা বাল‍্যকালে দুবেলা দুমুঠো আহার জোটেনি ওঁনার। ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা পর্যন্ত করতে হয়েছে। তাই নিয়মিত অনাহারে থাকাটা ওঁনার একপ্রকার অভ‍্যাসে পরিনত হয়ে গিয়েছিল।


পারিবারিক চরম দারিদ্র্যতার কারণে ওঁনার শিক্ষাজীবনও পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করতে হয়েছে এমনকি অনেকের পায়েও ধরতে হয়েছে পাঠ‍্য বইয়ের জন্য। অনেকেই আবার দূর দূর করে তাড়িয়েও দিয়েছে অপমান কটুক্তি করে। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন এক গ্লাস জল খেয়ে সারাদিন স্কুলে কাটিয়ে দিয়েছেন উনি। তবুও হাল ছেড়ে দেননি। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে গেছেন।


গান্ধীজির নীতিই ছিল ওঁনার চলার পথে একমাত্র পাথেয় : DO OR DIE করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে। এবং শেষ পর্যন্ত উনি এই নীতিতে সফল হতে পেরেছেন। লড়াইয়ে জিতে উনি সমাজকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে শূণ্য হাতেও জীবন যুদ্ধ জেতা যায়। এখন নিয়মিতভাবে কবিতা, গল্প ও গান রচনা করেন উনি।


ওঁনার কোনো গৃহশিক্ষক ছিল না। নিজেই ছিলেন  নিজের শিক্ষক। বন্ধুদের ও শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে এবং বই ভিক্ষা করে পড়াশোনা সমাপ্ত করেছেন। 1999 সালে মাধ্যমিক। 2001 সালে উচ্চ মাধ্যমিক। 2004 সালে বাংলা অনার্স নিয়ে গ্র‍্যাজুয়েশন। এবং 2010 সালে সোস্যাল ওয়ার্কে মাস্টার ডিগ্রী লাভ করেছেন।


এছাড়া পড়াশোনা চালাতে গিয়ে ওঁনাকে কখনও টিউশনি কখনওবা জোগাড়ের কাজ এমনকি বাড়ি বাড়ি সেলসম‍্যানের কাজও করতে হয়েছে। উনি লজ্জা বা ঘৃণা করেন নি। হাসিমুখেই অন‍্য লেবারদের দুর্ব‍্যবহার কটুক্তি হজম করেছেন।


কর্মজীবনের প্রথম দিকে কলকাতায় এসে দিনের পর দিন রেল ষ্টেশনে শুয়ে কাটাতে হয়েছে ওঁনাকে পকেটে পয়সা না থাকার কারণে। এমনকি বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠে বহুবার জেলও খাটার অভিজ্ঞতাও হয়েছে ওঁনার।


2006 সালে প্রয়াত অভিনেতা সুখেন দাসের হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন কমলবাবু। ওঁনার কাছে কাজ শিখে বিভিন্ন ছবি ও মেগা সিরিয়ালে কাজ করেছেন নিয়মিত। বেশ কিছুদিন অঞ্জন চৌধুরীর বাড়িতেও ছিলেন জি-বাংলায় "এরাও শত্রু" মেগা সিরিয়ালে কাজ করার সময়।


যাইহোক, শেষমেশ নোংরা লবিবাজীর শিকার হয়ে কাজ ছাড়তে হয়। চলচ্চিত্র জগতকে গুডবাই জানিয়ে একটি মিশনারী সংস্থায় যোগদান করেন সোস্যাল ওয়ার্কার হিসাবে। ওখানে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতেই প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন তিনি। সাংগঠনিক কলা কৌশল রপ্ত করেন।


পরবর্তীকালে নিজে সংগঠন তৈরি করেন। যার নাম হল আলো ট্রাস্ট। এর প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও ম‍্যানেজিং ট্রাস্টি কমলবাবু স্বয়ং। এর মাধ্যমে সারা বাংলা জুড়ে সারাবছর ধরে বিভিন্ন প্রকার সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকেন উনি। ইতিমধ্যে পৃথিবীর ছটি দেশে উনি পৌঁছে গিয়েছেন  আলো ট্রাস্টকে নিয়ে। আগামীদিনে পৃথিবীর আরও দেশে পৌঁছে যেতে চান তিনি। 


ওঁনার সেরা প্রকল্প "মডেল ভিলেজ ক‍্যাম্পেনিং" এর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসাবে গড়ে তোলেন উনি।


এছাড়া প্রতি বছর একশোজন করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণীজনদেরকে আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করে থাকেন।


পাশাপাশি লকডাউন পিরিয়ডে অভুক্ত মানুষের বাড়িতে খাদ‍্যদ্রব‍্য পৌঁছে দেওয়া, আমফান ঝড়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে রক্তদান শিবির আয়োজন, বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বই কিনে দেওয়া, স্কলারশিপের ব‍্যবস্থা, রাজ‍্য ও জাতীয় স্তরে বিভিন্ন প্রকার সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ইত্যাদি।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি অতিমারিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুদূর কলকাতা থেকে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে ঝাড়গ্রামের কুষ্ঠ কলোনির অসহায় শিশুদের জন্য ছুটে গিয়েছেন তিনি শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্য। আসন্ন শারদোৎসবে শিশুদেরকে নতুন জামা প‍্যান্ট তুলে দিলেন তিনি।


এছাড়াও কমলবাবুর নিজের একটি প্রোডাকশন হাউস আছে। নিজের লেখা কবিতা, গান ও গল্প চিত্রনাট্য নিয়ে অনেক ভিডিও অ‍্যালবাম ও ছবি বানিয়েছেন উনি।


এছাড়াও ওঁনার প্রতিষ্ঠিত "প্রতিভা টিভি" নামে একটি টিভি চ‍্যানেলও রয়েছে। যেখানে নিয়মিতভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে থাকে। 


এছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা ব‍্যবসায়ীক সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের জন্য স্ট্র‍্যাটেজি রচনা করেন উনি। যা সফলতার চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে অনায়াসেই।


******************

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :

(কমল কৃষ্ণ কুইলা

লেখক, সমাজসেবী, ফিল্ম মেকার,

স্ট্র‍্যাটেজিস্ট ও ইভেন্ট অর্গানাইজার।

চেয়ারম্যান অফ আলো ট্রাস্ট।

ম‍্যানেজিং ডিরেক্টর অফ প্রতিভা টিভি।)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নিউ নরমাল আই ফেস্ট ২০২০ || বিশেষ প্রতিবেদন

দারুণভাবে সফল হল "নিউ নরমাল আই-ফেস্ট ২০২০ " বিস্তারিত প্রতিবেদন পড়তে দয়া করে আজ রাত ৯টার পর রিফ্রেশ করুন... বিশেষ প্রতিবেদন, দৈনিক...