ব্যক্তিত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ব্যক্তিত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১

অরুণ দাস || ব্যক্তিত্ব, Arun Das

 অরুণ দাস || ব্যক্তিত্ব



কবি অরুণ প্রেমের অন্তহীন সাধক ৷ তাঁর কবিতার বর্ণে বর্ণে আঁকা প্রেমের গভীর দর্শন ৷ প্রেম ও প্রকৃতি যেন অনিবার্য হয়ে ওঠে তাঁর কবিতায়, ব্যক্তিজীবনে ৷ প্রেমই তাঁর অস্তিত্ব, অহংকার, জীবনযাপন ৷ কবিতায় 'পরমচেতনা'-র পরম পথের পথপ্রদর্শক তিনি ৷ 


দৈনিক বাংলা-য় নিয়মিত প্রকাশিত হবে কবি অরুণ-এর কবিতা ৷

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১

শাহিন শাজনীন || ব্যক্তিত্ব || বাংলাদেশ

শাহিন শাজনীন || ব্যক্তিত্ব




শাহিন শাজনীন। কবিতা প্রতি ভালোবাসা স্কুল জীবন থেকেই।  ক্লাস এইট, নাইনে ডায়েরির পাতায় লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লিখতেন। কিছুদিন তাতে ছেদ পড়লেও পরবর্তীতে আবার শুরু করেন।


জন্ম-দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িতে। সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স করে এখন ঘরসংসার সামলান। স্বামী কলেজে অধ্যাপনা করেন। আর ক্লাস থ্রি পড়ুয়া একমাত্র পুত্র আরাধ্য নিয়ে সংসারজীবন।


বাংলাদেশ দৈনিক পত্রিকা যেমন ভোরের কাগজ, মানবকণ্ঠ সহ বেশ কয়েকটি প্রথমসারির দৈনিক কাগজে নিয়মিত লিখে থাকেন।

"দোঁহে যাই কুহক জোছনায়" তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ।

শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

ব্যক্তিত্ব ||কবি ও সম্পাদক অনিক ইসলাম || দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্যক্তিত্ব ||কবি ও সম্পাদক অনিক ইসলাম



জন্ম রাজশাহিতে ৩ ডিসেম্বর সম্ভ্রন্ত পরিবারে। পিতা মো. মাজিরুল ইসলাম ও মা সুফিয়া বেগম। শৈশব থেকেই শিল্পের প্রতি আসক্তিটা প্রবল। সৃষ্টির উম্মাদনায় ছোটে সারাক্ষণ। অনেক চড়াই উৎড়ায় পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন মুক্তিযুদ্ধ অঙ্গনের পথ ধরে। ২০০০ সালের প্রথম থেকেই প্রবন্ধ ও কবিতা লেখা শুরু। ২০০২ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে কাজ করেন।  এছাড়াও ২০০৩-২০০৮ সাল ভোরের কাগজে মেলা প্রতিবেদক হিসাবে কাজ করেন।   তাঁর সম্পাদনায় ছোটকাগজ 'প্রজন্ম'এর ৫০ টির অধিক সংখ্যা এবং বাওই এর তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। তার একক বইযের মধ্যে উল্লেখযোগ্য,  উপন্যাস- জলঘর, কাব্যগ্রন্থ- বৃত্ত, কবিতার শিরোনাম : বাংলাদেশ প্রভৃতি। মোট বই সংখ্যা ২১ টি।  গবেষণা, কবিতা, সংগঠক ও সাংবাদিকতায় সম্মাননা ও পুরস্কার পেযেছেন ২১টি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সচিব হিসাবে আছেন।

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

কবি জামাল দ্বীন সুমন || ব্যক্তিত্ব || দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কবি জামাল দ্বীন সুমন 

ব্যক্তিত্ব

দৈনিক বাংলা ডেস্ক





  কবি জামাল দ্বীন সুমন ১৯৬১ সালের ৪ আগস্ট রাজশাহী জেলার বানেশ্বরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতাঃ ডাঃ শামসুদ্দীন আহমেদ মাতাঃ কামরুন নেছা। তিনি ১৯৮৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মানসহ এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মক্ষেত্রে তিনি দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউটর হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আশির দশক থেকে কবিতা, ছোটগল্প,প্রবন্ধ,  নাটক, রম্য রচনা ও গান লিখছেন। এছাড়া সাহিত্যের ছোট কাগজ "অনির্বাণ" সম্পাদনা করে আসছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন নাট্যকার, গীতিকার,রম্য লেখক এবং বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্রের "সাহিত্য আসর"অনুষ্ঠানের উপস্হাপনা করে আসছেন।বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্হঃ নিদ্রাহীন পথ, জ্যোৎস্নার পথ ধরে,হৃদয়ে চৈত্রঝড় প্রকাশিত হয়েছে।
আগামীকাল দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত হবে তাঁর কবিতা ৷

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

ব্যক্তিত্ব || শ্রীচন্দন কুমার বোস : একজন সংস্কৃতিমনস্ক উদ্যোগপতি || দৈনিক বাংলা ডেস্ক

 ব্যক্তিত্ব

শ্রীচন্দন কুমার বোস : একজন সংস্কৃতিমনস্ক উদ্যোগপতি||

দৈনিক বাংলা ডেস্ক




অখণ্ড  মেদিনীপুরের প্রায় সার্ধ দুই  দশকের সামাজিক  আলোকবৃত্তে বারংবার আবর্তিত হয়েছেন নানা ভাষ্যে!


মেদিনীপুর এর ভূমিপুত্র;  পৈতৃক সূত্রে পাওয়া, মেদিনীপুর এর সবুজ বিপ্লবের উদ্গাতা, দানবীর, প্রয়াত সমাজসেবী শ্রীগণপতি বোস  নামের একটি স্বতঃ-উন্মেষিত প্রতিষ্ঠানের লালিত্যে জারিত মানুষটিই সময়ের ক্রমঃবিকাশে আজকের শ্রীচন্দন কুমার বসু ||


মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবন এর কৃতী ছাত্র, মেদিনীপুর কলেজে বিজ্ঞানের সাম্মানিক স্নাতক, প্রথমে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, পরবর্তীতে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে স্নাতকোত্তর পাঠরত অবস্থায় পিতার নির্দেশে ছোট্ট পারিবারিক ব্যবসায় যোগদান। এই মানুষটিই ক্রমবিকাশে একজন প্রিকাস্ট কংক্রিট শিল্পে সর্বভারতীয় গ্রহণযোগ্যতা  সম্পন্ন  একজন উদ্যোগপতি।


শিল্প পরিচালনা এবং নিজস্ব উদ্ভাবনী  চিন্তার প্রয়োগে কর্মজগতে আপন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম নেতৃত্ব।


পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি- যা জেলার শিল্পদ্যোগী, ব্যবসায়ী, উদ্যোগপতিদের নিজস্ব সংগঠন এবং সর্বভারতীয় স্তরে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শিল্পদ্যোগী - ব্যবসায়ী ও উদ্যোগপতি দের আত্মপরিচয় ও আত্মশ্লাঘার উত্তরাধিকার! রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সংযোগ রেখে জেলার শিল্প মানচিত্রের উন্নয়ন ও শ্রী- চর্য্যায় এই সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাঁরই সুযোগ্য নেতৃত্বে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রথাগত কার্যকলাপ ছাড়িয়ে বিভিন্ন সমাজকল্যাণ মূলক কাজকর্মের পাশাপাশি নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে জেলার সংস্কৃতি জগতকে ঋদ্ধ করা থেকে শুরু করে  অতিমারীর করাল গ্রাসে পড়া নিরন্ন মানুষের দুবেলা অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে সদা সচেষ্ট এই ব্যবসায়ী সংগঠন।


এর পাশাপাশি,  নিজ পৃষ্ঠপোষকতায়, গণপতি বসু নামক প্রতিষ্ঠানটির জনকল্যাণমূলক কর্মসূচীর মাধ্যম হিসেবে গণপতি বসু স্মৃতি  সমাজ কল্যাণ সমিতিকে প্রান্তিক মানুষের আস্থার ঠিকানা করে তোলার আন্তরিক প্রয়াস। এই সমিতিকে ধারাবাহিক ও নিরন্তর ভাবে, পঁচিশ বছর ধরে পরিচালনা করা - তাঁর অনবদ্য কৃতিত্ব! অতিমারীর কবলে পড়া দূর্গত নিরন্ন মানুষের নিশ্চিত দুবেলা অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করাই হোক বা দুঃস্থ মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক সহায়তা এবং বিশেষতঃ মেদিনীপুর পুরসভার অন্তর্গত, ১৮ নং ওয়ার্ডের গণপতিনগর এলাকার দুর্গত মানুষের সেবা করায় ব্রতী এই সংগঠন।


এছাড়াও সমসাময়িক সাংস্কৃতিক বৃত্তের লালনের পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চায় ব্যক্তিগত আগ্রহ তাঁর চিরন্তন! ভাষার আঙ্গিক, প্রয়োগ ও সমালোচনায় তাঁর ভূমিকা,  সমঝদারিত্ব প্রশ্নাতীত!


স্বাধীন সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব, মানব সম্পদ সম্পর্কে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ প্রশ্নাতীত  ধারনা,  সমাজভাবনা ও বিকাশে পরিকল্পিত দৃষ্টিভঙ্গি , শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, লিটল ম্যাগাজিন,  স্থানীয় সংবাদপত্রের অন্যতম উৎসাহী-অনুরাগী ব্যক্তিত্ব আমার চোখে  শ্রীচন্দন কুমার বসু||

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

ব‍্যক্তিত্ব || কমল কৃষ্ণ কুইলা || দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব‍্যক্তিত্ব 

কমল কৃষ্ণ কুইলা 

দৈনিক বাংলা ডেস্ক




কমল কৃষ্ণ কুইলা। একটি বর্ণময় চরিত্রের নাম। যা রূপকথাকেও হার মানায়। ওঁনার পিতার নাম  হরিপদ কুইলা। মাতা বীনাপাণি কুইলা। ওঁনার পিতা ছিলেন একজন হতদরিদ্র দিনমজুর। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থার মধ্যেই ওঁনার ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠা। শৈশবে তথা বাল‍্যকালে দুবেলা দুমুঠো আহার জোটেনি ওঁনার। ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা পর্যন্ত করতে হয়েছে। তাই নিয়মিত অনাহারে থাকাটা ওঁনার একপ্রকার অভ‍্যাসে পরিনত হয়ে গিয়েছিল।


পারিবারিক চরম দারিদ্র্যতার কারণে ওঁনার শিক্ষাজীবনও পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করতে হয়েছে এমনকি অনেকের পায়েও ধরতে হয়েছে পাঠ‍্য বইয়ের জন্য। অনেকেই আবার দূর দূর করে তাড়িয়েও দিয়েছে অপমান কটুক্তি করে। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন এক গ্লাস জল খেয়ে সারাদিন স্কুলে কাটিয়ে দিয়েছেন উনি। তবুও হাল ছেড়ে দেননি। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে গেছেন।


গান্ধীজির নীতিই ছিল ওঁনার চলার পথে একমাত্র পাথেয় : DO OR DIE করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে। এবং শেষ পর্যন্ত উনি এই নীতিতে সফল হতে পেরেছেন। লড়াইয়ে জিতে উনি সমাজকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে শূণ্য হাতেও জীবন যুদ্ধ জেতা যায়। এখন নিয়মিতভাবে কবিতা, গল্প ও গান রচনা করেন উনি।


ওঁনার কোনো গৃহশিক্ষক ছিল না। নিজেই ছিলেন  নিজের শিক্ষক। বন্ধুদের ও শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে এবং বই ভিক্ষা করে পড়াশোনা সমাপ্ত করেছেন। 1999 সালে মাধ্যমিক। 2001 সালে উচ্চ মাধ্যমিক। 2004 সালে বাংলা অনার্স নিয়ে গ্র‍্যাজুয়েশন। এবং 2010 সালে সোস্যাল ওয়ার্কে মাস্টার ডিগ্রী লাভ করেছেন।


এছাড়া পড়াশোনা চালাতে গিয়ে ওঁনাকে কখনও টিউশনি কখনওবা জোগাড়ের কাজ এমনকি বাড়ি বাড়ি সেলসম‍্যানের কাজও করতে হয়েছে। উনি লজ্জা বা ঘৃণা করেন নি। হাসিমুখেই অন‍্য লেবারদের দুর্ব‍্যবহার কটুক্তি হজম করেছেন।


কর্মজীবনের প্রথম দিকে কলকাতায় এসে দিনের পর দিন রেল ষ্টেশনে শুয়ে কাটাতে হয়েছে ওঁনাকে পকেটে পয়সা না থাকার কারণে। এমনকি বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠে বহুবার জেলও খাটার অভিজ্ঞতাও হয়েছে ওঁনার।


2006 সালে প্রয়াত অভিনেতা সুখেন দাসের হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন কমলবাবু। ওঁনার কাছে কাজ শিখে বিভিন্ন ছবি ও মেগা সিরিয়ালে কাজ করেছেন নিয়মিত। বেশ কিছুদিন অঞ্জন চৌধুরীর বাড়িতেও ছিলেন জি-বাংলায় "এরাও শত্রু" মেগা সিরিয়ালে কাজ করার সময়।


যাইহোক, শেষমেশ নোংরা লবিবাজীর শিকার হয়ে কাজ ছাড়তে হয়। চলচ্চিত্র জগতকে গুডবাই জানিয়ে একটি মিশনারী সংস্থায় যোগদান করেন সোস্যাল ওয়ার্কার হিসাবে। ওখানে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতেই প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন তিনি। সাংগঠনিক কলা কৌশল রপ্ত করেন।


পরবর্তীকালে নিজে সংগঠন তৈরি করেন। যার নাম হল আলো ট্রাস্ট। এর প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও ম‍্যানেজিং ট্রাস্টি কমলবাবু স্বয়ং। এর মাধ্যমে সারা বাংলা জুড়ে সারাবছর ধরে বিভিন্ন প্রকার সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকেন উনি। ইতিমধ্যে পৃথিবীর ছটি দেশে উনি পৌঁছে গিয়েছেন  আলো ট্রাস্টকে নিয়ে। আগামীদিনে পৃথিবীর আরও দেশে পৌঁছে যেতে চান তিনি। 


ওঁনার সেরা প্রকল্প "মডেল ভিলেজ ক‍্যাম্পেনিং" এর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসাবে গড়ে তোলেন উনি।


এছাড়া প্রতি বছর একশোজন করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণীজনদেরকে আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করে থাকেন।


পাশাপাশি লকডাউন পিরিয়ডে অভুক্ত মানুষের বাড়িতে খাদ‍্যদ্রব‍্য পৌঁছে দেওয়া, আমফান ঝড়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে রক্তদান শিবির আয়োজন, বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বই কিনে দেওয়া, স্কলারশিপের ব‍্যবস্থা, রাজ‍্য ও জাতীয় স্তরে বিভিন্ন প্রকার সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ইত্যাদি।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি অতিমারিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুদূর কলকাতা থেকে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে ঝাড়গ্রামের কুষ্ঠ কলোনির অসহায় শিশুদের জন্য ছুটে গিয়েছেন তিনি শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্য। আসন্ন শারদোৎসবে শিশুদেরকে নতুন জামা প‍্যান্ট তুলে দিলেন তিনি।


এছাড়াও কমলবাবুর নিজের একটি প্রোডাকশন হাউস আছে। নিজের লেখা কবিতা, গান ও গল্প চিত্রনাট্য নিয়ে অনেক ভিডিও অ‍্যালবাম ও ছবি বানিয়েছেন উনি।


এছাড়াও ওঁনার প্রতিষ্ঠিত "প্রতিভা টিভি" নামে একটি টিভি চ‍্যানেলও রয়েছে। যেখানে নিয়মিতভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে থাকে। 


এছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা ব‍্যবসায়ীক সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের জন্য স্ট্র‍্যাটেজি রচনা করেন উনি। যা সফলতার চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে অনায়াসেই।


******************

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :

(কমল কৃষ্ণ কুইলা

লেখক, সমাজসেবী, ফিল্ম মেকার,

স্ট্র‍্যাটেজিস্ট ও ইভেন্ট অর্গানাইজার।

চেয়ারম্যান অফ আলো ট্রাস্ট।

ম‍্যানেজিং ডিরেক্টর অফ প্রতিভা টিভি।)

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

ব্যক্তিত্ব || মণিকাঞ্চন রায় || দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্যক্তিত্ব

মণিকাঞ্চন রায় 

দৈনিক বাংলা ডেস্ক




পরিবেশ ও সমাজের স্বার্থে নিবেদিত এক চরিত্র – মনিকাঞ্চন রায়, পেশায় শিক্ষক,আর নেশায় অনেক কিছুই। কখনো ছাত্রের প্রয়োজনে বই লেখা , কখনো শিক্ষাঙ্গন বাদে বৃহত্তর সমাজের মধ্যে জ্ঞানের প্রসার ঘটাতে কুইজ পরিচালনা করা, কখনো আবার অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে প্রাচীন রাজবাড়ীর কঙ্কাল সারে কান পেতে ইতিহাস খুঁজে বেড়ানো, নয়তো প্রকৃতিকে সবুজে মুড়ে দেওয়ার তাগিদে নিজে এবং অন্যকে অনুপ্রানিত করা,কখনো অসহায় মানুষের পাশে দারান-এইরকম এক ব্যাতিক্রমী সমাজের দৃষ্টান্তমূলক তরুন শিক্ষক হলেন মণিকাঞ্চন রায়।মেদিনীপুর থেকে প্রায় ৭৫ কিমি দূরে প্রতিদিন ১৫০ কিমি যাতায়াত করে সমাজ সেবা তথা প্রকৃতির সেবায় নিজেকে সদা ব্যাস্ত রাখার নাম মণিকাঞ্চন রায়। মেদিনীপুরবাসি এই শিক্ষক নব প্রজ্জন্মের কাছে এক দৃষ্টান্ত। মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে নিজের ভাবনায় শান্তিনিকেতনের সনাঝুরি আদলে গড়ে ওঠা সূর্যাস্তের হাট এনার প্রচেষ্টায় মেদিনীপুরের নব চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে প্রশাসনকে সহযোগী করে তুলতে পেরেছেন এই শিক্ষক, পরিবেশ প্রেমি সমাজসেবি। এখানেই শেষ নয় পরিবেশ বাঁচাতে কখনো ঝাঁটা হাতে শহর পরিষ্কার এ নিজেকে আন্যদের সাথে সামিল করেন, কখন সামুদ্রিক কাঁকড়া বাঁচাতে নিজের সংগঠনের সাথে ১৪০ কিমি চাঁদিপুর থেকে দিঘা কোস্টাল ট্রেকিং করেন, কখনো প্লাস্টিকের বিপক্ষে মেদিনীপুর থেকে নবান্ন সাইকেল রেলিতে অংশ,কিংবা দিঘার সি বিচ পরিষ্কারে নিজেকে সক্রিয়ভাবে নিজেকে বারে বারে নিযুক্ত করেন।একজন প্রথাগত শিক্ষকের বাইরে সমাজের স্বার্থে নিজেকে কিভাবে মেলে ধরা যায় সেটার প্রমান এই কোভিট পিরিওড ।করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ যখন লক ডাউনে গৃহবন্দী রেখে পরিবার রক্ষার তাগিদ খুঁজে চলেছেন সেইসময় একদল মানুষকে নিয়ে প্রতিদিন পৌরপ্রশাসক তথা মহকুমা শাসকের নির্দেশে নানান সমস্যার সমাধেনে ছুটে বেরিয়েছেন অকুতভয়ে। বাড়িতে শয্যাশায়ী মা এর কঠিন অশুখ থাকা সত্যেও নিজেকে সমাজের কল্যাণে সপে দিয়েছেন এই মানুষটি। একজন সাধারণ মানুষ হয়ে কিভাবে প্রশাসনের প্রিয় মানুষ হওয়া যায় সেটা ইনাকে দেখে,এনার কাজকে দেখে আগামী ভবিষ্যৎ শিখবে। বিদ্যালয় থেকে সমাজে ফাঁকা স্থান পেলে গাছ লাগানো এনার নেসাতে পরিনত হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠান বাড়ি হোক , কিংবা রক্তদান শিবির , কিংবা বিশ্ব পরিবেশ দিবস বা অরন্য সপ্তাহ সব ক্ষেত্রে নিজের উদ্যোগে , নিজের খরচে প্রতিনিয়ত গাছ বিলি করেন , গাছ লাগিয়ে পরিবেশ কে বাঁচাতে স্বচেস্ট থাকেন। সারাবছর শুধু শহরবাসী নয়, জেলা শাসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, শহর থেকে গ্রাম,সর্বত্রই  যখনই মানুষ গাছ চেয়েছেন ,তৎক্ষণাৎ পেয়েছেন। নিজের ঘরকে বানিয়ে ফেলেছেন নার্সারিতে , সারাবছর গাছ বিলির জন্য সর্বদাই গাছ থাকে এনার ঘরে, মেদিনীপুর কে পলাশে রাঙ্গিয়ে দেওয়ার কল্পনা থেকে বাস্তবে বিভিন্ন নার্সারিতে চারা তৈরি করে মানুষের মধ্যে বা প্রশাসনের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে দিতে বধ্য পরিকর ইনি। শিশুমনে পরিবেশ কে বাঁচানোর তাগিদে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রজেক্ট ওয়ার্কে গাছ লাগানো এবং তাঁকে টিকিয়ে রাখার ভাবনাকে জাগরিত করে চলেছেন ইনি। গাছ পাগল এই মানুষটিকে কেউ ডাকেন বৃক্ষ মিত্র , কেউ ডাকেন গাছ দাদা, কেউ বলেন পরিবেশ প্রেমী। সূর্যাস্ত সপ্তাহান্তে মিলন হাট গঠন করে হস্তশিল্প ও লোকসংস্কৃতির এক মেলবন্ধন রচনার প্রধান কারিগর ইনি। প্রসাসনের সম্পূর্ণ সহযোগিতায় এক রুক্ষ ভূমি আজ সবুজে মোড়া,মেদিনীপুরবাসীর খোলা নিশ্বাস নেওয়ার এক অভিনব স্থান, প্রসাসনের চোখ যেখানে যায় নি এতদিন ,সেখানে প্রসাসন আজ জায়গাটি নিয়ে নতুন কিছু করার ভাবনা ভাবছে এখন । এমন এক মেল্বন্ধনের জায়গার প্রথম বীজটি রোপিত হয়েছে এনার হাত ধরে। আগামিদিনে এই স্থান মেদিনীপুরের এক গর্বের জায়গায় পরিনত হবে,সরকার নতুন করে সাজিয়ে তুল্বে হয়তো এই স্থান কে ,কিন্তু সেই সেতু বন্ধনটা মেদিনীপুর বাসি ভুলবে না এই তরুন শিক্ষকের  সেই সেতু বন্ধনটা

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০

ব্যক্তিত্ব || কান্তিরঞ্জন দে ----- দৈনিক বাংলার নিজস্ব কলম

ব্যক্তিত্ব || কান্তিরঞ্জন দে

-----



দৈনিক বাংলার নিজস্ব কলম


         জন্ম ১৯৫৭। কলকাতায় । পড়াশুনো নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে। দর্শনে স্নাতক । সাহিত্য , সিনেমা এবং সাংবাদিকতার টানে এবং পারিবারিক কারণে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরিজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পাঠ  অসমাপ্ত রাখতে বাধ্য হন।

       গল্প-কবিতা লেখা এবং  অভিনয়-আবৃত্তি-বিতর্ক চর্চার শুরু নরেন্দ্রপুরের স্কুল জীবন থেকেই । কলেজ জীবনে  ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন । আকাশবাণী-র যুববাণী বিভাগে প্রায় দশবছর কথিকা রচনা ও পাঠ করেছেন । যুগান্তর , পরিবর্তন , আজকাল সহ বিভিন্ন খবরের কাগজ এবং ম্যাগাজিনে এই সময় থেকেই নিয়মিত লেখালেখি ।

         বর্তমান সংবাদপত্রে সাব-এডিটরের চাকরি করেছেন বেশ কিছুদিন ।

     নন্দন এবং  চিত্রবাণী - কলকাতার চলচ্চিত্র কেন্দ্রে চিত্রনাট্য রচনা এবং চলচ্চিত্রের বিভিন্ন একাধিক কোর্সের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন । আনন্দবাজার পত্রিকার বিখ্যাত চিত্র সাংবাদিক শ্রী তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় বছর দুয়েক স্টিল ফোটোগ্রাফিরও তালিম নিয়েছেন ।

     সহকারী পরিচালক কিংবা সহযোগী চিত্রনাট্যকার হিসেবে টালিগঞ্জে যাতায়াত শুরু আশি-র দশকের শেষ ভাগ থেকে ।

    ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ ---এই আট বছরে সরকারি-বেসরকারি প্রযোজনায় পাঁচটি তথ্যচিত্র, সংবাদচিত্র এবং স্বল্প দৈর্ঘ্যের কাহিনীচিত্র পরিচালনা করেছেন । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-----১৯৯৭ সালে নেতাজী-র জন্ম শতবর্ষে কলকাতা দূরদর্শনের জন্য " সুভাষচন্দ্র ও মহাজাতি সদন " শীর্ষক ২৭ মিনিটের ডক্যুমেন্টারী ছবিটি ।

        ১৯৯৪ সাল থেকে ডঃ স্বপন সাহা , মণি অধিকারী , দীপরঞ্জন বসু , সনৎ দাশগুপ্ত এবং রাজা সেন সহ একাধিক পরিচালকের সঙ্গে বহু ছবিতে চিত্রনাট্য রচয়িতা এবং সহকারী ও সহযোগী পরিচালক  হিসেবে কাজ করেছেন ।

    এককালে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বিনা নামে বেশ কিছু টিভি সিরিয়ালের  একাধিক এপিসোডও  লিখেছেন ।

   তার লেখা উল্লেখযোগ্য টেলি ফিল্ম ----- চন্দ্রাবতী কথা , রাজার কুমার , শ্বেত কপোত , মারণ অস্ত্র , শীত , অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি ।

     প্রহর শেষে , কৃষ্ণকান্তের উইল , মৌ বনে আজ ইত্যাদি ছবিতে সহযোগী পরিচালক ও সহ চিত্রনাট্য রচয়িতা হিসেবে কাজ করেছেন ।

      রাজা সেন পরিচালিত " মায়ামৃদঙ্গ " কাহিনীচিত্রের চিত্রনাট্য রচয়িতা এবং গীতিকার হিসেবে ২০১৬ সালে RADIO MIRCHI চ্যানেল থেকে বছরের সেরা ফিল্মি গীতিকারের পুরষ্কার পেয়েছেন ।

     বছর চারেক কলকাতার একটি বে-সরকারি ফিল্ম ইনস্টিটিউটে সিনেমার ইতিহাস এবং চিত্রনাট্য রচনার  বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছেন ।

  

      সিনেমা সহ সাহিত্য ও শিল্পের নানা বিষয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় নিয়মিত প্রবন্ধ লেখেন । সুবক্তা ।


      প্রকাশিত গ্রন্থ ------বর্ণ সঙ্কর ( দুই বন্ধুর সঙ্গে যৌথ কবিতার বই ) , রবীন্দ্রনাথের চলচ্চিত্র ভাবনা ও সত্যজিৎ রায়  ( প্রবন্ধের বই ) ।  বিখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে গতবছর প্রকাশিত গ্রন্থ " সাক্ষাৎ-স্মৃতি " পাঠক মহলে সাড়া ফেলেছে ।


     ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য উচ্চাঙ্গ সংগীত সহ দেশ বিদেশের  সব ধরণের গান শুনতে ভালোবাসেন । আর ভালোবাসেন সারাদিন বই পড়তে এবং দিনভর আড্ডা দিতে ।



  

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

ব্যক্তিত্ব || দেবাশিস চক্রবর্তী || নিজস্ব কলম

ব্যক্তিত্ব || দেবাশিস চক্রবর্তী || নিজস্ব কলম



পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট ব্লকের এক প্রত্যন্ত গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা ফণিভূষণ চক্রবর্তী ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। মা লীলা চক্রবর্তী ভালো গান ও আবৃত্তি করতেন। পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠেন দেবাশিস। প্রথম জীবনে বাবার মতোই লেখালেখি করতেন। তারপর এলো আবৃত্তির প্রতি গভীর অনুরাগ। এখানে ওখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করতেন।১৯৮০ সালে প্রখ্যাত বাচিক

শিল্পী জগন্নাথ বসুর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন। ওনার কাছে তালিম নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন। পাঁচ বছর আকাশবাণী কলকাতার নাটক বিভাগে চাকরি করেছেন। কলকাতা 

দূরদর্শনে একাধিকবার আবৃত্তি পরিবেশন করেছেন। জীবনে অনেক পুরস্কার ও সম্বর্ধনা পেয়েছেন। তাঁর আবৃত্তির অ্যালবাম-'জীবনের জলছবি' ও শ্রুতিনাটকের সিডি-'অধরা মাধুরী' এবং 'রাগে অনুরাগে' শ্রোতাদের কাছে উচ্চপ্রশংসিত হয়। তাঁর সম্পাদিত দুটি সংকলনগ্রন্থ হল-'কবিতা যখন আবৃত্তি' ও 'ছোটদের কবিতা যখন আবৃত্তি। জীবনে চলার পথে বহু গুণী মানুষের সাহচর্য পেয়েছেন।

ছাত্রজীবন-প্রথমে গ্রামের প্রাথমিক স্কুল,তারপর কোলাঘাট হাইস্কুল। পরে তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয় এবং সবশেষে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম অনুলিখনের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু। প্রথমে সাহিত্যিক মনোজ বসুর সহকারী ছিলেন। কিছুকাল উল্টোরথ ও নবকল্লোল পত্রিকায় যুক্ত ছিলেন। সাহিত্য সংসদ প্রকাশনীর প্রুফরিডারের চাকরি করেছেন এক বছর।

   পরবর্তীকালে পুরোপুরি বাচিকশিল্পের জগতে চলে আসেন। বহু স্বনামধন্য ব্যক্তির সান্নিধ্য ও স্নেহ পেয়েছেন সারাজীবন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় আবৃত্তিশিল্পকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। অনেক কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

     বেশ কয়েকটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন যৌবনে।'জোনাকি' পত্রিকা সম্পাদনা দিয়ে সম্পাদকজীবন শুরু। 'আবৃত্তি সংবাদ' নামে শেষ সম্পাদিত মাসিক পত্রিকা। আজীবন আবৃত্তিশিল্পের প্রচার ও প্রসারে নিবেদিতপ্রাণ তিনি।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ব্যক্তিত্ব || শিক্ষক সুদীপকুমার খাঁড়া রক্তদানে সদাব্যস্ত ছিলেন লকডাউনের কঠিন সময়েও || নিজস্ব কলম

 

ব্যক্তিত্ব

শিক্ষক সুদীপকুমার খাঁড়া রক্তদানে সদাব্যস্ত ছিলেন লকডাউনের কঠিন সময়েও

নিজস্ব কলম




শিক্ষক ও সমাজকর্মী সুদীপ কুমার খাঁড়ার জন্ম অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ঝাড়গ্রাম মহকুমার, ঝাড়গ্রাম ব্লকের রাধাগোবিন্দ গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়,মহাপাল শ্রী বিদ‍্যাপীঠ,বেলদা গঙ্গাধর একাডেমি, মেদিনীপুর কলেজ,বিদ‍্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ‍্যাসাগর শিক্ষক শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ে। ইতিহাসের ছাত্র সুদীপবাবু ২০০৪ সালে মেদিনীপুর সদর ব্লকের চুয়াডাঙ্গা হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন।  নেতৃত্বদান ও সমাজসেবায় তাঁর হাতখড়ি সেই ছাত্রজীবন থেকেই। একজন ছাত্রদরদী শিক্ষক হিসেবে ক্লাসরুমের পঠন-পাঠনের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সর্বাঙ্গীন বিকাশে তাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক নানা কর্মসূচিতে পাশে থেকে উৎসাহিত করেন। নিজের বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিদ‍্যালয়ের গন্ডীর বাইরেও মেধাবী অথচ আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া অনেক ছাত্র-ছাত্রীর পাশে দাঁড়িছেন কখনো ব‍্যক্তিগত ভাবে, কখনও যে সব সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সেই সব সংস্থার সাহায্য নিয়ে আবার অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ছাত্রদের স্কলারশিপসহ অন্যান্য প্রয়োজনে কখনো ছুটে গেছেন হুগলীর উত্তরপাড়া, কখনো কলকাতায়।ব‍্যক্তিগত উদ‍্যোগে ও বিভিন্ন সমাজসেবী​ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সামর্থ মত  সর্বদায় সচেষ্ট থাকেন নানা সাংস্কৃতিক, পরিবেশ সচেতনতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা সহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে।সেই ১৯৯৮ সালে কলেজে পড়ার সময় থেকেই নিয়মিত রক্তদান করেন। এখনো পর্যন্ত চল্লিশ বারের বেশি রক্তদান করে ফেলেছেন। শুধু নিজে রক্তদান করে ক্ষান্ত থাকেননি যুক্ত থাকা বিভিন্ন সংগঠন,পরিচিত বন্ধু-বান্ধব ও সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে চেনা-অচেনা বহু মানুষের জন্য রক্ত যোগাড় করে দিয়েছেন রক্তদান আন্দোলনের এই অগ্রণী সেনানী। মুমুর্ষ রোগীর  রক্তের প্রয়োজনে মেদিনীপুর শহরের যাঁরা অগ্র পশ্চাৎ বিবেচনায় না করে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন তাঁর মধ্যে সুদীপবাবু অন‍্যতম।আর এ কাজটা তিনি কলেজ জীবন থেকেই করে চলেছেন। রোগীর রক্তের প্রয়োজনে রাতদুপুরেও ছুটে যান হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকে। বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীর রক্তের প্রয়োজন সহ, কোভিড আক্রান্ত রোগীকে ভর্তির বিষয়ে সহযোগিতাসহ, বিভিন্ন ভাবে সমস্যায় থাকা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। লেখালেখির প্রবল ইচ্ছা রয়েছে, বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় মাঝে মাঝে লেখালেখি করেন। তবে নানা কাজের চাপে সেটা সবসময় হয়ে ওঠে না।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ব্যক্তিত্ব || মানুষ গড়ার কারিগর সুব্রত মহাপাত্র || নিজস্ব কলম

ব্যক্তিত্ব || গড়ার কারিগর সুব্রত মহাপাত্র

নিজস্ব কলম



    আদর্শ শিক্ষক শুধুমাত্র ক্লাসে পড়ান না। তাঁর জীবনাচরণ, তাঁর সস্নেহ ছত্রছায়া দিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যান। সময় বিশেষে সেই দৃষ্টান্ত ছাপ ফেলে ছাত্র- ছাত্রীদের মনের ওপর,তাদের বোধবুদ্ধি র ওপর।  আজ এমনই এক শিক্ষকের কথা জানাবো  যিনি মনে করেন ছাত্রছাত্রীরাই তাঁর জীবনের অমূল্য সম্পদ,প্রাণের হৃদস্পন্দন।

তিনি হলেন  ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের বেলিয়াবেড়া কৃষ্ণ চন্দ্র স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়- এর সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রী সুব্রত মহাপাত্র। থাকেন মেদিনীপুর শহরের এক ভাড়া বাড়িতে। কর্মস্থল থেকে বাড়ীর দূরত্ব প্রায় ৯০ কিমি । সব দিন বাড়ী ফেরা তাঁর হয় না। বেশীরভাগ দিনই থেকে যান স্কুলের একটা রুমে। শুধু ক্লাসে পড়িয়ে বাড়ী ফিরে গেলাম আর দায়িত্ব শেষ হয়ে গেল- এমন নীতি সুব্রত বাবুর নয়। স্কুল ছুটির পর বহুদূরের সব প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে যান এই মাষ্টারমশাই সাইকেলে চেপে।শুধু সমস্যা দেখেন তা নয়, হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন গরীব আদিবাসী ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের দুঃখ-কষ্ট, যন্ত্রণা। তাদের নানান সমস্যা স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন সুব্রত বাবু।একজন মাষ্টারমশাই হিসেবে  মনে করেন শুধু শিক্ষাদানই একজন প্রকৃত শিক্ষকের কাজ নয়, পাশাপাশি সমাজ সচেতকের ভূমিকাও পালন করা উচিত- এই সামাজিক মূল্যবোধই এই শিক্ষক মহাশয়ের মূলমন্ত্র। দায়সারা শিক্ষা পদ্ধতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না। এই বিষয়ে তাঁর মানসিকতা কেমন তা একটা ছোট্ট ঘটনা দিয়ে বললে পাঠকরা বুঝতে পারবেন।

একদিন নবম শ্রেণীর ক্লাস নিচ্ছিলেন। বার বার পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু কি আশ্চর্য! ক্লাসের মেধাবী ছাত্রীটিকে পড়া জিজ্ঞাসা করলে পড়া পারছে না। দু দিন ধরে একই অবস্থা। বকুনি দিয়ে জানতে চান কি সমস্যা ? অনেক পরে মুখ খোলে সুনিতা মুর্মু।- স্যার "বাবা রোজ সন্ধ্যার সময় চোলাই খেয়ে এসে বাড়ির সবাইকে মারধর করে - মা, বোন, ছোটো ভাই সবাইকে, এমনকি বয়স্ক দাদু ও বাদ যায় না। তাই পড়া করতে পারি নি।"

‌      বিষয়টা বুঝলেন মাষ্টারমশাই তাঁর দরদী মন দিয়ে। না এভাবে হবে না। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনোর জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করলেন না। শুরু করলেন এক অসম যুদ্ধ ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে। স্কুল ছুটির পর ছুটলেন হত দরিদ্র অশিক্ষিত আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম গুলিতে।বোঝাতে শুরু করলেন পুরুষদের। বললেন চোলাই এর কুফলের কথা। নিজের খরচায় তৈরি করলেন পোস্টার। বাড়ী বাড়ী ঘুরে নিজে চেটালেন পোস্টার। পোস্টারে একটাই বার্তা -। "সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে আজই আসুন মদ ও চোলাই থেকে দূরে থাকি"।  গ্রামের মহিলাদের  একজোট করলেন। স্কুল পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি যেমন নারায়নপুর, রামপুরা, নতুনডিহি, ডোমপাড়া, পানিপুখুরিয়া, ডুলুং নদীর ওপারে কইমা, মুচিনালা সহ অন্যান্য গ্রামগুলির পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে ঘরের পুরুষেরা সে ছোটো হোক বা বড়ো সবাই ঘুম থেকে উঠেই বসে যেত চোলাই নিয়ে। নেশায় বুদ হয়ে থাকতো। মৃত্যুও ঘটতো প্রতি পরিবার থেকে। এটাই ছিল নিয়ম। এই সময়ই যেন দেবদূতের মতো হাজির হলেন বেলিয়াবেড়া কৃষ্ণ চন্দ্র স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রী সুব্রত মহাপাত্র।ভালোবেসে বুঝিয়ে কখনও বা বকাঝকা করে আস্তে আস্তে প্রান্তিক মানুষগুলোর মনে নেশামুক্তির সুফলের বার্তা পুরে দিলেন। এরই সঙ্গে গ্রামের মা, বোন, বউদের করলেন একজোট। তারাও আশার আলো দেখতে পেলো। আস্তে আস্তে সুফল মিলতে শুরু করলো। 

‌ এই বিষয়টা দু চার লাইনে পড়তে যত সহজ মনে হলো ততটা কিন্তু মোটেই সহজ নয়। এর পেছনে রয়েছে একজন আদর্শ শিক্ষকের আপ্রাণ চেষ্টা আর মরিয়া লড়াই। পেয়েছেন যথেচ্ছ হুমকি আর শাসানি ।কারণ আমরা প্রত্যেকেই জানি যে চোলাই এর পেছনে রয়েছে অনেক লম্বা হাত। অকুতোভয় এই মানুষটি তবুও কোন ভাবে পিছিয়ে আসেন নি।বরং এর বিরুদ্ধে প্রচার ও প্রসার চালিয়ে গেছেন। এমনই অদম্য মনোবল এই মানুষটির। এরপর পাশে পেয়েছেন পুলিশ o প্রশাসনকে ।এরপরে যখন দিনমজুর অভিভাবকেরা এসে বলে "মাস্টারবাবু নেশার আনন্দ অল্প সময়ের, এতে পরিবারের ক্ষতি হয়"।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই উপলব্ধিই মাস্টারমশাই এর জীবনের পরম প্রাপ্তি।

‌শুধু নেশাই নয়।নাবালিকার বিয়ে গ্রামের একটি বড়ো সমস্যা। এর বিরুদ্ধেও ছুটে গিয়েছেন সুব্রতবাবু। নাবালিকার বিয়ে বন্ধের জন্য এক অভিনব পন্থা চালু করেছেন। পঞ্চম ও একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সময়(মেয়েদের) অভিভাবকদের মুচলেকা দিতে হবে এই মর্মে - "আঠেরো বছরের আগে আমার কন্যার বিবাহ দেবো না এবং তাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ প্রদান করিব।" স্কুলে " কন্যাশ্রী ব্রিগেড" তৈরি করেছেন। স্কুলের ছাত্রীদের মনে এমন বীজমন্ত্র প্রদান করেছেন যে কোথাও নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে শুনলে ছাত্রীরাই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে খবর দিচ্ছে।এমন তিন - তিনটে নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে আবার স্কুলের আঙিনায় ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন মাস্টার মশাই। স্কুলছুটের সংখ্যা যেমন কমাতে পেরেছেন তেমনি নাবালিকার বিয়ের হারও যথেষ্ট নিম্নমুখী।

‌ গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকে" সরকারী ডিগ্রি কলেজ" স্থাপনের অন্যতম প্রধান কারিগর হলেন এই সুব্রত বাবু। এর জন্য সারা ব্লকের আপামর জনসধারণের মনে এক" শ্রদ্ধার আসনে"আসীন। এছাড়াও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই ব্লকে তৈরি হওয়া পশ্চিমবঙ্গের সর্বপ্রথম "কন্যাশ্রী পাঠাগার ও রিডিং রুম" এর প্রধান পরামর্শদাতা ও কনভেনর সুব্রত বাবু।

‌এই করোনা কালে ৮০ কিমি বাইকে পাড়ি দিয়ে যেসব প্রত্যন্ত গ্রামে অনলাইন পরিসেবার সুবিধা নেই সেই সব গ্রামের ফুলমণি, কানুরাম, সত্যানন্দ, পিন্টুদের এক ডাকেই হাজির তিনি।সামাজিক সুরক্ষবিধি মেনে ওদেরই উঠোনে বসে পড়া বুঝিয়ে দেন। প্রয়োজনে দুদিন থেকেও যান।এতটাই মানবিক তিনি। 

‌"কোনো কাজটাই ছোটো নয়" এই বার্তা স্কুলের ছেলে - মেয়েদের দেওয়ার জন্য নিজে হাতে  স্কুলের সমস্ত টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কার করেন।

‌আবার এই লকডাউন এর সময় মানবতার জয়গান গাইতে ত্রান সামগ্রী নিয়ে হাজির "কুষ্ঠ কলোনী "তে। ক্লাসে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে নৈতিকতার ক্লাস নেন যাতে আগামী দিনে কোনো বৃদ্ধাশ্রম না থাকে, মা বাবা ই হলেন আসল ভগবান।

‌এই সমস্ত কাজকর্মের জন্য বিভিন্ন সংস্থা বা বিশিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে সামাজিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন। বিশিষ্ট লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, লেখিকা মীরাতুন নাহার,প্রাক্তন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অশোক কুমার গাঙ্গুলি, গায়ক রামকুমার চট্টোপাধ্যায়,ছোটো ও বড়ো পর্দার বিশিষ্ট অভিনেত্রী মিতা চ্যাটার্জী র হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।

‌এই আত্মসর্বস্ব পৃথিবীতে সর্বগ্রাসী লোভ, কপটতা আর মিথ্যাচারের জগতে; এমন আত্মকেন্দ্রিক সময়ে দাঁড়িয়ে এমন মানুষ সত্যিই দুর্লভ।নির্লোভ, সহজ জীবন যাপনে  বিশ্বাসী মানবতার জয়গান গাওয়া ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর দু নম্বর ব্লকের বেলিয়াবেড়া কৃষ্ণ চন্দ্র স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রী সুব্রত মহাপাত্র আক্ষরিক অর্থেই এক আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর। উনার কাছে ছাত্রছাত্রীরাই অমূল্য সম্পদ। এদের শিক্ষাদানই শুধু নয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এদের সুযোগ সুবিধার আর উন্নতির জন্য সন্তানস্নেহে বুকে আগলে রাখার নিরলস চেষ্টা করে চলেছেন।

‌আমরা ভুলে যাই" শিক্ষক" শব্দ টার গায়ে লেগে থাকে অনন্ত শ্রদ্ধা, সমীহ, সম্মান আর বিশ্বাস। এটা গড়ে তোলা এত সহজ নয়।তবে একজন প্রকৃত শিক্ষক নিজ গুণেই তা লাভ করে থাকেন। সুব্রত বাবু তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ব্যক্তিত্ব || এক ভিন্ন আঙ্গিকের শিল্পী নরসিংহ দাস || নিজস্ব কলম

ব্যক্তিত্ব || এক ভিন্ন আঙ্গিকের শিল্পী নরসিংহ দাস || নিজস্ব কলম




মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা, ভূগোল শিক্ষক, মহিষাগেড়্যা এ. এম. এ. হাই মাদ্রাসা (উঃ মাঃ), কেশপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর। ভূগোল বিষয়ক শিক্ষক হ‌ওয়ার কারনে কমবেশি ছবি আঁকতে হয়। তাছাড়া ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি একটু দুর্বলতা রয়েছে। শুধু ছবি আঁকা নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় বা ফেলে দেওয়া কোন জিনিস দিয়ে নানান মূর্তি ও নক্সা তৈরি করে ফেলেন। যেমন কালো জিরা, মসুর ডাল, কলার খোসা দিয়ে নানান অবয়ব সাদা কাগজে ফুটিয়ে তোলেন। পাতা কেটেও নানান ছবি ফুটিয়ে তোলেন। ত্রিমাত্রিক ছবিও আঁকেন মাঝে মাঝে। তবে বেশীরভাগ ছবি কালো বলপেনে আঁকা। ইতিমধ্যে কয়েকজনের ছবি এঁকে ফ্রেমবন্দি করে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন। ঐ তালিকায় রয়েছেন গায়ক সোনু নিগম, পন্ডিত কৈবল্য কুমার গৌরব,  শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়, পি.সি. সরকার জুনিয়র, গায়ক সিদ্ধার্থ রায় প্রমুখ। শিক্ষকতা ও আঁকার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। সময় পেলে পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, ভগ্ন রাজবাড়ী, প্রাচীন স্থাপত্য ও মন্দির ঘুরে দেখেন‌ ও ঐ বিষয়ক তথ্য তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে চলে সাংবাদিকতা। আনন্দবাজার পত্রিকা, বর্তমান, সংবাদ প্রতিদিন, এই সময়, আজকাল পত্রিকায় ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ছবি তোলার প্রতিও রয়েছে টান। স্মার্টফোন এর ক্যামেরায় কখন‌ও ধরা পড়ে সূর্যকে বটগাছের ঝুরিতে ঝুলতে,  ফুলের পাপড়ির মধ্যে সূর্যকে বসানো ছবি। এই  কাজের জন্য 'বীরপুরুষ', 'মানবরত্ন', 'শিল্পীরত্ন' সম্মাননা পেয়েছেন।



Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...